Monday, August 19

ঘুরে এলাম লোভাছড়া

রাসেল আল-হাদীঃ
দিনটি ছিলাে মঙ্গলবার। ঘড়ির কাটায় তখন সকাল ৯টা। সাহিত্য সংগঠন‌'মোহনা পাঠক ফোরাম'এর আয়োজনে আমরা প্রায় ১২০ জন সদস্যের একটি দল রওয়ান হই প্রাকৃতিক নৈসর্গের অপর নাম 'লোভাছড়া'য়। খাসিয়া জৈয়ন্তিয়া পাহাড়ের কোলজুড়ে সবুজ বর্ণিল গাছপালার ঘন রঙে আচ্ছাদিত হয়ে আছে মহান রাব্বুল আলামীন'র অপরুপ নিদর্শন,খনিজ সম্পদে ভরপুর  কানাইঘাটের মুলাগুল ও লোভাছড়া চা বাগান। ইঞ্জিন চালিত নৌকা হঠাৎ হঠাৎ ঢেউ খেলিয়ে চলে যাচ্ছে। নদী কিনারায় কানাইঘাটের বিখ্যাত শাক-সবজির বাগান। দূরে পাহাড়ের বুকে সূর্যরশ্মি। এসব মিলিয়ে যেন আমাদের এক অচীনপুরের দেশ ভ্রমণ। সুরমা পেরিয়ে আমাদের যাত্রা লোভাছড়ায়, শুরু হলো এক চঞ্চলতা, সামনে মনোরম সৌন্দর্য দেখলে চঞ্চলতা তো আসেই। রোদ্রের তাপে ছটফট, আবার নদীর পানি ছিটে ছিটে উঠছে নৌকায়, আছড়ে পড়ছে আমাদের চোখে-মুখে ও হাতে-শরীরে। যেন 'রোদ-মেঘ শিয়াল বুড়ির বিয়া'। এ যেমন আরো মুগ্ধকর বর্ণনাতীত স্বাদ। শুরুতেই হাফ নাস্তা করে সকাল ১১টায় নুনছড়া খাল হয়ে নৌকা ভিড়ে ঝুলন্ত ব্রীজ সংলগ্ন। সুরমা নদীর দু'প্রান্তে কাজ করছে শতশত শ্রমিক, মেশিনের মাধ্যমে উত্তোলন করছে পাথর। দেখার স্বাদই আলাদা। এবার চা বাগানের পথে,বেশ আনন্দ  উপভোগ করছি। ধোলা মাটির রাস্তা দিয়ে যত দূর এগোনো যায়, চোখে পড়ে চা বাগানের মাঝে গাছগুলো সারি সারি সাজানো। এর সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবেনা তা হতেই পারেনা। কী সুন্দর লোভাছড়া! চারদিক সবুজের সমারোহ। সীমান্তের ওপারে মেঘালয়ের পাহাড়গুলো যেন আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। রহমতের বৃষ্টি পড়ায় চা'র গাছ হয়ে উঠছে সুজলা, সুফলা ও সবুজের রঙেমাখা। পথ চলতে নজরে পড়ে দুটি মাজার, দেখি শাহ মুখন ও শাহ দয়াল সাবের মাজার, যদিও তাঁদের সাথে পরিচিতি নেই, তবুও সালাম-তিলাওয়াত করে রওয়ানা দিই 'চিন্তারবাজার'র দিকে। কেন জানি বাজারের এ নাম! পথে ঠান্ডার আড্ডা শেষে আবারও নৌকাযোগে মুলাগোল নয়াবাজারের দিকে হারিছ চৌধুরী একাডেমিতে বালিশ / ফুটবল খেলার পর দুপুরের  খাবার ও স্কুলের হল রুমের জম্পেশ আড্ডা শেষে আবার নৌকা যোগে গন্তব্যের পথে। 





শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়