Friday, April 12

অ্যাসেঞ্জের এর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

উইকিলিকস এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আসেঞ্জ এর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পুলিশ লন্ডনে অবস্থিত ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ দূতাবাসটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার বিরুদ্ধে কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লক্ষ লক্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দেওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল প্রসিকিউটর বলেছেন, সাবেক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিংয়ের সঙ্গে মিলে ২০১০ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দেওয়ার ঘটনায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করানো উচিত। 
লন্ডন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতে আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হবার জন্য ২০১২ সালের জুন মাসে জারি করা এক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে দূতাবাসে আটক করা হয়েছে। ইকুয়েডর সরকার অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের পর ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ পুলিশকে দূতাবাসে আসতে বলেন।
গতকালই ইকুয়েডারের প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো এক ভিডিও বিবৃতিতে তাঁর দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, তাঁর আচরণ সীমা লংঘন করে গেছে।
আসাঞ্জ দূতাবাসে থাকার সময় একের পর এক নিয়ম লংঘন করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন । এই সব নিয়ম লংঘনের মধ্যে ছিল বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি বসানো, সুরক্ষা ক্যামেরায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা , প্রহরিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা এবং কোন রকম অনুমতি ছাড়া দূতাবাসে গোপন নথিপত্র দেখা।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন যে মানবাধিকারের বিষয়টি লক্ষ্য রেখে , তাঁর সরকার ব্রিটেনকে অনুরোধ করেছে আসাঞ্জকে যেন বিচারের জন্য অন্য কোন দেশে পাঠানো না হয় এবং ব্রিটেন নিয়ম মতো লিখিত ভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আসাঞ্জ যৌন হয়রানির অভিযোগে সুইডেনে বিচারের সম্মুখীন হওয়া এড়ানোর জন্য ২০১২ সাল থেকে লন্ডনে ইকুয়েডারের দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
সুইডেন পরে এই বিষয়ে তদন্ত বাতিল করে দেয় কিন্তু এই আশংকায় দূতাবাসের ভেতরেই থেকে যান যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গোপন নথিপত্র উইকিলিকসে’এ প্রকাশের ব্যাপারে ব্রিটেন তাকে বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তারের পর ওয়েস্ট মিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। সেখানে অ্যাসাঞ্জ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও দুই পক্ষের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মাইকেল স্নো জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে তাকে অভিযুক্ত করেন।

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়