Monday, February 4

:: মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণ ॥ প্রেমিকসহ দুইজন গ্রেফতার ::

নিজাম উদ্দিন:
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার হাজী আঞ্জবআলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৯দিন আটকে রেখে প্রতারক প্রেমিক ও কানাইঘাটের এক মহিলা দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হওয়ায় ঘটনায় কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত প্রেমিক ও এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয় পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার নিজ সিলাম গ্রামের আলী হুসেনের পুত্র ইমরান আহমদ (২৩) মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কয়েক মাস পূর্বে নবীগঞ্জ থানার সরদারপাড় গ্রামের নুরুল আমিনের স্কুল পড়ুয়া নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ১৮ জানুয়ারী প্রেমের টানে ঐ ছাত্রী নবীগঞ্জ থেকে সিলেট দক্ষিণ সুরমা বাস ষ্টেশনে আসলে প্রেমিক ইমরান সেখান থেকে তাকে কানাইঘাট উপজেলার নক্তিপাড়া গ্রামের মজিব আহমদের ভাড়াটিয়া বাসা দক্ষিণ সুরমার সচিব মিয়ার কলনীতে নিয়ে যায়। সেখানে তিনদিন আটকিয়ে রাখার পর এ ছাত্রীকে মজিব আহমদের স্ত্রী রিনা বেগম (২৮) ও প্রেমিক ইমরান মিলে রিনা বেগমের গ্রামের বাড়ী সীমান্তবর্তী নক্তিপাড়ায় নিয়ে আসে। সেখানে ৫দিন আটকে রেখে ঐ স্কুলছাত্রীর উপর রিনা বেগম ও ইমরানের সহযোগীতায় অনেকে মিলে গণধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে বন্ধী অবস্থায় এ মেয়েটি প্রাণে বাঁচতে সুকৌশলে রিনা বেগমের বাড়ী থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে একরাত যাপনের পর ছোটফৌদ গ্রামের মুজিবুর রহমান দারগার বাড়ীতে ৩১ জানুয়ারী আশ্রয় নেয়। সেখানে মেয়েটি তার উপরে পাশবিক নির্যাতন ও পালিয়ে আসার ঘটনার বর্ণনা করলে তাকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমদের কাছে গত ১ ফেব্রুয়ারী বিকেল ৪টায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি মেয়েটির আত্মীয়-স্বজনকে খবর দিয়ে বিষয়টি কানাইঘাট থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঐ দিন মেয়েটিকে দ্রুত উদ্বার করে থানায় নিয়ে আসার পর অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই স্কুলছাত্রীর বর্ণনা শুনে ঐ দিন রাত্রে তিনি মেয়েটিকে সাথে নিয়ে দক্ষিণ সুরমার সচিব মিয়ার কলনীতে এক অভিযান চালিয়ে রিনা বেগমকে গ্রেফতার করেন। অপরদিকে গত রবিবার কানাইঘাট থানা পুলিশ সিলেটের ডিবি পুলিশের সহায়তায় প্রেমিক নামধারী ইমরান আহমদকে শহর থেকে গ্রেফতার করে। এ স্কুলছাত্রীকে ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্নের জন্য সিলেট ওমেক হাসপাতালের ওসিসি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়েটির ভাই বাদী হয়ে ১ ফেব্রুয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ইমরান, রিনা বেগম ও তার স্বামী মজিব আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ ব্যাপারে থানার ওসি আব্দুল হাই এর সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি “কানাইঘাট নিউজকে”বলেন মেয়েটিকে আমরা দ্রুত উদ্ধার করে ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করেছি। তার উপর যারা পাশবিক নির্যাতন করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের অভিযান চলছে।


শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়