Saturday, August 23

সমুদ্রসীমায় অবৈধ অনু প্রবেশ বন্ধে স্যাটেলাইট মনিটরিং


সুমন হাওলাদার : বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় মৎস্য শিকারে জড়িতদের নিরাপত্তা এবং অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ বন্ধে সাটেলাইট ভিত্তিক ভেসেল ট্রাকিং মনিটরিং সিস্টেম (ভিটিএমএস) চালুর উদোগ গ্রহণ করেছে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০ মিটার গভীরতায় নিজেদের অধিকার থাকার পরেও নতুন করে যুক্ত হয়েছে ২শ নটিক্যাল মাইল বা ১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার একচ্ছত্র অর্থনৈতিক এলাকা (ইইজেড)। নতুন করে ভারতের কাছ থেকে প্রাপ্ত ২৯ হাজার বর্গ কিরোমিটার এলাকায় অনুপ্রবেশ ও মাছ শিকার নিয়ন্ত্রীত করার জন্য ভিটিএমএস চালুর উদোগ বাংলাদেশে এটিই প্রথম। বাংলাদেশ মেরিন ফিসারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ মেরিন ফিসারিজ সার্ভেল্যান্স চেকপোস্টের (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) মাধ্যমে ভিটিএমএস কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করবে। বাংলাদেশ মেরিন ফিসারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবিএম আনোয়ারুল ইসলাম ডি নিউজকে জানান, বাংলাদেশের জন্য এ প্রযুক্তিটি নতুন। সমুদ্রের মৎস্য আহারণে নিয়োজিত নৌযানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করার প্রযুক্তি সারা বিশ্বে বিস্তার ঘটছে। নৌযানসমুহে আধুনিক স্যাটেলাইট যোগাযোগের যন্ত্রপাতি ও জিপিএস (গ্লোবাল পজেশনিং সিস্টেম) বসানোর পরে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। এর মাধ্যমে নৌযানের গতিবিধি, অবস্থান, দিক, গতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় অফিসে বসে জানা যাবে। দেয়া যাবে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা। নৌযান লাইসেন্স বিহীন বা অবৈধ মৎস্য শিকারি চিহ্নিতকরণ এবং নজরদারি এ সিস্টেমটি সহায়ক হবে। তিনি আরো জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়্ায় নৌ যানের অবস্থান, ক্যাচ রিপোর্ট, ইফোর্ট ডাটা, ইলকট্রনিক ফিশিং লগ বই ব্যবহার সহজ হবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সংস্থা বা পতাকা রাষ্ট্রের নিজস্ব জলসীমায় অনক্লস সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র বা সংস্থার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে তাদের নৌযান সমুহের সঠিক পরিচালনাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের নিবন্ধনকৃত মৎস্য শিকারী নৌযানে স্যাটেলাইন ভিত্তিক বিটিএমএস পরীক্ষামূলক চালু করা হবে। অপরদিকে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মৎস্য) মো. আনিছুর রহমান বলেন, সমুদ্রের ২০০মিটারে মাছ ধরার জন্য সরকার ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১৯৯ টি এবং আদালতের মাধ্যমে ১০১টি ফিশিং ট্রলারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে ২০০ টি ট্রলার সচল রয়েছে। অপরদিকে অবৈধভাবে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার নৌযান যা মৎস্য শিকারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। যুগ্ম সচিব আরো জানান, সর্বশেষ ২০০৩ সালে গভীর সমুদ্রে ৫টি লং লাইনার ফিশিং বোটের (বড়শির মাধ্যমে মাছ ধরা) অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু একটিও চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ২০১১ সালে ৩০ টি নৌ যানের লাইসেন্স দিলেও চালু হয়েছে ৬ টি। ২০১৩ সালে নতুন করে আরো ২৫ টি ফিশিং ট্রলারের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে (মিড ওয়াটার ফিশিং) ১৫ টি নরমাল এবং (গভীর সমুদ্রে) ১০ টি হচ্ছে লং লাইনার বোটের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, দেশের প্রায় ৫০ হাজার ফিশিং বোটে ভিটিএমএস পদ্ধতি চালু করা হলে দেশের মৎস্য শিকারীদের নৌযাত্রা আরো নিরাপদ হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রীত মৎস্য আহরণ প্রক্রিয়াও যথাযথ পালন হবে।

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়