Friday, May 11, 2018

কানাইঘাটে তারাবীর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে আ’লীগ ও জামায়াত সমর্থিতদের সংঘর্ষে ১জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট সদর ইউপির গোসাইনপুর গ্রামের মসজিদের রমজান মাসের তারাবীর ইমাম রাখাকে কেন্দ্র করে গ্রামে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থিতদের মধ্যে সংঘর্ষে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী(৬০) নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে বাদ জুময়া গোসাইনপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে । সংঘর্ষের খবর পেয়ে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ ও ওসি(তদন্ত) মো: নুনু মিয়ার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনদের ছত্র ভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে গোসাইনপুর গ্রামের জামায়াত নেতা মাদ্রাসা শিক্ষক মাও: জামাল উদ্দিন(৫০),অবসর প্রাপ্ত প্রাইমারি শিক্ষক বশির আহমদ(৬৫) ও আখলু মিয়ার পুত্র মাসুম আহমদ(২৫)কে আটক করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীর হত্যাকারীদের আটক করতে পুলিশ গোসাইনপুর গ্রাম ও আশপাশ এলাকায় জামায়াত-শিবির সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,দীর্ঘদিন ধরে গোসাইনপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থিতদের মধ্যে দলীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর প্রভাব পড়ে মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে । মাও:জামাল উদ্দিন ও গ্রামের জামায়াত সমর্থিত লোকজন আলিয়া মাদ্রাসার অনুসারী ইমাম নিয়োগ দানের পক্ষে ছিলেন। অপরদিকে মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজন কৌমী মাদ্রাসা অনুসারী পেশ ইমাম নিয়োগ দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনদের মধ্যে এক ধরনের বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার বাদ জুময়া গ্রামের আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থিত মুসল্লিরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয় পক্ষ মসজিদের আঙ্গিনা ও আশপাশে জড়ো হয়ে বৃষ্টির মত ইট,পাটকেল নিক্ষেপ,দাওয়া পাল্টা দাওয়ার সময় ইটের আঘাত মাথায় পড়ে গুরুতর আহত হন মোহাম্মদ আলী সহ অন্তত উভয় পক্ষের আরো ১৫জন মুসল্লী। রক্তাক্ত অবস্থায় মোহাম্মদ আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার লাশ পুলিশ হেফাজতে ময়না তদন্তের জন্য রয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মসজিদ মোতাওয়াল্লী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও গ্রামের গন্যমাণ্য লোকজনদের নিয়ে বৈঠক করেন থানার ওসি আব্দুল আহাদ। এসময় তিনি মোহাম্মদ আলী হত্যা কান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং যারা এঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান। এ নিয়ে গ্রামে কেউ বিশৃংখলার সৃষ্টি করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে সবাইকে শান্ত থাকার আহবান জানান তিনি। 

কানাইঘাট নিউজ ডট.কম/১১ মে ২০১৮ ই্ং

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়

নোটিশ :   কানাইঘাট নিউজ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক