ঢাকা: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান একজন ফেরারি। তার ভিসার মেয়াদ নেই। সে লন্ডনে অবৈধভাবে বসবাস করছে। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। যার মাধ্যমে সারাবিশ্বের মানুষ জানতে পারবে সে একজন অপরাধী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে কানাডার হাইকমিশনার বেনওয়া পিয়ের লাঘামে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, “তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারির সঙ্গে নির্বাচনের কেনো সম্পর্ক নেই। রাজনীতি করারও কিছু নেই।”
তিনি বলেন, “খালেদা জিয়াকে জনগণের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিন মাসের ব্যস্ত হরতাল-অবরোধ শেষে বেগম জিয়া আদালতে গিয়েছেন, বাসায় গিয়েছেন। কিন্তু যারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন, পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন তাদের কী হবে? এর বিচার জনগণ ভোটের মাধ্যমে করবে।”
তোফায়েল বলেন, কানাডা বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। কানাডার সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দু‘দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কানাডার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বেশ জনপ্রিয়।
মন্ত্রী বলেন, গত ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে কানাডায় বাংলাদেশ ১০৯৯.৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে বাংলাদেশ কানাডা থেকে আমদানি করেছে ৫৮৫.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। ট্রেড ব্যালেন্স বাংলাদেশের পক্ষে ৫১৪.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কানাডা বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাজার সুবিধা দিয়ে আসছে। সঙ্গত কারণেই কানাডার বাজারে বাংলাদেশেল পণ্যের রপ্তানি বেড়েই চলছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, এমুহূর্তে বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেসমুহের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের পক্ষে এ দায়িত্ব পালন করছে। এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য উন্নত দেশেসমুহের কাছে সার্ভিস ওয়েভার প্রাপ্তি এবং ডব্লিউটিও-এর ট্রিপস চুক্তির আওতায় ওষুধের ক্ষেত্রে প্যাটেন্ট আইন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধি করা জরুরি, যার মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখ শেষ হবে। এজন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের কর্মবান্ধব ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শুল্কমুক্ত ফায়ার সেফটি ডোর আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কারখানার বিল্ডিং সেফটি, ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার সফলতার সাথে ক্রেতা-গোষ্ঠীর দেওয়া এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি বলেন, ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকোর্ড এবং অ্যালায়েন্স এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার কারখানা বিল্ডিং পরিদর্শন করেছে। এরমধ্যে মাত্র ২৯টি কারখানা ভবন ব্যবহার অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আনুপাতিক হারে এর সংখ্যা শতকরা দু‘ভাগের কম। আন্তর্জাতিকভাবে শতকরা দু‘ভাগের বেশি গ্রহণযোগ্য। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ এবং অর্জিত সাফল্যে কানাডা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কানাডা বাংলাদেশি তৈরি পোশাক আমদানি আরো বাড়াবে। এজন্য উভয় দেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সম্মত।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
খবর বিভাগঃ
রাজনীতি

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়