Tuesday, August 26

কলাপাড়ার খাল-বিল ও জলাশয় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা


উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া(পটুয়াখালী): জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করায় ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে শাপলা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এক সময়ে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিভিন্ন এলাকার খাল-বিল ও জলাশয় এ শাপলা ভালো জন্মাতো। এখন গ্রামের পর গ্রাম ঘুড়লেও শাপলার দেখা মিলছেনা। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত বিল জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবে এ শাপলার জন্মাতো। মানুষের খাদ্য তালিকায় যুক্ত ছিল শাপলা। কয়েক বছর আগেও বর্ষা এবং শরৎকালে খাল-বিলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকত হাজার হাজর শাপলা ফুল। ওই সময় সকালে জলাশয়ে চোখ পড়লেই রং-বেরংয়ের শাপলার বাহারী রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। এখন সেই শাপলা হারিয়ে যেতে বসেছে । শিক্ষক মুজিবুর রহমানের সাথে শাপলা সম্পর্কে আলাপ করলে তিনি জানান, শাপলার ভেষজ গুণও কম নয়। শাপলা সাধারণত লাল ও সাদা রংয়েরই চোখে পড়েছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েক রংয়ের শাপলা রয়েছে। এর মধ্যে লাল ও সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ভোজন রসিকরা খায়। তবে লাল রংয়ের শাপলা ঔষধী কাজে ব্যবহৃত হয়। লাল ও সাদা রংয়ের শাপলা খুব পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি। শাক-সবজির চেয়ে এর পুষ্টিগুন খুব বেশি।এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে । তিনি আরো জানান, শাপলা চুলকানী ও রক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী। আবার শাপলার ফল দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খৈ ভাজা যায়। যে টি প্রত্যন্ত গ্রাম গাঁেয় (ঢ্যাপের খৈ) বলে পরিচিত। মাটির নিচের মূল অংশকে আঞ্চলিক ভাষায় শালুক বলা হয়। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিল-ঝিল-হাওড়-বাঁওড়-পুকুরের পানি যখন কমে যায় তখন শাপলার শালুক তুলে খাওয়া যায়। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ওয়াল্ড কনসার্ন কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রজিব বিশ্বাস জানান, চাষের জমিতে অধিক মাত্রায় আগাছা নাশক ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে জমির উর্বরতা দিন দিন কমে গেছে। এছাড়া নিচু জলাশায় জমি ভড়াট করে বসতি স্থাপন করার কারনে শাপলার বংশ বিস্তার কমে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়