Sunday, June 2

খলিফা হজরত উমর (রা.) এর ঈদের কেনা-কাটা

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ::

খলিফা হজরত উমর ইবনে আল খাত্তাব (রা) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং প্রধান সাহাবিদের অন্যতম। 

হজরত আবু বকর (রা.) এর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে দায়িত্ব নেন। হজরত উমর (রা.) ইসলামী আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ছিলেন। ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার কারণে তাকে আল ফারুক (সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেয়া হয়। আমিরুল মুমিনিন উপাধিটি সর্বপ্রথম তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।
খলিফা হজরত উমর (রা) ২৩শে আগষ্ট ৬৩৪ থেকে ৩রা নভেম্বর ৬৪৪ সাল পর্যন্ত আরবের (দ্বিতীয় খলিফা হিসাবে) দায়িত্ব পালন করেন।
প্রায় অর্ধেক পৃথিবীর শাসক খলিফা হজরত উমর (রা) এর খিলাফতের প্রথম দিকে আবু উবাইদা (রা) তখন অর্থমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার দেখা-শুনা করতেন।
ঈদের আগের দিন খলিফা হজরত উমরের (রা) স্ত্রী নিজ স্বামীকে বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে’।
আরব জাহানের শাসক খলিফা হজরত উমর (রা) বললেন, ‘আমার তো নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই’।
পরে খলিফা হজরত উমর (রা) তার অর্থমন্ত্রী আবু উবাইদা (রা)-কে এক মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার জন্য চিঠি পাঠালেন।
সমগ্র মুসলিম জাহানের খলিফা হজরত উমর (রা.) সে সময় প্রায় অর্ধেক পৃথিবী শাসন করছেন, তার এ ধরণের চিঠি পেয়ে আবু উবাইদার (রা.) চোখে পানি এসে গেল। উম্মতে আমীন আবু উবাইদা (রা.) বাহককে টাকা না দিয়ে চিঠির উত্তরে লিখলেন, ‘আমীরুল মুমিনীন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে।
প্রথমত, আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কী না? দ্বিতীয়ত, বেঁচে থাকলেও দেশের জনসাধারণ আপনাকে সেই মেয়াদ পর্যন্ত খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কিনা?’
চিঠি পাঠ করে খলিফা হজরত উমর (রা) কোনো প্রতি উত্তর তো করলেনই না, বরং এত কেঁদেছেন যে তার চোখের পানিতে দাঁড়ি ভিজে গেলো। আর হাত তুলে আবু উবাইদার (রা.) জন্য দোয়া করলেন- একজন যোগ্য অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করতে পেরেছেন ভেবে।
-সংগৃহীত

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়

নোটিশ :   কানাইঘাট নিউজ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক