ঢাকার ঘরে বিপিএলের ১ম শিরোপা

Kanaighat News on Thursday, March 1, 2012 | 11:46 PM

বরিশাল বার্নার্সকে ৮ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা জিতলো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। এর আগে বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪০ রান করে বরিশাল বার্নার্স। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ঢাকা।জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে খেলার দ্বিতীয় ওভারে ব্যক্তিগত ১৩ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে যান নাজিমুদ্দিন। সোহরাওয়ার্দী শুভর বলে তাকে তালুবন্দি করেন মোমিনুল হক।এরপর আনামুল হককে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত খেলতে থাকেন ইমরান নাজির। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে গড়ে তোলেন ১১০ রানের শক্তিশালী জুটি। এর সুবাদে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকে সহজ জয়ের ভিত রচনা করে দেন তারা। এ জুটির আগুনঝরা ব্যাটিংয়ের মুখে দাঁড়াতেই পারেনি বরিশাল বার্নার্সের বোলাররা।ম্যাচের ১৪.৪ ওভারে আলাউদ্দিন বাবুর শিকার হন ইমরান নাজির। আহমেদ শেহজাদের তালুবন্দি হওয়ার আগে ইমরান করেন ৭৫ রান। ৪৩ বল খরচ করে ছয়টি ৬ ও ছয়টি চারের সাহায্যে এ ইনিংসটি সাজান তিনি।টার্গেটের খুব কাছে গিয়ে ইমরান সাজঘরে ফিরে গেলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েই মাঠ ছাড়েন আনামুল। ৪৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৩৮ বল খরচ করে ৫টি চার ও একটি ছক্কার সুবাদে এ ইনিংস গড়েন আনামুল।বরিশাল বার্নার্সের পক্ষে আলাউদ্দিন বাবু ও সোহরাওয়ার্দী শুভ একটি করে উইকেট নেন।এর আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে বরিশাল বার্নার্স। একের পর এক বলকে সীমানাছাড়া করতে থাকেন আগের দিনে ৪০ বলে সেঞ্চুরি করা আহমেদ শেহজাদ।পরে ম্যাচের ৪.২ ওভারে শহীদ আফ্রিদির শিকার হন এ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ব্যক্তিগত ২৮ রানের মাথায় সাঈদ আজমলের তালুবন্দি হন তিনি। মাত্র ২০ বল খরচ করে একটি ৬ ও ৪টি চারেরসাহায্যে ইনিংসটি গড়েন শেহজাদ।এরপর ক্রিজে থাকা ব্র্যাড হজের সঙ্গে যোগ দেন ফিল মুস্টার্ড। রানের চাকা সচল রাখতে তাকে সঙ্গে নিয়ে দেখেশুনে খেলতে থাকেন হজ। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুস্টার্ড।খেলার ৫.২ ওভারে ঝলসে উঠেন সাঈদ আজমল। তার ঘূর্ণিজাদুর শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ফিল মুস্টার্ড (৫)। এর পরের বলেই মাত্র ১ রান করা মিঠুনকে ফিরিয়ে দেন সেই শহীদ আফ্রিদি।তাকে হারিয়ে কার্যতই বিপর্যয়ে পড়ে বরিশাল বার্নার্স। প্রাথমিক এ ধাক্কা সামাল দিতে মোমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে থাকেন ব্র্যাড হজ। গড়ে তোলেন ২৫ রানের চমৎকার এক জুটি।খেলার ১০ম ওভারে রানা নাভেদের শিকার হন মোমিনুল। ধিমান ঘোষের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি করেন ১১ রান।এরপর আবারো ঝলসে উঠেন অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। ব্যক্তিগত ১১ রানের মাথায় ফরহাদ হোসেনকে থামিয়ে দেন তিনি।দলীয় ১০১ রানের মাথায় ইয়াসির আরাফাত (৫) ফিরে গেলে পথ হারিয়ে ফেলে বরিশাল। এরপর সেভাবে আর খেলায় ফিরতে পারেনি তারা। দলীয় ১৩৭ রানের মাথায় ফিরে যানইয়াবির আলি (৬)।শেষ পর্যন্ত হজের হার না মানা ৭০ রানের সুবাদে ১৪০ রান করে বরিশাল বার্নার্স।ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে শহীদ আফ্রিদি ৩টি নাভেদ-উল-হাসান ২টি ও সাঈদ আজমল ১টি করে উইকেট নেন।ম্যাচ সেরা হয়েছেন ইমরান নাজির। ব্যাটিং এবং বোলিংয়ে সমান পারদর্শিতা দেখিয়ে ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছেন খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

কানাইঘাট উপজেলা হাসপাতালে রোগীদের বিড়ম্বনা

দীর্ঘদিন ধরে ৯জন এম.বি.বি.এস ডাক্তারের স্থলে মাত্র এক জন, এডহক ভিত্তিতে আরো দু’জন ডাক্তার কর্মরত থাকায় কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। এদের মধ্যে একজন সদ্য যোগদান করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ডাক্তার সংকটের কারনে কাংকিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। জীবন রাকারী ঔষধ-পত্র কিনতে হয় বাহির থেকে। ডায়রীয়া আক্রান্ত রোগীদেরও বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে কলেরা স্যালাইন, সিরিঞ্জ ও অন্যান্য ঔষধ-পত্র বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। গত সোমবার কানাইঘাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিব আহমদ মুমূর্ষ অবস্থায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তার ভাই খলিলুর রহমান তাঁকে সকাল ১১টায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তার না পেয়ে তাঁকে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এসময় কর্তব্যরত নার্স আমিনা বেগম কাউন্সিলারের ভাই খলিলুর রহমানকে একটি স্লিপ লিখে দিয়ে দুটি ডায়রিয়া স্যালাইন, সিরিঞ্জ ও আরো কিছু ঔষধ ফার্মেসী থেকে কিনে আনতে বলেন। এসময় খলিলুর রহমান নার্স আমিনা বেগমকে বলেন, ডায়রিয়ার স্যালাইন হাসপাতালে থাকার কথা, কিনতে হবে কেন? জবাবে নার্স আমিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে কোন স্যালাইন নেই। পরে খলিলুর রহমান ফার্মেসী থেকে ঔষধ কিনে আনেন। একই অভিযোগ করেছেন ডালাইচর গ্রামের রওশনা বেগম। তিনি বলেন, সোমবার ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলে বাহির থেকে স্যালাইনসহ ঔষধ সামগ্রী কিনতে হয় তার আত্মীয় স্বজনকে। অপরদিকে একই দিনে ডালাইচর গ্রামের রেহিমা বেগম (১৮) জরুরী বিভাগে তার আঙ্গুলের কাঁটা তোলার জন্য গেলে কর্তব্যরত নুরুল ইসলাম তার চিকিৎসার জন্য দুইশত টাকা চান। এক পর্যায়ে বিনা পয়সায় চিকিৎসা না পেয়ে তার ভাই ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে পূণরায় রেহিমা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার জন্য কেন টাকা চাওয়া হল জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, প্রাইভেট চিকিৎসার জন্য ২০০টাকা চাওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে হাসপাতালে একমাত্র চিকিৎসার জন্য নিয়োজিত ডাঃ আবুল হারিছকে অবহিত করা হলে তিনি নিজে রেহিমার কাঁটা তুলে দেন। গত রবিবার রাত ৪টায় মূমর্ষ অবস্থায় ডায়রিয়া আক্রান্ত গোরকপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিন তার ১বছরের শিশু আয়শা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে তাকে বাহির থেকে স্যালাইন ও অন্যান্য ঔষুধ পত্র কেনার জন্য স্লিপ দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে কোন ধরনের ঔষধ না পেয়ে পরদিন সকালে ফার্মেসী খোলার পর স্যালাইন ও অন্যান্য ঔষধ কিনে আনলে তার শিশু মেয়েকে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এছাড়া পৌরসভার বাইয়মপুর গ্রামের নাসিমা বেগম (১৮)কে তার স্বামী অমানষিকভাবে লোহার রড দিয়ে পিঠিয়ে ঘাড় ও পিঠে মারাত্মক জখম করলে তাকে হাসপাতালে একদিন রেখে রিলিজের চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে অসুস্থ কাউন্সিলর হাবিব আহমদকে দেখতে পৌর মেয়র লুৎফুর রহমান হাসপাতালে আসেন। এসময় কাউন্সিলরের স্বজন ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীরাসহ এলাকার আরো অনেকে হাসপাতালে সার্বিক চিকিৎসা কার্যক্রমের বেহাল দশা উল্লেখ করে বলেন, এখানে এসে কোন চিকিৎসা ঔষধ পত্র ও ডাক্তার পাওয়া যায় না। হাসপাতালে ভর্তির পর বেশিরভাগ রোগীকে সিলেট প্রেরণ করা হয়। ডায়রিয়া, পেট ব্যাথা, সর্দি ও জ্বরের মতো রোগের ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হয়। অভিযোগকারীরা দীর্ঘ ২৫বছর ধরে হাসপাতালে কর্মরত নার্স আমিনা বেগম ও তার স্বামী এম.এল.এস.এস সাজুকে অন্যত্র বদলির দাবী জানানোর পাশাপাশি রোগীদের সাথে অসদাচরণ ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা কারীদের প্রত্যাহার করতে বলেন। পরে মেয়র লুৎফুর রহমান হাসপাতালে দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাঃ আবুল হারিছসহ অন্যান্যণ স্টাফদের নিয়ে বৈঠকে বসে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাসহ সাধারণ জনিত রোগের ঔষধ হাসপাতাল থেকে পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। এেেত্র তার প থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন হাসপাতাল কর্তৃপকে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাঃ আবুল হারিসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গত সোমবার তিনি একটি প্রোগ্রামে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ছিলেন। তিনি হাসপাতালে থাকলে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন ধরনের অবহেলার ঘটনা ঘটত না। ভারপ্রাপ্ত ইউ.এইচ.ও ডাঃ শামসুল ইসলাম ঢাকায় ট্রেনিং সংক্রান্ত কাজে থাকায় তাকে হাসপাতালের চিকিৎসাসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। তারপরও রোগীদের চিকিৎসা সেবায় সবাই আন্তরিক রয়েছেন বলে জানান। ডায়রিয়ার কলেরা স্যালাইন হাসপাতালে থাকার পরও রোগীদেরকে বিনা মূল্যে সরবরাহ না করার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩