Thursday, August 29

জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

ঢাকা : রাজনৈতিক দলের চাপে নয় বরং সংবিধানের বাধবাধ্যকতার জন্যই জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ সাদিক একথা জানিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ জানিয়েছিলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) ৯১ (ই) ধারা বহাল থাকছে। প্রার্থীতা বাতিলের ক্ষমতা হাতে রেখেই কমিশন নির্বাচনের আয়োজন করবে। মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, আরপিও ৯১ (ই) ধারাতে কিছু অসামঞ্জস্য থাকায় কমিশন এই ধারাটি বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছে। আরপিও সংশোধনীর জন্য খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।তবে এর প্রতিক্রিয়ায় রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন সংস্থা বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেন। নির্বাচন কমিশনার বলেন, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং বিভিন্ন মহলের মতামতকে গ্রহণ করে কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে এই ধারাটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আরপিও এর ৯১ (এ)তে কমিশনের ক্ষমতা বহাল থাকায় আমরা ধারাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে এর পক্ষে গণমাধ্যমকে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছি। আমরা আমাদের অবস্থানে অটল রয়েছি, তবে জনমতকে শ্রদ্ধা দেখিয়ে এখন আমাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। আরপিও কবে নাগাদ চূড়ান্ত হবে জানতে চাইলে শাহ নেওয়াজ বলেন, আমাদের কাজ আরপিও'র খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন তাদের দায়িত্ব¡ এটি চূড়ান্ত করে আইন হিসেবে পাশ করা। আমরা আশা করছি অতি শিগগির পাশ হবে।
চলমান নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৪ সালের ২৪ জানয়ারি। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। সে হিসেবে জানয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ভোট গ্রহণের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ সাদিক বলেন, সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের উপ-ধারা (১)-এ বলা হয়েছে, 'রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে। সে লক্ষে ইতোমধ্যে সীমানা পুনঃনির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সে মোতাবেক চলতি অর্থবছরে ৯শ ৮৯ কোটি টাকা নির্বাচনী বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে পাঁচশো কোটি টাকা রাখা হয়েছেছ জাতীয় নির্বাচনের জন্য। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের বলে তিনি জানান।
জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের উপ-ধারা (৩)-এ বলা আছে, সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে'। উপ-ধারা (ক) এ বলা হয়েছে, মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাংগিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নববই দিনের মধ্যে; এবং (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে:তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না। 
সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট করা হয়েছে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের উপ-ধারা (৪) এ নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বলা আছে, 'নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।১১৮ অনুচ্ছেদের উপ-ধারা (৫)-এ বলা আছে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে। 
সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের উপ-ধারা (১)-এ বলা হয়েছে, 'রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে। উপ-ধারা (২)-এ উল্লেখ আছে, 'নর্ধারিত দায়িত্বসমূহের অতিরিক্ত যেরূপ দায়িত্ব এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে, নির্বাচন কমিশন সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরূপ মনোভাব থাকলেও সংবিধান মেনেই আগামী দশম সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)। সে মতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে দলীয় সরকারের অধীনে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে বদ্ধ পরিকর নির্বাচন কমিশন।----ডিনিউজ

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়