কানাইঘাটে তরুণীকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

Kanaighat News on Friday, July 31, 2015 | 8:07 PM


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির নারাইনপুর গ্রামে দরিদ্র রিয়াজ আলীর মেয়ে ১৭ বছরের এক তরুণী ফরিদা বেগমকে গত ২৪ জুলাই ভিট বাড়ী থেকে অপহরণ করে দুই দিন আটকিয়ে রেখে উপর্যুপরি গণধর্ষণ করে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত লাশ টয়লেটে ভ্যান্টিলেটারে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় ধর্ষণকারী খুনী চক্রকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবীতে এলাকার মানুষ ফুঁসে উঠেছেন। পৈশাচিক এ নারকীয় হত্যাকান্ডের পর কানাইঘাট থানা পুলিশের নীরব ভূমিকায় জনমনে সর্বত্র দীক্ষার তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফরিদা বেগমকে গণধর্ষণের পর নির্মম ভাবে হত্যা করে লাশ টয়লেটে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবার সিলেটের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা, উত্তর সার্কেলের এএসপি ধীরেন্দ্র মুখপাত্র, জেলা আ’লীগ নেতা মস্তাক আহমদ পলাশ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ ফয়াজ আহমদ, পৌর আ’লীগের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন সহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা নিহত ফরিদা বেগমের বাড়ী এবং হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, এলাকার হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা দ্রুত সময়ের মধ্যে এ নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ঘাতকদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার জন্য কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরীকে নির্দেশ প্রদান করেন। পুলিশ সুপার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দিয়ে বলেন, শিশু রাজন হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে যেভাবে জনগণের সহায়তায় খুনীদের গ্রেফতার করা হয়েছে ফরিদা বেগমের হত্যাকারীদের সেভাবে গ্রেফতার করা হবে। এ জন্য খুনীদের দেখামাত্র স্থানীয় জনসাধারণকে আটক করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা নিহত ফরিদা বেগমের বাবা মা ও পরিবারের সদস্যদের সাথে একান্ত ভাবে কথা বলেন। প্রসজ্ঞত যে, গত ২৪ জুলাই শুক্রবার গভীর রাতে নারাইনপুর গ্রামের মৎস্যজীবি মোঃ রিয়াজ আলীর মেয়ে ফরিদা বেগম (১৭) কে বসত ঘর থেকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায়। এরপর নিখোঁজের দুই দিন পর গত রবিবার ফরিদা বেগমের রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত অর্ধ ঝুলন্ত লাশ পার্শ্ববর্তী বাড়ীর আনিছুল হক চৌধুরীর পরিত্যক্ত টয়লেটে পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অর্ধ ঝুলন্ত অবস্থায় ফরিদা বেগমের লাশ গত রবিবার উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করি। কিন্তু এ নিয়ে এলাকায় অনেকে নানা ধরনের কথাবার্তা বলছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টের পাশাপাশি এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা স্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন, পুলিশ সেভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কানাইঘাটে তরুণীকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগ

Kanaighat News on Thursday, July 30, 2015 | 9:01 PM


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির নারাইনপুর গ্রামে দরিদ্র পরিবারের (১৭) বছরের এক তরুণীকে ভিট বাড়ী থেকে অপহরণ করে আটকিয়ে রেখে উপর্যুপরি গণধর্ষণ করে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত লাশ টয়লেটে ভ্যান্টিলেটারে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর নিহত তরুণী ফরিদা বেগমের কথিত প্রেমিক একই ইউপির পানিছড়া বড়খেওড় গ্রামের মন্তাজ আলী মন্তাইর পুত্র আজির উদ্দিন (২৭) তার বাবা মা ও পরিবারের সদস্যরা বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে নারাইনপুর গ্রামের মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের মোঃ রিয়াজ আলীর মেয়ে ফরিদা বেগম (১৭) কে বসত ঘর থেকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায়। ঘটনার দিন রাতে ফরিদা বেগমের পিতা রিয়াজ আলী ও মা রেনু বেগম বাড়ীতে ছিলেন না। ফরিদা বেগম নিখোঁজের পর তার আত্মীয় স্বজন ও এলাকার লোকজন সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করে তার কোন সন্ধান পান নি। নিখোঁজের দুই দিন পর গত রবিবার ফরিদা বেগমের রক্তাক্ত ক্ষত বিক্ষত অর্ধ ঝুলন্ত লাশ পার্শ্ববর্তী বাড়ীর আনিছুল হক চৌধুরীর পরিত্যক্ত টয়লেটে পাওয়া যায়। ফরিদা বেগমের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ ফয়াজ আহমদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মস্তাক আহমদ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হাজারো মানুষ জড়ো হন। কানাইঘাট থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর সিলেট ওমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। গত সোমবার নিহতের লাশ জানাজা শেষে গ্রামের গুরুস্তানে দাফন করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সাংবাদিকরা গণধর্ষণের শিকার নিহত ফরিদা বেগমের বাড়ীতে গেলে সেখানে এলাকার নারী ও পুরুষ জড়ো হয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ফরিদা বেগমকে অপহরণ করে গণধর্ষণের পর চোখ গলিত, গোপন স্থান ক্ষত বিক্ষত করে এবং শরীরের অসংখ্য জায়গায় কুঁছিয়ে, কামড়িয়ে অত্যন্ত নির্মম ভাবে পৈচাশিক কায়দায় হত্যাকান্ড সংঘটিত করে লাশ কোনমতে টয়লেটে ঝুলিয়ে রাখে ধর্ষণকারী খুনী চক্র। কিন্তু পুলিশ এ হত্যাকান্ডের কোন গুরুত্ব না দিয়ে পোস্ট মডেম পরবর্তীতে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থার সিন্ধাত নেওয়ায় ফরিদা বেগমের সন্দেভাজন খুনী কথিত প্রেমিক আজির উদ্দিন তার পিতা মন্তাজ আলী মন্তাই ও দোলাভাই শরিফ উদ্দিন সহ পরিবারের লোকজন বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এ পৈশাচিক হত্যাকান্ডের সাথে এলাকার আরো অনেকে জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ ফয়াজ আহমদ, ইউপি সদস্য মস্তাক আহমদ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নিহত ফরিদা বেগমের স্বজনরা জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান ফয়াজ আহমদ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, যেভাবে দরিদ্র ঘরের মেয়ে তরুণী ফরিদা বেগমকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার খুনীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি গত বুধবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থাপন করেন। আদরের সন্তান ফরিদা বেগমকে হারিয়ে মা রেনু বেগম, পিতা রিয়াজ আলী ও ছোট ছোট ভাইবোনেরা সহ আত্মীয় স্বজনরা বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবী করেন। মৃতের গোসল সম্পন্নকারী মহিলা আমিনা বেগম, হাজিরা বেগম, আলছু বেগম জানিয়েছেন, নরপশুরা ফরিদা বেগমকে ধর্ষণ করে যেভাবে হত্যা করেছে তা অত্যন্ত লোমহর্ষক ও বিভৎস। তার গোপন স্থান ও শরীরের অসংখ্য জায়গায় পৈশাচিকতার ক্ষত বিক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তাদের একটাই দাবী এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের যেন পুলিশ গ্রেফতার করে। এলাকাবাসী সিলেটের উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের দাবী জানিয়েছেন। এই ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফরিদা বেগমের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গত রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে সিলেট ওমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। কিন্তু নিহতের পরিবারের কেউ অদ্যবধি পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করতে আসেনি। ফরিদা বেগমকে ধর্ষণ করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। পোস্ট মডাম রিপোর্ট পাওয়ার পর এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তদন্ত চলছে। পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হলে খুনীদের গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান। নিহতের পিতা রিয়াজ আলী জানিয়েছেন তিনি আজকের মধ্যে থানায় মামলা দায়ের করবেন।

কানাইঘাটে প্রতিপক্ষের হামলায় আনসার বিডিপি কমান্ডার গুরুতর আহত


নিজস্ব প্রতিবেদক: জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বুধবার প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির আনসার বিডিপি কমান্ডার স্থানীয় পূর্ব লক্ষীপুর গ্রামের মোঃ জালাল উদ্দিন (৬০) ও তার পূত্র নজরুল ইসলাম (২০), রুহুল ইসলাম (২৪)। এ ঘটনায় আহত আনসার বিডিপি কমান্ডার জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় প্রতিবেশি একই গ্রামের তফজ্জুল আলীর পুত্র আব্দুল মতিন সহ ৪ জন কে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত বুধবার সকাল অনুমান ৬টার দিকে আনসার বিডিপি কমান্ডার মোঃ জালাল উদ্দিন বাড়ীর পাশে সুরমা নদীর চরে ধানক্ষেতের মাঠে গেলে একই গ্রামের আব্দুল মতিন, মস্তাক আহমদ, রিয়াজ আহমদ গংরা দেশীয় অশসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জালাল উদ্দিনের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং শরীরের একাধিক স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। জালাল উদ্দিনকে হামলাকারীদের কবল থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তার পুত্র নজরুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামও আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় জালাল উদ্দিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে আহত আনসার বিডিপির কমান্ডার জালাল উদ্দিনকে হাসপাতালে দেখতে যান উপজেলা আনসার বিডিপির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদ আহমদ, উপজেলা আনসার বিডিপির কমান্ডার ইসলাম উদ্দিন, বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলী আহমদ, যুবলীগ নেতা হারিছ আহমদ সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আনসার বিডিপির কমান্ডারগণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা এ ঘটনায় অবিলম্বে এলাকার চিহ্নিত অপরাধী হামলার নেতৃত্বদানকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

না ফেরার দেশে সিলেটভিউ’র রাশেদীন ফয়সাল

Kanaighat News on Saturday, July 25, 2015 | 9:20 PM


সিলেট, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০১৫ :: সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে সিলেটভিউ২৪ডটকম’র নিজস্ব প্রতিবেদক রাশেদীন ফয়সাল। ১৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার বিকেল ৬টার দিকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন। ফয়সালের নামাজের জানাযা রবিবার সকাল ১১টায় মোগলাবাজারস্থ কোনারচর গ্রামে তার নিজ বাড়ীতে অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৩ জুলাই সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারস্থ কোনাপাড়ার গ্রামের বাড়ি থেকে সিলেট শহরে আসার পথে লালমাটিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় ফয়সলের পুরো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৩ জুলাই রাতেই তাকে ঢাকা মহানগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনদিন চিকিৎসা শেষে তাকে স্থানান্তর করা হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি ওই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সিলেটভিউ২৪ডটকম

কানাইঘাট থেকে ৪৬ কোটি টাকার সাপের বিষসহ আটক ৭

Kanaighat News on Friday, July 24, 2015 | 9:00 PM


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: কানাইঘাট উপজেলার রাউতগ্রাম থেকে ৪৬ কোটি টাকা মূল্যেও ১২ পাউন্ড (সিল্ড বাক্স) কোবরা সাপের বিষ উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা। উদ্ধার করা হয়েছে একটি রিভলবার, চার রাউন্ড গুলি ও একটি প্রাইভেট কার। আর এ সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৭ জনকে। ওই ঘটন মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র সিফাতুর রহমান (৫৬) ছাড়াও আটক অন্য আসামীরা হচ্ছে-ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কসবা শাহাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের পুত্র নজরুল আলম নান্নু (৫০), সিলেট নগরীর খাসদবীর বন্ধন সি/৩০ নম্বর বাসার মৃত আরজুমান আলীর পুত্র মোঃ আবু হাছান (৬২), মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রামপাশা গ্রামের মৃত সিরাজুর ইসলামের পুত্র, প্রাইভেট কার চালক শহীদুল ইসলাম অনুজ (৩৪), সিলেট নগরীর ফাজিলচিশত প্রান্তিক ৯ নম্বর বাসার মৃত সোলাইমান খানের পুত্র মো: আব্দুল মালিক (৬০), মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মাদেকপুর গ্রামের মৃত খন্দকার কলিম উল্লাহর পুত্র খন্দকার আব্দুল ওয়াহিদ (৬০) এবং বালাগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মৃত ওমেশ চন্দ্র আচার্য্যের পুত্র মতিলাল আচার্য্য (৬০)। র‌্যাবের মিডিয়া অফিসার পংকজ কুমার দে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯(স্পেশাল কোম্পানী) এর একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে সাপের বিষ উদ্ধার করে। উদ্ধার করা বিষের আনুমানিক মূল্য ৪৬ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাউতগ্রামের সিফাতুর রহমানের বাড়ি থেকে সাপের এ বিষ উদ্ধার করা হয়। আটক আসামীদের র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কানাইঘাট উপজেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভা শুক্রবার বিকেল ৪টায় কানাইঘাট দক্ষিণ বাজারস্থ দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মাসুক আহমদের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ নাজিম উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী এবং আগামী ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষে সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মীর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মোঃ ইয়াহিয়া, শফিউল আলম শামীম, শাহাব উদ্দিন, ওলিউর রহমান, আবুল হারিছ, সুহেল চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন, মজির উদ্দিন, ইউসুফ, মখলিছ, রইছ উদ্দিন, জাকারিয়া, ইমরান, বুরহান, কামিল হায়দার প্রমুখ। এছাড়া আগামীকাল শনিবার বিকেল ৩টায় কানাইঘাট উপজেলা যুবলীগের এক বর্ধিত সভায় স্থানীয় ডাক বাংলায় অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে উপস্থিত থাকার জন্য উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মাসুক আহমদ আহবান জানিয়েছেন।

কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজের প্রদর্শক ফয়সল উদ্দিনের বাড়িতে চুরি সংগঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রদর্শক ও সিলেট বেতারের সংবাদ পাঠক ফয়সল উদ্দিনের বাড়িতে দুধর্ষ চুরি সংগঠিত হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাতে ফয়সল উদ্দিনের বীরদল পুরানফৌদ গ্রামের নিজ বাড়িতে পাকা বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে চোরেরা ভিতরে প্রবেশ করে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ২৫ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল সেট আনুমানিক ২ ল টাকার মালামাল নিয়ে যায়। ফয়সল উদ্দিন জানিয়েছেন, রাত আনুমানিক ৩টার সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় তিনিসহ পরিবারের সবাই ঘুমে ছিলেন।

কানাইঘাট ২নং লক্ষীপ্রসাদ ইউপি ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কানাইঘাট উপজেলার ২নং লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী সম্মেলন অনষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ২টায় স্থানীয় সুরইঘাট বাজারে এ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল বাশারের পরিচালনায় কর্মী সম্মেলন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর হুসেন,বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আর.এ.বাবলু,সদস্য সচিব দেলোয়ার হুসেন,পৌর ছাত্রদলের ১ম সদস্য আমিনুল ইসলাম,উপজেলা ছাত্রদলের ১ম সদস্য দেলোয়ার হুসেন,উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য আমিনুল ইসলাম,কয়সর আলম,জাকির হুসেন,এইচ.এম.রানা,মারুফ আহমদ,আবুল হাসনাত সাজ্জাদ,প্রিন্স সুহেল আহমদ,আব্দুল কুদ্দুস,রাজু আহমদ,জুয়েল আহমদ,মামুন,বাবুল,কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি তাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশীদ চৌধূরী রাসেল,পৌরছাত্রদলের সদস্য আবুল ফয়েজ,জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।

কানাইঘাট সুরইঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত

Kanaighat News on Thursday, July 23, 2015 | 9:56 PM


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট সুরইঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য পদের নির্বাচন বৃহস্পতিবার স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উক্ত অভিভাবক সদস্য পদের নির্বাচনে মোট ৫০৭ জন অভিভাবকের মধ্যে ৪শ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ চৌধুরী ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন সমর্থিত দুটি প্যানেল থেকে মোট ৯ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। নির্বাচনে জহির উদ্দিন সমর্থিত প্যানেল থেকে সদস্য পদে নিজাম উদ্দিন, আব্দুল জলিল, আব্দুস শুকুর, শামসুদ্দিন ও লায়লী আক্তার চৌধুরীসহ সবাই নির্বাচিত হন। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন।

আমার বাংলাদেশ, আমার স্বপ্ন


মিলন কান্তি দাস:আজ প্রায় বছর খানেক পর আবার লিখতে বসলাম। যে লিখালিখিটা ছিলো আমার জীবনের ধ্যান, জ্ঞান, স্বপ্ন ও সাধনার পর্যায়ে। সেই লিখালিখিতে আমি এতোদিন পর বসেছি তা নিজেরও ভাবতে অবাক লাগছে। সেই কৈশোর কালের ছাত্রজীবন থেকেই এই লিখালিখির শুরু। যা আজো চলছে প্রচন্ড আত্মপ্রত্যয় বুকে নিয়ে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি যে, যে মানুষটি একবার এই লিখালিখির জগতে চলে আসে, সে আর কখনো কোন অবস্থাতেই বের হয়ে যেতে পারে না। এটাও এক ধরনের নেশার জগত। তবে এই নেশাটা স¤র্পুণ ভিন্ন এক ধরনের নেশা।এই নেশা আলোকস্মৃতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়ার নেশা। এই নেশা ভ’বন ভরা আলোকে সংগ্রহ ও সঞ্চয় করার নেশা। এই নেশা জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে প্রতিটি সময়ে একটি সুন্দর শুভ্র স্বপ্ন দেখার নেশা। এভাবে প্রতিটা কলম সৈনিক স্বপ্ন দেখে। প্রতিটা কলম সৈনিক স্বপ্ন দেখে একটি আদর্শ সমাজ ব্যবস্থার। একটি আলোকিত বাংলাদেশের সর্বপরি একটি সুখী সমৃদ্ধ বিশ্ব ব্যবস্থার। আজো আমাদের এই স্বপ্ন দর্শন চলছে। আমাদের স্বপ্ন বেচে থাকবে আমৃত্যু আজীবন। কেন জানি মনে হয় স্বপ্ন দর্শনের মধ্যদিয়েই জীবনের স্বার্থকতা অনেকখানি খুজে পাওয়া যায়। একজন মানুষ যে সত্যিকারের স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে তার দ্বারা আর কিছু হোক অন্ততপক্ষে পরিবার, সমাজ, তথা রাষ্ট্রের একবিন্দু ক্ষতি হতে পারেনা। এই সত্যটা আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি। স্বপ্ন দর্শনের মাধ্যমে সম্ভাবনার ক্ষেত্র খুজে পাওয়া যায়। আমরা যদি এযাবতকাল পর্যন্ত পৃথিবীতে আসা সকল বিখ্যাত ব্যাক্তির জীবনী পর্যালোচনা করি, তাহলে আমরা সেÿেত্রে দেখতে পাইযে তারা সকলেই স্বপ্ন দেখতেন। তারা সকলেই স্বপ্ন দেখতেন বিজয়ের। অবশ্যই সে বিজয় প্রতিটি মানুষভেদে ভিন্ন ছিলো। যেমন ঃ আমাদের বাঙ্গালী জাতির মহান নেতা, মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখতেন একটি স্বাধীন সার্বভৌম সোনার বাংলার। ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী স্বপ্ন দেখেছিলেন দীর্ঘ প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ শাসন, শোষণ, নিপিড়ন, জুলুম, অত্যাচার, লাঞ্চনা ও বঞ্চনামুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম ভারত রাষ্ট্রের। তেমনি ভাবে পাকিস্থানের জাতির জনক মোহাম্মদ আলী খান জিন্নাহ স্বপ্ন দেখেছিলেন সম্পূর্ণ ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ, চেতনা, ও মতাদর্শের ভিত্তিতে স্বাধীন সার্বভৌম পাকিস্থান রাষ্ট্র প্রতিষ্টার। দক্ষিন আফ্রিকার অধিসংবাদিত নেতা লেনসন ম্যান্ডেলা স্বপ্ন দেখেছিলেন সম্পূর্ণ বর্ণবাদ ও জাতিভেদ ও প্রথামুক্ত একটি শক্তিশালী ও আদর্শ রাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিষ্টার। মাও সেতুং, কালমার্কস সহ সকল কমিউনিষ্ট নেতা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি শোসন বঞ্চনামুক্ত বিশ্বব্যবস্থার যেখানে মানুষে মানুষে কোন পর্যায়ে ভেদাভেদ থাকবেনা, তেমনি শ্রীলংকার তামিল নেতা ভিলøুপাই প্রভাকরণ স্বপ্ন দেখেছিলেন সংখ্যাগরিষ্ট সিংহলী কর্তৃক নির্যাতিত নিপীড়িত সংখ্যালঘু তামিল জনগনের জন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম তামিল রাষ্ট্র প্রতিষ্টার। জার্মানীর ডিক্টেটর এডলফ হিটলার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখেই সে পথে হাটছিলেন। সবমিলিয়ে দেখা যায়, এসকল বিশ্বনেতৃবৃন্দের খ্যাতি ও দ্যুতির পিছনে আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করছে তাদের স্বপ্ন। এক বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তারা আমৃত্যু পথ চলেছেন। তাদের কেউ কেউ কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছুতে পেরেছেন। আবার কেউ কেউ সঠিক লক্ষ্যেমাত্রা অর্জন করতে পারেননি। তবে তারা সকলেই যে স্বপ্নের পথে হাটছিলেন এটা অনস্বীকার্য। ইতিহাসের পাতাগুলো পড়লে যেন তাই মনে হয়। স্বপ্নই কেবন খোলে দিতে পারে সম্ভাবনার দোয়ার। সেক্ষেত্রে অবশ্য স্বপ্ন দেখে কেবল বসে থাকলেই চলবেনা। আপনার স্বপ্নের সাথে অবশ্যই আপনার ইচ্ছাশক্তি, সামর্থ্য ও আত্মবিশ্বাসের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। আর সেÿেত্রে আপনি সম্পূর্ণরুপে সফল হোন কিংবা নাই হোন। তবে সর্ম্পূণরুপে ব্যার্থ হবেননা এটা নিশ্চিত। সেÿেত্রে আপনার ব্যর্থতা যেটি আসবে সেটি হবে সফল হতে গিয়ে সফলতার কাঙ্খিত লক্ষ্যে না পৌছানোর ব্যার্থতা। তবে আপনি যে আপনার স্বপ্ন অর্জনের লক্ষ্যে হাটছিলেন সেজন্য আর যাই হোক অন্ততপক্ষে আপনি আপনার বিবেকের আত্মতৃপ্তি পাবেন। সেজন্য আপনার বিবেক সবসময় আপনার পক্ষ্যে থাকবে, বিরুদ্ধে যাবেনা। আর আপনার স্বীয় বিবেক পক্ষ থাকা মানেই আপনার জীবনের স্বার্থকতা। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত তার স্বীয় স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া, সফলতা আসুক কিংবা নাই আসুক তবে ব্যর্থতা শতভাগ আসবেনা এটা নিশ্চিত। আমাদের সকলের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশ। প্রায় দুইশত বছরের বিৃটিশ শাসন, শোসন এবং ২৪ বছরের পাকিস্থানী শাসন শোসন ও নির্যাতনের পর একটি ক্ষতবিক্ষত জাতী একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ১৯৭১ সালের নয় মাসব্যাপী চলা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সেদিন আমাদের সম্মিলিত জাতীয় স্বপ্ন একীভ’ত হয়ে একই স্রোতধারায় এসে মিলিত হয়েছিল। সেদিন আমাদের স্বপ্ন ছিল মহান স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেদিন আমাদের স্বপ্ন ছিল পরাধীনতা, শাসন, শোসন, জুলুম ও নির্যাতন থেকে মুক্ত হওয়ার স্বপ্ন। যেদিন আমরা সমগ্র জাতীর প্রতিটি মানুষ হয়তো আলাদা আলাদাভাবে বা বিছিন্নভাবে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলাম। তবে আমাদের সকলের স্বপ্নের লক্ষ্যেমাত্রা একই ছিল। আর আমাদের সমগ্র জাতীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সেদিন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আমাদের মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে বুঝতে পেরেছিলেন বাঙ্গালী জাতীর স্বপ্ন দর্শনের বাস্তবতা। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন তার প্রিয় বাঙ্গালী জাতী কী চায় বা চাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যেদিন বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জননী জন্মভ’মি আর একমিনিটের জন্যও পরাধীন থাকতে চায় না। সেই চিন্তা চেতনা থেকে একসময় বঙ্গবন্ধু সমগ্র বাঙালী জাতীকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। একসময় স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রাদেশিক স্বায়ত্ব শাসনের। পরে স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন সার্বভৌম সোনার বাংলার। তাইতো ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ঘোষনা করেছিলেন “ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” বঙ্গবন্ধু সেদিন যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রæর মোকাবিলা করতে সমগ্র বাঙালী জাতীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সমগ্র বাঙালী জাতীও বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে এরকম একটি ঘোষনা আসায় সেদিন বাঙালী জাতী উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিলো। সেদিন বাঙালী জাতী বুঝতে পেরেছিলো তারা তাদের স্বপ্নের অনেকটা কাছাকাছি চলে এসেছে। স্বপ্ন এখন তাদেরকে হাতছানি দিচ্ছে। এখন স্বপ্নের বা¯Íবতা অর্জন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। বা¯Íবেও তাই হয়ে গেলো। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনের মাত্র ১৮ দিনের মাথায় আবার তারই দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা। আর সেই ঘোষনা দেওয়ার ঠিক নয় মাসের মাথায় মহান মুক্তিযুদ্ধের চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, ৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং নয় মাসের রক্তÿয়ী যুদ্ধ শেষে স্বাধীনতা অর্জনের পিছনে অবশ্যই বাংলা সাড়ে সাতকোটি মানুষের স্বপ্ন কাজ করছিলো। আর সেই স্বপ্ন বা¯Íবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা অর্জনের চলিøশ বছর পরও আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেই চলেছি। আমাদের স্বপ্নের শেষ ঠিকানা বলতে কিছু নেই। তবে আপাতদৃষ্টিতে আমাদের স্বপ্নের শেষ ঠিকানা বলতে আমরা একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাকেই সুনির্দিষ্ট করেছি। আমরা এদেশের নতুন প্রজন্ম। আমরা বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। আমরা স্বপ্ন দেখি একটি আলোকিত বাংলাদেশের। আমরা স্বপ্ন দেখি অসম্প্রদায়িক, সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলার। আমরা স্বপ্ন দেখি এমন বাংলাদেশের যে বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতির সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির ধারায় নেতৃত্ব দেবে। আমরা স্বপ্ন দেখি এমন বাংলাদেশের যে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে যারা বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে। আমাদের নতুন প্রজন্ম কিন্তু সেই স্বপ্ন বা¯Íবায়নের ধারায় তাদের প্রতিদিনের পথ চলবে। যা আমার খুব ভালো লাগে। আমার অত্যন্ত ভালো লাগে যখন দেখি এদেশের নতুন প্রজন্মের চোখে, মুখে,বুকে, চেতনায় ও অস্থিত্বের গভীরতায় একটি আলোকিত বাংলাদেশের স্বপ্ন। তাদের চিন্তা চেতনায় শুধু প্রিয় মাতৃভ’মি বাংলাদেশকে খুজে পাওয়া যায়। আমাদের নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের মধ্যে অমিত সম্ভাবনা খুজে পাওয়া যায়। নতুন প্রজন্মের খুব কাছাকাছি থাকার সৌভাগ্য আমার হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে জানতে চাই তাদের স্বপ্নের কথা। আমি দেখতে পাই তাদের ব্যাক্তিগতভাবে বড় হওয়ার স্বপ্নের পাশাপাশি সমান্তরাল ভাবে তারা দেখে প্রিয় মাতৃভ’মিকে বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন। তারা কোনভাবেই প্রিয় মাতৃভ’মিকে অবহেলিত ও পিছনে রেখে নিজে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেনা। তাদের চিন্তা চেতনায় রয়েছে এক বুক ভরা বাংলাদেশ। ওরা প্রিয় মাতৃভ’মি বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে চায় তাদের স্বপ্নের কাছাকাছি। আগে আমরা যখন শৈশবে ছিলাম, আমরা দেখতাম সেই সময় আমাদের দেশের মানুষ একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হলে শুধু ইন্ডিয়া, পাকিস্থান, বলে চিলøাচিলিø করতো। আমি নিজেও করতাম। কিন্তু আমাদের বর্তমান প্রজন্ম ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হলে এখন বাংলাদেশ বলেই চিলøাচিলিø করে। বাংলাদেশের বিজয়ের জন্য সবাই প্রার্থনা করে। মাঝে মাঝে নিজে করি এবং অনুশোচনা করি এজন্য যে আমরা এই বাঙালী জাতী অতি আবেগপ্রবন একটি জাতি। আমরা প্রায়ই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুণকীর্তন করে বর্ণনা করি, চিলøাচিলিø করি। অথচ ঐ সমস্থ দেশের কি এমন একটি মানুষ পাওয়া যাবে যে বাংলাদেশকে নিয়ে সারা জীবনের জন্য এক মিনিটের জন্য ভেবেছে? বিষয়টা আমাকে মারাত্মকভাবে ভাবায়। ওরা আমাদেরকে নিয়ে ভাবেনা। আমরাই ওদেরকে নিয়ে ভাবি। আমার তো মনে হয় পৃথিবীর এমন একটি দেশও খুজে পাওয়া যাবে না যে, যে দেশের পাঠ্যপু¯Íকের ভেতরে বাংলাদেশের নাম আছে। অথবা বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের নিয়োগ পরীÿা অন্ততপÿে ১ মার্কের একটি নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্ন করে। অথচ আমাদের দেশের পাঠ্যপু¯Íকের ভিতরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাম রয়েছে। রয়েছে তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সর্ম্পকে ব্যাপক বিষয় বর্ণনা। অথচ তাদের আলোচনায় আমরা নেই। তাদের চিন্তাধারায় আমরা নেই। বিষয়টি আমাকে মারাত্মকভাবে দুঃখ দেয়। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৩ বছর পরও কেন বিশ্বের সকল রাষ্ট্র আমাদেরকে ভালোকরে চিনবেনা? আর এই ব্যার্থতার দায়ভার কী আমাদেরকে বহন করতে হবেনা। আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বির্নিমানের পথে বাধা হিসেবে আমাদের নিজেদেরই সৃষ্টি কিছু কারন দায়ী নয় কী? যে বা যারা দেশের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে তাদের ব্যার্থতা এÿেত্রে অনেকাংশে দায়ী নয় কী? বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অবশ্যই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে যে, ধারায় এগিয়ে যাবার কথা সে ধারায় কি এগিয়ে যাচ্ছে?
আমাদের জি ডি পি , জি এন পি এবং প্রবৃদ্ধির সূচক যেভাবে বাড়ার কথা সেভাবে বেড়ে উঠছে কি? উত্তর অবশ্যই না। তাহলে আমার প্রশ্ন হলো আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকটা কি? আর এই প্রতিবন্ধক পুরোপুরি বিশেøষণ করলে তার বা তাদের কারণ ও স্বপÿে বিপÿে যুক্তি প্রদর্শন করতে করতে শেষ হবেনা। কত কারণ লিখবো। আর কত যুক্তিই বা প্রদর্শন করবো। প্রিয় বাংলাদেশকে নিয়ে অসংখ্য অগণিত শুভ্র স্বপ্ন দেখি বলেই এই লিখালিখিটাকে এক ধরনের দায়বদ্ধতা মনে করেই লিখা। আমার কথা হলো হয়তো আমরা আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা দেখে যেতে পারবো না বা উপভোগ করতে পারবো না। কিন্তু আজ থেকে একশ বছরের পরবর্তী প্রজন্ম যারা এই বাংলাদেশে বসবাস করবে তাদের যেন আমাদের মতো এতো স্বপ্ন দেখতে না হয়। আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজই যেন হয় ভবিষ্যত বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনার দোয়ার খোলার লÿ্য।ে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যে তাদের জন্মের জন্য কোন ধরনের আÿেপ করতে না হয়। তারা যেন কোন ভাবেই আমাদেরকে তাদের ব্যার্থ পূর্বসূরী মনে না করে। আমাদের সকল স্বপ্ন ও স্বপ্ন বা¯Íবায়নের লÿ্যে সকল কাজে অবশ্যই আমাদের নিজেদের কথা চিন্তার পাশাপাশি অবশ্যই ভবিষ্যত বাংলাদেশের কথা চিন্তা করতে হবে এবং ভাবতে হবে। আমরা স্বপ্ন দেখি আমাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা হবে শ্বাসত সুন্দর। কারন একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুশৃঙ্খলার উপর দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। এখন প্রশ্ন হলো স্বাধীনতার ৪৩ বছর অতিবাহিত হবার পরও কি আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও কাঠামো কি আমাদের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কি আমাদের সকল প্রত্যাশা সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছেন? স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৪৩ বছর পর আমাদের দেশবাসী আজকের এ প্রশ্ন যদি বিশেøষণ করি তাহলে কি দাড়ায়? আমরা যদি আমাদের দেশের বিগত ৪৩ বছরের রাজনীতি বিশেøষণ করি তাহলে আমরা অনেক ব্যার্থতাই খুজে পাই। আমাদের জাতীয় রাজনীতির জীবনের প্রথম ব্যার্থতা হলো আমরা আমাদের যখন স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনককে তার যথাযোগ্য সম্মান দিতে পারিনি। আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে ব্যাক্তিটি তার জীবন যৌবনের বেশিরভাগ সময় ব্যায় করেছেন এবং পাকিস্থানের অন্ধকার কারাগারে নির্যাতিত নিপীড়িত ও নিÿেপিত হয়েছিলেন সেই মহান নেতা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু আমরা যথাযথভাবে দিতে পারিনি। একটি যুদ্ধবিদ্ধ¯Í জাতী পূণ:গঠনের লÿ্যে যে নেতা অ¤øান ও নিরলস পরিশ্রম করে কাজ করে যাচ্ছিলেন সেই মহান নেতা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ভোররাতে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর এদেশীয় প্রেত্মারা। যে নেতার চোখে, মুখে, বুকে, আত্মপ্রত্যয়ে ছিলো এই অবহেলিত বাঙালী জাতীর জন্য একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন, সেই নেতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করতে এই কুলাঙ্গারদের হাতটা কি একটুও কাপেনি ! প্রায়ই এই প্রশ্নজাগে এবং হৃদয় ÿতবিÿত হয়ে যায় । বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রায় দেড়যুগের সেনা শাসন। অনেকে দাবী করেন এই সময় গণতন্ত্র প্রতিষ্টিত হয়েছে। এÿেত্রে আমাদের দেশের হাইব্রিড কিছু বুদ্ধিজীবীই বেশি বলে থাকেন। কিন্তু ক্যান্টনমেন্ট থেকে কোন ধরনের গণতন্ত্র দেশের মাটিতে সুপ্রতিষ্টিত হতে পারে তা যেকোন সচেতন বিবেকবান মানুষই ভালো বলতে পারে। যাই হোক প্রায় দীর্ঘ দেড় যুগের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রæয়ারী নির্দলীয় নিরপেÿ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এদেশের মাটিতে প্রথম সত্যিকারের অর্থে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন হলো। দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহন করে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল এই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে সরকার গঠন করে এবং ÿমতাসীন হয়। দেশের জনগনের ম্যান্বেট নিয়ে সে সময়কার সরকার ভালোর পথেই হাটছিলো। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সে সময়কার সরকার অশেষ অবদান রেখেছে তা অবশ্যই অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই সময় মাগুরায় একটি প্রহসনমূলক উপনির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রæয়ারী এ দেশের মাটিতে একটি প্রহসনমূলক জাতীয় নির্বাচন দিয়ে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মানের লÿ্যে চলমান অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করা হয়নি কি? রাজনীতি কি শুধু শুধুই ক্ষমতার জন্য ! যদি তাই না হতো তাহলে এমন নির্বাচন দেওয়ার প্রয়োজনটাই বা কি ছিলো? এই সকল বিতর্কিত নির্বাচন দিয়ে প্রতিপÿকে পথ দেখিয়ে দেওয়া নয় কি? ভোটার বিহীন ১৫ই ফেব্রæয়ারীর নির্বাচনের মাত্র দেড় মাসের মাথায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন বি এন পি সরকারের পতন হয়। অতপর ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্টিত নির্বাচন এদেশের মাটিতে অনুষ্টিত হয়। নির্বাচনে বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করে এবং জাতীয় পার্টি, জাসদ সহ বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যমতের সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই সরকার ক্ষমতাসীন ছিল। ঐ সরকার ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় পার্বত্য শান্তিচুক্তি, ভারতের সাথে গঙ্গাচুক্তি, পারমানবিক বোমা নিরস্ত্রকরণ চুক্তি সহ বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্র্জাতিক চুক্তিতে বাংলাদেশ সই করে, যা আমাদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে। এছাড়া এ সময় দেশের অর্থনীতির সূচক ছিলো ইতিবাচক। সবমিলিয়ে তৎকালীন সরকারের দেশ পরিচালনার নীতি ছিলো আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত ও সুনিয়ন্ত্রিত। ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার অধীনে নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে এবং সরকার গঠন করে। দীর্ঘ সামরিক শাসনের কালো অধ্যায়ের পর গণতন্ত্রের অভিযাত্রার সূচনার পর মাত্র দশ বছরের মাথায় এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে দেশের মাটিতে শুরু হয়ে যায় গনতন্ত্র এবং গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে ধংস করার প্রক্রিয়া। দেশে মৌলবাদী জঙ্গিদের দৃত উত্থান বাড়তে থাকে। এই সময়কার সবচেয়ে বেদনা বিদুর দিন ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখহাসিনা যখন ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামীলীগের শান্তিপূর্ণ জনসভায় ভাষন দানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক সেই মুহুর্তে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামীলীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে জঙ্গিরা। আওয়ামীলীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ ঐদিন মানবপ্রাচীর তৈরী করে প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার জীবন রক্ষা করে। তবুও রক্ষা হয়নি আওয়ামীলীগ নেত্রী আইভী রহমান সহ ২৩টি তাজা প্রাণের। সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিনত হয় একটি ধংসস্থুপে। সারা বাংলাদেশের মানুষ সেদিন ক্ষেভে উত্থান হয়ে উঠেছিলো আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম জঘন্যতম। ঐ দিনের কথা আজো ভুলিনি এবং ভুলবোনা কখনো। সেই নেত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মাটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্টার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ বলে এদেশের মানুষ মনে করে। সেই নেত্রীকে সম্পূর্ণভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে যখন জঙ্গিরা গ্রেনেড নিক্ষেপ করলো। তখন কোথায় ছিলো এদেশের গণতন্ত্র, কোথায় ছিলো তৎকালীন সরকার এবং কারপÿে ছিলো তা সময় ও বাস্তবতার পরিবর্তনে আজ দেশবাসীর কাছে স্বচ্ছ পানির মতো হয়ে গেছে। গ্রেনেড হামলার পরবর্তীতে জজ মিয়া নাটক এখনো দেশবাসী ভুলেনি। যে বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা এতো স্বপ্ন দেখি, যে প্রিয় মাতৃভূমিকে স্নেহময়ী জননীর চেয়েও আমরা আপন মনে করি, সেই মাতৃভূমির স্বপ্ন বা¯Íবায়নের অগ্রযাত্রায় এই ন্যাক্কারজনক গ্রেনেড হামলা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির লÿ্যে নয় কি? ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি বা আমাদের মতো মুক্তিয্দ্ধু পরবর্তী প্রজন্মের কারোরই হয়নি, কিন্তু ২০০৪ সালের ২১ শে আগষ্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্য নিÿেপিত গ্রেনেড হামলা দেখার দূর্ভাগ্য আমি সহ সমগ্র দেশবাসীর হয়েছে। ১৬। এছাড়া এই সময়ে দেশে একযোগে নিরিহ বোমা হামলার কথা দেশবাসীতো এখনো ভুলেনি। এখনো ভুলা যায়না হবিগঞ্জের বৈদ্যনাথ তলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ নেতা শাহ এ এম এস হত্যা, গাজীপুরের আওয়ামীলীগ নেতা ও সংসদ আহসান উলøাহ মাষ্টার হত্যাকান্ড, খুলনা মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম হত্যাকান্ড, নাটোরের সাবেক সংসদ ও আওয়ামীলীগ নেতা মমতাজ উদ্দিন হত্যাকান্ড সহ আরো কত নাম না জানা রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এদেশের মাটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নির্যাতনের চিত্রকি কখনো এ হৃদয় থেকে মুছা যাবে। দেশ ছেড়ে যেদিন জীবন রÿার তাগিদে যে হাজার হাজার সংখ্যালঘু চলে গেছে তার ÿত কি এ হৃদয় থেকে কখনো শুকাবে ? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশ ছেড়ে যাওয়া সংখ্যালঘুদের করুন চিত্র আমি দেখিনি। তবে আমাকে দেখতে হয়েছে ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু নির্যাতন, নিপিড়ন এবং দেশ ছেড়ে চিড়তরে চলে যাওয়ার করুন চিত্র। আমাকে দেখতে হয়েছে তৎকালীন সময়ে সারা বাংলাদেশে হিন্দু মন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের চিত্র, আমার প্রশ্ন হলো এদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কি এই প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে স্বপ্ন দেখেনি। আমার প্রশ্ন হলো হাজার বছর এদেশের মাটিতে যারা বসবাস করে আসছে সেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কি এদেশের মাটিতে বসবাসের কোন অধিকার নেই। যখন দেখি আমাদের চোখের সামনে এরকম একটি সংখ্যালঘু পরিবার নির্যাতিত ও নিপীড়িত হচ্ছে তখণ বুকের ভিতর থাকা চেতনা কেন জানি থমকে দাড়ায়। কেন জানি এই চেতনাকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে ইচ্ছে করেনা। কেন জানি প্রিয় মাতৃভূমিকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন ভেঙ্গে ÿত বিÿত হয়ে যায়। যখন আমার বা আমাদের চোখের সামনে আমারই একটি ভাই নির্যাতিত, নিপীড়িত হয় এবং নির্মম চিত্র দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়, তখন আমার স্বপ্ন ও চেতনাকে নিয়ে কোথায় দাড়াতে পারি? স্বপ্ন ও চেতনা তো তখন বিবেকের কাঠগড়ায় আসামী হয়ে দাড়ায়। প্রিয় মাতৃভূমিকে নিয়ে দেখা নিজের সুন্দর শুভ্র স্বপ্নকে যেন কে বা কারা কেড়ে নিয়ে যেতে চায়। আমার স্বপ্ন সাধনার কি এভাবে সলিল সমাধি হবে? আমিতো কখনো চাইনা বাংলাদেশকে নিয়ে দেখা আমার শুভ্র স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটুক। আজ যখন দেখি নিজদেশে পরবাসী ফিলি¯িÍনীদের উপর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মদদপৃষ্ট ইসরাঈলী নরপিশাচরা বর্বর হত্যাকান্ড চালাচ্ছে তখন সারাদেশবাসীর মতো আমিও ধীক্কার জানাই। যদিও এই বর্বর হত্যাকান্ডের প্রতিবাদের ভাষা খুজে পাইনা। তবুও ধীক্কার জানিয়ে কিছুটা হলেও আত্মতৃপ্তি পাই। তবে এÿেত্রে অতি একটি দুঃখবোধের কথা বলতে খুব বেশী ইচ্ছে করছে। যেমন: আমার দেশে যখন দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নির্যাতিত নিপীড়িত হয়ে নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে পরবাসী হয় তখন কেন দেশজুড়ে এরকম প্রতিবাদের ঝড় উঠেনা। কেন নিজ দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি যে অবিচার করা হচ্ছে তার জন্য রাজপথে মাইক টাঙিয়ে মরা কান্না করা হয়না। কবি বলেছিলেন “ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” মানুষ যদি সত্যিই সত্য হয়ে থাকে তাহলে মানুষে মানুষে এতো পার্থক্য কেনো? আমরাতো মনে করি পৃথিবীর সকল শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষ যদি একই কাতারে হবার কথা থাকে, তাহলে কেন প্রতিবাদের ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্যাতিতদের জাতী বর্ণ ধর্মের পরিচয় আরো শনাক্ত করা হবে। কিন্তু আমরাতো দেখেছি তা হচ্ছে বিবেক যখন অপমৃত্যুর পথে ধাবিত হয়। আমার প্রশ্ন হলো এদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ব্যাতিরেকে কি স্বপ্নের সোনার বাংলা বির্নিমান করা যাবে? এ ব্যাপারে আমি ব্যাক্তিগতভাবে এর চেয়ে বেশী কিছু বলার প্রয়োজন মনে করছিনা। জাতীয় বিবেকই বলে দেবে আমার কথাগুলো সঠিক কিনা। আমরা শৈশবে যখন ছিলাম তখন সেই সময়ের বয়োবৃদ্ধারা আমাদেরকে বানিয়ে বানিয়ে রুপকথার গল্প বলতেন। একদিন রুপকথার গল্প না শুনলে ঘুম আসতোনা সে সময়। একটি রুপকথার গল্প শুনতে কত কত কাকুতিই না করতাম বয়োবৃদ্ধাদের কাছে। কত সুন্দরতা ও সৌন্দর্য্যই না ছিলো এই সকল গল্পগুলির মধ্যে। একটির পর একটি শুনতাম। একটুও বিরক্তি লাগতোনা। বরং মনের মধ্যে বারংবার ইচ্ছা থাকাতো শুধু রুপকথার গল্প গুলি শুনি। মাঝে মাজে মনে মনে ভাভি, হয়তো এই সকল রুপকথার ভালোবাসার, ভালোলাগার স্বপ্ন হয়তো আমাকে আমাদেরকে উন্নত স্বপ্ন দর্শনে উদ্ভুদ্ধ করছে। রুপকথার গল্পের সেই রাজপুত্রের মতো নিজেও হয়তো মাঝে মাঝে বা¯Íবের রাজপুত্র হওয়ার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এখন আর এসব ভালোলাগা, ভালোবাসা ও আত্মতৃপ্তির গল্পগুলি কোথাও শুনা যায় না। সময়ের ব্যবধানে এ কালের অগ্রযাত্রায় এই অসাধারণ হৃদয়সাথী গল্পগুলি কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। আমি আমার শৈশবে যেসব গল্পবাজদের কাছ থেকে এসব মনমাতানো গল্প শুন্যতায় আজ আর তারা কেউ ই বেচে নেই। তবে তাদের গল্পবলার স্মৃতি, বলার কথা যোগল এখনো আমাকে স্বপ্ন দেখার পথে অনুপ্রেরণা যোগায়। কালের বিবর্তনে এসব গল্পও গল্পবাজরা হারিয়ে গেছেন । এটাই সত্য এবং এটাই বাস্তবতা। তবে গল্পবলা আজো চলছে। তবে আগেকার গল্প এবং বর্তমান গল্প, তাদের মানের আদর্শ ও মানের মধ্যে রয়েছে বিশাল বিস্তর ব্যবধান। আগেকার গল্পবলার ক্ষেত্র ছিলো একান্ত পারিবারিক পরিবেশে, আপনালয়ে। সর্বচ্চ গল্প বলা ও শোনার ÿেত্র ছিলো গ্রামের নির্মল বাতাস সমৃদ্ধ সবুজঘেরা কোন প্রাকৃতিক পরিবেশে। যেখানে সবাই মিলেমিশে গল্পবাজের মুখের দিকে তাকিয়ে মজার মজার গল্প শুনতো এবং আত্মতৃপ্তি পেতো। কিন্তু আজকের যুগেও গল্প বলা চলে। তবে আজকের দিনে গল্প বলা হচ্ছে আমাদের রাজনীতির ময়দানে। আগেকার যুগে সর্বোচ্চ শ্রোতা ছিলো ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত। এখনকার গল্প সমগ্র দেশের মানুষ একসাথে শুনে। আগেকার গল্পে রুপকথার রুপকথা হিসেবেই ছিলো। তা কখনো বা¯Íবরুপ পায়নি। এখনকার গল্পে রুপকথা আর রুপকথা থাকেনা। এখনকার গল্পে রুপকথাকে বা¯Íবরুপে দেওয়া হয় এবং বা¯Íব বানিয়ে মাঠে ময়দানে বলা হয়। আগেকার গল্পে সমাজে শান্তি সৃষ্টি হতো, মানুষ আত্মতৃপ্তি পেতো, কিন্তু বর্তমানকালে আজকের দিনের গল্পে সমাজে চির অশান্তি সৃষ্টি হয়। ক্ষমতার রাজনীতিতে এরকম মিথ্যা বানোয়াট গল্প যেন বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। আগেকার গল্পের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতো। এখনকার গল্পে অশ্রদ্ধা থাকে এবং বমি ভাব হয়। এইতো কিছুদিন আগে এরকম একটি পরিকল্পিত রুপকথার গল্প বলে সারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিলো।্ “ এই নিয়েছে এই নিয়েছে কান নিয়েছে চিলে” দোহাই দিয়ে গত বছর একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোত্র সারা দেশে নৈরাজ্য ও অশান্তি সৃষ্টি করছিলো। সারা দেশে মহান মুক্তিযোদ্ধের অনেক স্থাপনা ধংস করেছিলো এই প্রতিক্রিয়াশীলগোষ্ঠী, গত বছরের যে আমাদের জাতীয়তায় ঐতিহ্যবহনকারী সুদীর্ঘ ৪০০ বছরের প্রিয় রাজধানী ঢাকাকে ধংসস্থুপে পরিনত করেছিলো ঐ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী। এটাতো আমার মুখের বানিয়ে বলা কোন কথা নয়। ঐ সময়তো ঐ ধংসযজ্ঞের সারাদেশের গণমাধ্যমগুলি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ও প্রকাশিত হয়। এই ধংসযজ্ঞের মানেটা কি ছিলো। যারা এই ধংসযজ্ঞ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণে করেছিলো তাদের প্রতি আমার ততোটা দুঃখবোধ নেই। কিন্তু দুঃখবোধ এবং ÿেত্র তাদের প্রতি যারা সম্পূর্ণ জেনে শুনে বুঝে এই আবেগ প্রবন মানুষগুলিকে ধংসযজ্ঞে ছড়িয়েছিলো। রাজধানী ঢাকার কতটি সবুজ বৃক্ষ কেটে যে সেদিন উজাড় করা হয়েছিলো। আজো দেশবাসীর তা মনে আছে। সেদিন অপরাজনীতির হিংস্র থাবার শিকার হয়েছিলো আমাদের প্রিয় রাজধানী ঢাকা। শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য কি এই অপরাজনীতি যুগের পর ঘৃণ এভাবেই চলতে থাকবে এই বাংলার মাটিতে! ক্ষমতাকেন্দ্রিক এই অপরাজনীতি যে আমাদের স্বপ্ন বাস্তবয়দনের পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে বা করছে তা কি আমাদের যথাযথ কর্তৃপÿ যথাযথভাবে বুঝেন, জাতীর বিবেকের কাছে আমার এই প্রশ্ন থাকলো। আমিতো দেখছি আমাদের রাজনীতির কর্তা ব্যাক্তিরা বেয়াদবীর রাজনীতি শেখানোর আদর্শে উদ্বৃদ্ধ করছে। অথছ এই রাজনৈতিক শিক্ষা যে ভবিষ্যত বাংলাদেশের অস্থিত্বের জন্য ভয়াবহ হবে তা কি উনারা একবারের জন্য হলেও ভাবেন? যদি ভাবতেন তাহলে হয়তো এমনটি হতোনা। আজ উনাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দেশের বাইরে বড় হচ্ছে। বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে দেশে আসলে হয়তো উত্তরাধিকারের সূত্রে পিতার সিংহাসনের সিংহপতি হচ্ছে। অপরদিকে আমার দেশের ধূলাবালি কাদা পায়ে মেখে বড় হয়ে উঠা বিশুদ্ধ বাংলার বিশুদ্ধ সন্তানটি দেশের অপরাজনীতির শিকার হয়ে তার জীবনের সঠিক গতিপথ বিচ্যুত হচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ লেখাপড়া শেষ করছে ঠিকই, কিন্তু যে কোন জাত্রি তার সঠিক জায়গায় যেতে পারছেনা। অদৃশ্য শক্তি তার প্রাপ্য স্থান দখল করে নেয়। আর একটি বৃহৎ অংশ অপরাজনীতির কবলে পড়ে লেখাপড়ায় কলেজের গন্ডি কেন জানি আর পেরুতে পারেনা। নতুন প্রজন্মের এই অংশটির জন্য আমার অনুশোচনা হয়। কেন জানি বার বার মনে হয় আমার এই ভাইগুলিকে বিপথগামী করা হচ্ছে। কেন জানি বারবার মনে হয় যারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে তাদেরকে একটি দেশপ্রেমহীন চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আমার ভাইটিকে যদি সঠিক আদর্শের ও দেশপ্রেমের রাজনীতির শিক্ষা দেওয়া হতো, তাহলে অবশ্যই সে হরতালের সময় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারতোনা। এই জন্য আমি তাকে দোষী বলবোনা। দোষ বলবো তার কপালের। কারণ সে আদর্শহীন ও দেশপ্রেমহীন ব্যক্তিদের আশ্রয়ে লালিত পালিত ও বড় হয়েছে। ওদের দেওয়া নীতিহীন আদর্শের শিÿিত হয়ে সে আজ এই ধংসাত্বক কাজটি করছে। সে যদি বুঝতো যে একজন মানুষ হিসেবে এটি তার কাজ না, তাহলে অবশ্যই সে সেটি করতোনা। এই ছেলেটির ভিতরে থাকা মানবতা নামক কোমল হৃদয়কে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে ঐ চরিত্রহীন মানবতাহীন লম্পটদের দল। যে ছেলেগুলিকে দিয়ে এই জ্বালাও, পোড়াও ধংসযজ্ঞ করানো হচ্ছে এরা কি এক সময় এই জ্বালাও পোড়াও এর স্বপ্ন দেখছিলো? ওরা যখন শৈশব কৈশর ছিলো তখন কি মানুষের মতো মানুষ হবার স্বপ্ন দেখেনি? অবশ্যই দেখেছিলো। কিন্তু তাদের স্বপযাত্রার যাত্রীবাহী গাড়িটি কোথায় একটি জায়গায় এসে জানি দূর্ঘটনার পতিত হয়েছে। আজ তারা একধরনের লাইফ সাপোর্টে বেচে আছে। কিন্তু এটা কি সত্যিকারের একটি জীবন হতে পারে ? 
লেখক পরিচিতি: মিলন কান্তি দাস বি কম সম্মান, এম.কম হিসাববিজ্ঞান মোবা ঃ ০১৭৮৭-১৪৩৭৪৯

মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা‍! কানাইঘাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সহ তিন জন আহত

Kanaighat News on Tuesday, July 21, 2015 | 10:21 PM


নিজস্ব প্রতিবেদক: মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম রানা সহ তিনজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কানাইঘাট মুশাহীদ (রহ.) সেতুর পশ্চিম পাশের বাইপাস সড়কে এ মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। আহত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তার ডান পা ও হাতে ফুলা ছেছা রক্তাক্ত জখম হয়েছে। তবে তিনি আশংকা মুক্ত বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আবুল হারিছ জানিয়েছেন। জানা যায়, বাইসাইকেল আরোহী এক কিশোরকে বাঁচাতে গিয়ে মোটর সাইকেলটি ধুমড়ে মুচড়ে উল্টে গিয়ে আহত হন মোটর সাইকেল আরোহী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানা, মোটর সাইকেলের চালক ছাত্রলীগ কর্মী মাহফুজ সিদ্দিকী এবং বাইসাইকেল আরোহী কিশোর হৃদয় (১৩)। আহত অন্য দু’জনকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদিকে মোটর দুর্ঘটনায় আহত ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানাকে হাসপাতালে দেখতে যান, আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

প্যারিসে কানাইঘাট উপজেলাবাসীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

Kanaighat News on Monday, July 20, 2015 | 9:46 PM


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: উৎসবমুখর পরিবেশ ফ্রান্সে বসবাসরত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলাবাসীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি প্যারিসের গার দো নোর্দের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ ঈদ পুর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল সংখ্যক কানাইঘাট প্রবাসীদের উপস্হিতিতে প্যারিস প্রবাসী কমিউনিটি নেতা খান জালাল এর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক আবু তাহির এর পরিচালনায় এসময় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্যারিস – বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন সোহেল,সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফুর রহমান বাবু। বক্তব্য রাখেন জয়নুল আবেদীন,মিনহাজ উদ্দীন ,ইকাবাল হোসেইন,সালেহ আহমদ,কুতুব উদ্দীন,কামাল সহ কানাইঘাট প্রবাসী নেতারা।এসময় কোরান তেলাওয়াত করেন শাহীন আহমদ প্রমুখ। ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পর নিজ এলাকার প্রবাসীদের এ মিলন মেলায় আড্ডা এবং ভোজনের সাথে সাথে নিজ এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়। সেই সাথে উঠে আসে ফ্রান্সের বাংলাদেশের কমিউনিটিতে কানাইঘাট প্রবাসীদের ভুমিকা। এসময় তারা আন্তরিকতার মাধ্যমে কানাইঘাট উপজেলার উন্নয়নে দেশের বাহিরে অবস্হানরত সকল কানাইঘাট প্রবাসীদের আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান।

শিশু রাজন হত্যার প্রতিবাদে কানাইঘাটে মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশু সামিউল আলম রাজনকে মধ্যযুগীয় বর্বরতম কায়দায় কুঁচিয়ে কুচিয়ে নির্মম ভাবে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মানুষ রূপী নরপশু খুনীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দাবীতে কানাইঘাট বাজারে উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়েছে। সোমবার বাদ আসর কানাইঘাট বাজার ত্রিমোহনী পয়েন্টে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ছাত্রলীগ নেতা আজমল হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে শিশু সামিউল আলম রাজনের খুনীদের আলাদা ট্রাইব্যুানাল গঠন করে দ্রুত বিচার সম্পন্নের দাবী জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আ’লীগের সিনিয়র সদস্য জমির উদ্দিন প্রধান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ আহমদ, পৌর আ’লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কেএইচএম আব্দুল্লাহ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুক আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানা। বক্তব্য রাখেন, কলামিস্ট মিলন কান্তি দাস, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আজির উদ্দিন, জমির উদ্দিন প্রমুখ। এছাড়া মানববন্ধনে শিশু সামিউল আলম রাজনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও ভরণ পোষনের দায়িত্ব নেওয়া সহ এ ব্যাপারে কঠোর ভূমিকা পালন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

কানাইঘাটে পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট কোতয়ালী মডেল থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী এক শিবির নেতাকে কানাইঘাট থানা পুলিশ গ্রেফতার করার পর পুলিশের কাছ থেকে আসামীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে থানায় দায়েরকৃত পুলিশ এসল্ট মামলায় মৃত ও প্রবাসে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আসামী করায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, সিলেট কোতয়ালী মডেল থানায় দায়েরকৃত একটি মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক আসামী উপজেলার লামা ঝিঙ্গাবাড়ী গ্রামের সাইফুল আলমের পুত্র জেলা শিবির নেতা শামীম আহমদ (২৬) কে গত শুক্রবার রাত অনুমান ১১টার দিকে কানাইঘাট থানার এস.আই রাশেদুর আলম খাঁন উপজেলার বোরহান উদ্দিন বাজার থেকে গ্রেফতার করেন। শিবির নেতা শামীম আহমদকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার পথে পথিমধ্যে গাছবাড়ী বাজার সংলগ্ন পল্লীবিদ্যুৎ অফিস মোড়ে আসার সময় স্থানীয় জামায়াত শিবিরের কিছু নেতাকর্মী পুলিশের কাছ থেকে শামীম আহমদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে এস.আই রাশেদুল আলম খাঁন জানান। এসময় তিনি ০৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে, জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে। আসামীকে কানাইঘাট থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় এস.আই রাশেদুল আলম খাঁন বাদী হয়ে পরদিন শনিবার জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, প্রবাসী ও মৃত ব্যক্তি সহ জামায়াত শিবিরের ২৫ নেতাকর্মীকে আসামী করে পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং ১৫, তাং- ১৮/০৭/২০১৫ইং। উক্ত পুলিশ এসল্ট মামলায় ২ বছর পূর্বে প্রতিপক্ষের হাতে নিহত উপজেলার দলইমাটি গ্রামের আব্দুর রকিব ৯নং আসামী, দলইকান্দি গ্রামের মাওঃ আবু বক্করের পুত্র সাইপ্রাস প্রবাসী নোমান, দলইমাটি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের পুত্র দুবাই প্রবাসী জাকারিয়া আহমদ রেজাকেও আসামী করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তি ও প্রবাসীদের আসামী করায় পুলিশের দায়েরকৃত এসল্ট মামলা সত্যতা নিয়ে এলাকায় জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ এসল্ট মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশ নির্দোষ, এমনকি ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের ঢালাও ভাবে আসামী করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার বাদী এস.আই রাশেদুল আলম খাঁনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মৃত ও প্রবাসী ব্যক্তিদের মামলায় আসামী করা হলে তদন্ত পূর্বক এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওঃ আব্দুল করিম জানিয়েছেন, পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনার সাথে জামায়াত শিবিরের কোন নেতাকর্মী সম্পৃক্ততা নেই। আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার ব্যাপারেও তারা কিছুই জানেন না, তবে ঐদিন গুলির শব্দ শোনা গেছে।

কানাইঘাট নিউজ সম্পাদকের ঈদ শুভেচ্ছা

Kanaighat News on Saturday, July 18, 2015 | 1:56 AM


নিজস্ব প্রতিবেদক:‍‌"রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ" "তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে , শোন আসমানী তাগিদ" পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে কানাইঘাটের প্রথম অনলাইন পত্রিকা "কানাইঘাট নিউজ ডট কম" সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ কানাইঘাট নিউজের সকল পাঠক,শুভানুধ্যায়ী,সাংবাদিক ও দেশবাসীসহ প্রবাসের সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈদুল ফিতরের মহান আনন্দের মহিমায় বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সূখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
                                                                                   মাহবুবুর রশিদ  
                                                                                   সম্পাদক 
                                                                                      কানাইঘাট নিউজ ডট কম 
কানাইঘাট,সিলেট।

কানাইঘাটে যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

Kanaighat News on Wednesday, July 15, 2015 | 10:50 PM


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বুধবার কানাইঘাট ইউনিক কমিউনিটি সেন্টারে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্টিত হয়। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খসরুজ্জামান ও আবুল বাশারের যৌথ পরিচালনায় উক্ত ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাহির চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদ মামুন, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম.এ.লতিফ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হাবিব আহমদ,উপজেলা জামায়াতের আমির মাওঃ আব্দুল করিম, খেলাফত মজলিস নেতা হিফজুর রহমান, আমানুর রহমান চৌধুরী, জমিয়ত নেতা মুফতি এবাদুর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী এড. এ.কে.এম ওলি উল্লাহ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাঈদ আহমদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ, ফখরুল ইসলাম, আবু শহিদ, আশরাফুল আম্বিয়া, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুহুল আমিন, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন, ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন, আমিনুল ইসলাম, জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, ফখরুল ইসলাম, সালা উদ্দিন, সাজ্জাদ হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, সুহেল আহমদ, রুহুল ইসলামম পৌর যুবদলের জাকারিয়া হোসেন জাকু, মামুন রশিদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আগামী দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকল আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।

গাছবাড়ী আঞ্চলিক ছাত্রলীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী আঞ্চলিক কমিটির ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় গাছবাড়ী বন্ধন কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। গাছবাড়ী ছাত্রলীগ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি হারুন রশীদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আহমদের পরিচালনায় উক্ত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা সেচ্চাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এড.ফখরুল ইসলাম,প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এম.সি.কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তাজিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ওলীউর রহমান,কানাইঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন,সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বিভাগীয় উপ সম্পাদক হামজা হেলাল,জেলা ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা কে.এ.সুমন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা জামিল,সারোয়ার,আশিক,মস্তাক,আলতাফ,সেলিম,রব্বানি,কালাম,শেবুল,আব্দুল্লাহ,রেজওয়ান,রুহেল,নাজমুল,হাসান,সুলতান,মারুফ,ফরহাদ, প্রমূখ।

তাকওয়ার অনুশীলনে রোজা


মাওলানা বায়েজীদ হোসাইন সালেহ: আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামতের গণনা করো, তবে গুনে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ (সূরা ইবরাহিম : ৩৪)। অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, আমি মানব এবং জিন জাতিকে আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। (সূরা জারিয়াত : ৫৬)। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব। আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য-অগণিত নেয়ামত দিয়ে, সুন্দর অবয়বে মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলে আলোকিত জীবন গঠন করার জন্য। জাহান্নামের পথ ছেড়ে জান্নাতি মানুষ হওয়ার জন্য। কিন্তু দুনিয়ার অন্ধ মোহে পড়ে মানুষ সত্য ও ন্যায়ের কথা ভুলে অন্যায় ও পাপের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখে। অন্তরে আল্লাহর স্মরণ বাদ দিয়ে শয়তানি স্বভাব লালনে সদা ব্যস্ত থাকে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রধান হাতিয়ার হলো খোদাভীতি। আরবিতে যাকে বলা হয় 'তাকওয়া'। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি বিশ্বকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে তাকওয়ার কোনো বিকল্প নেই। লোকচক্ষুর আড়ালে, পুলিশি প্রহরা যেখানে অকার্যকর, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী যেখানে ব্যর্থ, স্যাটেলাইটের তীক্ষ্ন দৃষ্টি যেখানে একেবারেই অসহায়, সেখানেও আল্লাহর ভয় একজন ব্যক্তিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে। অতএব, তাকওয়া হচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, পাপমুক্ত লোকালয় প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। তাকওয়া মূলত নিজের জন্য নিজেই প্রহরী। আর এ তাকওয়ার গুণ সৃষ্টি করা, নিজেকে তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত করার শ্রেষ্ঠ সময় হলো মাহে রমজান। পবিত্র রমজান মাসের রোজাই পারে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ উপহার দিতে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। (সূরা বাকারা : ১৮৩)। সুতরাং রোজার অর্থই হচ্ছে তাকওয়ার অনুশীলন। আর তাকওয়ার অনুশীলনের অর্থই হচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য এক উচ্চাঙ্গের প্রশিক্ষণ। অনেক রোজা পালনকারীর প্রাণ ক্ষুৎ-পিপাসায় ওষ্ঠাগত হয়। সে গোপনে পৃথিবীর সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে, যথার্থ সুযোগ লাভ করেও পানি ও খাদ্যের দিকে হাত বাড়ায় না। সে অত্যন্ত কষ্ট স্বীকার করে। তাকওয়া নামক এ অতন্দ্র প্রহরীর সন্ত্রস্ততা তাকে এ শক্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার মাধ্যমে বাস্তবে তাকওয়া সৃষ্টিতে রোজার যে বলিষ্ঠ ভূমিকা তা আমরা স্পষ্ট উপলব্ধি করতে পারি। বছরের অন্য যে কোনো মাসের চেয়ে পবিত্র রমজানে মানুষের মনে এ ভীতিটা বেশি কাজ করে যে, আমি যা করি আল্লাহ সব কিছু দেখছেন। আমার প্রতিটি কর্মই আল্লাহর দরবারে রেকর্ড হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসে এই যে উপলব্ধি বা বোধোদয় এটা একটি বিশাল ব্যাপার। অথচ আল্লাহ তায়ালা সবসময়, সর্বদা, সবখানে আছেন, সব দেখেন, শোনেন, জানেন। হজরত লোকমান হাকিম প্রিয় সন্তানকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, যা কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, হে বৎস! কোনো বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, অতঃপর তা যদি থাকে পাথর গর্ভে অথবা আকাশে অথবা ভূ-গর্ভে, তবে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ গোপন ভেদ জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন। (সূরা লোকমান : ১৬)। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় আমরা অন্য মাসে তা অনুধাবন করতে পারি না। অনুধাবন করতে পারি শুধু রমজান মাসে। আর এ উপলব্ধির কারণ হচ্ছে রোজা। অতএব রোজা মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে। অন্তরে খোদাভীতি সুদৃঢ় করে। পাপ কাজের প্রতি এক ধরনের ঘৃণা সৃষ্টি করে। নেক আমলে, ভালো কাজের দিকে মনকে ধাবিত করে। জীবনকে সত্য ও সুন্দর পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে মাহে রমজানের রোজা। রমজানে পারস্পরিক শক্রতা, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে সবার মাধ্যে একতার সুর বেজে ওঠে। গরিব ও ধনীদের মধ্যে প্রভেদ কমে যায়। একে অপরকে সহজেই কাছে টেনে নেয়। বুকে জড়িয়ে ধরে পরম সুখ অনুভব করে। মোট কথা, সব সেক্টরে বদ অভ্যাস, বদ স্বভাব দূর হয়ে শান্তির সুবিমল বাতাস বইতে শুরু করে। সবার মনে আলাদা ভয় বিরাজমান থাকে। মৃত্যুর কথা বেশি স্মরণ হয়। গোনাহর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়। পরকালীন জবাবদিহিতার মানসিকতা অধিক পরিমাণে জাগ্রত হয়। সবাই ভাবে, আমি রোজা রেখে যা করছি আল্লাহ সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন। তাই কোনোভাবেই অন্যায়-অপকর্ম করা যাবে না। রোজা রেখে এই যে অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তা যদি সারা জীবন কোনো ব্যক্তি হৃদয়ের গহিনে সযত্নে লালন করে, আর রমজানের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণকে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে অন্ততপক্ষে এটা বলা যায় যে, এ সমাজ দেশ-জাতি দুর্নীতি ও দুঃশাসন মুক্ত হয়ে একটি সোনালী সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিণত হবে নিঃসন্দেহে।

ব্রাজিলের মুসলিমরা সাহরি ও ইফতার করেন একসঙ্গে


মোঃ আবুসালেহ সেকেন্দার: লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিলে ইসলাম ধর্মের প্রবেশ ঘটে ১৫০০ শতাব্দীতে আফ্রিকার কৃতদাসদের মাধ্যমে। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, সমসাময়িক সময়ে ব্রাজিল শাসন করত পর্তুগাল। এ অঞ্চল ছিল পর্তুগিজদের উপনিবেশ। ব্রাজিল থেকে পর্তুগিজদের আয়ের অন্যতম উৎস ছিল আখ চাষ। এ আখ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক ব্রাজিলে ছিল না। ফলে পর্তুগিজরা আখ চাষের শ্রমিক হিসেবে আফ্রিকা থেকে নিগ্রোদের ব্রাজিলে নিয়ে আসে। এ নিগ্রোদের অনেকে মুসলিম ছিলেন। আফ্রিকার নিগ্রোদের মাধ্যমে ব্রাজিলে ইসলাম প্রচার শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ইসলামের উদারতা ও সাম্যের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে বহু মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৮ শতকে ব্রাজিলে মুসলিমদের নেতৃত্বেই প্রথম বড় দাস বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। পরবর্তী সময়ে আরব, সিরিয়া ও লেবাননের অনেক মুসলিম অভিবাসী হিসেবে ব্রাজিলে বসবাস শুরু করেন। ১৯ শতকের শুরুতে পরিচালিত এক আদমশুমারি থেকে জানা যায়, ওই সময়ে ব্রাজিলে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ। তবে ২০০১ সালের আদমশুমারিতে ব্রাজিলের মুসলিমের সংখ্যা ২৭ হাজার ২৩৯ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ২০১০ সালের শুমারি অনুযায়ী, ৩৫ হাজার ২০৭ জন। ব্রাজিলের ফুমিনেস ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প-িত পাওয়েল পিন্টোর মতে, ব্রাজিলে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ১ মিলিয়ন। তবে ব্রাজিল ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ওই সংখ্যা দেড় মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। এদেশের বেশিরভাগ মুসলিমই ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। ব্রাজিলে মুসলমানদের সংখ্যা কত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বের মুসলমানদের মতো ব্রাজিলের মুসলিমরাও মাহে রমজান পালন করে- সেই বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই। যদিও এদেশের তাপমাত্রা অনেক বেশি উষ্ণ। ফলে ব্রাজিলে রমজান পালন করা সহজ নয়। অমুসলিম দেশ হওয়ায় মাহে রমজানে অধিকাংশ কফি হাউস, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলো দিনে খোলা থাকে। প্রকাশ্যে ধূমপান করা ব্রাজিলিয়ানের সংখ্যাও কম নয়। ফলে মাহে রমজানে এ বিষয়গুলো একজন মুসলিমকে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। মুসলিম সেলিব্রেট রামাদান ইন ব্রাজিল প্রবন্ধ অনুসারে 'রমজানে ব্রাজিলের মুসলিমরা প্রার্থনার সময় উল্লেখ সংবলিত বড় বড় ক্যালেন্ডার ঝুলিয়ে রাখে এবং তারা মসজিদের নিকটবর্তী স্থানে বাস করে।' তিউনিসিয়ার মুসলিমদের মতো ব্রাজিলের মুসলিমরাও পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে একত্রে সাহরি ও ইফতার করতে ভালোবাসেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ইফতার করতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ব্রাজিলে প্রায় ১২৭টি মসজিদ রয়েছে। সাও পাওলোতে মসজিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রমজানে এখানকার মুসলিমরা একত্রে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। নিয়মিত তারাবি পড়েন। এমনকি সাহরি ও ইফতার করেন একত্রে। সাও পাওলোর মতো সান্তোস পারানা স্টেটসহ বহু অঞ্চলের মসজিদে রমজানে ২০০ থেকে ৪০০ মুসলি্লকে নিয়মিত নামাজ পড়তে দেখা যায়। অন্য সময়ে মুসলমানরা মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে গেলেও রমজানে তারা মসজিদে কোরআন তেলাওয়াত ও আলোচনার আয়োজন করে। 'রামাদান চেঞ্জ ফর মুসলিমস টু বি রিকোনাইজড ইন ব্রাজিল প্রবন্ধ মতে, ব্রাজিলে মুসলিমরা ইফতার করার জন্য মসজিদে গমন করে; যেখানে গরিবদের জন্যও ইফতারের আয়োজন থাকে। এদেশের মুসলিমরা একে অপরের সঙ্গে ইফতার ভাগ করে খেতে পছন্দ করে। তারা মাহে রমজানকে শুধু উপবাস পালন করা হিসেবে গণ্য না করে এ সময়ে ইসলামের বিধিবিধান ও অনুশীলনগুলো চর্চার বা প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিটি সময় নিজেকে ইবাদতে নিয়োজিত রাখে। তারা নিজেদের সম্পদ থেকে গরিবদের দান করার জন্য রমজানই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়- এমনটি মনে করে। ফলে রমজানে দান করার পরিমাণ বেড়ে যায়। মুসলিম শিশুদের দেখাশোনার জন্য ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হয় এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবারও আয়োজন করা হয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে মাহে রমজানে। ব্রাজিলের অন্যতম ব্যস্ত শহর রিও ডি জেনেইরোতে বড় মসজিদ আছে কয়েকটি। এখানে আরও আছে ইসলামিক সেন্টার। আমাজনের দেশ খ্যাত ব্রাজিলের রাজধানী ছাড়াও অন্য শহরগুলোয় এমন মুসলিম বা ইসলামিক সেন্টার চোখে পড়ে। রমজান এলেই এ মুসলিম বা ইসলামিক সেন্টারগুলো আরও সক্রিয় হয়। তারা রমজানে মুসলিমদের জন্য নানা প্রশিক্ষণ-কর্মশালার আয়োজন করে। ইসলাম ধর্ম-সম্পর্কিত ওইসব প্রশিক্ষণ-কর্মশালা থেকে মুসলমানরা ইসলামের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, মাহে রমজান ব্রাজিলের মুসলিমদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ যে রাত


মাওলানা মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান: সম্মানিত মুসলি্ল! আল্লাহ তায়ালার দরবারে অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাদের একটি বছর পর পবিত্র মাহে রমজানে লায়লাতুল কদর দান করেছেন। ইসলামে লায়লাতুল কদরের গুরুত্ব ও ফজিলত সীমাহীন। পুরো জাহানের হেদায়েত ও কল্যাণের জন্য নাজিলকৃত আল কোরআন এ রাতেই নাজিল শুরু হয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর কদর নামে পূর্ণাঙ্গ একটি সূরা নাজিল করা হয়েছে পবিত্র কোরআনে। হাদিসেও এ রাতের বহু ফজিলত ও গুরুত্বের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) এরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি লায়লাতুল কদরে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে ইবাদতের জন্য দাঁড়াবে তার পেছনের গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।' (বোখারি)। প্রিয় নবী (সা.) আরও এরশাদ করেছেন, 'তোমাদের কাছে এ মাস (রমজান) এসেছে। এ মাসের মধ্যে এমন একটি রাত আছে, যা হাজার মাস থেকেও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাত থেকে মাহরুম হবে সে সমগ্র কল্যাণ ও বরকত থেকে মাহরুম হবে। এর কল্যাণ থেকে একমাত্র হতভাগা লোক ছাড়া আর কেউ মাহরুম হয় না।' (ইবনে মাজাহ)। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, 'কদরের রাতে হজরত জিবরাঈল (আ.) একদল ফেরেশতা নিয়ে দুনিয়ায় অবতরণ করেন। তারা সেসব লোকের জন্য দোয়া করতে থাকেন, যারা এ রাতে দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে।' (বায়হাকি, তাফসিরে ইবনে কাসির)। সুপ্রিয় মুসলি্লরা! লায়লাতুল কদর রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হতে পারে। তবে ২৭ তারিখেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে শুধু ২৭ তারিখের আশা করে বসে থাকলে চলবে না। বরং শেষ দশকের বেজোড় রাতেই তা তালাশ করতে হবে। আর শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলো অবহেলায় না কাটিয়ে, মার্কেটে না ঘুরে ইবাদতে অতিবাহিত করা। অপরদিকে একটি সুন্দর জীবন গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে গোনাহর কথা স্মরণ করে আল্লাহর দরবারে খালেস দিলে তওবা করা। পাশাপাশি দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি কামনা ও কবরবাসীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা উচিত। গ্রন্থনা : বায়েজীদ হোসাইন

সামিউল হত্যা মামলায় ময়না রিমান্ডে




কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: সিলেটে ১৩ বছরের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটে আদালত-২ এর বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন এ আদেশ দেন। মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার হয় চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে। তবে এই হত্যা মামলার আরেক আসামি আলী হায়দার ওরফে আলী এখনো গ্রেফতার হয়নি। শিশু রাজনকে সিলেট সদর উপজেলার কুমারগাঁও এলাকায় চোর অপবাদ দিয়ে গত বুধবার সকালে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর পর মাইক্রোবাসে করে লাশ গুমের চেষ্টাকালে মুহিত আলম (৩২) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হল— মুহিত আলমের ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫)। এ ছাড়া তাদের আরেক সহযোগী ইসমাইল হোসেন আবলুছকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার হয় চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে। তবে এই হত্যা মামলার আরেক আসামি আলী হায়দার ওরফে আলী এখনো গ্রেফতার হয়নি। পৈশাচিক ও নির্মম নির্যাতনে নিহত শেখ সামিউল আলম রাজন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাসচালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা শেষে বাবার সঙ্গে পরিবারের হাল ধরে ১৩ বছরের শিশু রাজন। বুধবার ভোরে স্থানীয় টোকেরবাজার থেকে সবজি কিনে ভ্যানে করে বিক্রি করার জন্য বাসা থেকে বের হয় শিশুটি। পরে কুমারগাঁও এলাকায় তাকে চোর অপবাদ দিয়ে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রেফতার আসামিরা। এ সময় শিশু রাজন হত্যাকারীদের কাছে পানি চাইলে তাকে শরীরের ঘাম খেতে বলে। শেষ পর্যন্ত সেখানেই মৃত্যু হয় রাজনের। এমনকি হত্যাকাণ্ডের সেই ভিডিওচিত্র হত্যাকারীদের একজন মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরে এই ঘটনা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়।

সামিউল হত্যার আসামি দুলাল গ্রেফতার


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: সিলেটে ১৩ বছরের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার আরেক আসামি চা বিক্রেতা দুলাল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। জেলার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া থেকে বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ গ্রেফতারের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে এ মামলায় চারজনকে ধরা হলো। মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম ঘটনার পরই সৌদি আরবে পালিয়ে যান। সেখানে তাকে স্থানীয়রা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। শিশু রাজনকে সিলেট সদর উপজেলার কুমারগাঁও এলাকায় চোর অপবাদ দিয়ে গত বুধবার সকালে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর পর মাইক্রোবাসে করে লাশ গুমের চেষ্টাকালে মুহিত আলম (৩২) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হল— মুহিত আলমের ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫)। এ ছাড়া তাদের আরেক সহযোগী ইসমাইল হোসেন আবলুছকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার হয় চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে। তবে এই হত্যা মামলার আরেক আসামি আলী হায়দার ওরফে আলী এখনো গ্রেফতার হয়নি। পৈশাচিক ও নির্মম নির্যাতনে নিহত শেখ সামিউল আলম রাজন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাসচালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা শেষে বাবার সঙ্গে পরিবারের হাল ধরে ১৩ বছরের শিশু রাজন। বুধবার ভোরে স্থানীয় টোকেরবাজার থেকে সবজি কিনে ভ্যানে করে বিক্রি করার জন্য বাসা থেকে বের হয় শিশুটি। পরে কুমারগাঁও এলাকায় তাকে চোর অপবাদ দিয়ে দোকানের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রেফতার আসামিরা।

ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্য সতর্কতা


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে নাড়ীর টানে বাড়ি পথে ছুটছেন সবাই। রাস্তায় দেখা যাচ্ছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার জন্য বাড়ি ফেরা। কিন্তু আপনি যদি বাড়ি ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে আপনার ঈদ আনন্দ মাটি হয় যাবে। তাই ভ্রমণে কিভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে সুস্থ থাকা যায় তার খুটিনাটি দেয়া হলো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে উৎসব মানেই ভ্রমণ। আর এই উৎসবকে ঘিরেই মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে যায়। কেউ কেউ আবার উৎসবটাকে আরও উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের দর্শনীয় জায়গায় চলে যান পরিবার-পরিজন নিয়ে। ধর্মীয় উৎসবরে সঙ্গে বর্তমানে ভ্রমণ এক অবিচ্ছেদ্য বিষয়। অন্যদিকে উৎসব মানে খাবারের সম্ভার। এই ভ্রমণে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ভ্রমণের সময় কেউ যাতে অসাবধানতাবশত আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, বাইরের খাবার খেয়ে ও পানি পান করে অসুস্থ হয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। বিশেষ করে ধাক্কাধাক্কি বা নিয়ম ভঙ্গ করে বাস ও ট্রেনের ছাদে উঠে যাতায়াত করা কোনো অবস্থায়ই উচিত নয়। তা নাহলে পুরো উৎসবের আনন্দ আগেই মাটি হয়ে যেতে পারে। ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় সঙ্গে নিতে হবে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ ভ্রমণে জানালার পাশে অতিরিক্ত বাতাসের ঝাপটা থেকেও সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঈদের সময় অধিকাংশ মানুষই গ্রামের বাড়িতে যায়। যেখানে অনেক সাধারন ওষুধও পাওয়া যায় না। তাই সম্ভাব্য অসুস্থতার কথা বিবেচনায় রেখে সাধারন কিছু ওষুধ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন- মাথাব্যথা, সর্দিকাশি, ডায়রিয়া, পেটফাঁপা, বদহজম, এসিডিটির মতো সাধারন সমস্যা এ সময় হতেই পারে। এসবের জন্য প্যারাসিটামল, এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ, এসিডিটি বদহজমের এন্টাসিড, রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ, পেটে গোলমালের জন্য মেট্রোনিডাজল ও খাওয়ার স্যালাইন সঙ্গে নেয়া যেতে পারে। একটি ফার্স্টএইড বক্স নিজের মতো তৈরি করে নেয়া যেতে পারে। এছাড়া ঈদ ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়াটা মোটেও কাম্য নয়। তারপরও অনেকেই কিন্তু ভ্রমণের কারণে ঈদের আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন কিংবা উৎসবের দিনে থাকেন রোগাক্রান্ত। বিশেষ করে শিশুরা খুব সহজেই আক্রান্ত হয় সর্দিজ্বর, বমি ও ডায়রিয়ায়। এই অসুস্থতার অন্যতম কারণ কিন্তু অসচেতনতা। ভ্রমণে অভিভাবকরা যদি শিশুদের ব্যাপারে সচেতন থাকেন তাহলে খুব সহজেই কিন্তু এসব শারীরিক বিপত্তি এড়িয়ে চলা সম্ভব। বিষয়টি খুবই সাধারন। যেমন ধরুন ট্রেন, বাস কিংবা লঞ্চে ভ্রমণের সময় শিশুরা সব সময়ই জানালার পাশের সিটটি পছন্দ করে। এ কারণে হঠাৎ করেই শিশুরা অতিরিক্ত বাতাসের ঝাপটার মুখোমুখি হয়, যা অনেকেরই সহ্য ক্ষমতার বাইরে। ভ্রমণে শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ডায়রিয়ায়। এর পেছনে কারণ হলো বাইরের পানীয় এবং খাবার গ্রহণ। আর তাই বাইরের খাবার কোনোভাবেই গ্রহণ করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ঘরের তৈরি কিছু খাবার ও পানি সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া উচিত। ভ্রমণে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে সবচেয়ে বেশি। ভ্রমণ পথে নানা ধরনের খাবার শিশুদের আকৃষ্ট করে। এসব শিশুকে দেয়া উচিত নয়। যারা রোগী তারা প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে যাবেন এটাই স্বাভাবিক। এছাড়া ভ্রমণে সাধারন লোকজন সঙ্গে করে বেশ কিছু ওষুধ নিয়ে যেতে পারেন। যেমন- পেটের গণ্ডগোল, পেটে গ্যাস, বদহজম, সাধারন সর্দি কাশি, বমি, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, মাসিকের ব্যথা ইত্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ সঙ্গে নিতে হবে। কারণ গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। কাজেই ভ্রমণে যেসব ওষুধ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত সেগুলো হলো- জ্বর, ব্যথা, শরীরব্যথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ যেমন- নাপা, এইচ ইত্যাদি। এ ছাড়া ডায়রিয়ার জন্য ওরস্যালাইন সঙ্গে রাখতে হবে। হাঁচি-সর্দির জন্য বড়দের ক্ষেত্রে লিভোসেটিরিজিন জাতীয় ওষুধ যেমন- ট্যাবলেট অ্যালসেট/ কিউরিন/ সিজোনিক্স; কিংবা ফেক্সোফেনাডিন জাতীয় ওষুধ (ফেনাডিন/ ফিক্সাল/ ফেক্সো ১৮০ মি.গ্রা) ইত্যাদি দৈনিক একটি করে গ্রহণ করা যেতে পারে। সুতরাং যাত্রাপথে সতর্ক হোন।

আদা চায়ের যত গুণ


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনে আদা একটি অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। প্রায় সব রান্নাতেই আমরা কম-বেশি আদা ব্যবহার করি। আর সাধারণ সর্দি-কাশি, ঠান্ডায় ঘরোয়া চিকিত্সা হিসেবে আদার ব্যবহার সুপ্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। আদার রস মিশ্রিত রং চা আমরা অনেকেই পান করি। কিন্তু এর গুণাগুণ জানি কজনে? আদা চা পানের কিছু সুফল উল্লেখ করা হলো। ১. আদা চা আমাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শীতে এককাপ আদা চা আমাদের শরীরকে গরম করে আর ঠাণ্ডা লাগা এবং সর্দি কাশি থেকে দূরে রাখে। ২. সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে এককাপ ধোঁয়া ওঠা আদা চা আপনার ক্লান্তিকে রাখবে দূরে আর করে তুলবে সতেজ। ৩. বমি বমি ভাব হচ্ছে? এক কাপ আদা চা হতে পারে ভালো সমাধান। কোথাও যাওয়ার আগে কয়েক চুমুক আদা চা খান। উপকার পাবেন। ৪. আদা চা হজমশক্তি বাড়ায়। এটি গ্যাষ্টিক সমস্যা দূর করে হজমে সাহায্য করে। ৫. এক কাপ আদা চা শরীরের রক্ত প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। এতে করে শরীরের নানা অংশে রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ৬.শ্বাস নিতে কষ্ট দেখা দিলে এক কাপ আদা চা খেতে পারেন। বেশ উপকারী বন্ধু হিসেবেই কাজ করবে এটি।

ঈদের বিশেষ রেসিপি ফিরনি


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র কিছু দিন বাদে ঈদ। বিশেষ এই দিনটিতে বিভিন্ন ধরনের ফিরনি সেমাই ঘরে ঘরে রান্না করা হয়। তাই ঈদকে সামনে রেখে আজ দেয়া হলো ভিন্ন স্বাদের ফিরনির রেসিপি। দেরি না করে এর উপকরণ ও প্রণালি জেনে নিন। উপকরণ : তরল দুধ ২ লিটার, গুঁড়া দুধ ঘন করে গুলিয়ে নেয়া ১ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক ১ কৌটা, জাফরান এক চিমটি, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তা কুচি, কিশমিশ, এলাচি, দারুচিনি পরিমাণমতো, পোলাও চাল আধা কাপ। প্রণালি : তরল দুধ পাত্রে ঢেলে এলাচি, দারুচিনি ইত্যাদি দিয়ে নাড়ুন। কিছুক্ষণ নেড়ে গুলিয়ে রাখা পাউডার দুধ ঢেলে দিন। ঘন হয়ে এলে চাল দিয়ে নাড়ুন। কনডেন্সড মিল্ক দিন। দু-তিন বলোক ওঠার পর ঘন হয়ে আসবে। কনডেন্সড মিল্ক দিলে আর চিনি দরকার হয় না, তবে আরো বেশি মিষ্টি খেতে চাইলে চিনি দিন। কিশমিশ, জাফরান ও অল্প পরিমাণে বিভিন্ন বাদাম কুচি ঢেলে নেড়ে নিন। ঘন হয়ে ঘ্রাণ ছড়ালে নামিয়ে নিন। এবার পাত্রে ঢেলে বাকি বাদাম কুচি, জাফরান ওপরে ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন।

সহজেই তৈরি করুন চিংড়ির কাবাব


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: একই রকমের ইফতারি করতে করতে খাবারের প্রতি আনেকটা একঘেয়েমি স্বাদ চলে আসে। তাই একঘেয়েমি দুর করতে এবার ভিন্ন স্বাদের ইফতারের রেসিপি চিংড়ির কাবাব। উপকরণ : চিংড়ির কিমা এক কাপ, কাঁচামরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, সিদ্ধ আলু পরিমাণমতো, কর্নফ্লাওয়ার পরিমাণমতো, ডিম ২টি, ব্রেডক্রাম পরিমাণমতো, টমেটো সস পরিমাণমতো, লবণ স্বাদমতো। প্রস্তুত প্রণালি : ডিম, ব্রেডক্রাম ও তেল বাদে সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার পছন্দমতো আকারে গড়ে ডিমে ডুবিয়ে ব্রেডক্রাম মেখে ডুবো তেলে বাদামি করে ভাজতে হবে।

চারটি উপায়ে খাঁটি মধু যাচাই


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: সব মধুর চেহারা একই রকম হওয়ায় বোঝা দায় কোনটি আসল, কোনটি নকল। তবে আপনার যদি কিছু কৌশল জানা থাকে তবে সহজেই চিনে নিতে পারবেন আসল মধুটি। যেকোন একটি পদ্ধতিই যথেষ্ট। ১। এক গ্লাস পানিতে এক চামচ পরিমাণ মধু দিন। তারপর আস্তে আস্তে গ্লাসটি নাড়া দিন। মধু পানির সঙ্গে মিশে গেলে নিশ্চিত হবেন সেটা ভেজাল মধু। আর মধু যদি ছোট পিণ্ডের মতো গ্লাসের পানিতে ছড়িয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন সেটা খাঁটি মধু। ২। মধুর আসল-নকল নির্ধারণ করতে এক টুকরো কাগজে অল্প একটু মধু লাগিয়ে নিন। এবার যেখানে পিঁপড়া আছে সেখানে রেখে দিন। তারপর অপেক্ষা করতে থাকুন। মধুতে যদি পিঁপড়া ধরে তাহলে বুঝে নেবেন আপনার কেনা মধুতে ভেজাল আছে। ৩। পরিষ্কার সাদা কাপড়ে অল্প একটু মধু লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। একটু পর কাপড়টি ধুয়ে ফেলুন। কাপড়ে দাগ থেকে গেলে বুঝতে হবে এই মধু নকল। আর কাপড়ে দাগ না থাকলে সেটা খাঁটি মধু। ৪। মধু ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। ভেজাল মধু হলে এটা জমে যাবে। আর না জমলেও ভেজাল মধুর নিচে জমাট তলানি পড়বে।

মালিতে জিহাদী সন্দেহে ২০ জন আটক


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: গত কয়েকদিনে অন্ততপক্ষে দুই ফরাসি নাগরিকসহ ২০ জন সন্দেহভাজন ইসলামি জঙ্গিকে আটক করেছে মালির পুলিশ। মার্চে মালির রাজাধানী বামাকোতে এক রেস্তোরাঁয় চালানো হামলার ঘটনার প্রধান সংগঠকও গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে আছেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো। রোববার মালির মধ্যাঞ্চলীয় শহর মেলো থেকে সাউতি কৌমা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ব্যক্তিই বামাকোর লা তেরাসি রেস্তোরাঁয় চালানো হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী বলে সন্দেহ পুলিশের। ওই হামলায় এক ফরাসি নাগরিক, এক বেলজীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও মালির তিন নাগরিকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন। কট্টর ইসলামপন্থি গোষ্ঠী আল-মৌরাবিতুন হামলার দায় স্বীকার করেছিল। গ্রেফতার বাকীদের দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জেগৌয়া থেকে আটক করা হয়। প্রতিবেশী আইভরি কোস্ট থেকে সীমান্ত পার হয়ে মালিতে প্রবেশ করার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের বামাকোতে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সূত্রগুলো। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মধ্যে একজন জানিয়েছেন, সোমবার গ্রেফতার হওয়াদের অধিকাংশই মৌরিতানিয়ার নাগরিক। অপর এক সূত্র বলেন, “২০ জনকেই জিহাদি বলে মনে করা হচ্ছে। এদের মধ্যে দুইজন ফরাসি। তারা সবাই ইসলামপন্থি, সবারই দাড়ি আছে।” গ্রেফতারদের মধ্যে আনসার দ্বিনির দুই সদস্যও আছেন। এদের গত সপ্তাহে মালির কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে। এরা হামলার পরিকল্পান করেছিল বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এরচেয়ে বেশি কিছু জানা যায়নি।

সামিউল হত্যা: বিচার দ্রুত শেষ করার নির্দেশ চুমকির


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: সিলেটে ১৩ বছরের কিশোর সামিউল আলম রাজন হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে প্রতিমন্ত্রী সামিউলের গ্রামের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলা কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেয়ালি গ্রামে যান। এসময় জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশ দেন তিনি। তিনি সামিউল হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদিনকে নির্দেশ প্রদান করেন। প্রতিমন্ত্রী চুমকি বলেন, ‘এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড যাতে আর না ঘটে, সেজন্য খুনিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টামূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’ প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশানুযায়ী সামিউলের বাবা-মার হাতে এক লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন। তিনি সামিউলের বাবা-মাকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানো ভাষা আমার নেই।’ এ সময় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, প্রাক্তন সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আশফাক আহমদ চৌধুরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, প্রাক্তন মহিলা সাংসদ জেবুন্নেসা হক, আওয়ামী লীগ নেতা সুজাত আলী রফিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজন হত্যাকাণ্ড : প্রধানমন্ত্রী বরাবর শিশু-কিশোরদের স্মারকলিপি


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: সিলেটে ১৩ বছরের কিশোর সামিউল আলম রাজনের হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সিলেটের শিশু-কিশোররা। সিলেট জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদিনের মাধ্যমে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সিলেটের শিশু সাংবাদিক মনির হোসাইনের নেতৃত্বে শিশু-কিশোররা এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপির সঙ্গে সিলেটের ৬ শতাধিক শিশু-কিশোরদের গণস্বাক্ষরও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। গত দুই দিন ধরে এই গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। স্মারকলিপিতে শিশু রাজন হত্যায় জড়িত সকল খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের কোথায়ও যেন এ ধরনের শিশু নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে যেন সেজন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নিতেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশু সুরক্ষায় প্রয়োজনে শিশুবিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিও জানানো হয় উক্ত স্মারকলিপিতে। স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদিন দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন ‘বিচার অবশ্যই হবে এবং তা হবে দ্রুত বিচার আইনেই হবে। তিন মাসের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হলে কেউ এই ধরণের অন্যায় করার সাহস পাবে না।’ স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এমসি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ইফতেখার রিজভী, বিজিবি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র কয়েস আহমদ, সিলেট মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুলতানা মৌরি, সিলেট কমার্স কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাবিহা শান্তা, শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ইমরান ইমন, সিলেট সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ সানীসহ প্রমুখ।

কানাইঘাট শেখ রাসেল ব্লক বীরদল শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কানাইঘাট শেখ রাসেল ব্লক বীরদল শাখা কর্তৃক আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা গত সোমবার বিকেল ৫টায় বীরদল খালমোরা পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আ’লীগের সদস্য যুবনেতা হোসেন আহমদের সভাপতিত্বে ও ছাত্রলীগ নেতা সিহাব বিন আজিজের পরিচালনায় উক্ত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোঃ গিয়াস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী ডেপুটি কমান্ডার খলিলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক। বক্তব্য রাখেন, আ’লীগ নেতা এবাদুর রহমান মুজাই, পৌর আ’লীগ নেতা নজরুল ইসলামু, শ্রমিকলীগ নেতা সেবুল আহমদ, জুনেদ হাসান জীবান, আলমগীর কবির, জাবেদ আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন, উপজেলা প্রজন্মলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার আহমদ, প্রজন্মলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ, আদনান আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, আজমল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, হাসান রিজবী, আখতার হোসেন, রায়হান আহমদ, কামরুল সুমন, শাহীন আহমদ, আবুল হাসনাত, ইয়াহিয়া ডালিম, মরতুজা, আলিম উদ্দিন, শাহেদ আহমদ, আরিফ আহমদ, জুবেল আহমদ, আব্দুর রহমান, জয় চক্রবর্তী মুন্না, আফজল হোসেন, মারুফ আহমদ, মাহবুব, মারুফ, আফতাব উদ্দিন, রিয়াজ আহমদ, শাহ আলম, মঞ্জুর, হিফজুল, অপি, মস্তাক, রাসেল, শহীদ রাসেল, সফর উদ্দিন, রিয়াজ আহমদ, মিজান, সুলতান, ইফতেখার মালিক তানভীর, সবুজ, সিপলু, ফারুক, আহবাব হোসন কুতুব প্রমুখ।

সালাউদ্দিনের অভিযোগ শুনানি বুধবার


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ভারতের মেঘালয়ে গ্রেফতার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে বুধবার অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হবে। সালাউদ্দিনের উপস্থিতিতে মেঘালয়ের একটি নিম্ন আদালতে এ শুনানি হওয়ার কথা। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইসি ঝা মঙ্গলবার জানান, এদিন সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানি হবে। মেঘালয় পুলিশ ৩ জুন অতিরিক্ত সহকারী কমিশনারের (জুডিশিয়াল) আদালতে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে বলা হয়, ভারতে এই বিএনপি নেতার আকস্মিক উপস্থিতি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি অভিযোগের বিচার এড়াতে তা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে অন্তর্ধানের দুই মাস পর গত ১১ মে শিলংয়ের গল্ফ লিঙ্ক এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখা যায় সালাহউদ্দিন আহমেদকে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে ঢোকার অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পিপি ঝা বলেন, সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের বিষয়টিও রয়েছে। এই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ন্যূনতম সাজার বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা না থাকলেও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে, যদিও পুরো বিষয়টি বিচারকের উপর নির্ভর করে। বিচারক অবশ্য এক মাস কারাভোগের পর তাকে দেশে পুশব্যাকের আদেশও দিতে পারেন বলে পিপি আইসি ঝা।

শিশু রাজন হত্যা কান্ড নিয়ে তসলিমা নাসরিন যা বললেন


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন সিলেটের রাজন হত্যাকে নিয়ে আজ তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট‌্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ তসলিমা নাসরিন লিখেছেনঃ বাংলাদেশের এক গ্রামে রাজন নামের একটা গরিব ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে কিছু লোক। পিটিয়ে মেরে ফেলার ভিডিও ওরা নাকি ফেসবুকেও দিয়েছে। ওদের নৃশংসতা দেখার আমার কোনও ইচ্ছে নেই, তাই ভিডিওর খোঁজ আমি করিনি। আমি কিন্তু একথা বলার জন্য আসিনি যে ‘রাজনকে গরিব করেছে এই সমাজ, দোষটা রাষ্ট্রের। চুরি না হয় করেছে রাজন, তাই বলে মেরে ফেলতে হবে?’ আমি শুধু বলতে এসেছি, মানুষ নামক জাতটার জন্য বর্বরতা নৃশংসতা নিষ্ঠুরতা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দুর্বলকে মেরে ফেলে মানুষের মতো কাজই করেছে ওরা। সবল মানুষ দুর্বল মানুষকে মারে। ধনী মানুষ গরিব মানুষকে মারে। পুরুষ মানুষ মেয়ে মানুষকে মারে। নানা কায়দায় মানুষ মানুষকে মারে। প্রতিদিন মারে। কেবল রক্ত গড়ালেই আর শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হলেই কি মৃত্যু ঘটে? অনেকে মার খেতে খেতে মৃতবৎ বেঁচে থাকে। গোটা জগত জুড়ে মারামারি চলছে। মানুষের মতো দেখতে কিছু ‘অদ্ভুত মানুষ’ মারামারি ঠেকাতে রূপকথার আশ্রয় নেয়, ঈশ্বরের ভয় দেখিয়ে মানুষকে শান্ত করে। তারা আইন বানিয়েছে, শাস্তির ভয় দেখিয়ে মানুষের রক্তপিপাসা কমায়। তারা ইস্কুল খুলেছে, মানুষকে খুনী না হওয়ার পরামর্শ দেয়। আজ যদি মানুষ জানে ঈশ্বর,ভগবান বা আল্লাহ বলে কিছু নেই, যদি জানে দেশে কোনও শাস্তির আইন নেই, মানুষ হত্যা করতে তারা আজই ঝাঁপিয়ে পড়বে। রক্তে ভেসে যাবে পৃথিবী। আমি বলতে চাইছি, মানুষ মূলত বর্বর,মূলত ভয়ংকর দানব। মানুষ অত্যন্ত নৃশংস বীভৎস প্রজাতি। হাতে গোনা কিছু ‘অদ্ভুত মানুষ’ মানুষকে পরামর্শ দেয় স্বভাব চরিত্র বদলাতে, নৃশংসতা বন্ধ করতে। এ অনেকটা সাপকে ছোবল না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার মতো। ওই অদ্ভুত কিছু মানুষ সভ্যতা নামে একটি শব্দ তৈরি করেছে, যেটির স্বাদ গন্ধ কোনওকিছুই মানুষের চরিত্রের সঙ্গে যায় না, তারপরও জোর জবরদস্তি তারা তা মানুষের ওপর চাপাতে চাইছে।

রোজার পুরস্কার আল্লাহ দেবেন


আলম শামস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে প্রতি বছর মুসলিম জাহানের ঘরে ঘরে হাজির হয় মাহে রমজান। হাদিসে কুদসিতে রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "রোজা আমার জন্য, আমি নিজে রোজার প্রতিদান দেব।" আমরা সব ইবাদতই আল্লাহর জন্য করি। তাহলে আল্লাহ কেন বললেন, 'রোজা আমার জন্য।' আসলে অন্য সব ইবাদত করার পাশাপাশি তা প্রদর্শনের সুযোগ ও মনোভাব থাকে, যেমন- নামাজ, হজ, জাকাত ইত্যাদি। কিন্তু রোজা আল্লাহ এবং বান্দা ছাড়া প্রদর্শনের বা জাহির করার কোনো সুযোগই থাকে না। রোজা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশুদ্ধিতা, সাম্য, ধৈর্য, ত্যাগ ও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় রোজা। এ ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব হয়। আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনেও সাওম বা রোজা অপরিহার্য ও অনিবার্য ইবাদত। মানুষের নৈতিক উন্নয়ন ও দৈহিক শৃঙ্খলা বিধান, পারস্পরিক সমপ্রীতি-সহানুভূতি এবং সামাজিক সাম্য ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও রোজার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) রমজান মাসের রোজাকে ফরজ আখ্যায়িত করে বলেছেন, 'তোমাদের কাছে তাকওয়ার মাস রমজানের আগমন হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর এ মাসের রোজাকে ফরজ করে দিয়েছেন।' (নাসাঈ)। অর্থাৎ প্রত্যেক স্বাধীন সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিম নর-নারীর ওপর রোজা আবশ্যিক ইবাদত। কোনো মুসলিম রমজান মাসের রোজাকে অস্বীকার করলে কাফের হিসেবে গণ্য হবে। আর বিনা কারণে ইচ্ছাপূর্বক রোজা না রাখলে তার জন্য কাফ্ফারা আদায় অপরিহার্য করা হয়েছে আল কোরআনে। আত্মসংযম ও আধ্যাত্মিক উন্নতিতে রোজার গুরুত্ব এত ব্যাপক যে, প্রত্যেক নবী-রাসুলের অনুসারীদের ওপর তা অপরিহার্য ছিল। আল কোরআনের ভাষায়, 'তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা মুত্তাকি বা আল্লাহভীরু হতে পারো।' (বাকারা-১৮৪)। কালের বিবর্তনে ও সময়ের পরিবর্তনে প্রত্যেক জাতির রোজার পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য অভিন্ন। আর তা হলো আধ্যাত্মিক উন্নতি-আল্লাহভীতি অর্জন। আধ্যাত্মিক উন্নতি অর্জনের জন্য আহলে কিতাব বা ঐশী ধর্মগুলো ছাড়াও অন্যান্য ধর্মে বিভিন্নভাবে আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়া হয়। আর ইসলামী বিধান অনুযায়ী আধ্যাত্মিকতা অর্জনের প্রধান মাধ্যম রমজান মাসের সিয়াম সাধনা। রোজা শুধু আবশ্যকীয় ইবাদতই নয়; বরং আত্মিক উন্নতি ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনেও এর ভূমিকা ব্যাপক। কাম-ক্রোধ, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি মানবিক কু-প্রবৃত্তি থেকে দূরে রাখে রোজা। শয়তানের প্ররোচনা ও নফসের কুমন্ত্রণা থেকে আত্মাকে হেফাজত রাখতেও রোজার ভূমিকা অগ্রগণ্য। এ জন্যই রাসূল (সা.) রোজাকে 'ঢাল' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রোজার মাধ্যমেই একজন মুসলিম কৃচ্ছ্র সাধন করে নিজেকে আত্মসংযমী করে গড়ে তুলতে পারে। সিয়ামের কঠোর শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ রোজাদারকে প্রকৃত মুসলিম হওয়ার সুযোগ করে দেয়। মুসলমানরা রোজার মাধ্যমেই মহান আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। রোজার মাধ্যমেই মানব হৃদয়ে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি সৃষ্টি হয়। রোজাদার ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর হয়েও শুধু মহান আল্লাহর ভয়ে পানাহার ও অন্যান্য বর্জনীয় বিষয় থেকে বিরত থাকে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা লাভের আশায় ইন্দ্রিয় স্বাদ-তৃপ্তি থেকে বিরত থাকেন রোজাদার। তাকওয়া অর্জন ও তাকওয়াভিত্তিক জীবন গঠনই সিয়াম সাধনার প্রধান উদ্দেশ্য। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, মহান আল্লাহ তায়ালা তাকওয়া অর্জনের উদ্দেশ্যেই রমজানের রোজাকে ফরজ বা আবশ্যকীয় করেছেন। অন্যান্য ইবাদতের চেয়ে রোজার পদ্ধতি ও মর্যাদা ভিন্ন। স্বাভাবিক কারণেই নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত প্রদর্শিত হয়। কিন্তু রোজা কোনোরূপ প্রদর্শন ছাড়াই নীরবে-নিভৃতে পালন করা যায়। রোজার গোপনীয়তা সম্পূর্ণ ব্যক্তির ইচ্ছাধীন। এ জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রোজার জন্য বিশেষ প্রতিদানের ঘোষণা দিয়েছেন। হাদিসে কুদসিতে উল্লেখ আছে, 'মহান আল্লাহ বলেন, আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার জন্য কিন্তু সিয়াম ব্যতিক্রম। কেননা সিয়াম বা রোজা আমার জন্য আর আমিই এর প্রতিদান দেব।' (বুখারি ও মুসলিম)। সততা ও ন্যায়পরায়ণতাসহ বিভিন্ন মানবীয় গুণাবলির বিকাশ এবং মানবজীবনের সার্বিক সফলতার জন্য আত্মসংযম-আত্মনিয়ন্ত্রণ একান্ত প্রয়োজন। সংযম সাধনা ছাড়া মানবিকতার বিকাশ হয় না। এছাড়া বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব অর্জনের জন্যও নিজের প্রবৃত্তি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। আর সিয়াম সাধনার মাধ্যমেই তা অর্জন সম্ভব হয়। ইমাম গাজালি (রহ.) বলেছেন, 'দৈহিক কৃচ্ছ্র ও সংযমের সঙ্গে যখন অন্তরের সাধনা যুক্ত হয় তখনই আদর্শ সংযম চেতনার শ্রেষ্ঠতায় প্রতিফলিত হয় রমজানের সিয়াম সাধনায়।' শাহ ওয়ালিউল্লাহ মোহাদ্দেসে দেহলভি (রহ.) বলেছেন, 'পাশবিক বাসনার প্রাবল্য ফেরেশতাসুলভ চরিত্র অর্জনের পথে আন্তরায়, তাই এ উপকরণগুলোকে পরাভূত করে পাশবিক শক্তিকে আয়ত্তাধীন করাই এর আসল তাৎপর্য।' সবর বা ধৈর্যশীলতা মানবজীবনের অপরিহার্য গুণ। ধৈর্যের মাধ্যমে জীবনের যেকোনো বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। সত্য-ন্যায়ের পথে চলতে হলে ধৈর্য ও ত্যাগের প্রয়োজন। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে হলে সবর অপরিহার্য। মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধগুলো যথাযথভাবে পালন করতেও সবর বা ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। মূলত ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রসহ মানবজীবনের সামগ্রিক ক্ষেত্রে ধৈর্য বা সবরের বিশেষ প্রয়োজন। আর রমজান মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে সারা দিন প্রচ- ক্ষুধা-তৃষ্ণা সত্ত্বেও পানাহার বর্জন করে রাতে দীর্ঘ সময় তারাবির নামাজ আদায় এবং ভোর রাতে সাহরি গ্রহণ ইত্যাদির মাধ্যমে রোজাদারের ধৈর্যের প্রশিক্ষণ হয়। যারা এ প্রশিক্ষণে কামিয়াব হন তাদের জন্য রয়েছে পরম কাঙ্ক্ষিত জান্নাত।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩