প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়ায় তিন দিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহন করা বাংলাদেশ এয়ারলাইনের একটি ফ্লাইট বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান, সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিমানবন্দরে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, তিন বাহিনীর প্রধান ও ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সোমবার তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে মস্কো পৌঁছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে বাংলাদেশে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু দেশের মধ্যে তিনটি চুক্তি ও ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউএস) স্বাক্ষর হয়। অন্যান্য খাতগুলো হচ্ছে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার, সন্ত্রাস মোকাবেলা ও সামরিক সহযোগিতা।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে ভুদিমির পুতিনের একটি একান্ত বৈঠক হয়েছে। রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেমব্লির কাউন্সিল অব দ্য ফেডারেশনের চেয়ারপারসন ভ্যালেনটিনা আই. মাতবিয়েঙ্কো, যোগাযোগ ও গণমাধ্যমমন্ত্রী নিকোলাই নিকিফোরোভ ও রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানের (আরওএসএটিওএম) জেনারেল ডিরেক্টর সার্গেই কিরিয়েঙ্কো শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত রাশিয়ার বীরদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিখ্যাত ক্রেমলিন মিউজিয়াম ও বলশয় থিয়েটার পরিদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি বিশ্বের বৃহত্তম তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি গাসপ্রোমের স্থাপনা ঘুরে দেখেন। শেখ হাসিনা 'কনটেম্পোরারি বাংলাদেশ-পার্সপেক্টিভস ফর কোলাবোরেশন উইথ রাশিয়া'র ওপর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে লেকচার দেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় গমন ও লেকচার প্রদান করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর তাঁকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইয়াফেস ওসমান, অ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।(ফেয়ার নিউজ)

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়