Saturday, January 31

বাণিজ্যমেলা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

বাণিজ্যমেলা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার


ঢাকা: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাণিজ্যমেলা থেকে মাইনুদ্দিন রাসেল (২৬) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরের দিকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনন্ত কুমার রায় জানান, মাইনুদ্দিন বাণিজ্য মেলার ২৩ নম্বর স্টলে কাজ করে। শুক্রবার দিবাগত রাতে কাজ শেষে খাওয়া-দাওয়া করে দোকানের আরও দুই কর্মচারীসহ সে ঘুমাতে যায়। শনিবার সকালে মাইনুদ্দিনের ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় বাকি দু’জনের সন্দেহ হয়। পরে আশপাশের লোকজনকে খবর দিয়ে তারা এসে মাইনুদ্দিনকে মৃত দেখতে পায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানান এসআই অনন্ত। মাঈনুদ্দিন রাসেল নোয়াখালীর কবিরহাটের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
শিরোপা জিতলেন সেরেনা উইলিয়ামস

শিরোপা জিতলেন সেরেনা উইলিয়ামস


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: রুশ টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নারী এককের শিরোপা জিতলেন মার্কিন শীর্ষ বাছাই সেরেনা উইলিয়ামস। শনিবার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ফাইনালে রুশ তারকা শারাপোভার বিপক্ষে সেরেনার জয়টি এসেছে ৬-৩, ৭-৬ (৭/৫) গেমে। এই জয়ে কিংবদন্তি টেনিস তারকা মার্টিনা নাদ্রাতিলোভার ১৮ গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন সেরেনা। টেনিসের গ্র্যান্ডস্ল্যাম আসরে তাঁর শিরোপা এখন ১৯টি। সর্বোচ্চ গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের রেকর্ড গড়তে সেরেনার সামনে বাধা এখন কেবল স্টেফিগ্রাফ (২২ শিরোপা)। এটি সেরেনা উইলিয়ামসের ষষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা। গত এক সপ্তাহ ধরে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস। যে কারণে শুক্রবার ভালভাবে অনুশীলনও করতে পারেননি তিনি। তবে শনিবার ফাইনালে শারাপোভার বিপক্ষে জয় পেতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি বর্তমান বিশ্বের এই শীর্ষ প্রমীলা টেনিস সুপারস্টারকে। সেরেনা-শারাপোভা ফাইনালটা বৃষ্টি বিড়ম্বনায় পড়েছে শুরুতে; ম্যাচ শুরু হয়েছে নির্ধারিত সময়ে অনেকটা সময় পরে। লড়াই শুরুর পর শারাপোভার চ্যালেঞ্জ জয় করে প্রথম সেট সহজেই জিতেছেন সেরেনা। দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন শারাপোভা। যদিও তাতে করে সেরেনার শিরোপা জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। এই জয়ের সুবাদে গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপার সংখ্যায় সাবেক টেনিস গ্রেট মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা ও ক্রিস এভার্টকে ছাড়িয়ে গেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। আর ৩টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিততে পারলে জার্মানির সাবেক টেনিস তারকা স্টেফি গ্রাফের সঙ্গে সর্বকালের সেরা গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ী টেনিস তারকার রেকর্ডটি ভাগাভাগি করতে পারবেন সেরেনা। অবশ্য চলতি বছরই সেই সুযোগ রয়েছে ৩৩ বছর বয়সী এই মার্কিন টেনিস তারকার সামনে। কেননা, বছরের আরও ৩টি গ্র্যান্ডস্ল্যাম আসর এখনো বাকি রয়েছে। আসরগুলো হচ্ছে- ফরাসি ওপেন, উইম্বলডন টেনিস এবং ইউএস ওপেন।
খুলনায় বিএনপির ভিন্ন কৌশল!

খুলনায় বিএনপির ভিন্ন কৌশল!


আলমগীর হান্নান: বিএনপির চলমান আন্দোলনে দলটির বড় পদবীধারী নেতারা গ্রেফতার হচ্ছেন না। ধরা পড়ছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। মামলা হলেও শীর্ষ নেতারা থাকছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ধরা না পড়লেও তারা রাজপথে সক্রিয় না থাকায় মহানগর বিএনপি’র তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। রাজপথে নিষ্ক্রিয়তার জন্য মহানগর শাখার শীর্ষ নেতাদের দায়ী করছেন তারা। অন্যদিকে, মামলা ও গ্রেফতার পরবর্তী সময়ে দলের পক্ষ থেকে আইনী সহায়তা না করায় রাজপথ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন কেসিসি’র বিএনপিপন্থী কাউন্সিলররাও। এদিকে শীর্ষ নেতারা বলছেন, সরকারের দমন-পীড়নের কারণে কৌশল অবলম্বন করেই সামনে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আহুত অবরোধের ২৬তম দিন ছিল শনিবার। এরমধ্যে সারা দেশব্যাপী এবং জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে হরতাল পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে খুলনার রাজপথে পদবীধারী অধিকাংশ নেতাকে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। খানজাহান আলী থানার একাধিক কর্মীর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে দলীয় কোনো কর্মসূচি পালিত হয় না দীর্ঘদিন। এমনকি সারাদেশে আরাফাত রহমান কোকোর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হলেও খানজাহান আলী থানা এলাকায় হয়নি। মহানগর শাখা আয়োজিত জানাজায়ও থানার শীর্ষ কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। খুলনা থানা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল জলিল খান কালাম ও সোনাডাঙ্গা থানার সভাপতি আনোয়ারুল কাদির খোকনের দীর্ঘদিন রাজনীতির সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও নেতা-কর্মীদের অভিযোগ। নগরীর ১নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি বেলায়েত হোসেনকে চলমান আন্দোলনে দেখতে পান না কর্মীরা। প্রথম দু’একদিন সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শিকদার। কিছুদিন আগে তিনি চার মাসের জন্য তাবলীগে চলে গেছেন বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। এছাড়া, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবীর মাসুম, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি সেলিম খান, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি কাউন্সিলর শেখ শওকাত আলী, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, ১০নং ওয়ার্ড সভাপতি শেখ দাউদ আলী, ১১নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. আশরাফ হোসেন, ১৩ নম্বরের সভাপতি শাহীন তালুকদার, ১৪ নম্বরের সভাপতি বয়োবৃদ্ধ জহর মীর ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিন, ১৭, ১৮, ২১ ও ২২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, রাজুল হাসান রাজু, উত্তম কুমার ঘোষ ও আফজাল হোসেন পিয়াস, ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল লিটন, ২৮নং ওয়ার্ড সভাপতি শেখ মুহম্মদ আলীকেও চলমান আন্দোলনে রাজপথে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। আবার, ১৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ডিনো জেলহাজতে রয়েছেন, তবে সভাপতি আলমগীর হোসেন বাদশার নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ কর্মীরা। ১২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনি ক্ষমতাসীনদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে চলেন বলে অভিযোগ তারই অনুসারীদের। এজন্য আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে দেখা যায় না। ২৮নং ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মী মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, অহিংস কর্মসূচি আপোষহীনভাবে চালিয়ে নিতে চাই। কিন্তু নেতাদেরইতো রাজপথে দেখি না। ৩১নং ওয়ার্ডের সেলিম ওরফে বড় মিয়া বলেন, এসব পানসে কর্মসূচিতে কিচ্ছু হবে না। নেতাদের রাজপথে থাকতে হবে। এছাড়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মী বলেন, ৫ জানুয়ারির কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি নিয়ে সারাদেশে যখন টান-টান উত্তেজনা তখনও খুলনা ছিল সম্পূর্ণ নিরুত্তাপ। টানা অবরোধেও খুলনা শান্তিপূর্ণ। খুলনা বিএনপি’র কার্যক্রম হল- মিছিলগুলো পিটিআই মোড় থেকে শুরু হয়ে আহসান আহমেদ রোড, স্যার ইকবাল রোড হয়ে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। আর সমাবেশগুলো দলীয় কার্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকে বলেও অভিযোগ তাদের। ফলে অঙ্গ-সংগঠনগুলির আন্দোলনেও চাঙ্গাভাব আসছেনা না বিএনপির। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন ভারতে রয়েছেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। ফলে সাধারণ সম্পাদক এসএম কামাল একাই চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলন। সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল একাধিক মামলার আসামি। ছাত্রদলের কতিপয় নেতা-কর্মী মিছিল-সমাবেশে আসলেও রাজপথ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্যাম্পাস নিরুত্তাপ। নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, মহানগর যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যক্রম দলীয় কার্যালয় কেন্দ্রিক। আন্দোলনে শ্রমিক দলের ভূমিকা নেতা-কর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। মহানগর শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুর রহিম দুদু পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে ক্ষমতাসীনদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে চলেন। আর সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান নিজে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সমাবেশে আসলেও সাংগঠনিক পরিসীমা বাড়াতে পারেননি বলেও অভিযোগ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের। মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক ও ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ ও আমজাদ হোসেন এবং নগর কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবুসহ ১৭১ সদস্যের মহানগর কমিটির অর্ধশতাধিক নেতার পদধুলি রাজপথে পড়ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের। আবার, বিএনপির সমর্থনে নির্বাচিত ২৩ জন কাউন্সিলর খুলনা সিটি কর্পোরেশনে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তবে তাদের মধ্যে দুই-তিনজন ব্যতীত অন্যদেরও রাজপথে দেখতে পান না নেতা-কর্মীরা। এ ব্যাপারে ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও নগর যুবদলের সহ-সভাপতি প্যানেল মেয়র মো. আনিসুর রহমান বিশ্বাস বলেন, আমি আমার অবস্থান থেকে রাজপথে ছিলাম, আছি আর দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশনা মোতাবেক থাকবো। তার নির্দেশনা ব্যতীত কোনো ব্যক্তি স্বার্থের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। জাতীয়তাবাদী কাউন্সিলর ফোরামের আহ্বায়ক ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাহবুব কায়সার বলেন, সুবিধাবাদী নীতি ও পরস্পর বোঝা-পড়ার অভাবে কাউন্সিলররা চলমান আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছেন না। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ১০নং কাউন্সিলর মো. ফারুক হিল্টন বলেন, মামলায় জড়ালে বা গ্রেফতার হলে দলীয় কর্ণধাররা সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে আসেন না। এদিকে, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম বললেন, আমি বৈকালিতে আছি। বুকে অপারেশন, হাঁটুর ব্যথা ও ডায়াবেটিকসের কারণে খুলনায় যাওয়া হয় না। আমি সব আন্দোলনে আছি। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ক্ষুব্ধতা ও হতাশার সত্যতা স্বীকার করে মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, চেয়ারপারসন অবরুদ্ধ অবস্থায় তার প্রিয় সন্তানকে হারিয়েছেন। তারপরও দেশের মানুষের স্বার্থে ও গণতন্ত্র রক্ষার্থে তিনি অপোষহীন। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিএনপি’র আন্দোলন যতই তীব্র হচ্ছে সরকার দমন-পীড়নের মাত্রা ততই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব কারণে কর্মসূচি পালনে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনেই দলীয় সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হবে। ----- ঢাকাটাইমস
২০ দল বিষফোঁড়া হয়ে দংশন করছে

২০ দল বিষফোঁড়া হয়ে দংশন করছে


ঢাকা: ২০ দল বিষফোঁড়া হয়ে বিষাক্ত সাপের মতো দংশন করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তারা সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারছে। যারা এসব করবে তাদের বিরদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। শনিবার এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
খালেদা ফের অবরুদ্ধ, ধরপাকড়

খালেদা ফের অবরুদ্ধ, ধরপাকড়


ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে থেকে তিন মহিলা আইনজীবীসহ মহিলা দলের ছয় জন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে তিনজন মহিলা দলের নেত্রী রয়েছেন। পরে তাদের গুলশান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে শনিবার সন্ধ্যার দিকে কার্যালয়ের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেই সঙ্গে কার্যালয়ের মূল গেটের সঙ্গে পেছনের গেটেও নারী পুলিশকে দায়িত্বে রাখা হয়। কারণ সামনের দিকে পুলিশ থাকায় পেছনের গেট দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রবেশ করছিল।এর মধ্যদিয়ে খালেদা জিয়া ফের অবরুদ্ধ হয়ে পড়লেন। এদিকে বএনপির নির্বাহী কমিটি সদস্য খালেদা ইয়াসমিনকেও আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ক্ষতিগ্রস্তরাই খালেদার কার্যালয়ের সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে

ক্ষতিগ্রস্তরাই খালেদার কার্যালয়ের সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে


মাদারীপুর: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের বিদ্যুৎ, টিঅ্যান্ডটি, গ্যাস ও ইন্টারনেটের লাইন সরকারের পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেন, এ সব লাইন বিচ্ছিন্ন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও কর্মচারীরা। শনিবার দুপুরে মাদারীপুরে চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সড়ক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন। নৌমন্ত্রী বলেন,’আমাদের শ্রমিক ও কর্মচারীরা বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত আছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, টেলিফোন-গ্যাসেও কর্মরত রয়েছেন। প্রথমে খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি অনুরোধ শোনেননি। কথা না শোনার কারণে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও কর্মচারীরা এ সব লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এর দায়-দায়িত্ব শ্রমিক ও কর্মচারীদের, সরকারের নয়।’ খালেদা জিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করে দেওয়ার পরও খালেদা জিয়া যদি চরিত্র না পাল্টায় তাহলে তার বাসার সামনের চারদিকে পোড়া গাড়ি রাখা হবে এবং আহত ও নিহত পরিবারের লোকজন অবস্থান করবে। একই সঙ্গে তার বাসায় খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ শাজাহান খান বলেন, ‘আপনার (খালেদা) ডাকা অবরোধে যারা নিহত ও আহত হয়েছেন তাদের ব্যথা আপনার অনুভব করা উচিত। আপনার এক ছেলের মৃত্যুতে আপনি শোকাহত হয়েছেন, আপনি কেঁদেছেন আর আজকে শত শত সন্তান নিহত হচ্ছে, খুন করছেন। তাদের পরিবারের দিকে আপনাকে তাকাতে হবে। যদি না পারেন এর দায়-দায়িত্ব নিয়ে তার খেসারত আপনাকেই দিতে হবে।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জি এস এম জাফরউল্লাহ, পুলিশ সুপার খোন্দকার ফরিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল আহসান প্রমুখ।
খালেদার কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রতিবাদ জামায়াতের

খালেদার কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রতিবাদ জামায়াতের


ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ শনিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে মকবুল আহমাদ বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই এ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তীব্র গণআন্দোলনের ভয়ে ভীত হয়ে গতকাল (শুক্রবার) একজন মন্ত্রী শ্রমিক সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিচ্ছিন্ন করার হুমকি প্রদান করেন। তার এ হুমকির পর গতকালই (শুক্রবার) গভীর রাতে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং শনিবার সকালে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, সরকার পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের এ ন্যক্কারজনক ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়, সরকার বিরোধীদলকে নির্মূল করে বাকশালী কায়দায় দেশ শাসন করতে চায়। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহ, বিশেষ করে জাতিসংঘকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।’
কানাইঘাট বীরদল এন.এম একাডেমীর শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা প্রদান

কানাইঘাট বীরদল এন.এম একাডেমীর শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা প্রদান


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কানাইঘাট উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি ও সচিবকে বীরদল এন.এম একাডেমীর ম্যানেজিং কমিটি, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শনিবার সকাল ১১টায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে স্কুল প্রাঙ্গনে সহকারী সহকারী প্রধান শিক্ষক কলামিষ্ট মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক কাজী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী খছরুজ্জামান খছরু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা শিক্ষক সমিতির সহ সভাপতি মামুন আহমদ, সাংগঠনিক সচিব মুজম্মিল আলী, সংবর্ধিত অতিথি শিক্ষক সমিতি কানাইঘাট উপজেলা শাখার নব নির্বাচিত সভাপতি ও এন.এম একাডেমীর প্রধান শিক্ষক জার উল্লাহ ও সচিব রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মহিবুর রহমান, ইলিয়াস আলী, সহকারী শিক্ষক ময়নুল হক, সাহাব উদ্দিন প্রমুখ। নির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সচিব তাদের বক্তব্যে বলেন, কানাইঘাটের সার্বিক শিক্ষার উন্নয়নে এবং শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক নেতৃবৃন্দকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
কুতুবদিয়ায় ট্রলার ডুবি: ৬ লাশের পরিচয় মিলেছে

কুতুবদিয়ায় ট্রলার ডুবি: ৬ লাশের পরিচয় মিলেছে


কক্সবাজার: সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে কুতুবদিয়া চ্যানেলের খুদিয়ারটেক মোহনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ৭ লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অপরজনের পরিচয় পাওয়া না যাওয়ায় তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাসুদ।
নব নির্বাচিত কানাইঘাট শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন

নব নির্বাচিত কানাইঘাট শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কানাইঘাট উপজেলা শাখার নব নির্বাচিত সভাপতি বীরদল এন.এম একাডেমীর প্রধান শিক্ষক জার উল্লাহ ও সচিব রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। অভিনন্দন দাতারা হলেন, সিলেট-৫ আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মজুমদার, সাবেক সাংসদ আব্দুল কাহির চৌধুরী, জেলা আ’লীগের সিনিয়র সদস্য ও রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জমির উদ্দিন প্রধান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির দাতা সদস্য উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা এম.সি কলেজের সাবেক ভিপি খছরুজ্জামান খছরু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানা, কানাইঘাট উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মহিউদ্দিন,সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ ফয়জুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এএইচএম ইসরাইল আহমদ, সিনিয়র সহসভাপতি ময়ুব আলী, সহসভাপতি মামুন আহমদ, সচিব শমসের আলী, সাংগঠনিক সচিব অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী, যুগ্ম প্রচার সচিব সাজিদ মিয়া, উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজান, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ চৌধুরী, বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান মুবেশ্বির আলী, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ. হান্নান, সাধারণ সম্পাদক এখলাছুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক নিজাম উদ্দিন,সদস্য মাহবুবুর রশিদ প্রমুখ। বিবৃতিতে অভিনন্দন দাতারা বলেন, নব নির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি জার উল্লাহ ও সচিব ফজলুর রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে কানাইঘাট উপজেলার সার্বিক শিক্ষার উন্নয়ন সাধিত হবে।
কানাইঘাটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগমকে সংবর্ধনা প্রদান

কানাইঘাটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগমকে সংবর্ধনা প্রদান


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: কানাইঘাট উপজেলার মানিকগঞ্জ ছাত্র ও যুব কল্যাণ পরিষদের ২০১৪ সালের জেএসসি, জেডিসি, পিএসসি জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার ও কানাইঘাট উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম এর গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মানিকগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এখলাছ এ এলাহীর সভাপতিত্বে ও মহিউদ্দিন জাবেরের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ৮নং ঝিংগাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার রফিক আহমদ চৌধুরী, সমাজসেবী মোঃ আব্দুর রহীম, ইউনাইটেড কিন্ডারগার্টেন এন্ড স্কুল এর প্রধান শিক্ষক লোকমান উদ্দিন, আল-হেরা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওঃ তাজুল হক, মানিকগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার আনোয়ারা হোসাইন, সাবেক ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী (মেম্মবার), সমাজসেবী রফিকুল হাসান, হেলাল আহমদ, মাস্টার হেলাল উদ্দিন, হাফিজুল ইসলাম, রুহেল আহমদ, মুজাহিদ উদ্দিন, সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন আযাদ প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
কানাইঘাট প্রভাতীর বৃত্তি প্রদান ও শীত বস্ত্র বিতরণ সম্পন্ন

কানাইঘাট প্রভাতীর বৃত্তি প্রদান ও শীত বস্ত্র বিতরণ সম্পন্ন


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবীদ খলিলুর রহমান বলেছেন যে কোন প্রতিযোগীতা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে। আর মসজিদ ভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষা অন্য যেকোন প্রতিযোগিতার চেয়ে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। গরিব অসহায়দের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ। প্রত্যেক বিত্তবানদের এসব কর্মসূচিতে এগিয়ে আসতে হবে। কানাইঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন প্রভাতী সমাজকল্যাণ যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত মসজিদ ভিত্তিক বৃত্তি প্রদান ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। সংঘের সভাপতি মাষ্টার জালাল উদ্দীন এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মাওলানা আমিনুল ইসলামের উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী অধ্যাপক আব্দুর রহীম, প্রবীণ আলেমেদ্বীন প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান, সমাজসেবী ও ব্যবসায়ী রেদোয়ানুল করিম, সাবেক সভাপতি মাওলানা সোয়াইব আহমদ প্রমুখ।
দাফনের আগে জেগে উঠলো মৃত শিশুটি!

দাফনের আগে জেগে উঠলো মৃত শিশুটি!


ঢাকা: শুক্রবার রাত ১১টায় মা সুলতানার কোল আলোকিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভূমিষ্ট হয় একটি শিশু। জন্মের পরই তার নাম রাখা হয় সোহবান। প্রিয় সন্তানের চেহারা দেখার পর মা-বাবা থেকে শুরু করে পরিবারের লোকজনের মধ্যে যখন আনন্দ বিরাজ করছিল, ঠিক পরিবারের লোকজন শনিবার সকাল ৯টায় হঠাৎ দেখতে পায় সদ্যজাত সন্তান সোহবান নড়ছে না। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসকের কাছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর শিশুর অভিভাবকদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় শিশুটির ডেড সার্টিফিকেট বা মৃত্যু সনদ। পরে দাফনের জন্য শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় আজিমপুর কবরস্থানে। দাফনের পূর্বে শিশুটির গোসলের কাজ যখন শুরু করা হয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই তারা দেখতে পান তাদের মৃত. সন্তানটি নড়াচড়া করছে। হতবিহ্বল পরিবার আশান্বিত হয়ে শিশুটিকে নিয়ে দৌড় দেয় হাসপাতালে। বর্তমানে তাকে সেখানেই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শনিবার সকালে বিস্ময়কর এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে। শিশুটির বাবা কেরানীগঞ্জের চুনকুঠিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সুলতানা আক্তারকে শুক্রবার রাত ১০টায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর এক ঘণ্টা পরই পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তার স্ত্রী। পরে শিশুটির নাম রাখা হয় সোহবান। জাহাঙ্গীর আলম জানান, সোহবানকে ২১১ নম্বর নবজাতক ওয়ার্ডে রাখা হয়। সেখানে তার নানী হনুফা বেগমের কাছে ছিল সে। সকাল ৯টায় সোহবান নড়াচড়া না করলে চিকিৎসককে জানানো হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা করে তার ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দেন। তিনি আরও জানান, এর পর ভায়রা এজাজ খানকে সঙ্গে নিয়ে সোহবানকে দাফন করার জন্য আজিমপুর কবরস্থানে যান। সেখানকার অফিস সহকারী নুরুল হুদা শিশুটিকে গোসল করাতে গেলে ফের সে নড়াচড়া করে ওঠে। আবার তাকে নিয়ে আসা হয় ঢামেক হাসপাতালে। বর্তমানে সোহবান সুস্থ আছে বলে জানান তার বাবা। এ ব্যাপারে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিশুটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমীতে এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী অনুষ্ঠান ও স্কুল ড্রেস বিতরণ

গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমীতে এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী অনুষ্ঠান ও স্কুল ড্রেস বিতরণ


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: কানাইঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমীর ২০১৫ সালের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের জন্য এক বিদায়ী অনুষ্ঠান ও একাডেমির শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শনিবার একাডেমী ক্যাম্পাসে সম্পন্ন হয়েছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছালিক আহমদের সভাপতিত্বে ও একাডেমীর সিনিয়র শিক্ষক হানিফ আহমদের উপস্থাপনায় সভায় বক্তব্য রাখেন একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মোঃ মিফতাহুল বর চৌধুরী, সিনিয়র শিক্ষক করম উল্লাহ, আসাদুজ্জামান, এবাদুর রহমান, মাসুদা বেগম প্রমুখ।যুক্তরাজ্য প্রবাসী নোমান আহমদের অর্থায়নে একাডেমীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মানসিকতা,মনোবল এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। তোমাদের প্রত্যেককে উদ্যোক্তা হতে হবে তোমরা নিজেদের জন্য চাকুরি খোঁজবেনা বরং মানুষকে তোমাদের অধীনে চাকুরি দিবে। বক্তারা প্রত্যক বিত্তবান ব্যাক্তিদের ভালো কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ।
অদ্ভুত এক ট্যাটুর আবিষ্কার

অদ্ভুত এক ট্যাটুর আবিষ্কার


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ইতালির বিজ্ঞানীরা চলতি সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ‘ওৎজি দ্য আইসম্যান’ নামে পরিচিত ৫ হাজার ৩০০ বছর বয়সের একটি মমির পাঁজরে অদ্ভুত এক ট্যাটুর সন্ধান পেয়েছে। এটি তাদের কাছে বিস্ময়কর একটি বিষয় বলে মনে হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। এই আবিষ্কারে অবদান রাখা বিজ্ঞানী ড. আবলার্ট জিঙ্ক বলেছেন, আমরা এটি প্রত্যাশা করেছিলাম না। এটি সাধারণ কোনও বিষয় থেকে একেবারেই ভিন্ন। ১৯৯১ সালে দুই জার্মান নাগরিক অস্ট্রিয়া ও ইতালি সীমান্ত থেকে ওৎজিকে আবিষ্কার করে। তারপর থেকে গবেষকরা বিশেষভাবে সংরক্ষণ করে রাখা এই মমির উপর অনেক ধরনের গবেষণা চালিয়েছেন। তারা ধারণা করছেন, এই লোকের যখন মৃত্যু হয়েছিল তখন তার বয়স ছিল ৪৫ বছর। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়া তার দাঁতে ক্ষয়রোগ ছিল বলে তারা ধারণা করছেন। এই গবেষণার জন্যে জিঙ্ক ও তার সহকর্মীরা নন-ইনভ্যাসিভ ফটোগ্রাফী টেকনিক ব্যবহার করেছেন।
পরিকল্পিতভাবে অপসারণ হয়েছে, ক্ষোভ জানালেন সুজাতা

পরিকল্পিতভাবে অপসারণ হয়েছে, ক্ষোভ জানালেন সুজাতা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কানাইঘাট নিউজ: ক্ষোভটা প্রকাশ্যে বলেই ফেললেন ভারতের সদ্য প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। অবসরের সাত্র সাত মাস বাকি থাকতে যেভাবে তাঁকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হলো, তা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুললেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে সুজাতা বলেন, ‘আমার সম্মান ভূলুণ্ঠিত হলো। এটার কি খুব দরকার ছিল?’ তিনি আরও বলেন, ‘গত আঠেরো মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেই সব কাজ করে গিয়েছি। বিনিময়ে সেখান থেকে শুধুই নেতিবাচক মন্তব্যই শুনতে হয়েছে। এটা পূর্বপরিকল্পিত।’ সুজাতা জানান, দিনের পর দিন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকের জন্য চেষ্টা করেও সেই সুযোগ পাননি এবং সে কারণেও সুজাতা মনে করছেন, আগে থেকেই সব পরিকল্পনা করা ছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বক্তব্য, এত দিন সুজাতার কাজে কোনও সমস্যা তৈরি করা হয়নি। তাঁর প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েই আগে থেকে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বরখাস্ত করা হয়নি, বরং পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। আঠাশ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী সাংবাদিক বৈঠকে বসে আচমকাই বরখাস্ত করেছিলেন তখনকার পররাষ্ট্র সচিব এ পি বেঙ্কটেশ্বরনকে। সেই সাংবাদিক বৈঠকে তখন খোদ সচিব উপস্থিত। এ রকম কোনও অপমানের মধ্যে সুজাতাকে ফেলতে চাননি মোদি। আবার জয়শঙ্করের মতো দক্ষ কূটনীতিক ৩১ জানুয়ারি অবসর নিয়ে নিলে তাঁকে বিদেশসচিবের পদে আনার সুযোগ হাতছাড়া হতো মোদির। অতীতে যে সুযোগ মনমোহন সিংহকে হাতছাড়া করতে হয়েছিল, গান্ধী পরিবার তথা সরাসরি বললে সোনিয়া গান্ধী সরাসরি হস্তক্ষেপে।’ জয়শঙ্করকে দুবছর আগেই বিদেশসচিব পদে চেয়েছিলেন মনমোহন। জয়শঙ্করের যোগ্যতা নিয়ে মনমোহন এতটাই আস্থাবান ছিলেন যে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে তাঁকে বিদেশসচিব করতে যথাসাধ্য চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু সোনিয়ার আপত্তিতে পেরে ওঠেননি। এত দিন পরে যোগ্যতার মাপকাঠিতেই জয়শঙ্করকে শেষ পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিবের আসনে বসালেন মোদি। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পররাষ্ট্র নীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন মোদি। তাঁর সঙ্গে জয়শঙ্করের ব্যক্তিগত রসায়নের একটি ইতিহাসও রয়েছে। ২০১২ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদি যখন চীন সফরে গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর তখন সেখানকার রাষ্ট্রদূত। সেখানে বেশ কিছ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আযোজনের ক্ষেত্রে জয়শঙ্করের তৎপরতায় মুগ্ধ হন মোদি। এক মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিদেশসচিবের এই সক্রিয়তা তখনই নজর কেড়েছিল মোদির। পরে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে ধীরে ধীরে তাঁর উপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে মোদির। সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফর এবং সদস্যসমাপ্ত প্রজাতন্ত্র দিবসে বারাক ওবামার সফরকে সফল করে তুলতে প্রবল সক্রিয় ছিলেন জয়শঙ্কর ও তাঁর অফিস। কিন্তু সুজাতা বলেন, ‘ওবামার সফরের প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি আমরা পরিশ্রম করে তৈরি করেছি। আমার মন্ত্রকের অফিসাররা করেছেন। পরমাণু চুক্তি নিয়েও যথাসাধ্য পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু সর্বদাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে।” সুজাতার দাবি, গত আট মাসে পররাষ্ট্র নীতিতে মোদি যে ঝড় তুলেছেন, তার অন্যতম কান্ডারি ছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের ঢাক নিজে পেটান না বলে এবং ব্যক্তি নয় দলবদ্ধ কাজে বিশ্বাস করে এসেছেন বলে, আজ তাঁকে দাম দিতে হল।
বিশ্বব্যাপী ব্লাসফেমি আইন বাতিলের আহ্বান

বিশ্বব্যাপী ব্লাসফেমি আইন বাতিলের আহ্বান


আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কানাইঘাট নিউজ: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবতাবাদী সংগঠনগুলো মিলে ব্লাসফেমি আইনের বিরুদ্ধে এক আন্দোলন শুরু করেছে। প্যারিসে শার্লি হেবদো পত্রিকার ওপর হামলার পর এসব সংগঠন মনে করছে, ধর্মীয় অনুভূতিকে সুরক্ষা দিয়ে বিভিন্ন দেশে যেসব আইন আছে তা বিলোপের আহ্বান জানানোর এটাই সময়। কিন্তু বাস্তবতা হলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই ব্লাসফেমি আইনের পক্ষে জনসমর্থন আছে। শার্লি হেবদো পত্রিকার ওপর হামলার মূলে ছিল ইসলামের নবী মুহাম্মদের কার্টুন প্রকাশ। ইসলাম ধর্মের কিছু শাখায় নবীর ছবির ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে ঠিকই, কিন্তু ব্লাসফেমি নামে এই বিশেষ অপরাধের কথা অন্য অনেক ধর্মে এবং নানা দেশের আইনেই আছে। ব্লাসফেমি আইনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে অনেকে বলেন, ধর্মীয় অনুভুতি এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য এটা প্রয়োজন। এর বিরোধীরা মনে করেন এতে বাকস্বাধীনতা খর্ব হয় এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করতেও একে ব্যবহার করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিস্ট এন্ড এথিক্যাল ইউনিয়নের (আই এইচ ই ইউ) পরিচালক বব চার্চিল বলেন, এটা কোন সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ নয়, বা তারা কোন ধরণের বৈষম্যকে উৎসাহিত করতে চান না। তিনি আরও বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে ঘৃণা উস্কে দেবার বিরুদ্ধে যেসব সংগত আইন আছে সেগুলো আমাদের লক্ষ্যবস্তু নয়। তবে পরিবর্তন এবং সংস্কারের পক্ষে সংখ্যায় অপেক্ষাকৃত কম হলেও অনেকে আছেন - কিন্তু তাদের কণ্ঠ অনেক সময়ই শোনা যায় না।’ বিভিন্ন দেশে ব্লাসফেমি: ধর্মের অবমাননার জন্য বাংলাদেশে আসিফ মহিউদ্দিনের জেল হয়েছে, সৌদি আরবে রাইফ বাদাওয়িকে চাবুক মারা হয়েছে। পাকিস্তানের আসিয়া বিবি ২০১০ সাল থেকে ফাঁসির আসামী। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মিশর, ইরান, সুদান -এমন অনেক দেশে ধর্মীয় সংক্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। পিউ গবেষণা সংস্থা বলছে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোয় এ ধরণের আইন সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এ আইনের সমর্থকও সবচেয়ে বেশি এ অঞ্চলে। ৫৬টি ইসলামী দেশের সংগঠন ওআইসি বহুবার চেষ্টা করেছে ধর্মের অবমাননা নিষিদ্ধ করার একটি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের ব্যাপারে জাতিসংঘের সমর্থন পেতে। তাদের মহাসচিব আইয়ান আমিন মাদানি বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার সংঘাত ঘটছে। এ ছাড়া মায়ানমারে ডিসেম্বর মাসে হেডফোন পরা বুদ্ধের একটি ছবি বিতরণ করার ফলে ধর্মীয় অবমাননার দায়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়। ইউরোপে ব্লাসফেমি: ডেনমার্কে দন্ডবিধির ১৪০ ধারায় ব্লাসফেমির কথা আছে। তবে ১৯৩৮ সালে ইহুদি-বিরোধী প্রচারণার দায়ে একটি নাৎসি গ্রুপকে অভিযুক্ত করার পর থেকে আর কখনো এই বিধিটি প্রয়োগ করা হয়নি। ২০১৪ সালে রাশিয়ার এমপিরা ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেবার বিরুদ্ধে একটি নতুন আইন পাস করে। 'পুসি রায়ট' নামে একটি পপ গ্রুপ গির্জার ভেতরে রাজনৈতিক প্রতিবাদ জানানোর পর ওই আইন পাস হয়। গ্রিসে একজন প্রয়াত ধর্মযাজককে নিয়ে ফেসবুকে বিদ্রূপ করায় এক ব্যক্তির ১০ মাসের কারাদন্ড হয়। আয়ারল্যান্ডে ২০০৯ সালে ব্লাসফেমি আইন করার পর এখনো তা নিয়ে একটি গণভোট করা না হওয়াতে বেশ কিছু গোষ্ঠী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। মাল্টায় ২০১২ সালে পাবলিক ব্লাসফেমির অভিযোগে মোট ৯৯ জনকে জরিমানা থেকে শুরু করে কারাদন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয়া হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল বলছে, ধর্মীয় অবমাননার ইস্যুটি সৌদি আরবের এক অনুরোধের প্রেক্ষপটে মার্চ মাসে একটি অধিবেশনে তোলা হবে।
টাকা জাদুঘর

টাকা জাদুঘর


সৈয়দ রশিদ আলম: ২৫ মে ২০১২। বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটির (বিএনসিএস) প্রথম মুদ্রা প্রদর্শনী শুরু হলো ঢাকার জিপিওতে। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। তিনি এই মুদ্রা প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হন। বিএনসিএসর সভাপতি অমলেন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম, মুদ্রা সংগ্রাহক রবিউল ইসলাম ও এস বি সালাম তুহিনের সঙ্গে গভর্নর আলোচনায় বসলেন। কীভাবে একটি কারেন্সি মিউজিয়াম গঠন করা যায়, শুরু হলো সেই আলোচনা-পর্যালোচনা। বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি স্বল্পপরিসরে কারেন্সি মিউজিয়াম আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেখানে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার ছিল না। টাকা জাদুঘরের প্রথম দিকের উপহারদাতা হিসেবে ছিলেন এম এ কাশেম, অমলেন্দ্র সাহা, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম। টাকা জাদুঘর ৫ অক্টোবর ২০১৩। মুদ্রা সংগ্রহকারী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের লড়াকু গভর্নর ড. আতিউর রহমানের স্বপ্ন পূরণের দিন। এই দিন প্রতিষ্ঠিত হলো দেশের প্রথম কারেন্সি মিউজিয়াম। নামকরণ করা হলো টাকা জাদুঘর। উদ্বোধন করলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সেদিন দেশের সব মুদ্রা সংগ্রহকারী, মুদ্রা গবেষক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। যা আছে টাকা জাদুঘরে একটা সময় বিনিময় মূল্য হিসাবে কড়ির প্রচলন ছিল। সেই কড়ি থেকে শুরু করে সমকালীন বিশ্বের, বিলুপ্ত জনপদের সব ধরনের ধাতব মুদ্রা, ব্যাংক নোট, মুদ্রা সংরক্ষণের সব উপকরণ টাকা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। এই টাকা জাদুঘর পরিদর্শন করে দর্শনার্থীরা হাইব্রিড, পলিমার, বিলুপ্ত দেশের ব্যাংক নোট ও সব স্বাধীন দেশের, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের ব্যাংক নোট টাকা জাদুঘরে দেখবেন। টাকা জাদুঘর বাংলার সুলতান, দিল্লির সুলতান, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়াসহ একাধিক দেশের ধাতব মুদ্রা টাকা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। বিলুপ্ত দেশের মধ্যে পর্তুর্গিজ ইন্ডিয়া, পর্তুগিজ কেপভারদে, পর্তুগিজ মোজাম্বিক, কাতাংগা, ব্রিটিশ ইস্ট আফ্রিকা, মাস্কাট ও ওমান, কাতার অ্যান্ড দুবাই, রোডেশিয়া, জানজিবারসহ একাধিক বিলুপ্ত দেশে ধাতব মুদ্রা প্রদর্শিত হচ্ছে। যে সব বিলুপ্ত দেশের ব্যাংক নোট প্রদর্শিত হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে চেকোস্লোভাকিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্রিটিশ বার্মা, ব্রিটিশ ইন্ডিয়া, জাপান বার্মা, জাপান মালায়া, ব্রিটিশ সিলোনসহ একাধিক দেশ। উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাপ্ত ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রাও টাকা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। কুষাণ মুদ্রা, প্রাচীনতম ছাপাঙ্কিত (পাঞ্চ মার্কড) রৌপ্যমুদ্রা টাকা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। দিল্লির সুলতান গিয়াস উদ্দিন তুঘলক শাহ, মোগল সম্রাট শাহজাহান, আওরঙ্গজেব, ফররুখশিয়ার ধাতব মুদ্রাও টাকা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ম্যাপ সিরিজের এক টাকা, পাঁচ টাকা, দশ টাকা ও একশ টাকার নোট টাকা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। শিশু-কিশোররা পঞ্চাশ টাকার বিনিময়ে এক লাখ টাকার একটি ব্যাংক নোটে নিজেদের ছবি তুলতে পারবে। পরিশ্রান্ত দর্শনার্থীরা নিচতলায় কয়েন ক্যাফে নামে একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে বিশ্রামের ফাঁকে ফাঁকে অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন। দোতলায় উঠতে গিয়ে হাতের ডান দিকে রয়েছে একটি সেলস সেন্টার। সেখানে বাংলাদেশের সব স্মারক ব্যাংক কয়েন ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী ক্রয় করতে পারবেন। সেলস সেন্টারের দায়িত্বে রয়েছেন সেহেলী নার্গিস। তার কাছে গেলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। একটি চৌকস টিম দ্বারা টাকা জাদুঘর পরিচালিত হচ্ছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, মহাব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবীর ও উপ-মহাব্যবস্থাপক পরিমল চক্রবর্তী। টাকা জাদুঘরের কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করছেন এক সময়ের ঢাকা জাদুঘরের কিপার মুসলিম মুদ্রা গবেষক ড. রেজাউল করিম। তাকে সহযোগিতা করছেন উপ-পরিচালক খন্দকার আনোয়ার সাদাত ও কিপার ড. আছিয়া খানম। শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টাকা জাদুঘর খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার বন্ধ। শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টাকা জাদুঘর খোলা থাকে। টাকা জাদুঘর পরিদর্শন করার জন্য কোনো প্রবেশ ফি দিতে হয় না। চলতি মাসে জাপান থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও জাপানের কয়েন সেট স্বল্পমূল্যে টাকা জাদুঘর থেকে ক্রয় করা যাবে। ঢাকা শহর থেকে নিজস্ব যানবাহনযোগে অথবা বাসে করে প্রথমে মীরপুর ১০ নং গোলচক্করে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে রিকশা করে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির দ্বিতীয় তলায় টাকা জাদুঘর। কিডনি ফাউন্ডেশনের পরের দালানটিই হচ্ছে টাকা জাদুঘর। আপনি যদি প্রাচীন ইতিহাস জানতে, গবেষণা করতে চান, সমকালীন ও প্রাচীন বিশ্বের সব মুদ্রা, ব্যাংক নোট ও মুদ্রা সংরক্ষণের উপকরণ দেখতে চান তাহলে যেতে হবে সেই টাকা জাদুঘরে। প্রযুক্তির সব উপকরণ দিয়ে টাকা জাদুঘর সাজানো হয়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র ডিজিটাল জাদুঘর হলো টাকা জাদুঘর। আর বিলম্ব না করে আপনজনকে নিয়ে বেড়ানোর নতুন জায়গা টাকা জাদুঘর পরিদর্শন করুন। লেখক : প্রাবন্ধিক ও টাকা জাদুঘরের নিয়মিত উপহারদাতা

Friday, January 30

পুলিশের অনুমতি মেলেনি : কানাইঘাটে ছাত্র জমিয়তের সমাবেশ স্থগিত

পুলিশের অনুমতি মেলেনি : কানাইঘাটে ছাত্র জমিয়তের সমাবেশ স্থগিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০ দলীয় জোটের শরীক ভুক্ত দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ছাত্র সংগঠন ছাত্র জমিয়তের ২ যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে কানাইঘাটে আয়োজিত শনিবারের ছাত্র সমাবেশ পুলিশি অনুমতি না পাওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। পুলিশি বাধার কারনে সমাবেশ স্থগিত হওয়ায় শুক্রবার বিকেল ৩টায় কানাইঘাট উপজেলা ছাত্র জমিয়তের উদ্যোগে দলের পৌর শহরস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র জমিয়তের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উপজেলা ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মাওঃ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, উপমহাদেশের প্রাচীনতম ইসলামী ঐতিহ্যবাহী সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ছাত্র সংগঠন ছাত্র জমিয়তের ২ যুগ পূর্তি উপলক্ষ্যে শনিবার বিকেল ৩টায় কানাইঘাট ডাক বাংলা মাঠে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ছাত্র সমাবেশকে সফল করার জন্য এ উপলক্ষ্যে বিগত ৩ মাস ধরে সংগঠনের উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা ব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ, পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও মাইকিং করা হয়। উক্ত ছাত্র সমাবেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আন্তর্জাতিক মুফস্সিরে কোরআন আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দীন, জমিয়তের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল গাজালি অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাবেশের সকল আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণের পর গত বৃহস্পতিবার সমাবেশের অনুমতি নেওয়ার জন্য কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর সাথে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ থানায় সাক্ষাত করলে তিনি প্রথমে তাদের বলেন, যেহেতু আপনারা ২০ দলীয় জোটের শরীক ভুক্ত সংগঠন তাই শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আপনাদের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না। সমাবেশ করতে হলে উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ, সিলেটের পুলিশ সুপার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার লিখিত অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। অনুমতি না নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করা হলে গুলি করা হবে থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী ছাত্র জমিয়তের নেতৃবৃন্দকে বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র জমিয়তের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্র জমিয়তের অনেক সংগ্রামী ইতিহাস ঐতিহ্য রয়েছে। এ সংগঠন কখনো কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও দেশ বিরোধী নাশকতা মূলক তৎপরতার সাথে জড়িত নয়। অতীতে বহুবার কানাইঘাটে ছাত্র জমিয়তের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ ভাবে সভা সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের কাছে শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাবেশ হবে অঙ্গীকার করার পরও সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ছাত্র জমিয়তের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারপরও প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ছাত্র জমিয়তের আজকের ছাত্র সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। সুবিদা মত সময়ে পুণরায় ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করা হবে বলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মাওঃ রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফয়েজ উদ্দিন সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Thursday, January 29

এরপরও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন রেশমা

এরপরও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন রেশমা


ঢাকা: ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় চিকিৎসাধীন রেশমা বেগম (৩০) বার বার তাঁরে সাড়ে তিন বছরের মেয়ে শিশু মার্জানকে কোলে নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ার পর তার আকুতি-বোমা মাইর‌্যা ওরা আমার হাত পুড়াইছে। মাইয়্যারে কোলে নিতে পারি না। ফুটফুটে শিশুকন্যা ও স্বামী মাহবুব আলমের সঙ্গে গত ২০ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে যাচ্ছিলেন গ্রামের বাড়ি বরিশালের কলাপাড়া। রাজধানীর খিলগাঁও থানার দক্ষিণ গোড়ানে রয়েছে তাদের সাজানো সংসার। মাহবুব প্রাইভেটকার চালান। রেশমা সামাল দেন সংসার। ১৪ বছরের ছেলে আবদুর রহমানকে বোনের বাসায় রেখে রওনা দেন তারা গ্রামের বাড়ির দিকে। জরুরি পারিবারিক কাজে যাচ্ছিলেন। ওই দিন হরতাল-অবরোধের আতঙ্ক নিয়েই সায়েদাবাদ থেকে আবদুল্লাহ পরিবহনের বাসে চড়েন রেশমা-মাহবুব। তবে বরিশাল পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি তাদের। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল শহর পার হওয়ার পরই নেমে আসে দুর্ভোগ। এ সময় বাসের বা পাশে পড়তে থাকে একের পর এক পেট্রলবোমা। জানালার পাশে বসে থাকা রেশমার বাঁ হাতে আঘাত করে বোমা। তার গায়ে জড়ানো চাদরে আগুন ধরে যায়। পাশে মাহবুব নিজের প্রাণের মায়া না করে জড়িয়ে ধরেন মেয়ে মার্জানকে। হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসেন বাইরে। জীবন বাঁচানোর সেই সংগ্রামের কথা বলার সময় আতঙ্ক ফুটে ওঠে রেশমার চেহারায়। রেশমা বলেন, একটার পর একটা বোমা আইস্যা পড়ছিল। তাই বাসের জানালার কাঁচ ভাঙা ছিল। ভাঙা জানালা দিয়াই লাফ দেই। স্বামী মাহবুবেরও বাঁ হাতের পুরো কবজি ঝলসে গেছে। কিন্তু যন্ত্রণায় কাতর রেশমা-মাহবুব আগলে রাখেন মেয়ে মার্জানকে। আহত এই দুজনকে পুলিশ বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে দুদিন তাদের চিকিৎসা চলে। হাতে ব্যান্ডজ নিয়ে মেয়ে মার্জানকে নিয়ে কনকনে শীতের মধ্যে লঞ্চে করে গত শনিবার ভোরে তারা ঢাকায় চলে আসেন। সকালে তারা ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে। প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন মাহবুব ও রেশমা। বার্ন ইউনিটে বোনের স্বামী মোজাম্মেলের কোলে ঘুমিয়ে থাকা মার্জানকে দেখছিলেন আর রেশমার দুই চোখ ভিজে যাচ্ছিল। মেয়ের দিকে তাকিয়ে রেশমা বলেন, ছেলেরে আমাদের লগে লই নাই। থাকলে আল্লাই জানে কী হইত, দুই দিন মাইয়্যারে কোলে নিতে পারি নাই। বরিশালে ওরে দেখমু, না আমাগো চিকিৎসা করামু বুঝতে পারছিলাম না। অনেকটাই ক্ষোভের সাথে রেশমার স্বামী মাহবুব বলেন, বলেন, এই অবস্থার কি সমাধান হইব, জানি না। তবে আমাদের চিকিৎসা যেন ভালো হয়। ওনারা রাজনীতি করবে আর আমাদের পুড়তে হবে তাই না, দেশটা তো মঘের মুল্লুক! ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, রেশমা-মাহবুব এখন শঙ্কামুক্ত। রেশমার বাঁ হাতের ৩ শতাংশ এবং মাহবুবের ১ শতাংশ পুড়ে গেছে। তবে ক্ষত সারতে সময় লাগবে।

Wednesday, January 28

গাছবাড়ী মর্ডাণ একাডেমি’র ৮১ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন

গাছবাড়ী মর্ডাণ একাডেমি’র ৮১ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন


 নিজস্ব প্রতিবেদক:
শুধু শিক্ষিত হলে চলবে না, শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষেত্রে নিজেদেরকে মেলে ধরতে হয়। শিক্ষিত বেকার না হয়ে নিজেদের উদ্যোগেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে নিজের ও  দেশ এবং জাতির জন্য সকলকে কাজ করতে হবে। কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া বুধবার উপজেলার গাছবাড়ী মর্ডাণ একাডেমির ৮১ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন। বুধবার কানাইঘাটের গাছবাড়ী মর্ডাণ একাডেমির ৮১ বছর পূর্তি, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমাবেশ, বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছালিক আহমদের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক হানিফ আহমদ ও প্রাক্তন ছাত্র কামাল উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দেশে শিক্ষিত লোক অনেক আছে। কিন্তুু সবাই কর্মক্ষেত্রে নেই। কারণ সবাই শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে শুধু চাকরি চায়। সে তুলনায় চাকরির ক্ষেত্র কম হওয়ায় অনেকেই পায় না। ফলে শিক্ষিত হয়েও অনেকে বেকার থাকছে। এ জন্য সবাইকে সাধারণ পড়ালেখায় মনোযোগী না হয়ে কারিগরি শিক্ষায়ও শিক্ষিত হতে হবে। আজ জেনে ভাল লাগছে যে এই প্রতিষ্ঠানটি তার পথচলার ৮১ বছর পূর্ণ করছে। এই বিশাল পথযাত্রায় সৃষ্টি করেছে অনেক আলোকিত মানুষ। পূর্বসুরীদের থেকে আরও এগিয়ে যেতে হবে বর্তমান শিক্ষার্থীদের। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছালিক আহমদ বলেন, আমাদের সন্তানদের সু-শিক্ষায়  শিক্ষিত করে মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষের মত মাুনষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা চরাই উৎরাই পেরিয়ে আজ তার ৮১ বছর পূর্ণ করেছে। নানা প্রতিকুলতা ডিঙিয়ে গ্রামীণ এই জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই উপজেলার একটি মডেল ও আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ পেয়েছে আমাদের গাছবাড়ী মর্ডাণ একাডেমিটি। আমরা সকলের সহযোগিতায় আগামিতে এই প্রতিষ্ঠান একটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।  পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ছাত্র ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার সাবেক প্রকল্প কর্মকর্তা আলতাফুল হক চৌধুরী। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, বশির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মখলিছ-উর-রহমানের স্বাগত বক্তব্যে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ৮নং ঝিঙ্গাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ চৌধুরী, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, গাছবাড়ি মর্ডাণ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোঃ মিফতাহুল বর চৌধুরী, শিক্ষানুরাগী এখলাছুর রহমান, গাছবাড়ি সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাস্টার মাহমুদ হোসেন। বক্তব্য রাখেন শাহ্ নেওয়াজ খছরু, সাব্বির আহমদ, হাফিজুর রহমান, আব্দুর রহিম, এডভোকেট সরফ, এমদাদুর রহমান, মাস্টার ফয়েজ উদ্দিন, তাওহীদুল ইসলাম, হামজা হেলাল, হারুন রশিদ, খালেদ আহমদ সুমন, ডালিম আহমদ প্রমুখ। প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠান শেষে বিকালে স্কুল প্রাঙ্গণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়।
কানাইঘাটের সাবেক চেয়ারম্যান দুদু মিয়ার ইন্তেকাল

কানাইঘাটের সাবেক চেয়ারম্যান দুদু মিয়ার ইন্তেকাল


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কানাইঘাট সদর ও লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির ৪ বারের নির্বাচিত সাবেক জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী আহমদ সিদ্দিকী দুদু মিয়া ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি …….. রাজিউন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২ টায় অসুস্থ অবস্থায় দূরারোগ্য ব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহমদ সিদ্দিকী দুদু মিয়া ৬৮ বছর বয়সে তার পৌর শহরস্থ নিজ বাস ভবনে মারা যান। মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে, ১ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বুধবার বাদ যোহর কানাইঘাট দারুল উলূম মাদ্রাসা মাঠে তার প্রথম জানাজা’র নামায অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ শরীক হন। এরপর বাদ আসর মরহুমের নিজ বাড়ী সোনাপুর জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার নামায শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। আহমদ সিদ্দিকী দুদু মিয়া একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে ন্যাপের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিন শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে তিনি প্রথমে জাগদলে যোগদান, পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। টানা ২৬ বছর কানাইঘাট সদর ইউপির ২বার এবং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির ২বার বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে অসামান্য অবদান রাখেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উপজেলা বিএনপির অন্যতম নীতি নির্ধারক ছিলেন। উল্লেখ্য যে, আহমদ সিদ্দিকী দুদু মিয়ার চাচা আব্দুস সালাম পাকিস্তান প্রদেশিক পরিষদের ভূমি মন্ত্রী ছিলেন। এদিকে আহমদ সিদ্দিকী দুদু মিয়ার মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক সাংসদ ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাহির চৌধুরী, বিএনপি নেতা কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি কাউন্সিলার শরিফুল হক, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হোসেন বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম.এ লতিফ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হাবিব আহমদ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ইফজালুর রহমান,মস্তফা-হক চৌধরী ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আর.কে.এম মোস্তাক চৌধূরী প্রমুখ।
গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমীর প্রাক্তন ছাত্র সমাবেশ আজ

গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমীর প্রাক্তন ছাত্র সমাবেশ আজ

indexgachনিজস্ব প্রতিবেদক:: কানাইঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমীর ৮১ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাক্তন ছাত্র সমাবেশ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ ২৮ জানুয়ারী বুধবার সকাল থেকে দিনব্যাপী একাডেমী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া।
উল্লেখ্য যে, ১৯৩৩ ইং সনে প্রতিষ্ঠিত গাছবাড়ী মিডিল ইংলিশ স্কুল থেকে যাত্রা শুরু করে গাছবাড়ী জুনিয়র মাদ্রাসা, গাছবাড়ী জুনিয়র হাইস্কুল থেকে পর্যায়ক্রমে গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমী নামে আজ অত্র প্রতিষ্ঠানটি ৮১ বছরে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি হাজার হাজার গুণীজন তৈরী করে বর্তমানে কানাইঘাটের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। ৮১ বছরের এ মিলন মেলায় সকলের স্ববান্ধব উপস্থিতি কামনা করেছেন একাডেমীর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছালিক আহমদ ও প্রধান শিক্ষক মো: মিফতাহুল বর চৌধুরী।

Tuesday, January 27

ডাঃ আব্দুস সবুর ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত

ডাঃ আব্দুস সবুর ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের কানাইঘাট জোনের জোনাল ইনচার্জ ডাঃ মোঃ আব্দুস সবুর কোম্পানীর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে পদোন্নতি লাভ করেছেন। সিলেট ডিভিশনের মধ্যে সর্বোচ্চ কোম্পানীর প্রিমিয়াম অর্জনকারী জোনাল ইনচার্জ নির্বাচিতও হন তিনি। আব্দুস সবুর ২০১০ইং সনের ডিএইচএমএস ফাইনাল পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে বীমা পেশায় কাজ করে ২০০৬, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে এভিপি হিসাবে সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম অর্জন করেন। বিয়ানী বাজার উপজেলার দাসউরা গ্রামের হাজী আব্দুস সামাদ ও লুৎফা বেগমের প্রথম পুত্র তিনি। পারিবারিক জীবনে দুই পুত্র সন্তানের জনক। এদিকে ডাঃ মোঃ আব্দুস সবুর কোম্পানীর জানুয়ারী ২০১৫ইং থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে পদোন্নতি লাভ করায় কানাইঘাট জোনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Monday, January 26

তবুও আশা আছে ভারতের

তবুও আশা আছে ভারতের


ক্রীড়া ডেস্ক,কান্ইঘাট নিউজ: একেই বলে কপাল। ত্রিদেশীয় সিরিজে জিততে পারেনি একটি ম্যাচেও। তারপরও ফাইনালে খেলার আশা এখনও বেঁচে আছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতের। ভাবছেন কীভাবে? তাহলে খোলসা করেই বলি........ অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচে দুইবার করে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও ইংল্যান্ডের। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা জয় পেয়েছে চারটির তিনটিতেই। এর মধ্যে দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, অন্যটি ভারতের বিপক্ষে। ভারতের সাথের অন্য ম্যাচটি সোমবার বৃষ্টির কারণে পণ্ড হয়। তিন ম্যাচ থেকে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট। ভারত ও ইংল্যান্ড প্রত্যেকে খেলেছে তিনটি করে ম্যাচ। এর মধ্যে ইংল্যান্ড ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচে জয় পেলেও ভারত জেতেনি একটিতেও। তারপরও সুযোগ আছে ভারতের সামনে। কেননা, সোমবার অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পণ্ড হওয়ায় ২ পয়েন্ট অর্জন করেছে ভারত। ১৬ ওভারে ২ উইকেটে ৬৯ রান করায় এ পয়েন্ট অর্জন করে ভারত। অন্যদিকে এক ম্যাচে জয় পাওয়ায় ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৫। সুতরাং ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার পার্থে অনুষ্ঠিতব্য ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার শেষ ম্যাচটি আক্ষরিক অর্থে তাই সেমি-ফাইনালে রুপ নিয়েছে। শুক্রবারের এ ম্যাচটিতে যে দল জিতবে তারাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। শুক্রবারের ম্যাচের আগের ভারতের জন্য থাকছে একটা সুসংবাদ। এ ম্যাচে তারা পাচ্ছে সদ্য ইনজুরি থেকে ফেরা দুই বোলার ইশান্ত শর্মা ও অলরাউন্ডার রবিন্দ্র জাদেজাকে। কাঁধের ইনজুরির জন্য রোহিত শর্মা স্কোয়াডের বাইরে থাকলেও শেষ ম্যাচের আগে ফিরতে পারেন তিনিও। তাই “ডু অর ডাই” ম্যাচে ফাইনালের টিকিট কে বাগিয়ে নিতে পারে সেটা দেখার জন্য শুক্রবার পর্যন্ত তো অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। ক্রিকইনফো
প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে ভুয়া ফোন!

প্রধানমন্ত্রীর মোবাইলে ভুয়া ফোন!


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কাছে মোবাইল ফোনে ভুয়া কল যাওয়ার পর ডাউনিং স্ট্রিট কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান জিসিএইচকিউ-এর পরিচালক রবার্ট হ্যানিগান পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কল করেন। কথাবার্তার সময় যখন বোঝা যায় যে কলটি ভুয়া মি. ক্যামেরন তখন নিজেই কলটি কেটে দেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কলটি প্রথমে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আসে এবং সুইচবোর্ড ঘুরে সেটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মোবাইল ফোনে পাঠানো হয়। তারা বলছেন, এই ভুয়া কলের পরও কোন গোপণ তথ্য ফাঁস হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পাশাপাশি জিসিএইচকিউ কর্তৃপক্ষও ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।
যেসব খাবারে ভাল ঘুম হয়

যেসব খাবারে ভাল ঘুম হয়

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:
নিদ্রাহীনতা বা ঘুম না হওয়া আধুনিক নগর জীবনে থাকা মানুষের একটা সাধারণ সমস্যা। কর্মজীবীই হোক কিংবা কেবলই সংসারী; ঘুম না হওয়াটা নিয়মে পরিণত হয়ে গেলে এ সমস্যা মারাত্মক। আসলে আটপৌরে কাজকর্ম থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস—সবকিছুর সঙ্গেই সম্পর্কিত ঘুমের বিষয়টি। ফলে যেকোনো এক দিকে মনোযোগ দিলেই যে এই সমস্যা সমাধান করা যাবে বিষয়টি এমনও নয়। এ জন্য নিয়ম মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি যেসব খাবার নিয়মিত খেলে ঘুমে সহায়ক হতে পারে তেমন কিছু খাবারের গুণাগুণ তুলে ধরা হলো এখানে। দুধ ও দই দুধ ও দইয়ের মধ্যে ট্রাইপটোফান নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। এ উপাদানটি সেরাটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন তৈরি করে যেমন খাবারে রুচি বাড়ায়, তেমনি ঘুমে সহায়তা করে। দেহ-ঘড়িকে সচল রাখতে এটা খুবই জরুরি। তাই রাতে খাবারের সময় বা পরে দুধ ও দই বা এজাতীয় খাবার খেতে পারেন। কলা কলায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম আছে। এই খনিজ উপাদানগুলো সারা দিনের ক্লান্তির পর রাতে মাংসপেশির টান লাগা, ব্যথা হওয়া ইত্যাদি থেকে শরীরকে মুক্ত রাখতে সহায়ক। কলা খেলে শরীরের ক্লান্তি দূর হবে এবং বিশ্রাম ও ঘুমে কাজে লাগবে। তিসির বীজ এই শস্যদানাটি খুবই উপকারী। যেমন এর তেল, তেমনি সরাসরি তিসিবীজও আঁঁশযুক্ত খাদ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ এই খাবার উদ্বেগ ও হতাশা কমাতে সহায়ক। ইনসমনিয়া বা নিদ্রাহীনতা দূর করতে হলে উদ্বেগ ও হতাশা কমানো জরুরি। গম ও বার্লি গম ও বার্লিজাতীয় শস্যদানায় প্রচুর পরিমাণে সমৃদ্ধ ম্যাগনেশিয়াম আছে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে এই ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ করলে না ঘুমিয়ে থাকাটাই কঠিন। রাতে গমের আটার রুটি খাওয়া বা বার্লির সুপ খাওয়া দারুণ কাজে লাগতে পারে। ছোলা, বুট, মটর দানা ছোলা, বুট ও মটর দানা ভিটামিন বি-সিক্স সমৃদ্ধ। শরীরে ঘুমজাগানিয়া হরমোন মেলাটোনিন তৈরিতে খুবই কাজে আসে এই ভিটামিন বি-সিক্স। এসব শস্যদানার অন্য অনেক উপকারের কথা না ভাবলেও কেবল ভালো ঘুমের প্রয়োজনেই নিয়মিত অল্প পরিমাণে ছোলা, বুট বা মটর দানা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। যব ও জই দানা যব ও জই দানাও ট্রাইপটোফান নামের অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমৃদ্ধ উত্স। রাতের বেলায় যব বা জই দানার তৈরি কোনো হালকা খাবারে শরীরের অবসাদ দূর হতে পারে, ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।
সাজসজ্জায় ফুল

সাজসজ্জায় ফুল


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: নিজেকে সাজাতে অথবা ঘর রাঙিয়ে তুলতে ফুল ব্যবহারের কোনো তুলনাই হয় না। একটি ফুলের কাছে অনেক দামি উপহারও মূল্যহীন হয়ে যায়। প্রিয়জনের হাতে একটি ফুল তুলে দেয়ার পর যে হাসি তার মুখে ফুটে ওঠে, তা লাখ টাকার চেয়েও দামি। এখন ঘর সাজাতে ব্যবহার করা হয় অনেক ধরনের পণ্য। তার কোনোটা কাঠ দিয়ে তৈরি, কোনোটা মাটি আবার কোনোটা স্টিলের। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও ফুলের ব্যবহার একেবারেই অন্য রকম। পহেলা বৈশাখ অথবা ফাল্গুন কিংবা বাড়িতে যে কোনো অনুষ্ঠানে সবাই চেষ্টা করে ঘরের এক কোণে ফুলদানিতে ফুল রেখে শোভা বাড়ানোর। শুধু সামাজিক উত্সবেই নয়, বাঙালিরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও ঘর সাজায় ফুলের সৌরভে। ঈদ থেকে শুরু করে পূজা— কোনোটায় বাদ যায় না এর ব্যবহার। কেবল বাংলায় নয়, বিদেশেও ফুলের ব্যবহারে কমতি নেই। বাইরের অনেক দেশেই প্রচলন আছে কারো বাড়িতে বেড়াতে গেলে মিষ্টান্নের সঙ্গে ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানানো। শুধু ঘর নয়, নিজেকে সাজাতেও ফুলের জুড়ি নেই। আমাদের বিভিন্ন সামাজিক উত্সবে মেয়েরা শাড়ি পরে খোঁপায় ফুল দিয়ে নিজেকে সাজায়। এছাড়া বিয়েতে ফুলের ব্যবহার একটু বেশিই। শুধু বিয়ে নয়, কারো জন্মদিন হলেও সেখানে দেখা যায় ফুলের বাহার। তবে এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও ফুলের ব্যবহার চেখে পড়ার মতো। ফুল কিনতে কোথায় যাবেন? এখন ঢাকা শহরের প্রায় সব এলাকায় ছোটখাটো ফুলের দোকান আপনি পেয়ে যাবেন খুব সহজেই। অনেকে রাস্তার পাশে বসে ফুলের পসরা নিয়ে। আবার দেখা যায় ছোট ছোট ছেলেমেয়রা বিভিন্ন ধরনের রঙিন ফুল বিক্রি করছে। তবে একসঙ্গে অনেক ফুলের সমাহার পেতে চাইলে আপনাকে একটু কষ্ট করে চলে আসতে হবে শাহবাগে। শাহবাগের মোড়ে আপনি প্রায় ২৪ ঘণ্টাই পাবেন ফুল। মানে ২৪ ঘণ্টাই এখানকার বেশির ভাগ ফুলের দোকান খোলা থাকে। শাহবাগে কেবল দেশী নয়, পাবেন নানা ধরনের বিদেশী ফুলও। দেশী ফুলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— গোলাপ, বেলী, রজনীগন্ধা, লিলি, গাঁদা ইত্যাদি। বিদেশী ফুলের মধ্যে রয়েছে— ঝাড়বেলা, অর্কিড, মাম, বিদেশী লিলি ফুল।
রামপুরায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত একজনের পরিচয় মিলেছে

রামপুরায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত একজনের পরিচয় মিলেছে


ঢাকা: রাজধানীর রামপুরা থানার বনশ্রী এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় মিলেছে। তার নাম আবুল কালাম আজাদ (৪৫)। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের স্ত্রী শাহীনুর বেগম তার লাশ সনাক্ত করেন। নিহতের স্ত্রী শাহীনুর জানান, তাকে নিয়ে স্বামী আজাদ গাজীপুরে টঙ্গীর এরশাদ নগর সংলগ্ন টাংকির টেক এলাকায় থাকতেন। তার আগে থাকতেন রাজধানীর মিরপুরের ৭ নম্বর সেকশনের ঝিলপাড়ে। তিনি জানান, আজাদ পেশায় প্রাইভেটকার চালক। দুই মাস আগে তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। তার নামে চুরি-ডাকাতির অভিযোগে তিন/চারটি মামলা ছিল। গত ১৬ ডিসেম্বর ঘর থেকে বের হয় আজাদ। স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে শেষ কথা হয় গত ২১ ডিসেম্বর সকালে। এরপর থেকে তার পাওয়া যাচ্ছে না। গত শনিবার রাতে রাজধানীর রামপুরা থানার বনশ্রী এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ব্যক্তি নিহতের খবর প্রচার হয় গণমাধ্যমে। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রবিবার ভোর ৪টার দিকে রামপুরা থানা পুলিশ তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আবুল কালাম আজাদ ভোলা সদর থানার বাপ্তা ইউনিয়নের মো. খোরশেদ আলমের ছেলে।
জেনে নিন, মৃত্যুর কারণ হতে পারে কামরাঙ্গা!

জেনে নিন, মৃত্যুর কারণ হতে পারে কামরাঙ্গা!


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: আমাদের দেশে টক জাতীয় কিছু ফলের মধ্যে কামরাঙ্গা অন্যতম। এই ফলে আছে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, সুগার (কম পরিমাণে) সোডিয়াম, এসিড ইত্যাদি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Carambola, এবং এই ফলটি বিশেষ করে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা অঞ্চলের একধরণের স্থানীয় প্রজাতির উদ্ভিদের ফল ও এই ফল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-প্রশান্ত এবং পূর্ব-এশিয়া অংশে খুব জনপ্রিয়। কিন্তু কামরাঙ্গাতে আছে এমন একটি উপাদান যা মানবদেহের মস্তিষ্কের জন্য বিষ। সাধারণ মানুষেরা কামরাঙ্গা খেলে, কিডনি তা শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি রোগীর দুর্বল কিডনি শরীর থেকে এই বিষ বের করে দিতে সক্ষম নয়। এর ফলে তা রক্ত থেকে আস্তে আস্তে দেহের মস্তিষ্কে প্রবেশ করে এবং বিষক্রিয়াও ঘটাতে পারে। এই সমস্যার লক্ষণ গুলো হল- ১। ক্রমাগত হেঁচকি দেয়া ২। দেহ দুর্বল হয়ে যাওয়া ৩। মাথা ঘোরানো ৪। বমি বমি ভাব ৫। মাথা কাজ না করা ৬। দেহে মৃগী রোগীর মত কাঁপুনি উঠা ৭। কোমায় চলে যাওয়া ও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু কামরাঙ্গা খাওয়ার পর কিডনী রোগীর মধ্যে এই ধরণের লক্ষন গুলো দেখা দিলে দ্রুত তার hemodialysis এর ব্যবস্থা নিতে হবে। বহুবছর আগে থেকেই বিজ্ঞানীরা জানতেন যে, কামরাঙ্গাতে এমন একটি উপাদান আছে যা কিডনি রোগীর জন্য খুব ক্ষতিকর। কিন্তু কোন বিজ্ঞানীই এই ক্ষতিকর উপাদানটি বের করতে পারেননি। সম্প্রতি University of Sao Paulo (Brazil) এর একদল বিজ্ঞানী এই ক্ষতিকর উপাদানটি বের করতে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা কামরাঙ্গার এই ক্ষতিকর উপদানটির না দিয়েছেন caramboxin, ও কামরাঙ্গার বৈজ্ঞানিক নাম Carambola হতেই এই ক্ষতিকর উপাদানটির নামকরণ করা হয়েছে।
কানাইঘাটে  এক ব্যক্তির রহস্য জনক মৃত্যু

কানাইঘাটে এক ব্যক্তির রহস্য জনক মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আপন ভাই ও ভাতিজাদের হাতে মঈন উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে মঈন উদ্দিনের মৃত্যু নিয়ে পরস্পর বিরোধী খবর পাওয়া গেছে। জানা যায়, আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে উপজেলার ৭নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউপির দক্ষিণ খালপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের পুত্র মঈন উদ্দিন (৫০) এর সাথে তার আপন তিন সহোদর ভাই নুর উদ্দিন (৬০), জমির উদ্দিন (৫৫), ও আতাব উদ্দিন (৪৫)’র কথা কাটাকাটি ও মারপিঠের ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থল নিজ বসত বাড়ীতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মঈন উদ্দিন। হার্ট এটাকে মঈন উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে দাফন কাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে বেকে বসেন তার শ্বশুড় বাড়ী ও গ্রামের কিছু লোকজন। তারা লাশ দাফনে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিহতের কয়েকজন স্বজন বিষয়টি কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল চৌধুরীকে অবহিত করলে তিনি রাতেই ঘটনাস্থলে পৌছে মঈন উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে পোস্ট মেডামের জন্য সিলেট ওসমানী কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কানাইঘাট নিউজকে বলেন, মঈন উদ্দিনের গায়ে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সকালে তার ভাইদের সাথে ঝগড়া ঝাটি হয়েছিল। হার্ট এ্যাটাকে তার মৃত্যু হতে পারে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে কি কারনে তিনি মারা গেছেন তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।
মেট্রোরেল বিল পাস

মেট্রোরেল বিল পাস


ঢাকা: মেট্রোরেল বিল ২০১৫ পাস হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদে এ বিল পাস হয়। এরআগে আলোচিত মেট্রোরেল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের জন্য মেট্রোরেল বিল জাতীয় সংসদে তোলা হয়। গত বছরের ১০ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘মেট্রোরেল আইন, ২০১৪’এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আইনে বলা হয়েছে, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) একটি কমিটির মাধ্যমে মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণ করবে। রেলের পরিদর্শকও তারা নিয়োগ দেবে। বিলে মেট্রোরেল ও যাত্রীর বীমা বাধ্যতামূলক করে এই শর্ত লঙ্ঘনের শাস্তি হিসাবে সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল ও ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর করলে ১০ বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা, পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করলে দুই বছর জেল ও ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেল নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা, সংরক্ষিত স্থানে কেউ বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা, মেট্রোরেলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বিনা টিকেটে বা পাস ছাড়া কেউ ভ্রমণ করলে ভাড়ার ১০ গুণ জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাস জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলের টিকেট জাল করলে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।
কানাইঘাটে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন

কানাইঘাটে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট নন্দিরাই শান্তি সংঘ কর্তৃক আয়োজিত ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা সোমবার বিকেল ৩টায় নন্দিরাই পশ্চিম মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনাল খেলায় নন্দিরাই অগ্রযাত্রা ক্রিকেট কাব টসে জিতে নির্ধারিত ১২ ওভারে ১৬১ রানের বিশাল ইনিংস গড়ে তুলে প্রতিপ ডালাইচর এয়ারটেল কিক্রেট কাবকে ৫ ওভারে মাত্র ৬১ রানে অল আউট করে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে অগ্রযাত্রা কিক্রেট কাব বিজয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্তি সংঘের সভাপতি সাংবাদিক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আহমদের পরিচালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কানাইঘাট আবাহনী স্পোর্টিং কাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কানাইঘাট প্রেসকাবের দপ্তর সম্পাদক ও সোনারতরী ক্রিকেট কাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছাত্রনেতা আবুল বাশার আনন্দ স্কুলের উপজেলা সিএমএম শাহীন আহমদ ছাত্রনেতা জাকারিয়া আহমদ। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ টিমকে ট্রফি এবং টুর্নামেন্টের ম্যান অব দ্যা সিরিজ, ম্যান অব দ্যা ম্যাচ এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
কোকোর লাশ নিয়ে ষড়যন্ত্র!

কোকোর লাশ নিয়ে ষড়যন্ত্র!


ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, শুনতেছি কোকোর লাশ নিয়ে না কী আরও ষড়যন্ত্র-নাটক হবে। লাশ নিয়ে যদি কোন ষড়যন্ত্র হয় এর দায়-দায়িত্ব আপনাকে (খালেদা) নিতে হবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে সোমবার বিকেলে তিনি এ সব কথা বলেন। মায়া বলেন, সব নাটক ভালো হয় না। নাটকের স্ক্রিপ্ট, নায়ক-নায়িকা ভালো না হলে মানুষ নাটক পছন্দ করে না। এ সময় তিনি বলেন, কোকোর জানাজায় আমরা অংশগ্রহণ করবো। ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করবো। প্রধানমন্ত্রীকে কার্যালয়ে ঢুকতে না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আপনাকে যারা উপদেশ দিচ্ছেন তারা আপনাকে ডুবাতে চায়। শুধু ডুবাতে নয়, রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় করতে চায়। খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ২০১৯ সালের আগে নির্বাচন নিয়ে ভাববেন না। যতই ইনজেকশন দেন, যতই বোমা মারেন, মানুষ হত্যা করেন তাতে কাজ হবে না। ২০১৯ সালের আগে মানুষ নির্বাচন চায় না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, খালেদা জিয়া ২১ দিন যাবৎ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে গুপ্ত ঘাতকদের নামিয়ে দিয়ে গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে। নির্দেশ দিয়ে যাত্রাবাড়ি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। সেখানের দগ্ধ মানুষ আজ মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। রক্তগঙ্গা বহিয়ে দিতে চান। নাশকতা-তা-বের অর্জন কী মানুষ জানতে চায়। তিনি বলেন, আপনার পুত্রকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিলো। কিন্তু মৃত্যুর পর সামাজিক-ধর্মীয়ভাবে কোন প্রশ্ন থাকে না। শেখ হাসিনা মায়ের মমতা নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন সমবেদনা জানাতে। কিন্তু দরজা বন্ধ রেখে তাকে যে অপমান করা হয়েছে। সেটা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে অপমান। এই অপমানের জবাব দেওয়া হবেই। জাসদের মহানগরের সমন্বয়ক মীর হোসেন আকতারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহদাত হোসেন প্রমুখ।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অলস সময় নষ্ট নয়

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অলস সময় নষ্ট নয়


যুবায়ের আহমাদ: মানুষের জীবনধারণ এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যবসার গুরুত্ব আদিকাল থেকেই স্বীকৃত। অর্থনীতির বলয়ে আবর্তিত মানবজীবনে ব্যবসাকে ইসলাম ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। একদিকে যেমন ওজনে কম দেয়া, মুনাফাখোরীর পথ বন্ধ করে সততা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে, অন্যদিকে হারাম কোনো জিনিসকে ব্যবসার উপকরণ বানানোর সুযোগও রাখেনি। মোমিনদের আল্লাহর ইবাদত থেকে বিরত রাখে, এমন ব্যবসা নিষিদ্ধ। ঈমানদার ব্যবসায়ীদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, 'সেসব লোক, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ, সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না।' (সূরা নূর : ৩৭)। গ্রামগঞ্জে প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়, দোকানে চলছে টেলিভিশন। মসজিদে চলছে একামত। সিনেমা কিংবা নাটক দেখতে দেখতেই ছুটে যাচ্ছে জামাত। কখনও নামাজ কাজা হয়ে যাচ্ছে। টেলিভিশনের গুরুত্বের কাছে উপেক্ষিত হচ্ছে নামাজ। কোথাও কোথাও দেখা যায়, চায়ের দোকানে দিন-রাত চলছে টিভি, চলছে ভারতীয় ছায়াছবি, অসামাজিক কিংবা নির্লজ্জপনার অনুষ্ঠান। অনেক প্রয়োজনীয় কাজও যেন হার মানে টিভির কাছে। টিভি দেখতে গিয়ে ইবাদত বিঘ্নিত হওয়া অথবা ইসলাম অনুমোদিত নয় এমন কোনো অনুষ্ঠান দেখা এবং দেখানো উভয়টিই অন্যায়। দর্শক এবং যে দোকানদার তা দেখার সুযোগ করে দেবেন উভয়ই ইসলামের দৃষ্টিতে গোনাগার। হাশরের ময়দানে দোকানদারকেও দাঁড়াতে হবে আসামির কাঠগড়ায়। কেননা, গোনাহের কাজে কাউকে সহযোগিতা করাও ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, 'সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সাহায্য করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।' (সূরা মায়েদা : ২)। একটু অবসর পেলেই চায়ের দোকানে আড্ডায় কিংবা টিভির সামনে ব্যয় করা হয় সময়। অথচ অবসর সময় মানুষের জন্য একটি নেয়ামত। অবসরে শয়তান আমাদের অনর্থক আড্ডায় কিংবা অনর্থক কথাবার্তায় প্ররোচিত করে। আড্ডায় বসে হয়তো কখনও মনের অজান্তেই বলে ফেলছি মিথ্যা কথা। হয়ে যাচ্ছে কারও দোষচর্চা, গিবতের মতো কবিরা গোনাহ। কোরআনুল কারিমে অনর্থক আড্ডা ও কথাবার্তায় নিরুৎসাহিত করে সূরা মোমিনুনের ৩নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'মোমিন তো তারাই, যারা অনর্থক কথাবার্তায় নির্লিপ্ত।' অবসর সময় যেন অবহেলায় নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে নবীজি সতর্ক করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, 'দুইটি মহামূল্যবান নেয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ উদাসীন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা হচ্ছে_ সুস্থতা ও অবসর সময়।' (বোখারি)। শয়তানের প্ররোচনায় না পড়ে নিজেদের দৈনন্দিন কাজগুলো করেছি কিনা সেদিকে নজর দেয়া উচিত। দোকানে বসে টেলিভিশন দেখা কিংবা আড্ডা না দিয়ে সন্তানকে একটু সময় দেয়া, সন্তানের নীতি-নৈতিকতার দিকে খেয়াল রাখার মাধ্যমেও আমরা জীবনের মহামূল্যবান সময়টুকু কাজে লাগাতে পারি পরকালের পাথেয় সংগ্রহে। দুনিয়ার জীবনটি মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের সমষ্টি বৈ কিছুই নয়। দিন-রাতের অবিরাম পালাবদলে জীবন ফুরিয়ে যায়। মৃত্যু এসে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় জীবনের সব রঙিন স্বপ্ন। নির্ধারিত সময় শেষে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় অনিবার্য। পরকালের শস্যক্ষেত দুনিয়ার জীবনের সামান্য সময়েই একজন মানুষের চিরন্তন সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করে। পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করতে হয় এই সামান্য জীবনেই। আমার জীবন থেকে হেলায় দিনগুলো কেটে গেল, কিন্তু আমল কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে? পাথেয় সংগ্রহ করেছি কতটুকু তা সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই ভাবতে হবে। সূরা হাশরের ১৮নং আয়াতে এরশাদ হয়েছে, 'হে মোমিনরা, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্য সে কী প্রেরণ করে তা ভেবে দেখা।' রাসূলুল্লাহ (সা.) অলস সময় কাটানো মোটেও পছন্দ করতেন না। ব্যবসা, শ্রম বিক্রি কিংবা দাওয়াতি কাজ যাই হোক; হোক ঘরে কী বাইরে, সারা জীবনই তিনি থাকতেন কর্মব্যস্ত। অলস সময় না কাটিয়ে পরকালের পুঁজি সংগ্রহে সতর্ক করেছেন সবাইকে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি যে নিজের হিসাব গ্রহণ করে এবং মৃত্যুর পরের প্রস্তুতি নেয়।' (তিরমিজি)। অনেকেই এমন আছেন, যারা নামাজের নিত্যপ্রয়োজনীয় মাসয়ালা জানেন না। পড়তে পারেন না শুদ্ধ করে কোরআন শরিফ। একটু চেষ্টা করলেই হয়তো আপনি এ অবসরেই শিখে ফেলতে পারেন কোরআন তেলাওয়াত। অন্তত নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় নূ্যনতম সূরাগুলো। অধ্যয়ন করা যায় হাদিস ও ফিকহে একান্ত প্রয়োজনীয় অধ্যায়গুলো। প্রতিদিন পাঁচটি আয়াতের অনুবাদ, তাফসির পড়ে কোরআনের অমীয় বাণী অনুধাবনে, আল্লাহ তায়ালার জিকিরেও সময়টুকু কাজে লাগানো যায়। লেখক : খতিব, বায়তুল ফালাহ মসজিদ বাবর আলী গেট, কুষ্টিয়া।
কাশিমপুর থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে ফখরুল

কাশিমপুর থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে ফখরুল


ঢাকা: গাড়ি পোড়ানো ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় হাজিরা দিতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। সোমবার বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে কাশিমপুর থেকে তাকে নিয়ে পুলিশের একটি ভ্যান ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। সন্ধ্যার পর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার হাজিরার জন্য তাকে আদালতে তোলা হবে। গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পর মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে তিনি ২৫ ঘণ্টা প্রেসক্লাবের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার অভিযোগে গত ৪ জানুয়ারি পল্টন থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফখরুলকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি কাশিমপুর কারাগারের পার্ট-২ তে বন্দি ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে এখনও ৫০ রোগী

ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে এখনও ৫০ রোগী


ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এখনও ৫০ রোগী চিকিসাৎধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার আটজন রোগী ছাড়া পাবেন। সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খোন্দকার। দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় আগুনে পোড়া রোগীদের সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য দেন তিনি। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ছয়জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা উন্নত হয়েছে। তাদের শিগগিরই আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে নেওয়া হবে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা রোগীরা হলেন- জয়নাল, টিটেন, শহিদুল, মোশাররফ, সালাউদ্দিন, রতœা ও তানভীর। এদের মধ্যে তানভীর যাত্রাবাড়িতে চলন্ত গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলার শিকার হওয়া ২৯ জনের মধ্যে একজন। অধ্যাপক সাজ্জাদ খোন্দকার জানান, নূরে আলম ও নিরঞ্জন নামে দুইজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের আইসিইউতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বার্ন ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম, সমন্বয়কারী সামন্তলাল সেন ও আবাসিক সার্জন পার্থ শঙ্কর পাল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-১ এর সরকার দলীয় সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি বলেন, পেট্রল বোমায় যাত্রবাড়ীতে চলন্ত বাসে সহিংসতায় আগুনে পোড়া রোগীরা অধিকাংশ খেটে খাওয়া মানুষ। এই ধরনের নাশকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগুনে পোড়ানো রাজনীতি থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।
কোকোর স্মরণে হাজারো বাণী

কোকোর স্মরণে হাজারো বাণী


ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে শোক বই প্রকাশ করেছে দলটি। সোমবার সকাল থেকে বিএনপির ব্যানারে চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ের মূল গেটে শোক বইটি রাখা হয়েছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শোক প্রকাশ করতে আসা দলীয় নেতা-কর্মীরা ছাড়াও সাধারণ জনগণ শোক বইয়ে স্বাক্ষর করছেন। একই সাথে প্রিয় মানুষটির জন্য মনের হাজারও কথা লিপিবদ্ধ করেছে শোক বইটিতে। আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে শোক বইটিতে হাজারও কথা লিপিবদ্ধ করেছে তার প্রিয় মানুষগুলো। তার মধ্যে কিছু কথা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল: ‘বাংলার চোখের মনি তুমি, তোমার অকাল মৃত্যুতে বাংলার ১৬ কোটি মানুষ শোকাহত, কোকো তুমি চলে গেলেও তোমার স্মৃতি চলে যায়নি, আল্লাহ তুমি আরাফাত রহমান কোকোকে বেহেস্ত নছিব করো, তোমার মৃত্যুতে আমি শোকাহত-তুমি চলে যাওয়াতে জাতিও আজ শোকাহত, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে আমি শোকাহত, বাংলার ক্রিকেটে রেখেছো বিশাল অবদান- যার জন্য জাতি তোমাকে করবে অনেক সম্মান।’ এরকম হাজারো কথা লিপিবদ্ধ হয়েছে শোক বইটিতে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত কোকোর স্মরণে শোক বই দুটিতে ২ হাজারেরও বেশি বাণী লিপিবদ্ধ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে !

প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে !


ঢাকা: পুত্রশোকে কাতর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে সাক্ষাৎ করতে না দেয়ার জন্য দায়ীদের চিহিৃত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এ ঘটনাকে ইতোমধ্যেই অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসাবে অভিহিতও করেছেন। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের গেট থেকে ফিরিয়ে দেয়া বিএনপির জন্য ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিস্থিতি একটু শান্ত হলেই দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ইস্যুতে বিএনপির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোরের এই প্রতিবেদকের আলাপ হয়েছে।এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, চলমান সঙ্কটময় পরিস্থিতির অবসান হলে বিষয়টি আলোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসনের পুত্রবিয়োগের ঘটনায় সান্ত্বনা দিতে তার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কার্যালয়ের গেট তালাবদ্ধ থাকায় তিনি ফিরে যান। বিএনপির কোনো নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনাও জানাননি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপির বেশ কয়েকজন জেষ্ঠ্য বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা না জানানো ঠিক হয়নি। এটা রীতিমতো অন্যায় হয়েছে। গতকাল রবিবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবর পেয়েও গেটের তালা বন্ধ করার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকার্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সান্ত্বনা দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানানো উচিত ছিল। তাকে স্বাগত না জানানো অন্যায় হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনা যাদের জন্য ঘটেছে তারা অপরাধ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’ এ ঘটনায় কারা জড়িত বলে আপনি মনে করেন-এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই সেনাপ্রধান বলেন, ‘কার্যালয়ের গেটের বিষয়টি কর্মকর্তারা দেখাশোনা করেন।’ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কি আপনারা ব্যবস্থা নেবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ঐ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তবে সেটা এখনই নয়। কারণ দেশ এখন একটি সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
খালেদার মতো আমিও শোকাহত

খালেদার মতো আমিও শোকাহত


ঢাকা: জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে আমিও শোকাহত। সোমবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে কোকোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন কাজী জাফর। তবে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তিনি স্বাক্ষাৎ করতে পারেননি। কাজী জাফর বলেন, বিএনপির সাথে জাতীয় পার্টি আগেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে কখনো দূরত্ব সৃষ্টি হবে না।
বন্যপ্রাণীর সঙ্গে খেলতে চায় আমিরাতের শিশুরা!

বন্যপ্রাণীর সঙ্গে খেলতে চায় আমিরাতের শিশুরা!


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিশুদের কাপড়-তুলায় তৈরি খেলনার বাঘ সিংহে আর মন ভরছে না। তারা সত্যিকারের জীব-জন্তু নিয়ে খেলতে চায়।আরব-আমিরাতের অনেক বাড়িতে পোষা প্রাণী হিসাবে ছোট গিরগিটি, সাপ থেকে শুরু করে কুমির, অজগর এমনকি সিংহ পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। বন্য পশু সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িতরা এই প্রবণতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন বিশেষজ্ঞ জানায়, মূলত বাচ্চাদের জেদের কারণে অনেক পরিবার এই কাজে বাধ্য হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পশু কল্যাণ তহবিল আইএফডব্লিউ-এর কর্মকর্তা ড. এল সায়েদ মোহামেদ বলেন, প্রধান সমস্যা হচ্ছে বহু শিশু দোকানের খেলনার বদলে রক্তমাংসের জীবজন্তুর সঙ্গে খেলতে চাইছে। প্রধানত শিশুরাই এই চাহিদা তৈরি করছে। তিনি আরও বলেন, ‘ইউএইতে কাজ করার সময় তিনি যত শিশু কিশোরের সঙ্গে কথা বলেছেন, তদের প্রত্যেকের বাড়িতেই কোনো না কোনো বন্য জন্তু রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অজগর, এমনকি সিংহও রয়েছে।’ তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরব আমিরাতের সরকার এই প্রবণতা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। নজরদারির ফলে সেদেশে ২০১০ সালে যেখানে সিংহ আমদানির সংখ্যা ছিল ১১৪টি, ২০১২ সালে তা নেমে দাঁড়ায় পাঁচটিতে। শারজার সরকার নভেম্বর মাসে এ ধরণের বন্য প্রাণী ঘরে রাখা নিষিদ্ধ করে, একমাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যেসব প্রাণী জমা পড়েছে, তার মধ্যে অনেক বাঘ, লেপার্ড, কুমিরও ছিল।
নৈশভোজে হালকা মেজাজে ওবামা, মোদি, সোনিয়ারা

নৈশভোজে হালকা মেজাজে ওবামা, মোদি, সোনিয়ারা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কান্ইঘাট নিউজ: দিনভর কূটনীতি অনেক হল, সন্ধেটা হোক আলাদা। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের রাইসিনা হিলসে ওবামার সম্মানে আয়োজিত ভোজসভায় এই কথাই যেন বারবার বোঝাতে চাইছিলেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। আপাত গুরুগম্ভীর জমায়েতে হাসির প্রথম গুঞ্জন উঠালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজেই। অকপটে বলে ফেললেন, আজ ভেবেছিলাম মোদি-কুর্তা পরব। ওবামা জানালেন, তাঁর দেশের কোনও এক পত্রিকায় এক বার হেডলাইন বেরিয়েছিল, ‘মিশেল ওবামাকে বাদ দিয়ে এই মুহূর্তে নতুন ফ্যাশন আইকন কে?’ আর সে কথা বলতে গিয়েই মোদি-কুর্তার অবতারণা। শুনে স্বয়ং মোদির মুখেও দেখা দিল লাজুক হাসি। টেবিলের উল্টোদিকে তখন মুচকি হাসছেন সোনিয়া গান্ধী। কাজপাগল মোদির কথা বলতে গিয়ে ওবামা বলেন, ‘উনি কী ভাবে দিনরাত কাজ করেন, সেটা শুনেছিলাম। কিন্তু আজ শুনলাম, গত রাতে মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একটু খারাপ লাগল। আমি যে ঘণ্টাপাঁচেক দিব্যি ঘুমিয়েছি!’ নৈশভোজে হালকা মেজাজে ওবামা, মোদি, সোনিয়ারা (ছবিতে দেখুন) পানপাত্র তুলে ধরে নৈশভোজের ‘টোস্ট’করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন, ভারত ও আমেরিকার বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক। অতিথি-তালিকায় চোখ বোলালে ‘চাঁদের হাট’ কথাটাও ফিকে শোনাবে। এক দিকে সস্ত্রীক উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, সোনিয়া গান্ধী, লালকৃষ্ণ আডবাণী। অন্য দিকে রাজনাথ সিংহ, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি, স্মৃতি ইরানিসহ একঝাঁক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ছিলেন মুকেশ আম্বানী, অনিল আম্বানী, রতন টাটা, সাইরাস মিস্ত্রি, গৌতম আদানির মতো প্রথম সারির শিল্পপতিরা। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াইশো জন বাছাই করা অতিথি। নৈশভোজে হালকা মেজাজে ওবামা, মোদি, সোনিয়ারা (ছবিতে দেখুন) সাউথ হলে রাষ্ট্রপতি প্রণবের সঙ্গে বৈঠকের পর একে একে অতিথিদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন ওবামা দম্পতি। সেই সময়েই আর এক গভীর মুহূর্ত তৈরি হল, যখন ওবামার সামনে এলেন মনমোহন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দূর থেকে দেখে হাতটা বাড়িয়েই রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মনমোহন সামনে আসতেই উচ্ছ্বসিত করমর্দন। দীর্ঘক্ষণ তাঁর হাত ধরে কথা বললেন ওবামা। মনমোহনের স্ত্রী গুরশরণ কৌরকে জড়িয়ে চুমু খেলেন মিশেল। নৈশভোজে হালকা মেজাজে ওবামা, মোদি, সোনিয়ারা (ছবিতে দেখুন) অতীতের আর এক স্মৃতিও তুলে আনলেন ওবামা। নভেম্বর, ২০১০ সে বার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’নেমেছিল মুম্বাইয়ে। ওবামার কথায়, ভারতের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। তবে এ জন্যও ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে, এবার আর আমাকে নাচতে হল না। আগের বার যখন এসেছিলেন, তখন ছিল দীপাবলী। মুম্বাইয়ের শিশুদের এক অনুষ্ঠানে নাচতে হয়েছিল ওবামা দম্পতিকে। সহাস্য প্রেসিডেন্ট যোগ করলেন, পরের দিন একটা ভারতীয় পত্রিকা লিখল, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামা এলেন’। আর একটা কাগজ লিখল, ‘মিশেল রকস ইন্ডিয়া!’ ওবামার সম্মানে গতকাল ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে ছোট্ট একটি অনুষ্ঠানও হয়েছে। সেনাবাহিনীর ব্যান্ডে বেজেছে বাংলা ও হিন্দি গানের সুর, ওবামার প্রচারে বহু ব্যবহৃত গান ‘ইয়েস উই ক্যান’। নৈশভোজে হালকা মেজাজে ওবামা, মোদি, সোনিয়ারা (ছবিতে দেখুন) তবে নৈশভোজের শেষে মুখে মুখে ফিরল একটাই কথা। সত্যি, মোদি কুর্তা পরলে কেমন দেখাত ওবামাকে! রবিবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌছে ভারতীয় ভঙ্গিতে ‘নমস্তে’ জানান ওবামা। মোদি-ওবামার সাক্ষাতের পরে রবিবার তেমনটাই জানা গেছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট টুইটারের সৌজন্যে। রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রেসিডেন্ট ওবামা পৌঁছনোর আগেই মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল টুইটারে জানায়: ‘প্রেসিডেন্ট প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করতে আবার ভারতে এসে খুশি। ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। জয় হিন্দ!’ সেই টুইটটি ফের হোয়াইট হাউস থেকেও রিটুইট করা হয়।
ভরসা করি চেষ্টাও করি

ভরসা করি চেষ্টাও করি


রোমানা আক্তার: একজন মুসলিমের অন্যতম সেরা বৈশিষ্ট্য আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুল। এর গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। আল্লাহর প্রতি ভরসা ছাড়া কোনো বান্দাই এক মুহূর্তও অতিবাহিত করতে পারে না। কেননা এর মাধ্যমে আল্লাহর তাওহিদের সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় ও গভীর হয়। আল্লাহ বলেন, 'আর ভরসা করো সেই জীবিত সত্তার (আল্লাহর) ওপর, যিনি কখনও মৃত্যুবরণ করবেন না।' (সূরা ফোরকান : ৫৮)। এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নবী (সা.) কে তাঁর ওপর ভরসা করার আদেশ করেছেন। তিনি ছাড়া অন্য কারও কাছে নিজেকে পেশ করবেন না। কেননা তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই। তিনি পরাক্রমশালী, কোনো কিছুই তাঁকে পরাজিত করতে পারে না। যে ব্যক্তিই তাঁর ওপর নির্ভর করবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট- তাকে সাহায্য ও সমর্থন করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ওপর ভরসা করবে, সে তো এমন কিছুর ওপর ভরসা করল, যে মৃত্যুবরণ করবে, বিলীন ও ক্ষয় হয়ে যাবে। দুর্বলতা ও অপারগতা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে রয়েছে। এ কারণে তার প্রতি ভরসাকারীর আবেদন বিনষ্ট হয়ে যায়, সে হয়ে যায় দিশেহারা। এ থেকেই বোঝা যায়, আল্লাহর ওপর ভরসা করার মর্যাদা কী? তাঁর সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক গভীর করার গুরুত্ব কতটুকু? তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর ওপর ভরসা করার অর্থ- দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় বিষয়ের কল্যাণ লাভ ও ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য সঠিকভাবে অন্তর থেকে আল্লাহর ওপর নির্ভর করা। বান্দা তার প্রতিটি বিষয় আল্লাহর ওপর সোপর্দ করবে। ঈমানে এ দৃঢ়তা আনবে, কোনো কিছু দান করা না করা, উপকার-অপকার একমাত্র তিনি ছাড়া আর কারও অধিকারে নেই। আল্লাহ তায়ালা মোমিন বান্দাদের তাওয়াক্কুলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে পবিত্র কোরআনে অনেক আয়াত উল্লেখ করেছেন। এর মর্যাদা ও ফলাফল তুলে ধরেছেন। 'তোমরা যদি মোমিন হয়ে থাক তবে আল্লাহর উপরেই ভরসা করো।' (সূরা মায়েদা : ২৩)। তিনি আরও এরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করবে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হবেন।' (সূরা তালাক : ৩)। হাদিস গ্রন্থগুলোতেও তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব ও এতে উদ্বুদ্ধ করে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ওমর বিন খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'তোমরা যদি সঠিকভাবে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে তবে তিনি তোমাদের রিজিক দান করতেন, যেমন- পাখিকে রিজিক দান করে থাকেন, তারা খালি পেটে সকালে বের হয় এবং পেটভর্তি করে সন্ধায় ফিরে আসে।' (তিরমিজি)। হাফেজ ইবনে রজব (রহ.) বলেন, তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে এ হাদিসটিই অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। এ থেকে জানা গেল, তাওয়াক্কুলই জীবিকা পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।' (সূরা তালাক : ২-৩)। জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) এরশাদ করেন, 'কোনো প্রাণী তার নির্দিষ্ট রিজিক পরিপূর্ণরূপে না পাওয়া পর্যন্ত সে মৃত্যুবরণ করবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং রিজিক অনুসন্ধানের জন্য সুন্দর (বৈধ) পন্থা অবলম্বন করো, যা তোমাদের জন্য হালাল করেছেন তা গ্রহণ করো, আর যা হারাম করেছেন তা পরিত্যাগ করো।' (সহিহ ইবনে হিব্বান)। ওমর (রা.) বলেন, 'বান্দা এবং তার রিজিকের মধ্যে একটি পর্দা রয়েছে। সে যদি অল্পে তুষ্ট হয় এবং তার আত্মা সন্তুষ্ট হয় তবে তার রিজিক তার কাছে সহজে আগমন করবে। আর যদি সীমালঙ্ঘন করে এবং ওই পর্দাকে ফেড়ে ফেলে, তবে তার নির্দিষ্ট রিজিকের অতিরিক্ত কোনো কিছু তার কাছে পৌঁছবে না।' এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা স্মরণ রাখতে হবে, বিশুদ্ধভাবে আল্লাহর ওপর ভরসার সঙ্গে আবশ্যক হলো, জীবিকার উপায়-উপকরণ অনুসন্ধান করা ও কাজ করা- ভরসা করে বসে না থাকা। এখানে ভরসা করার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে ভয় করার কথা বলা হয়েছে। আর তা নির্দেশিত যাবতীয় বিষয়ের উপকরণকে শামিল করেছে। সুতরাং নির্দেশিত উপকরণ অবলম্বন না করে বা কাজ না করে শুধু ভরসা করে বসে থাকা বিরাট ধরনের অপারগতা- যদিও এতে তাওয়াক্কুল পাওয়া যায়। সুতরাং ভরসাকে অপারগতায় কিংবা অপারগতাকে ভরসায় রূপান্তরিত করা উচিত নয়। বরং যেসব উপকরণ সে অবলম্বন করবে তার মধ্যে ভরসাও শামিল থাকবে। এ অর্থে একটি হাদিসও বর্ণিত হয়েছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! উটটিকে বাঁধার পর আল্লাহর ওপর ভরসা করব? নাকি আল্লাহর ওপর ভরসা করে (না বেঁধেই) ছেড়ে দেব? তিনি (সা.) বললেন, 'আগে তা বেঁধে দাও, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।' (তিরমিজি)। পরিতাপের বিষয় হলো, আল্লাহর নির্দেশ পালন যেখানে পৃথিবীতে আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকা লাভের মাধ্যম, সেখানে আমরা জীবিকার সন্ধানে গিয়ে আল্লাহকে সম্পূর্ণ ভুলে যাই। নামাজের সময় বের করতে পারি না।
নোটিশ :   কানাইঘাট নিউজ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক