Saturday, June 15

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি পেয়েও দেশের পথে আব্দুল্লাহ!

দালালের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ২৫ লাখ টাকা। বিভিন্ন দেশ ঘুরে মেক্সিকো হয়ে দুর্গম পথে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। সেখানে ডিটেনশন সেন্টারে থাকতে হয়েছে চার মাস। এতো সংগ্রামের পর স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি মেলে।

তবে স্বপ্নের আমেরিকায় বসতি গড়তে পারলেন না বাংলাদেশি যুবক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৯)। নিউইয়র্কে মদ্যপ নারী গাড়ি চালকের চাপায় গেল রোববার রাত ১১টার দিকে ব্রুকলিনে তার মৃত্যু হয়।

ব্রুকলিনেই বুধবার আব্দুল্লাহর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার মরদেহবাহী কফিন ১৪ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছে। আব্দুল্লাহকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।

নিউইয়র্কের পুলিশ জানায়, ট্রেজার লগিং (২২) নামের এক নারী মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আব্দুল্লাহর সাইকেলকে চাপা দেন। ঘটনার পরপরই তাকে স্থানীয় ব্রুকডেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎকরা মৃত ঘোষণা করেন। 
এদিকে এ ঘটনায় চালক লিগিংসের বিরুদ্ধে হত্যা ও মদ্যপ অবস্থায় শিশুর জীবন বিপন্ন করে গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এরই মধ্যে তাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ৫০ হাজার ডলার বন্ডে ব্রুকলীনের ক্রিমিনাল কোর্ট জামিন দিয়েছে। 
ম্যানহাটানের হারলেমে বসবাসকারী আব্দুল্লাহর চাচা বেলাল হোসেন জানান, আব্দুল্লাহ রাজনৈতিক কারণে ২০১৭ সালে মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। সে সময় ৪ মাস টেক্সাসের ডিটেনশন সেন্টারে কাটাতে হয়। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন আব্দুল্লাহ। এরই মধ্যে তা মঞ্জুর হয়েছে। শিগগিরই গ্রিনকার্ডের আবেদন করার কথা ছিল। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন আব্দুল্লাহ। গোটা পরিবারের দায়িত্ব তার হাতেই ছিল। 
আব্দুল্লাহ বন্ধুরা জানান, উবারের ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করত আব্দুল্লাহ। সবশেষ খাদ্য ডেলিভারির পরই মদ্যপ ড্রাইভারের নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি তার প্রাণ কাড়ে।
তার বন্ধুরা আরো জানান, কষ্টার্জিত অর্থে নিউইয়র্কে একটি ফ্রাইড চিকেন রেস্টুরেন্ট দেয়ার স্বপ্ন ছিল আব্দুল্লাহর।

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়