Saturday, June 1

শপথের দিনেই মোদিকে হুঁশিয়ারি দিলো যুক্তরাষ্ট্র!

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বারাক ওবামা। আর এ বারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মিলল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি! 

রাশিয়া থেকে তাদের সর্বাধুনিক দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘এস-৪০০’ কেনার পরিকল্পনা করায় ভারতকে এ হুঁশিয়ারি দিলো যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে একমাত্র চীন, ২০১৪ সালে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছে রাশিয়ার কাছ থেকে। 
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের পররাষ্ট্র দফতরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, মস্কোর কাছ থেকে দিল্লির এস-৪০০ কেনার সিদ্ধান্ত অর্থপূর্ণ। এটা বড় কোনো ব্যাপার নয় বলে যেটা বলা হচ্ছে, সেটা আমরা মানতে পারছি না।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্কে এর ‘গুরুতর প্রভাব’ পড়বে।
গেল বছরের ৫ অক্টোবর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের সময় দু’দেশের মধ্যে ৫০০ কোটি ডলারের ওই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়ে চুক্তি হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এক বিবৃতিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২০ সালে এস-৪০০ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু এবং ২০২৩ সাল নাগাদ তা শেষ হবে।
কূটনীতিকদের একটি অংশের মতো, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনে এবং এটা যত দিন বাড়তে থাকবে, তত দিন রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনায় ভারত-মার্কিন সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট বলেন, আমি তা মনে করছি না। নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ মোকাবিলার আইন (সিএএটিএসএ)-এর দিক দিয়ে ওই প্রতিরক্ষা ক্রয় তাৎপর্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতে মার্কিন সহযোগিতা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে এতে। ভারত যদি এস-৪০০ কেনা নিয়ে এগোয়, তবে ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে তা গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, মিত্র দেশ বলে আপনা-আপনি ছাড়ের কোনো সুযোগ নেই ‘সিএএটিএসএ’-তে। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকলেও প্রতিটি বিষয় আলাদা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হয় এই আইনে।  
শুধু আইনি নিষেধাজ্ঞা নয়, মস্কো-দিল্লি সামরিক সহযোগিতার অন্য একটি দিকের কথাও সামনে এনেছেন মার্কিন এ কর্মকর্তা। আর তা হলো- একাধিক দেশের সঙ্গে উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে তথ্য বিনিময় করা। 
এ বিষয়ে তিনি বলেন, উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন-ভিন্ন ব্যবস্থাকে আমরা মেশায় না। ন্যাটো শরিক তুরস্কের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা চলছে। ভারতের ক্ষেত্রেও সেটি প্রযোজ্য।
তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এটা খুবই স্পষ্ট যে, রাশিয়া যেখানে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তাদের আধুনিক প্রযুক্তি নিলে ভুল বার্তা যাবে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
মাত্রই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এলো মোদি সরকার। ক্ষমতাগ্রহণের শুরুতেই মার্কিন হুঁশিয়ারি চ্যালেঞ্জেরই বার্তা দিচ্ছে মোদি সরকারকে। 
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়