Thursday, May 23

কানাইঘাটে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের শুরুতে অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ




নিজস্ব প্রতিবেদক:
ধান ক্রয়ে কোন অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা বরদাস্ত করা যাবে না বলে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা।

বৃহস্পতিবার সারা দেশের ন্যায় সরকারিভাবে ধান, চাল ক্রয় উপলক্ষে এক উদ্বোধনীয় অনুষ্টানের আয়োজন করে উপজেলা খাদ্য গুদাম।

কিন্তু শুরুতেই অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হওয়ায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী ও নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা ধান, চাল ক্রয়ের উদ্বোধন স্থগিত করেন।

জানা যায়, উপজেলা খাদ্যগুদাম অফিসের লোকজন কৃষকদের উদ্ভোদ্ধকরণ এবং কৃষকদের ধান ক্রয়ের উদ্বোধনীতে সম্পৃক্ত না করায় এমন বৎসনা করা হয় তাদের।
এসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুমিন চৌধুরী সহ অনেক জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরাও তাদের ক্ষোভ ঝাড়েন। কারণ বৃহস্পতিবার থেকে সরকারিভাবে সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে ধান, চাল ক্রয় অভিযান শুরু হয়েছে। এবং তা চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এরই অংশ হিসাবে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল ক্রয়ের উদ্বোধনী ছিল।
এতে সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুমিন চৌধুরী ও নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা খাদ্যগুদাম অফিসে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান সেখানে কৃষকদের কোন উপস্থিতি নেই। এ জন্য তারা ধান ক্রয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করেন।
পরে বিকেল ৩টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক এক সভা ডাকা হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা উপজেলা খাদ্যগুদাম অফিসের কর্মকর্তাদের বলেন উপজেলা কৃষি অফিস যে তালিকা দিবে তাতে প্রকৃত কৃষকরা থাকতে হবে। এবং অনিয়ম দুর্নীতি ছাড়াই সে তালিকা আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে সরকারিভাবে যাচাই বাছাই করা হবে। এর পর থেকে কেজি প্রতি ২৬ টাকা দরে মোট ১৩৬ টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করা শুরু হবে।
এ সময়  ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মামুন রশিদ, মাওলানা আবুল হোসাইন, মাসুদ আহমদ। তারা সরকারিভাবে ধান, চাল ক্রয় ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
উপস্থিত চেয়ারম্যানরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় না করে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার দাবী জানান । এসময় কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন, খাদ্যগুদাম অফিসের কর্মকর্তারা পূর্বেও ধান, চাল ক্রয়ে অনিয়ম করেছেন। তারা কৃষকদের কাছ থেকে নানা অজুহাত দেখিয়ে ধান ক্রয় না করে সিন্ডিকেট চক্রের কাছে থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ধান ক্রয় করে। এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকরা খাদ্যগুদাম অফিসের কমিটিতে থাকলেও কর্মকর্তারা ধান, চাল ক্রয় সহ যে কোন  কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করেন না।
প্রসঙ্গত বিধি মোতাবেক প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ১৩৬ টন ধান ক্রয় করা হবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন ও নিম্নে ৩ বস্তা ধান সরকারি মূল্য অনুযায়ী কেজি ২৬ টাকা দরে বিক্রি করবেন। এছাড়া ইতিমধ্যে মিল মালিকদের কাছ থেকে ২৭৭ টন সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৩৬ টাকা ধরে ও আতব চাল ৩৭৫ টন ৩৫ টাকা প্রতি কেজি দামে ক্রয় করা হয়েছে বলে উপজেলা অতিরিক্ত খাদ্য কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ জানিয়েছেন।

কানাইঘাট নিউজ ডটকম/২৩ মে ২০১৯ ইং



শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়