বাগেরহাট: বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক গৃহবধূর ওপর এডিস নিক্ষেপ মামলায় ট্রাইব্যুনাল তিন আসামিকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার দুপুরে বাগেরহাট এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক এস এম সোলায়মান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক রয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ দুই দফায় ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করায় তদন্তকারী দুই কর্মকর্তা ও তদারকি কর্মকর্তা হিসাবে তৎকালিন পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তা বিক্রি করে সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ভিকটিম রওশনারা বেগম ওরফে সুমিকে পরিশোধ করার জন্য বাগেরহাট কালেক্টরেটরকে নির্দেশ দিয়েছেন।
কারাদণ্ডের আদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার জারিয়া মাইটকুমড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মোল্যা মাসুদ রানা (৩০), একই গ্রামের জব্বার উচস্থার ছেলে মোস্তফা উচস্থা (৩১) ও পাশ্বাবর্তী টাউন নওয়াপাড়া গ্রামের মকবুল শেখের ছেলে হান্নান শেখ (৩৩)।
তবে ওই মামলার অপর আসামি আব্দুল হালিম শেখের পক্ষে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ থাকায় ট্রাইব্যুনাল আদালত তাকে বাদ রেখে এসিড মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করেছে।
এসিড সন্ত্রাসের শিকার গৃহবধূ রওশানারা বেগম ওরফে সুমি (২৮) বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া গ্রামের কৃষক জাকির হোসেনের স্ত্রী।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, রওশানারা বেগম সুমিকে আসামিরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রলভোন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় সুমি ২০০৬ সালের ২৪ জুলাই ফকিরহাট থানায় একটি জিডি করে। পরবর্তীতে আসামিরা ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে রওশানারার বাড়িতে গিয়ে তাকে ধরে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে রওশানারার শরীরে এসিড ঢেলে দেয়।
খবর বিভাগঃ
সারাদেশ

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়