আজ থেকে কানাইঘাট দারুল উলুম মাদ্রাসার দু’দিন ব্যাপী ৬০ সালা ইসলামী সম্মেলন শুরু

Kanaighat News on Thursday, February 27, 2014 | 2:59 AM

নিজস্ব প্রতিবেদক:
 উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা মুশাহিদ (রহঃ)’র স্মৃতি বিজড়িত প্রাচীনতম ইসলামী বিদ্যাপীঠ জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দারুল হাদীস কানাইঘাট মাদ্রাসার আজ থেকে ২দিন ব্যাপী ৬০ সালা দস্তারবন্দী ইসলামী মহাসম্মেলনকে ঘিরে গোটা সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলতি হচ্ছে। সম্মেলনকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬০ সালা দস্তারবন্দী সম্মেলনকে সফল করার জন্য কানাইঘাটসহ সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ২শতাধিক তোরণ নির্মাণ, ব্যাপক প্রচার প্রচারণা, শত শত ডিজিটাল ব্যানার টানানো, বুকলেট সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও দেশের সকল কৌমি মাদ্রাসা বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ইসলামী ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে প্রচার-প্রচারণাও চলছে। সম্মেলনে ভারত, আরব-আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদগণ এবং দেশ সেরা আলেম-উলামা উপস্থিত থেকে বিশ্ব মুসলিম মিল্লাতের কল্যাণ কামনা করে হেদায়াতপূর্ণ বয়ান পেশ করবেন। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষ মাদ্রাসায় আসতে শুরু করেছেন। দেশী-বিদেশী মেহমানদের থাকা-খাওয়ার জন্য মাদ্রাসার পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সবধরণের ব্যবস্থা। সম্মেলনে আগত ধর্মপ্রাণ মানুষের যাতায়াতের জন্য পৌরশহর এলাকায়        রাস্তাঘাটের সংস্কার করা হয়েছে। ফুটপাতমুক্ত করা হয়েছে পৌরশহরকে। সম্মেলনস্থল ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গনকে সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ভাবে। মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা মোহাম্মদ বিন ইদ্রিস শায়খে লক্ষ্মীপুরী হুজুর জানান, মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনের  অশেষ মেহেরবাণীতে আজ থেকে দুই দিন ব্যাপী ৬০ সালা দস্তারবন্দী ইসলামী সম্মেলন শুরু হবে। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে যাবতীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে তিনি সম্মেলনের তাৎপর্য দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় মিডিয়াকর্মীদের প্রশংসা করেন। এ ইসলামী সম্মেলনে মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান ও সনদ তুলে দেওয়া হবে। প্রখ্যাত আলেম-উলামাগণকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য যে, বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে কানাইঘাট দারুল উলুম মাদ্রাসার বার্ষিক জলসায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে থাকে। এ বছর দু’দিন ব্যাপী সম্মেলন হওয়ায় লাখ লাখ মানুষের মিলনমেলা ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কানাইঘাটে ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী আশিক চৌধুরী

Kanaighat News on Wednesday, February 26, 2014 | 2:56 AM

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কানাইঘাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও বি.এন.পি নেতা আশিক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে ১৯ দলীয় জোট। সিলেট জেলা বি.এন.পির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল গাফফার গত রাতে সিলেটের ডাককে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত রাতে বি.এন.পির প্রার্থী নির্বাচক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বি.এন.পির কেন্দ্রীয় নেতা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, ডাঃ শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, মহানগর বি.এন.পির সিনিয়র সহ সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ূম জালালী পংকি ও জেলা বি.এন.পির সহ সভাপতি এডভোকেট নূরুল হক উপস্থিত ছিলেন। সভায় কানাইঘাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আশিক চৌধুরীকে ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয় বলে জানান এডভোকেট আব্দুল গাফফার।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তান

ঢাকা:অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। প্রথম সেমি-ফাইনালে তারা তিন উইকেটে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৪২ রানে সাত উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। তবে অষ্টম উইকেটে জাফর গোহার (৩৭*) ও আমাদ বাটের (২৬*) ৬৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি পাঁচ বল হাতে রেখে জয় এনে দেয় প্রতিযোগিতার দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের।

বিজয়ী দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন সাউদ শাকিল। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সাত উইকেটে ২০৪ রান করে ইংল্যান্ড। অধিনায়ক উইল রোডসের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ৭৬ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫২ রান রায়ান হিগিন্সের। বুধবার দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বিজিতের সাথে ফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।

ডিনিউজবিডি/সোহেল

ঢাকার সঙ্গে ময়মনসিংহ-রাজশাহীর ট্রেন বন্ধ

গাজীপুর: জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জিয়াউদ্দিনকে সন্ত্রাসীরা লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-রাজশাহী রেলরুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, রাতে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী স্টেশনে প্রবেশ করে মাস্টার জিয়াউদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এসময় স্টেশন এলাকায় রেলওয়ের জমিজমা অবৈধভাবে ব্যবহার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়।

এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা স্টেশন মাস্টারকে কিলঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করে। এছাড়া স্টেশনে কর্মরতদের অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে চলে যায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে জয়দেবপুর স্টেশনের কর্মকর্তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-রাজশাহী রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন। এর ফলে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন ওই স্টেশনে আটকা পড়েছে।

বাংলামেইল২৪ডটকম/

বুধবার শপথ নিচ্ছেন ‘দুই’ মন্ত্রী

ঢাকা: আগামীকাল বুধবার কমপক্ষে দুইজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং দুএকজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। দিনের প্রথম ভাগেই বঙ্গভবনে এ শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। তবে কারা শপথ নিতে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন, সে বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা আগামীকাল শপথের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তিনি আর কিছু বলতে চাননি।

সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি এর আগে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তখনও তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নির্বাচনী এলাকায় কয়েকটি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এমপি হিসেবেও পরে শপথ নেন। আর এ কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন শাহরিয়ার আলম।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী থাকলেও কোনো পূর্ণ মন্ত্রী নেই। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। তবে কাকে এ দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তা এখনো নিশ্চিত না হলেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি এর আগেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। পরে অবশ্য তিনি পদত্যাগ করেন।

সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির তিন সদস্যকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ পুরো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কাজেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণমন্ত্রী আসছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। যদিও প্রধানমন্ত্রী নিজেই এখন এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খণিজ সম্পদ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা নামফলক বসানো হয়েছে। সম্প্রতি তিনি এ দু’টি মন্ত্রণালয়ে অফিসও করেছেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্যও রেখেছেন তিনি।

এছাড়াও নরসিংদীর সদর আসনের সংসদ সদস্য লে. কর্নেল (অব.) নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতীক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন তা জানা যায়নি।

তবে গত ১২ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করার পর মন্ত্রিত্ব নিয়ে জাতীয় পার্টিতে অসন্তোষ বিরাজ করছে। দলের নেতারা প্রকাশ্যেই বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, জাতীয় পার্টিকে আরো মন্ত্রিত্ব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদেরও আরো দুইএকজন মন্ত্রী দিতে পারেন বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে আগামীকালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সংখ্যা আরো বাড়তেও পারে বলে একটি সূত্র জানায়। অবশ্য এসব বিষয়ে কেউ মুখ খুলেছেন না।  

উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীর সংখ্যা ৩০, প্রতিমন্ত্রী ১৭ এবং উপ-মন্ত্রী ২ জন। উপদেষ্টা ৫ জন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ১ জন। সর্বমোট ৫৫ জন।
বাংলামেইল২৪ডটকম/

কুল চাষে মুক্তার ভাগ্য বদল

কালীগঞ্জ, (ঝিনাইদহ): কলার ব্যবসায় খুব একটা লাভ হচ্ছিল না। যতসামান্য আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। অর্থাভাবে স্কুল পড়–য়া দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশুনা প্রায় বন্ধের পথে। এমন সময় পরিচয় হয় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার এনায়েত কবীরের সাথে। তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২০০৯সালে নিজের ৩০শতাংশ জমিতে আপেল কুলের চাষ করি। খরচ বাদে সেই বছর প্রায় ৬০হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। ২য় বছর ৭০শতাংশ জমিতে। আর এবছরে প্রায় ২একর জমিতে আপেল কুলের চাষ করেছি। কুল চাষের আয় থেকে এই পাঁচ বছরে ১একর জমিও কিনেছি। এভাবেই কুল চাষে সফলতার কথা জানান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পাঁচকাহুনিয়া গ্রামের কৃষক মুক্তার আলী।
কুল চাষী মুক্তার আলী জানান,  ২০০৯ সালে পাঁচকাহুনিয়া মাঠে কালীগঞ্জ কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে এন এ টিপি প্রকল্পের  আপেল কুলের খামার থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজের ৩০শতাংশ জমিতে কুল চাষ শুরু করেন। কালীগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার এনায়েত কবীরের সর্বাত্মক সহযোগিতায় ও নিজের আন্তরিক পরিচর্যায় এক বছরের মাথায় গাছে কুল আসে।  ৬০টি কুল গাছ থেকে সেবছর প্রায় ২ মে.টন কুল বিক্রি করে ৭০হাজার টাকা আয় হয়। প্রথম বছর ভালো লাভ পাওয়ায় ব্যবসা ছেড়ে কুল চাষে মনোনিবেশ করেন। ২য় বছর ৭০শতাংশ জমিতে কুল চাষ করে মোট অংকের মুনাফা পাওয়ার পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রতি বছর চাষের জমি বাড়াতে থাকেন। এ বছর তিনি প্রায় ২ একর জমিতে কুল চাষ করেছেন। এবারে প্রায় ৫ থেকে ৭লাখ টাকার কুল বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। মুক্তার জানান, ২একর জমিতে তার প্রায় ১লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দেশিয় কুলের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে ফাল্গুন মাসের দিকে জমিতে ওগুলো রোপন করেন। চারা দেড় ফুট উচ্চতায় আসলে আপেল কুলের ডাল কেটে দেশি কুলের চারার সাথে জোড় কলম বেঁধে দেন। কুল ক্ষেতে নিয়মিত সেচ, আগাছা পরিস্কার ও সার ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়। এক বছর পর গাছে কুল আসে। একটি গাছ থেকে কমপক্ষে ৩বছর কুল পাওয়া যায়। তিনি আরো জানান, ভালোভাবে পরিচর্যা করলে এক একটি গাছ থেকে এক মৌসুমে কমপক্ষে ৬০কেজি কুল পাওয়া যায়।
কুল চাষী মুক্তারের ২একর জমির ৪০০টি কুল গাছ থেকে প্রতি ২দিন অন্তর প্রায় ২০০ কেজি করে কুল পাওয়া যায়। এভাবে একাধারে ৩মাস পর্যন্ত কুল বিক্রয় করা যায় বলে তিনি জানান। কুল তোলার পর তা বাছাই করে প্যাকেটজাত করে ঢাকায় পাঠান হয়। ঢাকাতে প্রতি কেজি কুল ৫০টাকা দরে বিক্রি করা হয়। কৃষক মুক্তার আশা করছেন এবারের ২ একর জমি থেকে কমপক্ষে ২’শ মে.টন কুল পাওয়া যাবে। এতে এক মৌসুমে তিনি কমপক্ষে ৫ থেকে ৭লাখ টাকার কুল বিক্রি করতে পারবেন। এ মৌসুমে খরচ বাদে প্রায় ৫লাখ টাকার নীট মুনাফার আশা করছেন তিনি।

পলাতক দুই জঙ্গির ছদ্মবেশী ছবি প্রকাশ

ঢাকা : পুলিশ হত্যা করে ছিনিয়ে নেয়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত তিন জঙ্গির মধ্যে দু’জনকে ধরতে দেশজুরে রেড অ্যালার্ট জাড়ি করেছে পুলিশ। পালিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার পর ধরা পড়া জঙ্গি রাকিব পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেও সালাহউদ্দিন ও বোমা মিজান এখনো অধরা।

পালিয়ে যাওয়ার দুইদিন পর মঙ্গলবার ওই দুই জঙ্গির ছদ্মবেশ ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণার পাশাপাশি পোস্টারও ছাপা হয়েছে। একই সঙ্গে দেয়া হয়েছে দুই জঙ্গির শারীরিক গঠনের বর্ণনা। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া) জালাল উদ্দিন জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়ার পর তারা বিভিন্ন পথ দিয়ে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার তিন ঘণ্টার মাথায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে রাকিবুল ইসলাম পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। পরে সে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। বাকি দুই জঙ্গিকেও ধরতে বিভিন্ন স্থানে চলছে অভিযান। দেশের সব থানায় পাঠানো হয়েছে তাদের ছদ্মবেশী ছবি, শারীরিক গঠনের বর্ণনা। সীমান্ত এলাকায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।

পুলিশ হোডকোয়ার্টার্স সূত্র জানায়, দুই জঙ্গিকে ধরতে ইতোমধ্যে পুরস্কার ঘোষণার পাশাপাশি তাদের ছবি ও বর্ণনা প্রকাশ করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার পর ওই জঙ্গিরা সম্ভাব্য যে ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে তার ছবিই প্রকাশ করা হয়েছে। বর্ণনায় বলা হয়েছে সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীনের উচ্চতা- ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, ওজন-৫৫ কেজি, শারীরিক গঠন-মাঝারি, গায়ের রঙ- শ্যামলা, চোখের রঙ- কালো, সনাক্তকরণ চিহ্ন- বাম পায়ে হাটুর নিচে কাটা দাগ আছে। বোমা মিজানের উচ্চতা- ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, ওজন-৭০ কেজি, গায়ের রঙ- শ্যামলা, শারীরিক গঠন-মাঝারী গড়ন, চোখের রঙ- কালো, সনাক্তকরণ চিহ্ন- বাম হাতের মধ্য আাঙ্গুলে কাটা দাগ।---ডিনিউজ

মুন্সীগঞ্জে চরাঞ্চলে রক্তপাতের আশংকা

মুন্সীগঞ্জ: আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারিতে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচনে সবার দৃস্টি এখন চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নের দিকে। ইউনিয়নগুলোর ৪২টি ভোট কেন্দ্রের প্রায় ৭৬ হাজার ভোটকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। চরাঞ্চলে বিএনপি নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া হয়ে পড়ায় এ উত্তেজনা আরো বেশি হচ্ছে। নির্বাচনের অন্তিম মুহুর্তেও চরগুলো দখল হয়ে আছে ক্ষমতাসীন প্রার্থীর পক্ষে। আর বিএনপি মরিয়া হয়ে নির্বাচনের দিন হলেও এলাকায় যাবার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ জয়ের জন্য ৭৬ হাজার ভোট বড়ই ফ্যাক্টর। এ উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভার ১০৬টি ভোট কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ২লাখ ৫৬ হাজার ৬শ’। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৩২ হাজার ৮২০টি ও মহিলা ভোটার  ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৮০টি।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ রাজনৈতিক সচেতন মহল চরের ৫টি ইউনিয়নের ভোট প্রাপ্তি নিয়ে হিসেব কসছেন-কে পরবেন জয়ের মালা। তাই বিএনপি নির্বাচনের আগের দিন কিংবা নির্বাচনের দিন এলাকায় উঠতে চাইলে এখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিগত জাতীয় সংসদ, ইউপিসহ সব ধরনের নির্বাচনেই ভোটের আগের দিন এলাকা বিতাড়িত লোকজন এলাকায় উঠতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত-নিহত, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন সক্রিয় ও ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোটদানের পরিবেশ সৃস্টি করতে না পারলে পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে এবারো চরাঞ্চলের ব্যাপক রক্তপাতের আশঙ্কা করছেন ভোটাররা।
জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তোতা মিয়া জানান, তার নেতৃত্বে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে চরাঞ্চলের বাংলাবাজারে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন পুস্তির পক্ষে আনারস প্রতীকের ভোট চাইতে যান। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনিসুজ্জামানের দোয়াত কলমের ২০-২৫ জন সমর্থক তাদের ঘেরাও করে মারধর, গালমন্দ করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন পুস্তি বলেন, সেখানে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ভোটদানের পরিবেশ সৃস্টি করতে পারেনি। বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের এলাকা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। যারা আছে, তাদেরকে নানা হুমকি দেয়া হচ্ছে। অনেককে নির্বাচনের দিন ঢাকায় থাকতে বলা হচ্ছে। নির্বিঘেœ ভোটদানে ভোটারদের উৎসাহিত করার জন্য এলাকায় রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় নির্বাচন নিয়ে চরাঞ্চলের ৪২টি কেন্দ্রসহ উপজেলার ৬৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে একাধিক অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা রির্টানিং অফিসার এডিসি জেনারেল মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, সব্বোর্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সর্বস্তরের জনগণ যাতে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে সেজন্য মাইকিং করে ভোটারদের উৎসাহিত করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব-পুলিশ টহল দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২২ শে ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২ টার দিকে শহরের কাছে মুন্সীরহাট এলাকায় বিএনপি দলীয় সাবেক উপমন্ত্রী জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশারফ হোসেন পুস্তি (আনারস), ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শহীদুল ইসলাম (তালা ) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত খালেক মাস্টারের মেয়ে রুবী আক্তারকে (হাঁস) নিয়ে গণসংযোগকালে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় তারা তাৎক্ষনিক শহরের জুবলী রোডের একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আনিসুজ্জামান ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেন।

কুষ্টিয়ায় নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান কারাগারে

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় মারমারি ও ভাঙচুর মামলায় ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ বিএনপির ৭ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে ভেড়ামারা উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলমসহ ৭ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন ভেড়ামারায় জাসদ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বিএনপি কর্মীরা।
এ ঘটনায় উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গর্ভপাত বৈধ করে সুফল পাচ্ছে উরুগুয়ে

ঢাকা: ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারণে মূলত গর্ভপাত করা বা না করার সিদ্ধান্তে সমাজ মাথা ঘামাতে শুরু করে। এটা এমন এক বিষয় যে ব্যাপারে খোলা মনে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো সুযোগ বহুদিন পায়নি মানুষ। আজ সামাজিক আচরণ দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাজবাস্তবতার অনেক পরিবর্তন আসার পর এ বিষয়টি আর ঘরের অন্ধকার কোণের লুকোছাপার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
 
আধুনিক কালে সারাবিশ্বে গর্ভপাতের ইস্যুতে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ের প্রসঙ্গ এজন্যে বারবার এসেছে যে, সেখানে এ কর্মকাণ্ডটির ওপর আরোপিত ছিল বিশেষ ধরনের ট্যাবু- যা আরোপ করেছিল স্বয়ং সে দেশের প্রশাসন। দেশটিতে ১৯৩৮ সালে প্রথম গর্ভপাত নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। কিন্তু সমাজের চালিকাশক্তি- অর্থনীতি ও ধর্মের শেকলে বাঁধা মানুষকে- একটি নতুন প্রাণ আসবে কী আসবে না- সে ব্যাপারে বারবার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আর এতে একটি ভ্রুণকে বধ করতে অনেক প্রাণহানির ঘটনা থামানো যায়নি।
 
আইনত নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কি নারীর গর্ভপাত থেমে থেকেছে? থাকেনি। বিগত দশকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী উরুগুয়েতে গড়ে ২০ হাজার নারীকে শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল- যারা গোপনে গর্ভপাতের জন্যে শরীরের ওপর অবৈজ্ঞানিক পাশবিক নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। তাদের একটি বড় অংশই পরবর্তীতে মারা যায়। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে দেশটিতে প্রথম গর্ভপাত বৈধ করে আইন প্রস্তাব করা হয়- যেন অন্তঃসত্ত্বা নারীরা অন্তত বাঁচতে পারে। কিন্তু তৎকালীন প্রেসিডেন্ট তাবারে ভাসকুয়েসের ‘না’ ভোটের কারণে সে আইনটি উৎরে যেতে পারেনি।
 
আইন অনুযায়ী কোনো নারী গর্ভপাত করিয়েছে প্রমাণিত হলে তার ৬ থেকে ১২ মাসের কারাদণ্ড হতো। গর্ভপাত করানোর সময় নজরে এলে কারাদণ্ডের বিধান ছিল ১২ থেকে ২৪ মাস। এতে অনেক অসহায়- নিরূপায়- আর্থিক অনটনের শিকার- ধর্ষণের শিকার নারী; সামাজিক মর্যাদা হারানোর বেদনা পেরিয়ে আরও শোচনীয় পরিণতি বরণ করতো।

সোনাগাজীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৮টি দোকান ভষ্মিভূত

ফেনী: ফেনীর সোনাগাজী পৌরশহরের মেইন রোডে শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন মার্কেটে মঙ্গলবার ভোরে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৮টি দোকান পুড়ে ভষ্মিভূত হয়ে গেছে।এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দোকান মালিকরা জানান।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর রাতে হঠাৎ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন মার্কেটের জেরিন ফ্যাশনে আগুন ধরে যায়। মুহুর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা অপরাপর দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে উক্ত মার্কেটের জেরিন ফ্যাশন, নোমানিয়া ক্লাথ ষ্টোর, আবিদ ফ্যাশন, শ্রাবন্তী সু, সাইমুন জেন্টস্ কর্ণার, ফাইম ড্রেস হাউজ, ব্রাদার্স টেলিকম, সবুজ ইলেকট্রনিক্স দোকান সহ ৮টি দোকান অগ্নিকান্ডে ভষ্মিভূত হয়ে যায়। খবর পেয়ে সোনাগাজীর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পূর্বেই দোকানগুলোর মালামাল পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকারও বেশি মালামাল সহ ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে দোকান মালিকরা জানান।
তবে সোনাগাজী ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা নুর হোসেন জানান, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়েই তারা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে অগ্নিকান্ডে উক্ত মার্কেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয় ক্ষতি সহ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন।
উল্লেখ্য, দোকান মালিকরা অভিযোগ করেন, মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটায় আমরা বিষ্মিত। কিন্তু তারা যতটুকু প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে শুনেছেন পল্লী বিদ্যুত অফিসে বিদ্যুতের সুইজ বন্ধ করতে অনেকে একাধিক বার পল্লী বিদ্যুতের কয়েকটি নাম্বারে ফোন করলেও অগ্নিকান্ডের প্রায় ২০ মিনিট পর সুইজ বন্ধ করলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝেও বাংলাদেশ উন্নতি করে যাচ্ছে : মজিনা

আগৈলঝাড়া (বরিশাল): বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাস্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, এ দেশের মানুষের আন্তরিকতা খুবই চমৎকার। অনেক কষ্টের মাঝে এই আন্তরিকতাই উন্নয়নের অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের মানুষ শত প্রতিকূলতার মাঝেও উন্নতি করে যাচ্ছে। এই উদ্যমের রহস্য কাছ থেকে দেখতে ও জানতে ৬৪ জেলা সফরে বের হয়েছি। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বরিশাল সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ও পুলিশ প্রসাশনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাধে একান্ত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, আমি শুধু ঢাকার রাস্ট্রদূতই নই, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার রাস্ট্রদূত। তাই এই সফরে বের হয়েছি।
প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম, ডিআইজি ডাঃ আঃ. রহিম, বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল প্রন্দ্র দাস, পুলিশ কমিশনার সামসুদ্দিন প্রমুখ। জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম জানান, এই বৈঠকে রাজনৈতিক কোন প্রসঙ্গ আলোচনায় আসেনি। এর আগে সোমবার সকালে সি প্লেনে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার খেয়াঘাটে পৌছেন তিনি। পরে তিনি মার্কিন দাতা সংস্থা ইউএসএইডের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করে চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সেখানেও তিনি ইউএসএইডের প্রকল্প পরিদর্শন করে ভোলার জেলা প্রসাশকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। এরপর তিনি বিকেলে বরিশাল এসে পৌঁছান।
আমেরিকান দূতাবাস থেকে প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সফরে রাস্ট্রদূতের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সোমবার থেকে টানা পাঁচদিন বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা এবং ভোলা জেলা সফর করবেন ড্যান ডব্লিউ মজিনা। সফরে রাস্ট্রদূত এবং মিশন পরিচালক ইউএস-এআইডি পরিচালিত কর্মসূচীর ওয়াশ (ওয়াটার, স্যানিটেশন ও হাইজিন) সেরিয়াল সিস্টেমস ইনিশিয়েটিভ অফ সাউথ এশিয়া (সিএসআইএসএ), (স্ট্রেংথেনিং পার্টনারশিপস রেজাল্টস এন্ড ইনোভেশন ইন নিউট্রিশন গ্লে­াবালি), মৎস্য খামার প্রকল্প, নব-জীবন কমিউনিটি এবং সব্জি খামার পরিদর্শণ করবেন। এছাড়াও রাষ্ট্রদূত স্থানীয় সরকার কর্মকর্তা, পুলিশ ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য মতবিনিময় করবেন। জেলাগুলো সফরের সময় ড্যান মজীনা ওইসব অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।(ডিনিউজ)

শেখ হাসিনাকে কাজাখ প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পুর্নিনর্বাচিত হওয়ায় কাজাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেরিক আখমেতোভ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

অভিনন্দন বার্তায়, কাজাখ প্রধানমন্ত্রী শেরিক আখমেতোভ কাজাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুসম্পর্কের ব্যাপারে আস্থা প্রকাশ করেন। উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কাজাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেরিক আখমেতোভ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এদেশের বন্ধুপ্রতীম জনগণের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

নাইজেরিয়ার কলেজে সন্ত্রসী হামলা, নিহত ৪০

ঢাকা: নাইজেরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের শহর গুসাউ-এর একটি মাধ্যমিক সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্দুকধারীদের গুলিতে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
ইয়োবে অঙ্গরাজ্যের শহর গুসাউ-এর সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফেডারেল গভর্নমেন্ট কলেজ বুনি ইয়াদি’-এ বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। বন্দুকধারীরা নাইজেরিয় সশস্ত্র ইসলামি সংগঠন বোকো হারামের সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ইয়োবে অঙ্গরাজ্যের পুলিশ কমিশনার সানুসি আল নিশ্চিত করেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৯জন ছাত্র এবং অবশিষ্টজনেরা শিক্ষক ও কর্মচারি। এছাড়া বন্দুকধারীদের আক্রমণে ছাত্রাবাস, প্রশাসনিক ভবনসহ, কর্মচারি আবাসসহ বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ২৪টি স্থাপনা।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২:১৫ মিনিটে শিক্ষাঙ্গনটিতে এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলটিতে আক্রমণের সময় সকল প্রকার টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় ছিল।     

বাংলামেইল২৪ডটকম

পাকিস্তানে বিমান হামলায় ৩০ জঙ্গি নিহত

ঢাকা: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি স্থাপনাসমূহে সেনাবাহিনীর পরিচালিত বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির সেনাবাহিনী উত্তর ওয়াজিরিস্তানের পাহাড়ি এলাকায় এই হামলা চালায়।
 
দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
 
চলতি মাসের মাঝামাঝিতে পাকিস্তান সরকার ও তালেবানদের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। সম্প্রতি তালেবানরাও জানিয়েছে তারা শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ২৩ জন সেনা সদস্যকে হত্যা করেছে।
 
এর আগে সোমবার উত্তর ওয়াজিরিস্তানে এক সেনা অভিযানে শীর্ষ তালেবান কমান্ডার আসমতউল্লাহ শাহিন নিহত হন। গত বছর মার্কিন ড্রোন হামলায় তালেবান নেতা হেকিমুল্লাহ মেহসুদ নিহত হওয়ার পর ওই এলাকায় শাহিনই তালেবানদের পরিচালনা করে আসছিল।
  
বাংলামেইল২৪ডটকম/

সঙ্কুচিত হচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী

ঢাকা: মার্কিন সেনাবাহিনীর আকার সঙ্কোচনের পরিকল্পনা করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল। যুক্তরাষ্ট্রের নয়া বাজেট পরিকল্পনার খসড়া উপস্থাপন করতে গিয়ে চাক হেগেল এই পরিকল্পনার কথা জানান।
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম মার্কিন সেনাবাহিনীর আকার সঙ্কুচিত হচ্ছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অর্থনৈতিক মন্দার জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ইরাক ও আফগানিস্তানে দুটি বড় যুদ্ধের পর সেনাবাহিনীতে খরচের পরিমাণ নিয়ে বেশ চাপে রয়েছে দেশটি।   
 
এ বিষয়ে হেগেল বলেন, ‘এটি বাস্তবতার সময়। এই বাজেটে আমাদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের গুরুত্বই প্রকাশ হয়েছে।’
 
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের বস হেগেল জানান, বর্তমানে সেনাবাহিনীর মোট ৫ লাখ ২০ হাজার জনবল থেকে কমিয়ে ৪ লাখ ৪০ হাজার বা ৫০ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। এরমধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার ইউ-টু গোয়েন্দা বিমান ও এ-টেন জঙ্গি বিমানও তুলে নেয়া হবে।
 
শুধু জনবল কমিয়ে আনাই নয়, একইসঙ্গে পেন্টাগন সেনাবাহিনীর বেতন-ভাতা পরিবর্তনেরও পরিকল্পনা করেছে বলে জানান হেগেল। অর্থাৎ কমতে চলেছে মার্কিন সেনাদের বেতন ভাতা। তবে সেনাদের স্বাস্থ্যখাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন তিনি।
 
বাংলামেইল২৪ডটকম/

মিশরের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পদত্যাগ

ঢাকা: মিশরে পদত্যাগ করেছে প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাওয়ির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার । সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল বেবলাওয়ি অনেকটা আকস্মিকভাবেই রাষ্ট্রীয় টিভিতে এ ঘোষণা দেন।
 
সেনা অভ্যুত্থানে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির পতনের পর সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে হাজেম আল-বেবলাওয়ির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করলো।  
 
মিশরের বর্তমান অসন্তোষজনক সামাজিক পরিস্থিতির কথা চিন্তা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী বেবলাওয়ি। তিনি মিশরীয়দের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানে প্রত্যেককে আরো দায়িত্বপূর্ণ হওয়ার আহ্বান জানান।
 
তিনি বলেন, ‘এখন সময় দেশের ভালোর জন্য আমাদের কিছু ত্যাগ স্বীকার করা। কি পেয়েছি না ভেবে আমাদের উচিৎ চিন্তা করা মিশরকে আমরা কি দিয়েছি। বিদায়ী সরকার নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সরু টানেল থেকে মিশরকে বের করে আনার সবরকম চেষ্টা চালিয়েছে।’
 
জানা যায়, দেশে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি ছাড়াও মিশর সরকার ইদানিং আরো বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখিন হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি খাতে বাড়ছে কর্মী অসন্তোষ। ফলে হচ্ছে ধর্মঘট। সেইসঙ্গে গ্যাসের মারাত্মক সঙ্কটের কারণে জনগণের মধ্যেও বাড়ছে ক্ষোভ। আর এর মধ্যেই সরকার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলো।
অনেকেই বলছেন, এই সরকারের পদত্যাগে দেশটির আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ প্রশস্ত হলো সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসির। তার নেতৃত্বেই গত জুলাইয়ে মুরসি সরকারের পতন ঘটে।

বাংলামেইল২৪ডটকম/এ

ইউক্রেনে গঠিত হচ্ছে ঐক্যমতের সরকার

ঢাকা: রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে ইউক্রেনে সব পক্ষকে মিলিয়ে ঐক্যমের সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন দেশটির বর্তমান অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ওলেক্সান্ডার তুরসিনভ। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির একদিন পর তিনি এই ঘোষণা দিলেন।
 
ইউক্রেনে রাশিয়াকে সমর্থন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় রুশ সরকার তাদের বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তারা ইউক্রেনের নতুন এই সরকারকে সমর্থন দেবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয় তবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দেশের বিরুদ্ধে ইয়ানুকোভিচ যা করেছেন তা আর হতে দেয়া যায় না।
 
এ বিষয়ে এরইমধ্যে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম হজ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সে দেশে থাকা ইউক্রেণীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেছেন।
 
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি জানানোর পর প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। গত সপ্তাহে এই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। রাজধানী কিয়েভের স্বাধীনতা চত্ত্বরে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। টানা তিন দিন কিয়েভজুড়ে দাঙ্গায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।
 
বাংলামেইল২৪ডটকম/

‘বিডিআরের পোশাকেই বাবাকে শেষ দেখি’

ঢাকা : পিলখানা ট্র্যাজেডির মর্মন্তুদ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন কর্নেল ইলাহির পুত্র সাকিব রহমান পিলখানার বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ কর্নেল কুদরত ইলাহী রহমানের ছেলে সাকিব রহমান। পিতার মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। এখন ২৪। সেই ভয়াল সময়ের স্মৃতিচারণ করে সাকিব বলেন, তখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন শাস্ত্র  অধ্যয়নের জন্য কেবল ভর্তি হয়েছি। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিমিনোলজিতে মাস্টার্স পড়ছি। সে সময় আশুলিয়া আবাসিক ক্যাম্পাসে থাকতাম। ২০০৯ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরির পর বাবা গেলেন আমার ক্যাম্পাসে। বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন তিনি। ঢাকায় ঢোকার আগেই সাভারে আমাকে দেখে আসবেন। সেই দেখাই আমাদের শেষ দেখা তা কি বাবা জানতেন? প্রায় এক মাস পরে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। বাবা সেনা অফিসার ছিলেন। এক মাস আগে তিনি বিডিআরে বদলি হন। বিডিআরের পোশাকে বাবাকে ওই দিনই আমি প্রথম দেখি। আর সেটাই শেষ দেখা। বাবা অনেক খাবার জিনিস নিয়ে গেলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একজন গানম্যান। তার সঙ্গেও আমার দেখা হয়, কথা হয়। গানম্যান সব সময় বাবার পাশেই ছিলেন। বাবার নিরাপত্তা দেয়ার কথা ছিল তার। অথচ চারদিন পর তার মতো কোন একজন গানম্যানের গুলিতেই জীবন গেল বাবার। সুনির্দিষ্ট একজন সিপাহিকে দায়ী করছি না। কিন্তু মাত্র এক মাসে সিপাহিদের সঙ্গে বাবার কি শত্রুতা হলো যে তাকে মরতে হলো? হত্যাকাণ্ডে বিচার হয়েছে। সবাই সোচ্চার থাকলে কার্যকরও হবে হয়তো।
একটি দৈনিকের আলাপচারিতায় তিনি বলেন, বাবাকে ফিরে পাবো না। কিন্তু বাবার অবদানকে সবাই মনে রাখুক এটা চাই। হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। এত দ্রুত বিচার হওয়া থেকে শুরু করে অনেক দিক বিবেচনায় এ বিচারের বিশেষত্ব আছে। আইন শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রিধারী এই তরুণ বলেন, আমি আগেও লিখেছি আমার কথা। ডিএডি তৌহিদ, জাহিদসহ অনেকের ফাঁসি হয়েছে। তাদের ফাঁসি হোক তা আমরা চেয়েছিলাম। কিন্তু এর পেছনের হোতা কারা তা স্পষ্ট হয়নি। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটা বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন করার দাবি জানিয়েছি আমি। যে কমিশন গঠিত হলে হত্যাকাণ্ডের ভেতরের বিস্তারিত বিষয় জানা যাবে। বাইরের তথ্যগুলোই শুধু পাওয়া গেছে। কিন্তু কাকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, এর পেছনে কাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ছিল- তা সব বেরিয়ে আসেনি। এগুলো বের করা জরুরি। এখন কেমন কাটে আপনার জীবন, আপনার মায়ের দিন কিভাবে কাটে- প্রশ্ন করতেই বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। তখন বাবা পাশে ছিলেন। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলাম। কনভোকেশন অনুষ্ঠানে সবাই বাবাকে সঙ্গে নিয়ে যায়, আমি নিতে পারিনি। জীবনের ভাল সময়গুলোতেও বাবা নেই। খারাপ সময়গুলোতেও বাবা নেই। বাবাকে বড় মিস করি। সাকিব বললেন, প্রতি বছর এই দিনটি আসলে গণমাধ্যম আমাদের কাছে আসে। স্মরণ করে। এটা স্বাভাবিক। গণমাধ্যম একা তো আর সব কিছু করতে পারবে না। আমাদের সমাজের সুশীল সমাজ টকশোতে সারা বছর আলুর বাম্পার ফলন থেকে শুরু করে কত বিষয়ে কথা বলেন। মানবাধিকার নিয়ে তারা কত কথা বলেন, বিশ্লেষণ করেন। কিন্তু পিলখানা নিয়ে তারা নীরব। তাদেরও কথা বলা উচিত। কর্নেল ইলাহীর একমাত্র সন্তান সাকিব রহমান। তার স্ত্রী লবী রহমান বিশিষ্ট রন্ধনশিল্পী। বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান প্রযোজক।

৭ নেতাকে বহিষ্কার করলো আ.লীগ

ঢাকা: দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের স্বার্থ বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত থাকার কারণে আওয়ামী লীগের ৭ নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবাহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন- নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস্কান্দার মির্জা বাচ্চু, কোষাধ্যক্ষ শামসুল আলম খান, ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার আফাজ সরকার, ফয়জুর রহমান ফকির, মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সভাপতি জালাল উদ্দিন আহমেদ, মহিলা সম্পাদিকা সালেহা ইসলাম, নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার রুহুল আমিন।

বাংলামেইল২৪ডটকম/

হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই চলছে

ঢাকা: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি শক্তির উত্থান রোধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে তাতে একাত্তরের পরাজিত শক্তি কোনদিন সফল হতে পারবে না।
মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরে এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম একথা বলেন।

প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘পদ্মভূষণ’ অর্জন করায় দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানকে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এই সংবর্ধনা প্রদান করে।

শিক্ষা ও সাহিত্য ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে ‘পদ্মভূষণ’ পদকে ভূষিত করা হয়। প্রথাগতভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজধানী নয়াদিল্লীর রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পদক তুলে দিবেন।

সংবর্ধনা সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী অধ্যাপক আনিসুজ্জামাকে স্বর্ণ-পদক পরিয়ে দেন। মোহাম্মদ নাসিম অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে দেশের একজন বিরল ব্যক্তিত্ব হিসাবে অভিহিত করে বলেন, ‘চারদিকে যখন সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তখনই তার লেখনী ও কথা জাতিকে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে।’

সভায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘দেশে মূল্যবোধের সঙ্কট চলছে। যে আদর্শ ও মূল্যবোধ নিয়ে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে মুক্তিযুদ্ধ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি আমাদের আদর্শকে পদে পদে চ্যালেঞ্জ করছে।’

এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্ম ও নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলামেইল২৪ডটকম

বিডিআর বিদ্রোহের বিচার সুষ্ঠু হয়নি: মির্জা ফখরুল

ঢাকা : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার হয়নি—প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে সদ্য কারামুক্ত নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের যে বিচার সেই বিচার সঠিকভাবে হয়নি। অসংখ্য মানুষকে তড়িঘড়ি করে বিচার করা হয়েছে এ বিচারের আসল নেপথ্যে এ ঘটনার যারা নায়ক তাদেরকে এখানে সম্পৃক্ত করা হয়নি, সুষ্ঠু তদন্ত করা হয়নি। তাই আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি এবং নিরপেক্ষ বিচার দাবি করছি।

এছাড়া, দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতাদের পুলিশের হেফাজত থেকে প্রকাশ্যে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় সরকার দলের নেতারা বিএনপিকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাবে ফখরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।(ডিনিউজ)

জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরকার বিব্রত: যোগাযোগমন্ত্রী

ঢাকা : যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যোগাযোগ ও সন্ত্রাস দমনে অংশীদ্বারিত্বমূলক সহযোগিতায় শ্রীলঙ্কা সরকারের সম্মতি রয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার শরৎকে ওয়ারাগোদার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরকার বিব্রত—এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করাই এখন চ্যালেঞ্জ।

মন্ত্রী বলেন, তামিলদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের (শ্রীলঙ্কা) একটা দক্ষতা আছে, সেই দক্ষতা আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারেন তারা। আমাদের এখানে সন্ত্রাসবাদের প্রবণতা আছে। কোন পরিস্থিতিতে কখন কোন ঘটনা ঘটে যারা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।

কানাইঘাটে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

Kanaighat News on Monday, February 24, 2014 | 2:45 AM

 
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চতুর্থ দফায় তফসিল ঘোষিত আগামী ২৩ মার্চ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থী তাদের সমর্থকদের নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আজ রোববার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়ার কার্যালয়ে তফসিল ঘোষিত মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিনে মোট ২০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
তাদের মধ্যে আ'লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান পদে ৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তারা হলেন জেলা আ'লীগনেতা মোস্তাক আহমদ পলাশ, এমাদ উদ্দিন মানিক, অধ্যাপক লুকমান হোসেইন, নিজাম উদ্দিন আল মিজান, বিএনপি সমর্থিত বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মামুন রশিদ মামুন, জামায়াত সমর্থিত আব্দুর রহিম ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত মোঃ শাহাব উদ্দিন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন আ'লীগ নেতা জামাল উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম খোকন, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম রানা, বিএনপি সমর্থিত আজিজুল আম্বিয়া, জামায়াত সমর্থিত বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান ইকবাল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওঃ আলীমুদ্দীন, হেফাজত নেতা আব্দুল করিম তারেক।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আ'লীগ নেত্রী প্রভাতী রাণী দাস, মহিলা ইউপি সদস্যা নারীনেত্রী রুবি রাণী চন্দ, মরিয়ম বেগম, রুকসানা বেগম ও জাহানারা বেগম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং আগামী ৬ মার্চ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কানাইঘাটে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ

Kanaighat News on Tuesday, February 18, 2014 | 12:32 AM


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক

কানাইঘাটে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠগত বৃহস্পতিবার ৪র্থ দফা তফসীলে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার নাম ঘোষণা করার সাথে সাথে সর্বশক্তি নিয়ে ভোটারদের মাঝে ঝাপিয়ে পড়েছেন প্রার্থীরাফলে ডজন খানেক চেয়াম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পদচারনায় সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠপাড়া মহল্লা, হোটেল- রেস্তোরা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হাট বাজারসহ সর্বত্র বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া এদিকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একক প্রার্থী দিতে এবং নিজ দলের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের হাই কমান্ড থেকে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও কানাইঘাটে আলীগ, বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক প্রার্থী মাঠে তপর রয়েছেনএদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, কানাইঘাট উপজেলা আলীগের যুগ্ম আহবায়ক নিজাম উদ্দিন আল-মিজান, সিলেট জেলা আলীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মস্তাক আহমদ পলাশ, জেলা আলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এমাদ উদ্দিন মানিক, কানাইঘাট উপজেলা আলীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক লুকমান আহমদ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক মামুন রশিদ মামুন ,লন্ডন মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ শামীম, জেলা জামায়াত নেতা ফয়জুল্লাহ বাহার, ও কানাইঘাট উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাও. মুফতি ইবাদুর রহমান

কানাইঘাটে দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন হাত পা বাঁধা অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার

Kanaighat News on Sunday, February 16, 2014 | 10:11 PM

নিজস্ব প্রতিবেদক:
 কানাইঘাট উপজেলার ঝিংঙ্গাবাড়ী ইউপির পাত্রমাটি গ্রাম সংলগ্ন সুরমা নদী থেকে আজ রবিবার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হাত-পা বাধা অবস্থায় ২০ উর্ধ্ব অজ্ঞাতনামা এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। রবিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি বিছানার লাল চাদর দিয়ে মুড়ানো দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন একটি লাশ  সুরমা নদীর চরের ঘেষা পানিতে পড়ে থাকতে দেখে কানাইঘাট থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে থানার এসআই আব্দুল ওয়াহিদ, এসআই কামাল আহমদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন লাশের মস্তকটি মৃত দেহের ২৫/৩০ হাত দূর থেকে উদ্ধার করেন। পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শুধুমাত্র একটি জাঙ্গীয়া পরিহিত অজ্ঞাতনামা এ যুবকটিকে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে খুনীরা ক্লান্ত হয়নি, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করে লাশটির হাত-পা বেধে চাদরমুড়ি দিয়ে ফেলে রাখে। নৃশংসভাবে খুন হওয়া অজ্ঞাতনামা এ লাশটি দেখার জন্য এলাকার শত শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। লাশ উদ্ধারকারী পুলিশ অফিসার এসআই আব্দুল ওয়াহিদ জানান, যুবকটিকে অন্য কোথাও ২/৩দিন পূর্বে হত্যা করে খুনীরা লাশ এখানে ফেলে রাখা গেছে। এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কানাইঘাট দারুল উলূম মাদরাসার দু’দিনব্যাপী ৬০ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

Kanaighat News on Friday, February 14, 2014 | 2:24 AM

 নিজস্ব প্রতিবেদক:
শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়পুরী (রাহ.) এর পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত, বৃহত্তর সিলেটের প্রাচীনতম ইসলামী বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দারুল হাদীস কানাইঘাট মাদরাসার দুই’দিনব্যাপী ৬০ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন আগামী ২৬-২৭ ফেব্র“য়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার মাদরাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন এশিয়া মহাদেশের সর্ব বৃহৎ আরবী বিশ্ববিদ্যালয় দারুল উলূম দেওবন্দের মহা পরিচালক আল্লামা আবুল ক্বাসিম নো’মানী ভারত। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন আওলাদে রাসূল (সা.) আল্লামা সায়্যিদ ক্বারী উসমান ভারত, জানিশীনে ফেদায়ে মিল্লাত (রাহ.), ক্বায়িদে জমিয়ত, আওলাদে রাসূল (সা.) আল্লামা সায়্যিদ মাহমুদ মাদানী ভারত, আওলাদে রাসূল (সা.) আল্লামা মুফতি সায়্যিদ সালমান মনসুরপুরী ভারত, আওলাদে রাসূল (সা.) আল্লামা সায়্যিদ আফ্ফান ভারত, খলিফায়ে শায়খূল ইসলাম (রাহ.) আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী দা.বা. মহা পরিচালক, দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী চট্টগ্রাম, খলিফায়ে কুতবুল আলম (রাহ.) আল্লামা নু’মান আহমদ চট্টগ্রাম, আল্লামা মুফতি আব্দুর রহমান ঢাকা, আন্তর্জাতিক মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, আল্লামা রশিদুর রহমান ফারুক বরুনী, আল্লামা শায়খ মাহমুদুল হাসান ঢাকা, আল্লামা মুহিব্বুল হক্ব সিলেট, আল্লামা শফীকুল হক্ব আমকুনী সিলেট, আল্লামা শিহাবুদ্দীন রেঙ্গা, আল্লামা মুফতি আবুল কালাম জাকারিয়া সিলেট, আল্লামা শায়খ মুকাদ্দাস আলী মুন্সি বাজার, আল্লামা মুফতি নূরুল হক্ব সাহেব জকিগঞ্জী সহ দেশ-বিদেশের শীর্ষ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম।
সম্মেলন ২৬ ফেব্র“য়ারি বুধবার সকাল ১০টা থেকে আরম্ভ হয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা চলবে।
মধ্যরাত থেকে বিরতীর পর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে পরদিন শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একটানা চলবে।
উক্ত ৬০ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনকে সর্বাত্মক সফল ও সার্থক করে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামিয়ার মুহতামিম ও আল্ মুশাহিদ (রাহ.) ফুযালা পরিষদের সভাপতি আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস শায়খে লক্ষ্মীপুরী এবং জামিয়ার শিক্ষা সচিব ও শায়খুল হাদীস ফুযালা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আলিমুদ্দীন শায়খে দুর্লভপুরী।
সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সিলেট পাঁচ আসনের এম.পি সেলিম উদ্দীন উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

মদ্যপানের অপরাধে কানাইঘাটে দু’যুবককে জরিমানা

Kanaighat News on Wednesday, February 12, 2014 | 8:57 PM

নিজস্ব প্রতিবেদক:
 মদ্যপান করে মাতলামির অপরাধে কানাইঘাটে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই যুবককে দু’হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জানা যায়, আজ বুধবার বেলা ২টায় উপজেলা পরিষদের সামনে মদপান করে মাতলামির সময় থানার টহল পুলিশ সদর ইউপির নিজ চাউরা উত্তর (বড়কান্দি) গ্রামের বড়হুনার পুত্র মাদসেবী শামিম আহমদ (২৫) ও লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউপির বড়বন্দ ৪র্থ খন্ডের আব্দুর রহিমের পুত্র নজির আহমদ (২৬) কে আটক করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়ার কার্যালয়ে তাদের হাজির করা হলে তিনি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, শামীম ও নজির প্রায় সময় মদ পান করে মাতলামি করে থাকে। এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কানাইঘাটকে মাদকমুক্ত করার ল্েয মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সচেতন মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন।



৯৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কানাইঘাট দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপি কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
 স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ইউনিয়ন কমপ্লেক্স প্রকল্পের অধীনে ৯৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কানাইঘাট ৭নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের কমপ্লেক্সের ভিত্তি প্রস্তর করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ বুধবার সকাল ১১টায় ইউপি কমপ্লেক্স মাঠে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে  উপস্থিত থেকে ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া। সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর মাহমুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এমাদ উদ্দিন মানিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সদর ইউপির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, বাণীগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদ, উপজেলা প্রকৌশলী কে.এম রিয়াজ মাহমুদ, সাবেক চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন সমাজসেবী ফজলুল কিবরিয়া, জেলা ছাত্রলীগ নেতা আবুল কাশেম চৌধুরী, মাসুদ আলম, যুবলীগনেতা জিয়া উদ্দিন, আতিকুর রহমান, মামুনুর রশিদ প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রাপ্ত সকল সুযোগ-সুবিধা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌছে দিতে ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করার জন্য সরকার বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাণীগ্রাম ইউপির নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার মানুষের তথ্য প্রযুক্তিসহ সবধরণের সেবা আরো সহজতর হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভায় গাছবাড়ী-হরিপুর রাস্তার অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের আওতায় নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়। প্রসঙ্গত যে, বিগত ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদের সময় ইউনিয়ন কমপ্লেক্স প্রকল্পটি নেওয়া হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফলতির কারণে পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৯৬ ল টাকা ব্যয়ে ইউপি কমপ্লেক্স বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

ছাত্রশিবির রগ কাটে আর ছাত্রলীগ মাথা কাটে: হাজী সেলিম

ঢাকা : ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম বলেছেন, এভাবে আর দেশ চলতে পারে না। প্রতিদিন পত্রিকায় নিউজ হয় ছাত্রশিবির রগ কাটে আর ছাত্রলীগ মাথা কাটে। আর পুলিশ লাশ পেয়ে মাথা খুঁজে বেড়ায়।

সোমবার দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি দ্রুত দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

বিভিন্ন পত্রিকার উদাহারণ টেনে সেলিম বলেন, দেশে যখন কোনো ঘটনা ঘটে তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। আসামিদের ধরার চেষ্টা করছি। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা কি দেখি এর কোনো সুরাহা হয় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে এ সংসদ সদস্য বলেন, আমরা যাতে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারি তার ব্যবস্থা করুন। আর আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মত কোন ঘটনা দেখতে চাই না।

খালেদা, প্রণব এবং ওরা তিন জন

অমিত রহমান : খালেদা জিয়া জানার চেষ্টা করছেন। কেন তার ঘনিষ্ঠ ‘তিনজন’ প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাতে বারণ করেছিলেন। কি ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তারা কি দলের স্বার্থে না অন্যদের স্বার্থে খেলছিলেন তা-ও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। সময় যত যাচ্ছে ততই তার মধ্যে সন্দেহ জাগছে, এটা হয়তো কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। দলের লোক, দেশী-বিদেশী শুভার্থীরা বলছেন, এটা ছিল অশোভন, অগ্রহণযোগ্য। শিষ্টাচারবহির্ভূত। তাদের যুক্তি হচ্ছে, খালেদা ভারত সফরে গেলেন। সম্পর্ক উন্নয়নের নয়া দিগন্তের সূচনা হলো। নজিরবিহীন না হলেও অভূতপূর্ব সংবর্ধনা দেয়া হলো। খালেদা নিজেও বিস্মিত হলেন। ঘনিষ্ঠদের বললেন, তার ধারণার বাইরে সৌজন্য দেখালো ভারত। তিনি নিজেই ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জিকে আমন্ত্রণ জানালেন ঢাকা সফরের জন্য। প্রণব এলেন। কিন্তু খালেদা নেই। অকার্যকর এক হরতালের অজুহাতে নির্ধারিত সৌজন্য বৈঠক বাতিল করলেন এক ই-মেইল বার্তা পাঠিয়ে। কি কারণ ছিল তা নিয়ে অনেকদিন গবেষণা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ঝুঁটি বাঁধেন এমন দু’জন তাত্ত্বিক এবং একজন পেশাজীবী এক সকালে গিয়ে বললেন, ম্যাডাম সর্বনাশ হয়ে যাবে। প্রণব বাবুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবেন না। গেলেই বিপদে পড়বেন। হরতালের মধ্যে অন্য কোন শক্তি হামলা চালিয়ে আপনার যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রাণনাশের ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। তাছাড়া ১৮ দলের শরিক জামায়াতের হরতালের মধ্যে আপনি যদি সোনারগাঁও হোটেলে যান তখন সরকার বলবে হরতাল ভঙ্গ করে আপনি ভারতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের আরও যুক্তি, ভারত আপনাকে চায় না। এর পেছনে যে মানুষটি সক্রিয় ভূমিকায় তিনি হচ্ছেন প্রণব মুখার্জি। বাংলাদেশ বিষয়ে সব নীতি তিনিই গ্রহণ করেন। সুতরাং, তাকে বোঝানো উচিত বাংলাদেশ একচেটিয়া তার বা তাদের পক্ষে নয়। এখানেও ভিন্নমত রয়েছে। খালেদা গিলে ফেললেন প্রস্তাবটি। উল্লিখিত তিনজন এমনভাবে কথা বলেন, মনে হবে তারা ছাড়া বিএনপির পক্ষে আর কেউ নেই। যুক্তিতে তারা পারদর্শী। এর মধ্যে একজন তাত্ত্বিক। হালে চরম দক্ষিণপন্থি। নানা লেনদেনের সঙ্গেও জড়িত। টেলিভিশন টকশোর একটি মন্তব্য নিয়ে মাঝখানে তাকে নিয়ে শোরগোল তুললেন শাসক সমর্থিত নাগরিক সমাজের কেউ কেউ। গ্রেপ্তারের দাবিও তুললেন। কিন্তু এক রহস্যজনক কারণে তা থেমে গেল। হেফাজতের সমাবেশের আগে খালেদা জিয়ার আলটিমেটাম দেয়ার ক্ষেত্রেও এই ভদ্রলোকের অবদান ছিল। ভিন্ন এক বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়ে খালেদাকে দিয়ে বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন তিনি। বিএনপি মহলেই এ নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন চালু আছে মেলাকাল থেকে। আরেক ভদ্রলোক অপেক্ষাকৃত তরুণ। বামপন্থি ছিলেন শুরুতে। এখন জাতীয়তাবাদী ভূমিকায়। চাঞ্চল্যকর সব খবর দেন ঘনিষ্ঠ মহলে। বলেন, তার সঙ্গে নাকি ‘উত্তরে’র ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। কাল হবে, পরশু হবে, দিন-তারিখও বলেন এমনভাবে শুনে যে কেউ চমকে উঠতে পারেন। খালেদা জিয়ার কাছেও মাঝেমধ্যে পৌঁছে যান। অথবা দূত মারফত এমন খবর দেন, দরকার নেই আন্দোলন বেগবান করার। এমনিতেই আন্দোলন গতি পেয়ে যাবে। শাসকেরা হাওয়ায় মিইয়ে যাবে। আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন দু’দিন কর্মীদের সহায়তা বন্ধ করেছিলেন খালেদা জিয়া। তাকে বলা হয়েছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। এখন খালেদা নিজেই ঘনিষ্ঠদের বলছেন, ওরা আসলে অনুপ্রবেশকারী। হেফাজতের সঙ্গেও ওরা যোগাযোগ স্থাপন করে ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। যে কারণে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার আর মাদরাসার আর্থিক সহায়তার টোপ দিয়ে সরকার মাঝপথে থামিয়ে দেয় হেফাজতের কাফেলা। হেফাজত প্রধানের ছেলের ভূমিকাও বেশ রহস্যজনক। খালেদার তৃতীয় ব্যক্তি বেশ শক্তিশালী। চার দেয়ালে বন্দি থাকার পরও প্রভাব অনেক বেশি। তিনি কিছু বললে বারণ করতে পারেন না খালেদা। এমনকি নিজের স্বার্থও না। উল্লিখিত তিনজন কাদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে সোনারগাঁও হোটেলে না যেতে বলেছিলেন তা নিয়ে দলের মধ্যে নানারকম মুখরোচক খবর চালু আছে। পাঠকদের মনে রাখার কথা, যে সময়টায় প্রণব মুখার্জির সঙ্গে খালেদার সাক্ষাৎ করতে আসার কথা ছিল, প্রায় একই সময় হোটেলের উত্তর পাশে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছিল। যে খবর ভারতীয় মিডিয়া দ্রুত প্রচার করেছিল। এটা যে পূর্ব পরিকল্পিত ছিল এখন বিএনপি নেতারা বুঝলেও তখন আমলেই নেননি। এমন কি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শমসের মবিন চৌধুরীও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশ্ন না তুলে ই-মেইল বার্তা টাইপ করেছিলেন। সম্পর্ক মেরামতে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লি গিয়েছিল প্রণবকে বোঝাতে। দুঃখ প্রকাশও করা হয় তাদের পক্ষ থেকে। তখন পানি অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। প্রণব বাবু সহজে নিলেও ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা এটাকে অপমান বলেই দেখেছেন। ভারতীয় প্রেসিডেন্ট যখন দিল্লিগামী প্লেনে ওঠেন তখন সফরসঙ্গী ভারতীয় সাংবাদিকরা তাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন। বলেন, প্রণব বাবুকে নয়- গোটা ভারতবাসীকে অপমান করলেন বিরোধী নেত্রী। ধীরস্থির প্রণব বাবু কূটনৈতিক জবাব দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি নিজেও উপলব্ধি করেন এটা এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ভারতের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ বরাবরই বিএনপির ঘোর বিরোধী। তারা সুযোগ খুঁজছিলেন। তাদের হাতে অস্ত্রটা তুলে দেন খালেদা নিজেই। জামায়াতের সঙ্গে প্রেম দেখাতে গিয়ে নিজেকে অসহায় করে তোলেন। তার ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপরও সুযোগ এসেছিল। সময়মতো পদক্ষেপ নেননি। যে কারণে ভারত একতরফাভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে চলে যায়। অনেকে অবশ্য বলেন, খালেদা সাক্ষাৎ করলেও ক্ষমতা পেতেন না। নানা কারণে ভারত খালেদাকে আস্থায় নিতে পারে না। তারপরও সাধারণ ভদ্রতা বলে কথা। খালেদা সব সময় সিদ্ধান্ত নেন বিলম্বে। পেট্রল বোমা আর গানপাউডার দিয়ে মানুষ কতল করা হচ্ছে অথচ খালেদা নীরব। একবারও নিন্দা জানালেন না। পাগলও জানে কারা এগুলো করেছে। যখন বিএনপি মহাসচিব কথা বললেন, এটা তাদের কাজ নয়, তখন দুনিয়াব্যাপী চাউর হয়ে গেছে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। মনে রাখতে হবে এটা হাসিনার শাসন। তিনি ফুলটাইম রাজনীতি করেন। আর খালেদা করেন মাত্র চার ঘণ্টা। পৃথিবীতে অনেক বড় বড় কাজ হয়েছে সকাল আটটা থেকে বেলা ২টার মধ্যে। এই সময়টা ঘুমিয়ে কাটালে ফল যা পাওয়ার তা-ই পাওয়া যাবে। বাড়তি যা পাওয়ার তা বোনাস। মানুষ সরকারের ওপর বিরক্ত। শত ভুলের মধ্যেও মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এখনও আকুতি করছে। তাছাড়া সবাইকে অবিশ্বাসের পাল্লায় তুলে বিচার করলে কোনকালেই ভাল কিছু পাওয়া যায় না। শেখ হাসিনা একদিন যাদের অবিশ্বাস করতেন, দল ও মন্ত্রিসভায় স্থান দেননি, তারা এখন মূল শক্তি। মতিয়া চৌধুরীরা দূরে বসে ভাবছেন এ কি হলো। এটাই তো রাজনীতির খেলা। ভারতও এক সময় সংস্কারপন্থিদের সমর্থন দিয়েছিল জরুরি জমানায়। পরিণতিতে শেখ হাসিনা বিরক্ত হয়ে সংস্কারপন্থিদের ক্ষমতার বাইরে রেখেছিলেন। প্রণব বাবু নিজে অন্তত তিনবার অনুরোধ করে হাসিনার মন গলাতে পারেননি। বিরোধীদের আন্দোলনে শেখ হাসিনার সাজানো সংসার যখন ভেঙে পড়ছিল তখন প্রণব বাবুর পরামর্শে চিহ্নিত সংস্কারপন্থি আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, মোহাম্মদ নাসিম, আসাদুজ্জামান নূরকে দলে ফিরিয়ে নেন। এরাই এখন হাসিনার প্রথম সারির সৈনিক। আর খালেদা এখনও সন্দেহ আর অবিশ্বাস থেকে বের হতে পারেননি। রাজনীতি কি এতটাই সহজ! - মানবজমিন থেকে

এমপিদের ফ্ল্যাটে পরিবার ছাড়া অন্যরা থাকতে পারবেনা

ঢাকা : এমপিদের বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, বাবা, মা,  ভাইবোন ব্যতিরেকে অন্য কেউ অবস্থান করতে পারবে না।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।কমিটির সভাপতি চীফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

এসময় কমিটির সদস্য মোঃ আব্দুস শহীদ, নূর-ই-আলম চৌধুরী, সাগুফতা ইয়াসমিন, মোঃ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, ফজলে হোসেন বাদশা, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মোঃ আসলামুল হক, মোছাঃ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, নাজমুল হক প্রধান ও তালুকদার মোঃ ইউনুস  বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেন।

বৈঠকে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী ফ্ল্যাট বরাদ্দ চূড়ান্ত হবে, মন্ত্রীদের অনুকূলে কোন ফ্ল্যাট বরাদ্দ হবে না মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহ্‌জাহান এর মৃত্যুতে সভায় শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজকে সভাপতি, নূর-ই-আলম চৌধুরী, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও মোঃ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে সদস্য করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট আবাসিক সাব-কমিটি গঠন করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

যমুনা সেতুর ওপর সেনাবাহিনীর গাড়ি উল্টে সার্জেন্ট নিহত

সিরাজগঞ্জ : বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ওপর সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে এক সার্জেন্ট নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন অপর এক সেনাসদস্য।

শুক্রবার বিকেলে সেতুর ১৩নং পিলারের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সার্জেন্ট প্রভাত কুমার বগুড়া-৬ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ী নওগাঁ জেলায়।

বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ট্রাফিক সিকিউরিটি ম্যানেজার লে. কমান্ডার মুজাহিদ জানান, বিকেলে ঢাকার টঙ্গী থেকে বগুড়াগামী সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ১৩নং পিলারের কাছে পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় গাড়িটি সেতুর ওপর উল্টে পড়ে যায়। এতে সেনাবাহিনীর দুই সদস্য গুরুতর আহত হয়।

পরে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব ক্যান্টনমেন্টের সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে আসা বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে প্রভাত কুমার (৪৮) মারা যান।

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

ঢাকা: গাজীপুরের কাপাসিয়ায়  লেগুনার সঙ্গে সংঘর্ষে একটি অটোরিকশার চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। উপজেলার জামিরার চর এলাকায় ঢাকা-কাপাসিয়া সড়কে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতরা হলেন-  অটোরিকশা চালক নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে ফারুক (২৫), চর হাজী খাঁ গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন আক্তার (৩৫), লেবুতলা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে জসীম উদ্দিন (৩০) ও অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবক (৩০)।
এদের মধ্যে ফারুক ও অজ্ঞাত যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাকি দুজন। এই দুর্ঘটনায় আহত হন তিনজন। তারা হলেন- কাপাসিয়ার আড়ালিয়া গ্রামের খোকন মিয়া (৪৫), তার স্ত্রী ফরিদা পারভীন (৩৫) ও তাদের শিশুকন্যা মেরী (২)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কাপাসিয়া থেকে গাজীপুরগামী লেগুনাটির সঙ্গে বিপরীতমুখী অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি উল্টে গেলে চালকসহ এর যাত্রীরা আহত হন।

কাপাসিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হুদা বলেন, চালক ফারুক ও অজ্ঞাতনামা যুবককে কাপাসিয়া হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পারভীন ও জসীম নরসিংদী হাসপাতালে রাত ১টার দিকে মারা যান বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পাবনায় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা

পাবনা:‘চেতনায় শাণিত শক্তিই মুক্তির বারতা’ শীর্ষক শ্লোগানে ১৩তম মানবাধিকার নাট্য উৎসব-২০১৪ পাবনায় পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার বিকেলে শহীদ সঙ্গীত সাধন মহাবিদ্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার বেড় হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে শহীদ সঙ্গীত সাধন মহাবিদ্যালয়ে কর্মশালায় মিলিত হয়। কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য সংগঠনের সভাপতি, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট কামাল লোহানী। এছাড়াও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চিত্রাঙ্কন, আলোচনা সভা, নাটক, নৃত্য ও সংগীতের আয়োজন করা হয়।

অভয়নগরে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় কলাবাগান কেটে সাবাড়

অভয়নগর (যশোর): অভয়নগরে মাদক সেবন নিষেধ করায় দেড় শতাধিক কলাগাছ কেটে দিয়েছে মাদকসেবীরা। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার গভির রাতে নওয়াপড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বুইকারা এলাকায় নওয়াপাড়া মহিলা কলেজের অধ্যাপক জাকির হোসেনের কলাবাগানে। জাকির হোসেনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি শিক্ষাকতার পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে বাড়ির চারিপাশে কলা চাষ করেন। এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ি তার কলাবাগানটিকে নিরাপদ জায়গা মনে করে মাদকসেবন ও মাদক বিক্রি করে আসছিল। সর্বশেষ গত রোববার সন্ধ্যায় তাদেরকে ্ওই কলাবাগান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পুনরায় আসতে নিষেধ করা হয়। সেই রাগে মাদকসেবীরা রাতের আধারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেড় শতাধিক ধরন্ত কলাগাছ কেটে দেয়। ক্ষতির পরিমান আনুমানিক লক্ষাধিক টাকা। এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানিয়েছি। ন্যায় বিচার নাপেলে আইনের আশ্রয় নেব।

মোরেলগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৩ জন

মোরেলগঞ্জ: তৃতীয় ধাপের তফশীল অনুযায়ী আগামী ১৫মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ১৫ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ ও জমার জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে। ওই সময়ের পূর্বে বুধবার পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে ৩জন, ভাইচ চেয়ারম্যান পুরুষ ও মহিলা পদে ১জন করে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন বলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার এস. এম হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন।
এ পর্যন্ত যারা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন তারা হচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিএনপির আব্দুল মজিদ জব্বার, কাজী মনিরুজ্জামান ও জাতীয় পার্টির সোমনাথ দে। ভাইচ চেয়ারম্যান (পুরুষ)পদে জামায়াতের বজলুর রশিদ বাদশা ও (মহিলা) বিএনপির শাহীন ফেরদৌসী হ্যাপী।
আওয়ামী লীগ গত মঙ্গলবার বর্ধীত সভায় ভোটের মাধ্যমে তিনটি পদেই প্রার্থী চুড়ান্ত করলেও তারা এখনো মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেনি। বর্ধীত সভার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দ্বন্দ ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকদলের সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দ্বিধা বিভক্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্ধীত সভায় প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি ঘোষনা করা মাত্র বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ ডা. মোজাম্মেল হোসেনসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সামনেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। এ দ্বন্দের কারণে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে নামার আশংকা করছেন অনেকে।

মাছ ও সব্জী চাষে সফল উদ্যমী এক নারীর গল্পগাঁথা

আমতলী (বরগুনা): বছরটা ১৯৯৭। নাজমীনের বিয়ে হয় আমতলী উপজেলার চলাভাঙ্গা গ্রামের হাবিব চৌকিদার এর সাথে। বিয়ের ৪ বছরের মাথায় তাদের সংসারে আসে একটি পুত্রসন্তান। স্বামী হাবিব চৌকিদার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে হাল চাষ করে যে ফসল পান তাতে তাদের সংসার চলে না।
বাড়ির যৌথ পুকুরে মাছ চাষ হয় না। ফলে পরিবারের আয় বৃদ্ধির জন্য ২০০৮ সনে রাস্তার পাশের নিজস্ব ২৬ শতক জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষের উদ্যোগ নেন। সাথে সাথে স্বামীকে দিয়ে পুকুর পাড়ে একটি দোকান করে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন। 
পাড়া প্রতিবেশীর কাছ থেকে শুনে ও নিজের ধারণা অনুযায়ী পুকুরে মাছ আর পাড়ে সীমিত আকারে সব্জী চাষ  করেন। ভেবেছিলেন পুকুরে অনেক মাছ হবে-নিজে খাবেন, আতœীয়-স্বজন কে দিবেন, বেশী হলে বাজারে বিক্রিও করবেন। কিন্তু না সব্জী মোটামুটি হলেও মাছের স্বাদ তেমন একটা নিতে পারেন নাই। এভাবে চলে ৩-৪ বছর। কোডেকের মাধ্যমে ২০১২ সনে ইউএসআইডি এর অর্থায়নে এআইএন প্রকল্পের বাণিজ্যিক প্রদর্শনী চাষী হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে নাজমীন  তার স্বামী হাবিব চৌকিদার কে নিয়ে নিয়মমাফিক পুকুরে মাছ ও পাড়ে সব্জী চাষ শুরু করেন।
 প্রকল্প থেকে ওয়ার্ল্ডফিশের কারিগরি বিশেষজ্ঞগণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং বলা হয় যে সকল কাজ অবশ্যই সঠিকভাবে করতে হবে, কোন কাজে অবহেলা করা যাবে না। নাজমীনের  প্রত্যয় ছিল মাছ ও সব্জী চাষের কোন কাজই প্রকল্পের পরামর্শের বাইরে করবেন না। কারণ নিজের মতে মাছ ও সব্জী চাষ করে কোন সফলতার মুখ দেখছিলেন না।
 অতএব এবার তার আন্তরিক ইচ্ছা ছিল যে কোন প্রকারেই হোক সফল তাকে হতেই হবে।
ওয়ার্ল্ডফিশ ও কোডেকের উন্নয়ন কর্মীদের পরামর্শ মোতাবেক পোনা ক্রয়, পরিবহন, মজুদ ও খাদ্য প্রদান ইত্যাদি সকল কাজই যথারীতি করেছেন নাজমীন আপা। শুরুতেই গুণগতমানের ও বড় সাইজের পোনা মজুদ করেছেন, পোনা ক্রয় করেছিলেন এআইএন প্রকল্পের নার্সারার জব্বার প্যাদার নিকট থেকে-সিলভার, কাতলা, রুই, মৃগেল, গ্রাসকার্প, মিরর কার্প ও পুঁটি এই ৭ প্রজাতির পোনা মজুদ করেছিলেন- এআইএন প্রকল্পের নার্সারার জব্বার প্যাদার পোনাগুলিও ছিল নাজমীনের জন্য এক আর্শীবাদ। মাসে একবার কিছু মাছের ওজন নিয়ে নমুনায়ন করে খাবার নির্ধারণ করেছেন ও সে অনুপাতে সকাল বিকাল খাবার প্রদান করেছেন। এসব কিছুই ছিল তার কাছে নতুন-মাছ চাষ করতে এত নিয়মকানুন মানতে হয় তা তার মোটেই জানা ছিল না।
 সব্জী চাষের ক্ষেত্রেও ছিল তার ব্যাপক সতর্কতা। বীজের জাত ও বীজ নির্বাচন থেকে শুরু করে মাদা তৈরি, বীজ রোপন, পরিচর্যা সকল কাজই তিনি করেছেন প্রকল্পের পরামর্শ মাফিক। মাত্র ৮ মাসে ২৬ শতাংশের পুকুর থেকে ১২৯৯ কেজি মাছ আহরণ করেন নাজমীন আপা যা কখনও তিনি কল্পনাও করতে পারেন নাই। অথচ এই পুকুরটিতেই ৩-৪ বছর মাছ চাষ করেছেন নিজের মত করে আর তখন উৎপাদন পেয়েছেন মাত্র ২০০-৩০০ কেজি। মাছ ও সব্জী চাষে ১,১৫,০০০- টাকা খরচের বিপরীতে ৬৫,০০০ টাকার সব্জী এবং ১,৯৮,০০০ টাকার মাছ বিক্রি করেন। মোটের উপর লাভ হয় ১,৪৮,০০০ টাকা।
২০১৩ সনেও নাজমীন তার পুকুরে মাছ চাষ করছেন এআইএন প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে। নাজমীনের আশা এ বছর তিনি গতবারের চেয়েও বেশী উৎপাদন পাবেন। মাছ চাষের লাভ দিয়ে স্বামী হাবিব চৌকিদার গতবছর তাকে বেশ কিছু জমিও কিনে দিয়েছেন। আর সাথে সাথে স্বামীর দোকানখানাও বড় করেছেন। তিন ছেলে সাইফুল, মেহেদী ও নাফি কে নিয়ে সুখেই আছেন নাজমীনও তার পরিবার ।

না’গঞ্জ শহরে খালেদা জিয়ার বিকৃত সব ফেষ্টুন অপসারণ

নারায়ণগঞ্জ: বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা শহরের চাষারা মোড়ে যুবলীগ কর্তৃক লাগানো বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সকল বিকৃত ফেষ্টুন অপসারন করে পুড়িয়ে দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও সরকারী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন,আমরা সহনশীলতায় বিস্বাসী ও সকল রাজিৈতক দলের প্রতি শ্রদ্বাশীল।তবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিকৃত ফেষ্টুন লাগানোকে কোন ভাবেই আমরা সহ্য করবো না।তিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতিও জাতীয় নেতা-নেত্রীদের ছবি বিকৃত না করার  আহবান জানান।

নারায়ণগঞ্জে হোটেল কক্ষে প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা খুন

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে প্রেমিকের হাতে প্রেমিকা কাজলকে (২৩) খুন হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শহরের ২নং রেলগেটস্থ রূপায়ন আবাসিক হোটেলের ৪নং কক্ষ থেকে গলাকাটা অবস্থায় কাজলের মৃত দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রেমিক সাইদুর রহমানকে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ একটি ছোরাসহ গ্রেফতার করেছে।
সাইদুর রহমান ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকাতে বসবাস করে। সে ব্যটারী চালিত অটো রিকশার চালক। তার বাড়ি বগুড়া জেলার শেরপুর থানার দুপচাচিয়ায়। আর কাজলের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং এলাকাতে। কাজলও ফতুল্লায় বসবাস করে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শাহজালাল জানান, মঙ্গলবার বিকেলে রূপায়ন হোটেলের ৪নং কক্ষ ভাড়া নেয় সাইদুর রহমান ওকাজল। রাত সাড়ে১১টায় হঠাৎ করেই সাইদুর রহমান দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হোটেলের লোকজন সাইদুর রহমানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ দেয়। পরে ওই কক্ষ থেকে কাজলের গলাকাটা লাশ এবং রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।
শাহজালাল আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সাইদুর রহমান স্বীকার করেছে কয়েক মাস ধরে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। মঙ্গলবার কাজল তাকে শহরে আসতে বলে। দুইজন পরে রূপায়ন হোটেল ভাড়া নেয়। রাতে সাইদুরের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনায় ঝগড়া হলে সে কাজল ছোরা নিয়ে সাইদুরকে আক্রমন করে। আক্রমন থেকে বাঁচতেই সাইদুর পাল্টা কাজলকে হত্যা করে।
এদিকে কাজলের বোন সাবিনা পুলিশকে জানায়, সাইদুর তাদের বাড়ি গেছে। কাজলকে বিয়েরও আশ্বাস দিয়েছে। এটা পরিকল্পিত হত্যা বলেও দাবী করেন সাবিনা।

সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জমে উঠেছে

সরিষাবাড়ী (জামালপুর): জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন জমে উঠেছে। মনোয়ন পত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে ২জন চেয়ারম্যান, ৪ জন ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) এবং ৪ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। যদিও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় না তার পরও নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন পুষ্ট প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। বিশেষ করে স্থানীয় বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী মাঠে জমজমাট লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রচারনার কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। কর্মী বাহিনীর প্রতি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ভুলত্রুটি সমালোচনা করার কৌশল নিয়েছেন। একই সাথে সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িসহ নানা পরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন। এবারের নির্বাচনে কৌশলগত কারনে দল গুলোর মধ্যে পরোক্ষ ভাবে একক প্যানেল দাড় করানো হয়েছে। উভয় দল চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান-মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্যানেল গঠন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের অংশ গ্রহনের কারনে এলাকায় নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিদ্বন্দিতা পূর্ণ নির্বাচন আশা করছে সাধারণ ভোটাররা।
উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম (আনারস), জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি গিয়াস উদ্দিন পাঠান (দোয়াত-কলম)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মামুন ফকির (চশমা), পিংনা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা ফতেহ লোহানী (উড়োজাহাজ), জহুরুল ইসলাম (তালা), আঃ হাই (টিউবঅয়েল) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থক সাবেক পৌর মহিলা কাউন্সিলর হোসনেয়ারা আসমা (কলস), আওয়ামীলীগ সমর্থিত সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জহুরা লতীফ (ফুটবল), জাহানারা হাবিব (প্রজাপতি), ফরিদা ইয়াসমীন (হাঁস)।
এবারের উপজেলা নির্বাচনে পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়নের ২ লাখ ১১ হাজার ৮৮৫ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ৯০৮ জন পুরুষ ও ১ লাখ ১১ হাজার ৯৭৭ জন মহিলা ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। 

রূপগঞ্জে কৃষি ও ফসলি জমির মাটি গিলে খাচ্ছে ইটভাটা

নারায়ণগঞ্জ: ফসলি ও কৃষি জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে রূপগঞ্জের ৩৭টি ইটভাটায়। উজার হয়ে যাচ্ছে বনের গাছ। এতে প্রশাসন বা সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে রূপগঞ্জের ইটভাটাগুলোতে আবাদি জমির উর্বরা মাটি কেটে নেয়া হয়। এ মাটির ব্যবসায় জড়িত রূপগঞ্জের অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী লোক। প্রতিদিন ৩ শতাধিক ট্রাক, ট্রাক্টর দিয়ে ইটভাটায় মাটি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। কখনো কখনো কৃষি জমির মালিক মাটি বিক্রি করতে অসম্মতি জানালে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রূপগঞ্জের কৃষি ও ফসলি প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমির কি পরিমাণ মাটি ইটভাটায় যাচ্ছে এর কোন হিসাব নেই কৃষি অফিসে। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ইট তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কোন কোন ইটভাটার আদৌ ছাড়পত্র নেই। ঘরে বসেই ইটভাটাগুলোকে অনুমোদন দেয়ার কারণে আবাদি জমি ও জনবসতিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ইটভাটা। উপজেলার বেশিরভাগ ইটভাটা আবাদি জমি ও জনবসতিতে স্থাপন করায় ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় প্রতিনিয়ত বিষাক্ত হয়ে পড়ছে পরিবেশ। পাশাপাশি আবাদি জমির উর্বর মাটি দিয়ে ইট তৈরি হওয়ায় আশপাশের আবাদি জমির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। রূপগঞ্জের ৩৭টি ইটভাটায় জমির উর্বর মাটি ব্যবহারে দেড় সহস্রাধিক বিঘা জমির উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা।
জানা গেছে, ২০০৮ সাল পর্যন্ত উপজেলায় ১৯টি ইটভাটা থাকলেও ৫ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭টিতে। অনেক ভাটায় জেলা প্রশাসনের ইট পোড়ানোর অনুমতি (ফায়ারিং) না নিয়েই ইট পোড়ানো হচ্ছে। ইট পোড়ানো কিংবা স্থাপনের পূর্বেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ভূমি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কিংবা বন বিভাগের ছাড়পত্র নিয়ে অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করতে হয়। কিন্তু দেখা গেছে, ইটভাটা মালিকেরা মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়েই ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করেন। ইতোপূর্বে গড়ে ওঠা ভাটাগুলোকে হাইব্রিড বার্টিক্যাল চ্যাপ, হফম্যান কিলন, জিকজ্যাক কিলন এবং উন্নত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ দেয়া হলেও চলতি মৌসুমে ভাটাগুলো এসব পদ্ধতি অনুসরণ কিংবা রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ১৯৯২ সালের প্রজ্ঞাপনে ‘কৃষিজমিতে ইটভাটা নির্মাণ দন্ডনীয় অপরাধ’ উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও রূপগঞ্জে কোন ইটভাটায় এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। উল্টো কৃষিজমি নষ্ট করে যত্রতত্র প্রতিযোগিতামূলক ইটভাটা গড়ে উঠছে। এসব ইটভাটার আবাদি জমির উর্বর মাটি ব্যবহারের কারণে কৃষিপ্রধান এ এলাকার মাটি উৎপাদন শক্তি হারিয়ে ফেলছে। ফলে আগামীতে ব্যাপক ফলন বিপর্যয়ে পড়বে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা। তারপরও পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন ভাটাগুলো পরিদর্শন না করে দপ্তরে বসেই একের পর এক অনুমতি ও ছাড়পত্র দিয়েই চলছেন। এভাবে লোকালয় ও কৃষি জমিতে ইটভাটা গড়ে তোলায় একদিকে যেমন কৃষি জমি হারাচ্ছে তার উর্বরতা এবং কমে যাচ্ছে কৃষি জমি। অন্যদিকে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের কবলে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে মানুষ। কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট এবং ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দড়িকান্দি এলাকার কৃষক মোহন মিয়া জানান, ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারিফুজ্জামান মিয়া মাটির ঠিকাদারদের কাছ থেকে দৈনিক ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে থাকেন। এ টাকার অর্ধেক প্রদান করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারকে। মাটি কাটতে বাঁধা দিলে কৃষকদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন রাতে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারিফুজ্জামান মিয়াকে মাটির ঠিকাদার সাওঘাট গ্রামের জমির ভুঁইয়া ৩ হাজার টাকা, বরপা এলাকার মাসুম ৪ হাজার, সায়েম ৪ হাজার টাকা, কামাল ৪ হাজার টাকা, পনির ৪ হাজার টাকা, মাতুয়াইল এলাকার নাছিরউদ্দিন ৪হাজার টাকা, মীরকুটিরছেও গ্রামের শহিদুল্লাহ ৩ হাজার টাকা, মর্তুজাবাদ গ্রামের হারুন ৪ হাজার টাকা, গনি মিয়া ৪ হাজার টাকা করে প্রদান করছে।
কৃষকদের জমি দখলে নিতেও এসব ঠিকাদারদের পুলিশ সহযোগিতা করে থাকে। প্রতি বছর ভুমিদস্যুদের কারণে শত শত বিঘা জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমেও ৪ থেকে ৫টি ভেকো দিয়ে ৩ শতাধিক ট্রাকে করে আবাদি জমির মাটি কেটে ইটের ভাটায় বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারিফুজ্জামান মিয়া জানান, মাটির ট্রাক চলাচলে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রেজা জানান, জমির মূল উর্বরতা শক্তি থাকে মাটির উপরিভাগে। আর এ উর্বরতা শক্তি সঞ্চয় করতে সময় লাগে ৬-৭ বছর।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩