কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: বর্তমান সময়ে সারাবিশ্বে যে শব্দটি মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে সেটি হলো ‘ইবোলা ভাইরাস’। মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হবেই না বা কেন। এ ভাইরাসে একবার আক্রান্ত হলে তো মৃত্যু নিশ্চিত।
চিকিৎসকদের ভাষায়, এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগই মৃত্যুবরণ করে। এ পর্যন্ত এ রোগে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে ১২০০ এর কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের মানুষের জন্যও ইবোলা ভাইরাস হুমকি স্বরূপ। কারণ পশ্চিম আফ্রিকার যে দেশগুলোতে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সেসব দেশ বিশেষ করে নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন, মালি ও লাইবেরিয়ায় বাংলাদেশের দুই হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত রয়েছে। তাদের কেউ যদি আক্রান্ত হয়ে দেশে আসেন তাহলে বাংলাদেশেও এ রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ইবোলা একটি ছোঁয়াচে রোগ। এ কারণে রোগীদের সংস্পর্শে যেতে চাইছে না কেউ। ইবোলার প্রাদুর্ভাব বিস্তারে নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, গিনি ও মালিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ সতর্কতার জন্য পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলায় আক্রান্ত দেশগুলোতে বিমানের ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু) বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
জানা গেছে, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর গিনির একটি গ্রামের দুই বছর বয়সী এক শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তারপর থেকে ভাইরাসটি পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে ছড়াতে থাকে। এটি খুব দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়াতে সক্ষম।
ইবোলা ভাইরাস দমনে বাংলাদেশ সরকারও ৯০ দিনের একটি কর্মসূচি পালন করছে। এর আওতায় রয়েছে স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের যাত্রীদের ইবোলা ভাইরাস আছে কিনা তা পরীক্ষা করা। এছাড়া ইবোলারোধে বাংলাদেশ সরকার পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে এক কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাচ্ছে।
১৯৭৬ সালে আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে সর্বপ্রথম ইবোলা ভাইরাস ধরা পড়ে। তখন থেকে এ পর্যন্ত প্রায় চার দশক সময় পার হয়ে গেলেও আজও এ রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি।
ইবোলা ভাইরাস আগে রক্তপ্রদাহজনিত জ্বর হিসেবেই পরিচিত ছিল। এটি মূলত একটি আরএনএ ভাইরাস। কঙ্গোর ইবোলা নদীর নাম অনুসারে এ ভাইরাসের নাম ইবোলা ভাইরাস রাখা হয়েছে। ইবোলা ভাইরাস মোট পাঁচ ধরনের। এর মধ্যে তিনটি বেশি ক্ষতিকর। বাকি দুটি মানুষের দেহে প্রভাব ফেলতে পারে না।
এদের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে জাইরে (Zaire) ইবোলা ভাইরাস। এটি মানবদেহে রক্তপাত ঘটায়। লিভার, কিডনিকে অকেজো করে দেয়, রক্তচাপ কমিয়ে দেয়, হৃদপিণ্ডের স্পন্দন কমিয়ে দেয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত করে।
ইবোলা ভাইরাস রোগীর জীবন্ত কোষগুলো দখল করে ফেলে। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বেত রক্তকণিকা ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে। আক্রান্ত ব্যক্তির ঘাম, রক্ত, বীর্য, মূত্র প্রভৃতির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
ইবোলা ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশের পর কয়েকদিন থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ কোনও লক্ষণ প্রকাশ করে না। এর ফলে দেখা যায় একজন রোগী এ রোগ নিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করতে পারে। যার ফলে অন্য দেশেও এ রোগটি ছড়াতে পারে।
যেভাবে বুঝবেন আপনি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত:
ইবোলার প্রথম লক্ষণ হলো শরীরে এক ধরনের প্রদাহ দেখা দেয়া। এরপর আপনার চোখ, কান ও নাক দিয়ে রক্ত বের হতে পারে। কিছু মানুষের মধ্যে এর লক্ষণ তীব্রভাবে দেখা দেয়ার আগেই তারা মারা যান।
আবার অনেকের সামান্য রক্ত বের হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় ফ্লু-এর মত লক্ষণ প্রকাশ পায়। পুরো অসুস্থ হওয়ার আগে রোগীর বারবার বমি, ডায়রিয়া এবং নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে। মূলত দেহের বিভিন্ন প্রতঙ্গের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষের মৃত্যু হয়।
যেভাবে ছড়ায়:
বলা হয়ে থাকে, বাদুরের খাওয়া ফল থেকেই ইবোলা ভাইরাস মানুষের দেহে প্রথম প্রবেশ করে। পরবর্তীতে তা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে শুরু করে। তবে ভাইরাসটি ফ্লু ও অন্যান্য বায়ুবাহিত রোগের মত ছড়ায় না। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির সরাসরি ব্যক্তির সংস্পর্শে না এলে আক্রান্ত হওয়ার ভয় নেই।
ইবোলা ভাইরাস পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি বাংলাদেশে আসবে না এমন কোনও কথা নেই। এজন্য সবাইকে সর্বদা সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করতে হবে।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়