স্টাফ রিপোর্টার : ভারতের বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি টন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ৫০০ মার্কিন ডলার থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে ৩০০ ডলার নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার।
বৃহস্পতিবার ভারতের মন্ত্রিপরিষদ এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পর প্রজ্ঞাপণ জারি করে সব বন্দরে জানিয়ে দেয়া হয়।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে গত তিন মাসে দুই দফা পেঁয়াজের রপ্তানি দর বাড়ায় ভারত।
উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি টন পেঁয়াজের সর্বনিম্ম রপ্তানি মূল্য ১৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ ডলার করা হয়। জুলাই মাসে তা আরও বাড়িয়ে করা হয় ৫০০ ডলার।
অভ্যন্তরীণ বাজারে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় মন্ত্রিসভা তা আবার কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ভারতের টেলিকম ও আইনমন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ সাংবাদিকদের জানান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রান্না-বান্নার কাজে কেবল ভারতেই প্রতিছর ১৫ মিলিয়ন টন পেঁয়াজ ব্যবহার হয়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর ১৫ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি।
ভারতের রপ্তানি করা পেঁয়াজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশে আসে। ভারত সরকার দুই দফা পেঁয়াজের দর বাড়ানোয় বাংলাদেশের বাজারেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকার বাজারগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে এই দর ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।
ন্যাশনাল এগ্রিকালচার কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পেঁয়াজের নতুন রপ্তানি মূল্য শনিবার থেকেই কার্যকর হবে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, পেঁয়াজের দাম কমানোর বিষয়ে দিল্লির নির্দেশনা ইতোমধ্যে পেট্রাপোল এলসি স্টেশনে পৌঁছেছে।
যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘আহমেদ এন্টারপ্রাইজ’ এর ব্যবস্থাপক তুহিন সাহা বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভারত থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানিমূল্য পড়বে গড়ে ২৪/২৫ টাকা।
খুলনার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সুজা এন্টারপ্রাইজের মালিক মিল্টন সাহা বলেন, “ভারত সরকার দাম কমানোয় আমাদের আমদানি ব্যয় কমবে। এতে দেশের বাজারেও পেঁয়াজের দাম কমবে।”
খবর বিভাগঃ
বিশেষ খবর

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়