Wednesday, June 8

প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

ফ্রান্স প্রবাসী সোহেল রানা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছেন ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। রোববার (৫ জুন) রাজধানী প্যারিসে ‘জাস্টিজ পুখ’ ‘সোহেল হত্যার বিচার চাই’ স্লোগানে,স্লোগানে প্রতিবাদে মেতে উঠেন ফ্রান্স বসবাসরত প্রবাসীরা। 

বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে মিছিলটি মার্চ প্লাস দ্য বাস্তিল থেকে শুরু হয়ে রিপাবলিক চত্বরে শেষ হয়।
সোহেল রানা যেখানে হামলার শিকার হন সেই জায়গায় ‘প্লাস দ্য বাস্তিল’ দুপুর থেকেই জড়ো হতে থাকেন বাংলাদেশিরা। 

প্যারিসে বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে কোনো ঘটনায় এটাই সবচেয়ে বড় মিছিল। 

এসময় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হত্যার প্রতিবাদে শরীক হন। ফরাসী কয়জন সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ফ্রান্স প্রবাসী ইমদাদুর রহমান ইমদাদ বলেন, এ প্রতিবাদে আমিসহ আরও অনেকেই শত ব্যস্ততার মধ্যে উপস্থিত হয়েছি। কারণ, ফ্রান্সে দিনদিন বাংলাদেশীরা আরবিয়ান এবং আফ্রিকান দুর্বৃত্তদের দ্বারা হামলা ও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। আমরা যদি আজ প্রতিবাদ না করি তাহলে এমন ঘটনা কাল আমার বেলায়ও ঘটতে পারে। আগামীতে যেন কোনো বাংলাদেশির ওপর হামলার ঘটনা বা ছিনতাইয়ের শিকার না হন সেটি নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।এবং সোহেলের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

আয়োজকদের অন্যতম রাব্বানী খান জানান,আমরা  নিহত সোহেল রানা হত্যার বিচার চাই। ইদানীং প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্নভাবে আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এদেশের সরকারের কাছে এখন একটায় দাবি সোহেল রানা হত্যার বিচার চাই ও তার পরিবারকে যেন বৈধতা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে,নিহত সোহেল রানা প্যারিসের ঐতিহাসিক স্থাপনা বাসতিলের একটি রেস্টুরেন্টে রাতে কাজ করতেন। গত ২১ মে ভোর ৫ টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে বের হন। এ সময় রেস্টুরেন্টের সামনে আফ্রিকান কয়জন দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীরা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে তার ওপর গুরুতর হামলা করে। সে মাথায় আঘাত পেয়ে জ্ঞান হারায়। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। ভর্তির পর থেকে তার আর জ্ঞান ফেরেনি। অবশেষে ২৫ মে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।এ ঘটনায় রেস্টুরেন্টের মালিক বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সোহেল রানা মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামের মো. আজিজুল হকের ছেলে। সোহেলের একজন স্ত্রী ও তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তারা প্যারিসে বসবাস করেন।

সোহেল রানার মৃত্যুতে ফ্রান্স প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশিরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। এছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশ ট্যাগের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এবং তারা ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।






শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়