Thursday, July 18

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ছিলো নুসরাতের

‘মা দাখিলেতো আমি ৪.৯০ পেয়েছি, আলিম পরীক্ষায় ইনশাআল্লাহ ভালো রেজাল্ট করলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চা’। এমন স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করেছিল নুসরাত। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, নিজ মাদরাসার অধ্যক্ষের মদদে সহপাঠীদের দেয়া আগুনেই পুড়ে মরতে হয়েছে তাকে। এ প্রতিবেদককে এমনটাই বলছিলেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

বুধবার প্রকাশিত হয়েছে এইসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। ফলাফলে এসেছে নুসরাতের নামও। যৌন হয়রানির শিকারের পর হুমকি নিয়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে দুটি পরীক্ষায় অংশ নেন নুসরাত।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হুসাইন বলেন, ফলাফল অনুযায়ী কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলে হাদিস পরীক্ষায় নুসরাত জাহান রাফি ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় নুসরাতসহ ১৭৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৫২ জন পাস করে। নুসরাতসহ ২৭ জন ফেল করে। এ মাদরাসায় এবার পাসের হার ৮৬.৮৬ শতাংশ। সবগুলো পরীক্ষা দিতে পারলে নুসরাত ভালো ফল করতো। লেখাপড়ার প্রতি মেয়েটার কতটা আগ্রহ থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দুটি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ফলাফল জানতে আসা নুসরাতের সহপাঠী তামান্না, নিশাত সুলতানা, নাসরিন সুলতানা, সাইফুল ইসলাম ও জাহেদুল ইসলাম জানান, নুসরাতেরও পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে আনন্দে থাকার কথা ছিল। কিন্তু পাষণ্ডদের নির্মমতায় নুসরাত আমাদের মাঝে নেই। দুটি পরীক্ষায় সে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। বাকি পরীক্ষা দিতে পারলে নুসরাত ভালো ফলাফল করতো।
এদিকে আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশের খবর পাওয়ার পর থেকে কান্না থামছে না নুসরাতের স্বজনদের। নুসরাতের মা শিরিনা আক্তারের বিলাপ যেন থামতেই চায় না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুসরাতের মা বলেন, মেয়ে অনেক মেধাবী ছাত্রী ছিলো। স্বপ্ন ছিলো অনেক বড় হবে। ভালো কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স সম্পূর্ণ করবে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা মেয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দিলো না। তারা আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মেরেছে। এখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবি, আমার মেয়ের হত্যার বিচারটি যেন দ্রুত কার্যকর হয়।
নুসরাতের ভাই মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘নুসরাতের সহপাঠীদের অনেকেই আমাকে ফোন দিয়েছে, তারা ভালো ফলাফল করেছে, তাদের বাড়িতে আনন্দের আবহ। কিন্তু আমাদের বাড়ি শোক। আমার বোনও পরীক্ষা দিলো অনেক ভালো ফলাফল করতে পারতো।
২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।
 সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়