নির্বাচন কমিশনকে মেরুদণ্ডহীন বললেন খালেদা

Kanaighat News on Sunday, June 30, 2013 | 10:51 PM


ঢাকা: বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে অথর্ব ও মেরুদণ্ডহীন উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বরিশালের নব-নির্বাচিত মেয়র আহসান হাবীব কামালের শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত সাড়ে চার বছরে এ সরকার কিছুই দিতে পারে নি। খুন, গুম, হত্যা এবং সন্ত্রাসীর জন্য এখন দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ের জন্য দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।

সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলে, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা তাদের জামানত হারাতো।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বরিশালের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

বাংলামেইল২৪ডটকম/

স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়ায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

ঢাকা: যৌন নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে স্বামীর পুরুষাঙ্গটাই কেটে দিয়েছেন ক্যাথরিন কিউ। তবে নির্যাতন থেকে চিরমুক্তি মিললেও আদালত তাকে ছাড়েননি। এ অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে তার।
 
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঘটেছে এমন ঘটনা। দ্য অরেঞ্জ কাউন্টি জেলা এটর্নি কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, ক্যাথরিন কিউ নামের ওই নারী ২০১১ সালের জুলাইয়ে তার স্বামীকে আক্রমণ করে তাকে গুরুতর আহত করেন। আর সে কারণেই তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়েছে। ওই আক্রমণে সে তার ৫০ বছর বয়সী স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছেন।  
 
এদিকে ক্যাথরিনের স্বামী বলেছেন, তার বাকি জীবন অসহায় অবস্থায় কাটবে কারণ তিনি নিজের পরিচয় হারিয়েছেন।
  
ক্যাথরিনের আইনজীবি বলেছেন, শৈশবে নিগ্রহ এবং স্বামীর যৌন নির্যাতনের কারণে ক্যাথরিন মানসিক সমস্যা ভুগছিলেন।
 
কৌশুলীরা বলেন, ক্যাথরিন তার স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তাকে ১০ ইঞ্চি ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। আক্রমন করার সময় ক্যাথরিন চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘তুমি এটারই যোগ্য’।
 
বাংলামেইল২৪ডটকম/

কানাইঘাটে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় এক তরুনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
 কানাইঘাটে মর্মান্তিক মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এক তরুণের অকাল মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, পৌরসভার নন্দিরাই গ্রামের মৃত আলাউর রহমানের পুত্র স্বপন উদ্দিন (২২) গত বৃহস্পতিবার মোটর সাইকেল চালিয়ে সুরমা সেঁতুর বাই পাস সড়ক অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে সে গুরুতর আহত হয়। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রচুর রক্ত ক্ষরনে স্বপন উদ্দিন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গতকাল বাদ আসর নিহত স্বপনের জানাজার নামাজ নন্দিরাই জামে মসজিদ মাঠে সম্পন্ন করার পর গ্রামের গুরুস্তানে তার লাশ দাফন করা হয়। 

কানাইঘাটে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের দায়ে ২ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কানাইঘাট লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর উজানে লোভাছড়া চা- বাগানের মাঞ্জরি এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের দায়ে বাগান কর্তৃপক্ষ দুই যুবককে ১টি নৌকাসহ আটক করে কানাইঘাট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। জানা যায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে কোয়ারীর মাঞ্জরি থেকে রাতের আধারে ভারতের সীমান্ত এলাকা থেকে উপজেলার সাউদ গ্রামের আলিম উদ্দিনের পুত্র মোস্তফা (২২) এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মতরকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের পুত্র আকবর হোসেন (২৬) পাথর উত্তোলন করেছিল। এসময় বাগান কর্তৃপ তাদের আটক করে পরদিন শনিবার থানায় সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দু’জনসহ ৩জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। থানার মামলা নং- (২৬) ২৯/০৬/২০১৩ইং। এদিকে গত বুধবার লোভাছড়া পাথর কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলনের ঘটনা নিয়ে মুলাগুল নয়াবাজারে পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ উল্লেখ করে সিলেটের দু’টি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিনিধির বরাত দিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোন সমাবেশ হয়নি বলে পাথর কোয়ারীর শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

কানাইঘাটে জিপিএ-৫ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুমিন চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
 বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী আলহাজ্ব এম.এ.মুমিন চৌধুরী বলেছেন আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য আমাদের তরুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে জাতির আশা আখাঙ্কা পূরণে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি কানাইঘাটের সামগ্রিক শিক্ষার উন্নয়ন প্রচার প্রসারে ছাত্র সমাজ, সমাজ হৈতশী ও শিক্ষামূলক সংগঠন গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। মুমিন চৌধুরী গত শনিবার সকাল ১১টায় কানাইঘাট আল রিয়াদ কমিউনিটি সেন্টারে ফ্রেন্ডস সোসাইটি কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে ডিজিটাল কুইজ প্রতিযোগিতার ফলাফল এবং এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জিপিএ-৫ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। ফ্রেন্ডস সোসাইটির সভাপতি রোমান আহমদ নোমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কানাইঘাট পৌরসভার মেয়র লুৎফুর রহমান, কানাইঘাট প্রেসকাবের সভাপতি এম.এ হান্নান, আ’লীগ নেতা আব্দুর রশিদ, মোহনা টেলিভিশনের সিলেটের ব্যুরো প্রধান মুজিবুর রহমান ডালিম, জেলা যুবলীগের সদস্য আব্দুল হেকিম শামীম, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন, ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, আখতার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, আখতারুজ্জামান, হিমেল, খালিদ, জামিল আহমদ, আবুল বাশার প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্র্যাস্ট ও পুরষ্কার সামগ্রী তুলে দেন। 

পিরোজপুরে নদী আর সবুজের ছোঁয়া


ঢাকা: হুলারহাটের মাইল চারেক দূরে পিরোজপুর শহর। এরই পশ্চিম দিক থেকে বয়ে গেছে বলেশ্বর নদী। নদীর ওপারেই বাগেরহাট জেলা। পিরোজপুর এক সময় ছিল মহকুমা শহর। সে তো বহু বছর আগেকার কথা। বেড়ানোর জন্য পিরোজপুর বেশ আকর্ষণীয়। বহু স্মৃতিবিজড়িত শহর এ পিরোজপুর।

আমার শৈশবের অনেক বছর এখানেই কেটেছে। আজ অনেক স্মৃতিই এ শহর থেকে হারিয়ে গেছে। এখানকার দেশখ্যাত ব্যক্তিত্ব তৎকালীন মন্ত্রী আফজাল মিয়ার দ্বিতল ভবন আছে। কিন্তু তিনি বহু বছর হয় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। শহরের প্রধান সড়কের উত্তর পাশেই আফজাল মিয়ার বাড়ি। পাশেই ঈদগাহ। এ বাড়িটি স্মরণ করিয়ে দেয় পিরোজপুরের ইতিহাসের অনেক স্মৃতিময় কাহিনী।

পিরোজপুর শহরের কাছে পিঠে রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি। পিচঢালা পথ ধরে হেঁটে কিংবা রিকশায় ওখানে যাওয়া যায়। রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি স্মরণ করিয়ে দেবে নানা স্মৃতি।

জমিদারদের ছিল দালানকোঠা, বসতবাড়ি, মন্দির, নাট্যশালা কত কী। তবে এখন এখানে গেলে দেখা মিলবে কয়েকটি মন্দির আর মঠ। পাশেই দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ। এখানে সকালে-বিকালে খেলা করে উঠতি বয়সের ছেলেরা। গ্রীষ্মকালে মাঠের কাছে এসে দাঁড়ালে কখনও বা আকাশে কালো মেঘ দেখে হয়তো ভাববেন, রায়েরকাঠি কী ছিল, কী হয়ে গেল।

একে একে দেখে নিন মঠ ও মন্দিরগুলো, এ সব আজ সংরক্ষণের অভাবে জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। এখানে দাঁড়িয়ে পুরনো ইতিহাস খুঁজতে আপনিও ব্যাকুল হবেন। দেখবেন, জমিদার বাড়ির নহবৎখানা, অতিথিশালা, নাট্যশালা। এসব আলাদা করে আর চেনা সম্ভব নয়। সবকিছু ভেঙে পড়েছে।

ধূসর স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬২০ সালে জমিদার বংশের গোড়াপত্তন হয় এখানে। অমরেন্দ্র রায় চৌধুরী ছিলেন শেষ জমিদার। সেই আমলে এখানে দূর্গাপুজা থেকে শুরু করে সব পুজাই হতো সাড়ম্বরে।

রায়েরকাঠির ধ্বংসাবশেষ মন্দির দেখায় রয়েছে বেশ আনন্দ। উত্তরমুখী শিখররীতির মন্দিরটি দিয়ে দেখা শুরু করুন। এর উত্তর-দক্ষিণে দুটি দরজা। পাশের মন্দিরটিও বেশ সুন্দর। দ্বিতল এবং অলঙ্কারবহুল। এটি শিবমন্দির ছিল।

এ মন্দিরটির চারদিকে চারটি দরজা দেখতে পাবেন। ছয়ভুজা মন্দিরটির ওপর ছোট একটি এক বাংলা বা চারচালা রীতির ছাউনি রয়েছে। তবে মঠটি দেখার মতো। এটি একতলা একটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে এবং চারদিকে ছোট চারটি শিখররীতির রত্ন আছে। সব মিলিয়ে এটি পঞ্চরত্নবিশিষ্ট।

এসব দেখা শেষ করে আসুন কালীমন্দির, দুর্গামন্দির আর জমিদার বাড়ির কাছে। প্রবীণদের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে শুনবেন অতীতের কত না কাহিনী। একদা (১৯২২ সালে) নাট্য সম্রাট শিশির কুমার ভাদুড়ী তার দলবল নিয়ে এখানে এসেছিলেন নাটক করার জন্য। এ কথা শুনে ভাববেন, কী ছিল নামধাম, কী হয়ে গেল আজ জমিদার বাড়ির। সংরক্ষণের যে বড়ই অভাব এখন।

বর্তমানে পিরোজপুর শহর অনেক বড় হয়ে গেছে। নতুন যারা এখানে বেড়াতে আসবেন রিকশা নিয়ে তারা ঘুরে দেখবেন ছায়াঢাকা-মায়ামাখা পিরোজপুর শহরখানি। সর্বত্রই সবুজে ছাওয়া। তখন হয়তো আপনার হৃদয়ে ভেসে উঠবে কবিগুরুর লেখা ‘এ কি এ সুন্দর শোভা! কী মুখ হেরি এ! আজি মোর ঘরে আইল হৃদয়নাথ, প্রেম-উৎস উথলিল আজি॥ বলো হে প্রেমময় হৃদয়ের স্বামী, কী ধন তোমারে দিব উপহার। হৃদয়-প্রাণ লহো লহো তুমি কী বলিব যাহা কিছু আছে মম সকলই লও হে নাথ’ কবিতার এই চরণগুলো।

এখানে বলেশ্বরের তীরে রয়েছে বহু বাড়িঘর। নদীর ওপর ব্রিজ, সদর রাস্তা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। মসজিদ, মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, মঠ, কালীবাড়ি, রিজার্ভ পুকুর, ডিসি পার্ক, রাজারহাট, কুমারখালী, শঙ্করপাশা, বিশ্বরোড, সিঙ্গাপুরী শামীদের বাড়ি, আফজাল মিয়ার বাড়ি, চৌধুরী বাড়ি এখানের অন্যতম আকর্ষণ।

অর্থাৎ ৫০ বছর আগে যিনি এই শহর ছেড়ে চলে গেছেন প্রবাসে কিংবা অন্যত্র, তিনি যদি আসেন তাহলে পিরোজপুর দেখে স্মৃতির জগতেই ফিরবেন। ১৯৬০-৬২ সালের সঙ্গে এখনকার শহরের কোনোই মিল নেই। দামোদর খাল কচা আর বলেশ্বরের সঙ্গে মিশেছে।

খালটি আজ বিলুপ্তির পথে। তবে জোয়ারে এই খাল হয়ে নৌকায় করে হুলারহাটে বেড়ানোতে রয়েছে আনন্দ। সেদিনের সেই কিশোর বালকটির তখন মনে পড়বে

রফু, রুস্তম, কালো খোকা, আবদুল মান্নান, অরবিন্দু, কুদ্দুস, সিদ্দিক, তোতা, জিন্নাত, মোক্তার, আজিজ মল্লিক, সোবহান মোক্তার, চান মিয়া, বাদশা চৌধুরী, আফজাল মিয়া, আফতাব মিয়া, দরবেশ আলীর নামগুলো।

পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের কাছে এসে দাঁড়ালে টিনশেড ভবনের কথা মনে পড়বেই। টিনশেড ভবনে একদা লেখাপড়া করেছিলেন বাংলার আধুনিক কবি আহসান হাবিব। তার কথা মনে হলে ইচ্ছে জাগবে শঙ্করপাশায় যাওয়ার।

কবি আহসান হাবিবের জন্মস্থান তো শঙ্করপাশায়। রিকশা নিয়ে ওই পথে গিয়ে শুনবেন ‘বউ কথা কও’ পাখির ডাক। পিরোজপুর থেকে রিকশায় শঙ্করপাশায় যেতে ২৫ মিনিট সময় লাগবে। আহসান হাবিবের জন্মস্থান দেখে মনে পড়বে ‘রাত্রিশেষ’, ‘ছায়া হরিণ’, সারা দুপুর কাব্য, জাফরানি রঙ পায়রা’ ও ‘আরণ্য নীলিমা’ উপন্যাসের কথা।

রিকশা নিয়ে যদি পারেরহাটে চলে যান তখন দেখবেন নদী। তখন আবারও মনে পড়বে কবি আহসান হাবিবের কথা। তিনিই তো লিখেছিলেন ‘এই যে নদী/নদীর জোয়ার/নৌকা সারে সারে/একলা বসে আপন মনে/ বসে নদীর ধারে/এই ছবিটি চেনা’ কবিতার এই লাইনগুলো।

পড়ন্ত বিকালে না হয় আসুন পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এখানে এসে দাঁড়ালে মনে পড়বেই আহসান হাবিবের লেখা ‘মাঠের পরে মাঠ চলেছে/নেই যেন এর শেষ...’ কবিতার এই চরণ দু’টি। তখন প্রশ্ন সহকারে অনুশোচনা জাগবে, সেই মাঠ কোথায়? হারিয়ে গেছে কত মাঠ প্রান্তর!

সেখানে গড়ে উঠেছে বাড়িঘর। যেন শ্যামল ছায়া হারাতে বসেছে পিরোজপুর শহরখানি। কত কৃষি জমি নষ্ট করে সেখানে বাড়িঘর ও নতুন নতুন ভবন স্থাপিত হয়েছে। বলেশ্বর তীরে ছিল ফসলী জমি। তাও সময়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখনকার ছেলেটি কি আর তা জানবে!

পায়ে হেঁটে আসুন আদর্শ বিদ্যালয়ের কাছে। একদা এই স্কুলটির নাম ছিল ‘হিন্দু স্কুল’। কত নামধাম এই স্কুলের। কড়া শাসন ছিল তখন। পুজোর সময় এই স্কুল কম্পাউড নব সাজে সেজে উঠত। ঢাকঢোল-বাদ্য বাজত। পুজো দেখার জন্য জনতার ভিড় লেগেই থাকতো।

পাশেই কুঞ্জ বাবুর বাড়ি। এই বাড়িতে বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকত। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত এই বাড়িতে ধূমধাম সহকারে রয়ানী কীর্তন চলত। তা দেখার জন্য হাজারো মানুষ ভিড় করত। আজ কুঞ্জ বাবু নেই। সেই উৎসবও হারিয়ে গেছে চিরতরে। বড় মসজিদ আছে। কিন্তু নেই সেই হাফেজ সাহেব। তখন অনুশোচনা জাগবে!

পিরোজপুরে সাংস্কৃতিক উৎসব আজও হয়। কিন্তু যে বালকটির বয়স আজ ষাট, তিনি তো অতীত ভুলে যাননি এখনও। পিরোজপুরের কেউ বেড়াতে এলে তিনি গাইড হয়ে অকপটে বলে যান কণ্ঠশিল্পী ক্ষমাদাশ গুপ্তার কথা। ‘আমারও দেশের মাটির গন্ধে ভরিয়াছে সারাময়’এ গান গেয়ে তিনি সারা শহর মাতিয়েছিলেন। তা কি ভোলার! সে তো প্রায় ৫০ বছর আগেকার কথা।

পিরোজপুরে যে কদিন থাকুন না কেন, ভুলে যাবেন না আশপাশের গাঁও-গেরাম দেখতে। কচা নদীর অববাহিকায় বেশ বড় গ্রাম পাঙ্গাশিয়া। এখানে এসে সবুজ গাছ-গাছালির সৌন্দর্য উপভোগ করুন। দেখা মিলবে নানা প্রজাতির পাখ-পাখালির। গ্রামবাসীর সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন কাজেও ইচ্ছা হলে হাত লাগাতে পারেন। আপনি যদি চিকিৎসক কিংবা শিক্ষক হন অথবা শিল্প অনুরাগী হন তাহলে চাদের স্কুলে গিয়ে তাদের হেলথ চেকআপ বা পড়ানো অথবা শিল্প সৃষ্টিতে মেতে উঠতে পারেন।

হুলারহাটের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বিশাল কচা নদী। এর ওপারেই পাঙ্গাশিয়া গাঁওখানি। এখানেই পুকুর-দীঘি, সবুজ প্রান্তর সবই চোখে পড়বে। নদীতীরে মহিষ চড়ে বেড়ানো, রাখালের হাতে বাঁশি, ঘুঘুর ডাক শুনে সবুজ মাঠের দিকে পা বাড়ান। দেখবেন তখন প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগটুকু পাবেন। তখন মনে হবে পিরোজপুর বেড়ানো যে সফল হলো!

যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সড়ক পথে দোলা, ঈগল, পর্যটন, বলেশ্বর, সুন্দরবন পরিবহনে পিরোজপুর যাওয়া যাবে। দোলা পরিবহন ছাড়ে সায়েদাবাদ থেকে। ফোনে টিকিট বুকিং দিতে পারেন। ফোন করুন : ০১৫৫২-৪৬২৮৫২, ০১১৯৯০৩০১৮১, ৭৫৪২৮৮১। পিরোজপুর কাউন্টার নতুন বাসস্ট্যান্ড। ফোন : ০১৭৩৯৬১২২৯৯, ০১১৯০৩৭০০২২। খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, চট্টগ্রাম থেকেও সড়কপথে বাসে পিরোজপুর যাওয়া যাবে। নদীপথে সদরঘাট থেকে লঞ্চ ছাত্মে অগ্রদূত, টিপু, আচল, রাজদূত। এগুলো এসে থামে  হুলারহাটে।

যেখানে থাকবেন : রাতযাপন করার জন্য পিরোজপুরে বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে, যেমন- পদ্মা, ছায়ানীড়, বিলাস, রিলাক্স, শরীফ রোজ গার্ডেন, নিরালা প্রভৃতি।

কত টাকা খরচ হবে : ৩ থেকে ৪ দিন সময় হাতে নিয়ে যাবেন। তাহলে ভ্রমণের দিনগুলো হবে আনন্দের। এ ভ্রমণে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা নিয়ে গেলেই চলবে।(ডিনিউজ)

সংসদে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেনি : অপু উকিল

ঢাকা : বর্তমান সরকারের সাড়ে চার বছরে জাতীয় সংসদে একটিও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেনি বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অপু উকিল। তিনি বলেছেন, আমাদের দল কখনও খারাপ ভাষা চর্চা করে না। এটি পছন্দও করে না। আমাদের নেত্রী সব সময় ভদ্র ভাষায় কথা বলার তাগিদ দেন। কিন্তু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কুরুচীপূর্ণ ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করে জাতীয় সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন।

সম্প্রতি  জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যরা অশালীন ভাষায় কথা বলছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ঝড় বইছে। সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া সংসদে এমন ভাষার নিন্দা করেছেন। তারপরও কেন দুদলের কয়েকজন সদস্য এমন আচরণ করছেন, এই প্রশ্নই এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে রোববার একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর মুখোমুখি হয়েছে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অপু উকিলের।

জাতীয় সংসদ পুরো জাতির আশা-আকাঙক্ষার জায়গা। সার্বভৌম সংসদে কুরুচীপূর্ণ বক্তব্য কেনো হয়? এমন প্রশ্নে অপু উকিল বলেন,  জাতীয় সংসদ একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে বসেই গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত হয়। আইন তৈরি হয়। এটি নি:সন্দেহে  পবিত্র জায়গা। এখানে কোনও ধরনের অশালীন ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। যারা এমনটা করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আপনিও এমন অভিযোগের উর্ধ্বে নন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সাড়ে চার বছরে জাতীয় সংসদে একটিও অশালীন মন্তব্য করিনি। শুধু মাত্র সেদিন জাতীয় সংসদ একটি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বেগম জিয়ার জন্ম পরিচয় তুলে ধরেছি। সেখানেও আমার কোনও অশালীন মন্তব্য নেই। সেটি আমার কোনও নিজস্ব বক্তব্য নয়। তারপরেও সেটা করতাম না। শুধু করেছি বিরোধী দল আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলেকে নিয়ে মিথ্যা ও কুরুচীপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে। তার প্রতিবাদে আমি এমন মন্তব্য করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে অপু উকিল বলেন, আমি একটি আদর্শে বিশ্বাস করি। যখন কারও বক্তব্য আমার আদর্শের ওপর কুঠারাঘাত করে তখন সহ্য করা যায় না। তখন বাধ্য হয়েই প্রতিবাদ করতে হয়। বিরোধী দলের নারী সদস্যরা এমন কিছু কথা বলেন যা শুনলেও ঘৃণা লাগে। তাই তাদের কথার প্রতিবাদেই আমরা কিছু কথা বলেছি। সেখানে কোনও অসংসদীয় ভাষা নেই। প্রয়োজনে আমাদের, সরকার দলীয় প্রত্যেক সদস্যের বক্তব্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। একটিও অসংসদীয় ও অশালীন বক্তব্য পাওয়া যাবে না।(ডিনিউজ)

বাধ্য হয়েই সংসদে এমন বক্তব্য দিয়েছি : শাম্মী আক্তার

ঢাকা : বাধ্য হয়েই জাতীয় সংসদে ‘অশালীন’ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলীয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। তিনি বলেছেন, সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা আমাদের উত্ত্যক্ত করায় আমরা তার প্রতিবাদ করেছি। যদিও দেশের জনগণ এসব কথা শুনতে চায় না। আমরাও জাতীয় সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় এমন কোনও মন্তব্য করতে চাই না যাতে সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যরা অশালীন ভাষায় কথা বলছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ঝড় বইছে।  সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া সংসদে এমন ভাষার নিন্দা করেছেন। তারপরও কেন দুদলের কয়েকজন সদস্য এমন আচরণ করছেন, এই প্রশ্নই এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

এ বিষয়টি নিয়ে রোববার একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর মুখোমুখি হয়েছে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের।

জাতীয় সংসদ একটি পবিত্র জায়গা, কেন সেখানে কুরুচীপূর্ণ মন্তব্য করা হয়? অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর এক প্রশ্নে শাম্মী আক্তার বলেন, জাতীয় সংসদ একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে বসেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। আইন তৈরি হয়। এটি নি:সন্দেহে  পবিত্র জায়গা। এখানে কোনও ধরনের অশালীন ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে এই সংসদের মর্যাদা রক্ষা করার প্রধান দায়িত্ব সরকারি দলের। বিরোধী দল হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু সরকারি দলেরই প্রধানতম দায়িত্ব। তারা কিন্তু সেটা করছে না। সরকারি দলের কারণেই সংসদে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
আপনিও এমন অভিযোগের উর্ধ্বে নয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সাড়ে চার বছরে আমরা বিরোধী দল হিসেবে বার বার সংসদে  যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের কারণে সব সময়ই সংসদ থেকে চলে আসতে হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের অশালীন বক্তব্য ও হীনমন্যতা।

শাম্মী আক্তার বলেন, আমরা সব সময় সংসদে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সংসদীয় ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা আমাদের নেতা জিয়াউর রহমার, ম্যাডাম ও তার পরিবার বিশেষ করে তারেক রহমানকে নিয়ে যেভাবে জাতীয় সংসদে মিথ্যাচার করছেন, কুরুচীপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন, তা ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এসব কিছুর প্রতিবাদ করা আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেছি। সেই জন্যেই হয়তো কিছু কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে আমাদের উত্যক্ত করেছে তার প্রতিবাদ না করে পারা যায় না।   

এক প্রশ্নের জবাবে শাম্মী আক্তার বলেন, আমি একটি আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি। যখন কারও বক্তব্য আমার আদর্শেও ওপর আঘাত করে  তখন সহ্য করা যায় না। তখন বাধ্য হয়েই প্রতিবাদ করতে হয়। সরকারি দলের  কিছু নারী সদস্যরা এমন কিছু কথা বলেন- যা সভ্যতা-ভব্যতার বাইরে। তাদের কথার প্রতিবাদেই আমরা  পাল্টা কিছু কথা বলেছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে শাম্মী আক্তার বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন সব সময় আমাদেরকে ভদ্র ও শালীন ভাষায় কথা বলা শেখান। তিনি জাতীয় সংসদে কখনও কোন অসংসদীয় ভাষায় কথা বলেননি। ২৯ জুন জাতীয় সংসদে আমাদের নেত্রীর বক্তব্যে তার প্রতিফলন ঘটেছে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সব সময় আমাদের ম্যাডামকে নিয়ে মিথ্যা ও কুরুচীপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। যা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা।(ডিনিউজ)

আমতলীসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আমতলী (বরগুনা): আষাঢ়ের পূর্ণিমার জোয়ারে ও প্রবল বৃষ্টি পাতে পায়রা নদীতে অস্বাভাভিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে প্রায় ৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ার উপজেলার বালিয়াতলী, ঘোপখালী,ও পশুর বুনিয়া জয়ালভাঙ্গা তুলাতলা, গুলিশাখালীর জেলেপাড়া, আবাসন, আঙ্গুলকাটাসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে গুলিশাখালীর আবাসন ও জেলে পাড়া এবং আরপাঙাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাঙ্গা বেড়িবাধঁ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় ঐসব এলাকা এখন প্রায় ৩ ফুট পানির নিচে। গুলিশাখালী এবং বালিয়াতলী এলাকার অনেক দরিদ্র জেলে পরিবারের ঘর-বাড়ি তলিয়ে রান্না করতে না পাড়ায় এখন তাদের না খেয়ে পানিবন্ধি অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নারী এবং শিশুদের ভোগান্তি বেড়েছে সব চেয়ে বেশি। পানি বৃন্ধির ফলে আমতলী ফেরির পল্টুনের গ্যাংওয়ে প্রায় ৩ ফুট তলিয়ে যাওয়ায় এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি  পোহাতে হয়েছে। অনেক কে ভিজেপুরে গ্যাংওয়েপার হতে দেখা গেছে।গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে ও শনিবার সারা রাতের অব্যাহত বষ্টিতে আমতলী তালতলী উপজেলার অধিকাংশ রাস্তাঘাট বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। আমতলীর বালিয়াতলী, নিশানবাড়ীয়া, গুলিশাখালী, বড়বগি, আমতলীর চাওড়া, হলদিয়া আরপাঙ্গাশিয়া সহ উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর কারনে ঘূর্র্নিঝড় মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো এখনও পানিবন্দি হয়ে আছে। ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে আমতলী, তালতলীর নিম্নাঞ্চল ও হাজার হাজার ফসলী জমি প্ল¬াবিত হচ্ছে। এদিকে অনেক পরিবার উচু বাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। পায়রা  নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেড়ীবাঁধের উপর দিয়ে এ সব গ্রামগুলো প¬াবিত হয়েছে। এতে সমুদ্র উপকূলীয় আমতলীর  জয়ালভাঙ্গা, তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়ার তুলাতলার  ৪ টি স্থানে ২৫০ ফুট ভেরী বাঁধ ভেঙে ১০টি গ্রামের দুই হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়ে। এ গ্রামের পানিবন্দি শতাধিক পরিবার উচু বাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পূর্ণিমার জোয়ার ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার নিম্নাঞ্চল ও ফসলী জমি তলিয়ে গেছে।
আমতলী উপজেলার তুলাতলী গ্রামের গৃহবধূ মাহমুদা বেগম  বলেন, বাড়ির মধ্যে হাঁটু পানি ওঠার কারণে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছি। সরকার আমাদের এ দুর্দশা দেখেও কেন যে কোন ব্যবস্থা নেয়না তা আমরা এখনো বুঝতে পারিনা। এছাড়া সোনাকাটা, নিশানবাড়ীয়া, বড়বগী, ছোটবগী, পচাঁকোড়ালিয়া, আড়পাংগাশিয়া, চাওড়া,  হলদিয়া, গুলিশাখালী ইউনিয়নের ভাঙা বেড়িবাঁধগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে এলাকাবাসীরা  জানিয়েছেন।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পূর্ণিমার জোয়ার থাকায় আমতলীর পায়রা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার ৩.৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবার কারণে এসব নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের চাপ কমে গেলে ভাঙ্গা বেড়িবাঁধগুলো পুনরায় মেরামত করা হবে।
আমতলীসহ উপকূলের মানুষের নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে কয়েক দিনের টানা বর্ষন ও পূর্ণিমার জোয়ারে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমতলীতে  প্লাবিত হয়েছে  অর্ধশতাধিক গ্রাম। পায়রা-  নদীতে বুধবার  পানি ্ ৪৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছ্ উপজেলার বেশ ক’টি আবাসন প্রকল্প। পানির অস্বাভাবিক চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম। 
এদিকে দিন-রাতে দুইবার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় গভীর রাতে আতংকে থাকে উপকূলের হাজার হাজার মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতে আবারও প্লাবিত হবে এসব এলাকা। তলিয়ে যাবে ঘর-বাড়ি। তাই পানিতে ভেসে যাওয়ার আশংকায় ঘর-বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বসে থাকে দুর্গত মানুষেরা। রান্না নাই, খাবার নাই চরম উৎকন্ঠা নিয়ে কাটবে নির্ঘুম রাত। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে উপকূলের অধিবাসীরা।
গতকালও উপজেলার  কয়েকটি সড়ক পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অতি জোয়ারের কারণে জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের ১ টি ফেরী (আমতলী-পুরাকাটা) পল্টুন তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ প্রায় ৬  ঘন্টা বন্ধ ছিল। 
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বরগুনায় জোয়ারের মোট উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার  বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ছিল। 
 উপজেলার তক্তাবুনিয়া   আবাসনের  সালমা  বেগম  ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোরা রানতেও (রান্না) পারি না, আর খাইতেও পারিনা, মোগো কতা (কথা) শুইন্না আর লাভ কি? পায়খানায় (টয়লেট) যাওয়ারও জাগা নাই। 
উপজেলার নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল ফরাজী জানান, ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে বসত-বাড়িসহ ফসলের সকল জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার জানালেও কোন উপকারে আসছে না।
বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক  জানান, দুর্গত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসহ নানা ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। আপরদিকে আমতলী গাজিপুর সড়কের তুলাতলা নামক স্থানে হাইওয়ে সড়কের রাস্তা পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে গ্রামের পর গ্রাম প্প্লাবিত হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পানির কাছে বন্ধী হয়ে পড়েছে আমতলীর উপজেলার  হাজার হাজার পরিবার। চুলোয় রান্না চলছে না ঘরের মাচায় রন্না করতে হয়। অন্যদিকে, আমতলী পৌরসভার ১,৩,৪,৫,৮,৯ নং ওয়ার্ডের বাড়ী ঘর তলিয়ে গেছে।এর মধ্যে ৩ .৪.৫ নং ওয়ার্ডের অবস্থা সোচনীয় রাস্তাঘাট সব তলিয়ে গেছে। বাসা বাড়িতে পানি উঠে গেছে। এ ব্যাপারে আমতলী পৌরসভার মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জলাবদ্ধতা থেকে পৌরবাসীকে রক্ষার জন্য শিঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।(ডিনিউজ)

সরে দাড়ালেন আকরাম খান

ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর রোববার সরে দাঁড়ালেন আকরাম খান। মূলত বিসিবির আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ২০১১ সালের জুনে প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন আকরাম। আর ২০১৩ জুনে এসে দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি। রোববার ছিল তার প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিন। আকরাম বলেন,  বোর্ডের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব। আমাকে বলা হচ্ছে বোর্ডে আসার জন্য। নির্বাচন করার জন্য। আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছাও আছে নির্বাচন করার। এখন বোর্ডে পরিচালক হিসেবে থাকার আগ্রহটাই আমার বেশি। আকরাম খান বিসিবির তত্ত্বাবধায়নে কোনো কমিটিতেও আর চাকরি করতে রাজি নন। এখন বিসিবির পরিচালক হওয়ার দিকেই তার মুল আকর্ষণ। টানা ছয় বছর নির্বাচক কমিটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে দেশের ক্রিকেটের উন্নতির লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন আকরাম। তার সময়ে বিসিবি বেশ খারাপ সময়ই পাড়ি দিয়েছে। বিশেষ করে  বিপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিলো। এতে করে কিছুটা হলেও নির্বাচক মন্ডলীরা অসহায় বোধ করেছেন। তবে বিসিবি সেই সময়টা পাড়ি দিয়ে এসেছে। সময় এসেছে দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নীতি নির্ধারণী স্থানে বসার। সেটি চাকরি করে নয়, পরিচালক হিসেবে যুক্ত থাকতে চান আকরাম। এমনটাই তার ইচ্ছা। আকরামের রাজত্বকালে বিসিবির নির্বাচক কমিটিতে অপর দুই সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারই সতীর্থ খেলোয়াড় মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমন। কী হচ্ছে তাদের ভাগ্যে? বিসিবি সূত্র থেকে জানা গেছে, এ দুজন নিজের অবস্থানেই বহাল থাকবেন। আবার এমনো হতে পারে আকরামের সরে যাওয়ায় নান্নুকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ দেয়া। সেক্ষেত্রে নতুন আরো একজন নির্বাচক কিংবা সংখ্যা বাড়াতে হবে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির মধ্যে।

ডিনিউজবিডি/সোহেল

ঝালকাঠিতে লিমনের অস্ত্র মামলার শুনানী মুলতবী

ঝালকাঠি: র‌্যাবের গুলিতে পঙ্গু হওয়া ঝালকাঠির কলেজ ছাত্র লিমনের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলার শুনানী মুলতবী করেছে আদালত। গতকাল রোববার লিমনের উপস্থিতিতে শুনানীতে অংশ নেয় তার আইনজীবীরা। 
আইনজীবী এ্যাড. আক্কাস সিকদার জানান, লিমনের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলার শুনানীর দিন ধার্য ছিল রোববার। বিশেষ ট্রাব্যুনাল-২ এর বিচারক কিরণ শংকর হালদারের আদালতে শুনানী শুরু হলে কিছুক্ষন শনে তিনি শুনানীর মুলতবী ঘোষণা করেন। অধিকতর শুনানীর জন্য সোমবার আদালতে শুনানীর জন্য ধার্য করা হয়। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ২০১১ ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়ায় কথিত বন্দুক যুদ্ধে র‌্যাবের ৬ সদস্য নিরীহ কলেজছাত্র লিমনকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করে।(ডিনিউজ)

চট্টগ্রামে ভুয়া চিকিৎসক দম্পতিকে দু’বছর কারাদন্ড


চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ভুয়া চিকিৎসক দম্পতিকে দু’বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী দু’জনকে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
এই ভূয়া চিকিৎসক দম্পতি হলেন উজ্জ্বল কান্তি  দেব ও চিত্রা সরকার। তারা নগরীর  গোলপাহাড়  মোড়ে  হাটহাজারী ফিজিওথেরাপী ক্লিনিক এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন  সেন্টার খুলে  রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করে আসছিলেন।
এ অভিযোগে  রোববার  বেলা ১টার দিকে অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে  নেতৃত্ব দেন  র‌্যাবের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা বলেন, ‘উজ্জ্বল কান্তি  দেব ও তার স্ত্রী চিত্রা সরকারের বিরুদ্ধে বিএমডিসি আইনের তিনটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য তাদেরকে দুই বছর করে কারাদন্ড এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হযেছে। অনাদায়ে আরও তিনমাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্লিনিকটি সীলগালা করে  দেয়া হয়েছে এবং সকল মালামাল জব্দ করা হয়েছে।’
এর আগে ২০১১ সালে এ ভুয়া চিকিৎসক দম্পতিকে দু’লাখ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করেছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে এসময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আহসানুল হক ও র‌্যাব-৭ এর এএসপি সাখাওয়াত  হোসেন।(ডিনিউজ)

দয়া করে স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেবেন না : বাইডেন

ঢাকা : মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার সরকারের অপকর্মের গোপন তথ্য ফাঁসকারী সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় না দেয়ার জন্য ইকুয়েডরের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। 

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়াকে টেলিফোন কর এ অনুরোধ জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। গত শুক্রবারে এ আলোচনা হয়েছে বলে দু’দেশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট কোরেয়া বলেছেন, টেলিফোন সংলাপে স্নোডেনের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে দেয়ার জন্য বাইডেন আহ্বান জানান। অবশ্য ওয়াশিংটন এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেয়নি।

এর আগে প্রেসিডেন্ট কোরেয়া জানিয়েছিলেন, স্নোডন যদি তার দেশে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আহ্বান জানান তাহলেই কেবল তা বিবেচনা করা হবে।

রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার আগে এ বিষয়ে আমেরিকার মতামত চাওয়া হবে বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (এনএসএ)’র টেলিফোন ও ইন্টারনেটে ব্যাপক আড়িপাতার ঘটনা ফাঁস করে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী স্নোডেন। গতমাসে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে দেয়ার পর তিনি হংকং চলে যান এবং সেখানে আত্মগোপন করেন।

এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জরি করে আমেরিকা। দেশ থেকে তিনি বেরিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার তথ্য ফাঁস করার খবর মার্কিন প্রশাসন জানতে পারেনি।

তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারি সম্পত্তি তছরুপের কয়েকটি অভিযোগ এনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আমেরিকা।(ডিনিউজ)

ইরান-উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র সহযোগিতা নেই : জাতিসংঘ

ঢাকা : ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ খাতে কোনো সহযোগিতা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ।

কোনো কোনো পশ্চিমা দেশ এ সম্পর্কে যে অভিযোগ করে আসছিল জাতিসংঘের এ ঘোষণায় তা নাকচ হয়ে গেল।

দক্ষিণ কোরিয়ার আরিরাং টেলিভিশন চ্যানেল এ খবর দিয়েছে। চ্যানেলটির এক খবরে বলা হয়েছে- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইরান বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা কমিটি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, “দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রযুক্তিগত কোনো সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর উত্তর কোরিয়া কক্ষপথে একটি রকেট পাঠায়। এ ঘটনার পরপরই পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জাপানের কিয়োদো বার্তা সংস্থা জানিয়েছিল- পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ইরান অক্টোবরের শেষ দিকে প্রতিরক্ষা বিভাগের কয়েকজন স্টাফকে উত্তর কোরিয়ায় পাঠায়। কিয়োদো আরো বলেছিল, উত্তর কোরিয়ার রকেট উতক্ষেপণের সময় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল।

২৪ ডিসেম্বর ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি ওই প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের খবর নিতান্তই মনগড়া এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র সহযোগিতার জন্য ইরান কাউকেই পাঠায়নি।(ডিনিউজ)

ওবামা ঠিক করেছেন ম্যান্ডেলার আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করবেন

ঢাকা : মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এসেছেন, তিনি দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নেলসন ম্যান্ডেলার পরিবারের লোকদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ওবামা ম্যান্ডেলাকে দেখতে যাবেন না। ওবামা এই প্রসঙ্গে বলেছেন, "আমার তাঁর সঙ্গে প্রোটোকল রক্ষার জন্য ফোটো তোলার দরকার নেই" – বলা হয়েছে হোয়াইট হাউস থেকে উল্লেখ করে। এর আগে তিনি ম্যান্ডেলাকে বলেছেন- "সারা বিশ্বের বীর"। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কালো চামড়ার রাষ্ট্রপতি ৯৪ বছর বয়সী নেলসন ম্যান্ডেলা ৮ই জুন থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ফুসফুস সংক্রান্ত সংক্রমণের কারণে। বিগত কিছু দিন ধরেই তাঁর অবস্থাকে বলা হয়েছে সঙ্কট জনক।(ডিনিউজ)

ইরানি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত অবৈধ: আইআরআইবি

ঢাকা : ইউরোপীয় স্যাটেলাইট প্রভাইডার ইন্টেলস্যাট ইরানের সব রেডিও ও টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি।

আইআরআইবি এ পদক্ষেপকে আইনগতভাবে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে।

ইন্টেলস্যাট গত ১৯ জুন তেহরানকে জানিয়ে দেয় তারা ১ জুলাই থেকে প্রেস টিভিসহ ইরানের কোনো চ্যানেল সম্প্রচার করতে পারবে না। আইআরআইবি'র প্রেসিডেন্টের ওপর পশ্চিমা দেশগুলো যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তার অজুহাত দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ওই স্যাটেলাইট প্রভাইডার।

তবে ইরানের ইংরেজি ভাষার নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভি জানতে পেরেছে, মার্কিন অর্থ বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দপ্তর (ওএফএসি) ইরানি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়ার জন্য ইন্টেলস্যাটের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

এর প্রতিবাদ জানিয়ে আইআরআইবি ইন্টেলস্যাটের কাছে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে বলেছে, "৩০ জুন থেকে আইআরআইবি'র চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত কোম্পানিটি নিয়েছে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"

প্রতিবাদলিপিতে আরো বলা হয়, এ পদক্ষেপের ফলে শুধু ইন্টেলস্যাটের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তিই লঙ্ঘিত হয়নি সেইসঙ্গে এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইন আইটিএসও'ও লঙ্ঘিত হয়েছে।

কনস্টিটিউশন অব ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন স্যাটেলাইট অরগানাইজেশন বা আইটিএসও'র চুক্তিতে বলা হয়েছে, এটির অন্তর্ভূক্ত প্রতিটি দেশ কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই সব সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

আইআরআইবি'র প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, ইন্টেলস্যাটের এ পদক্ষেপের ফলে অবাধ তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যেসব দর্শক-শ্রোতা এসব রেডিও ও টিভি চ্যানেল দেখে উপকৃত হতো তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হবে। এতে আরো বলা হয়েছে, ইরানের সামনে এখন ইন্টেলস্যাটের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ রইল না।

আইআরআইবি এ সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করতেও ইউরোপের স্যাটেলাইট প্রভাইডারটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।(ডিনিউজ)

ইইউ কার্যালয়ে আঁড়ি পেতেছে আমেরিকা?

ঢাকা : জার্মানির একটি সংবাদ মাধ্যম বলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওয়াশিংটন কার্যালয় এবং নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আঁড়ি পেতে অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছিল। সংবাদ ম্যাগাজিন দেয়ার-স্পিগেল বলছে, তারা এমন গোপন নথি দেখেছে যাতে আমেরিকার এমন কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। সিআইএর সাবেক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক এডওয়ার্ড স্নোডেন তাদের এই নথি দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি।

এতে আরও বলা হয়েছে, আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি ইইউকে একটি টার্গেট বা তাদের কাজের লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। পত্রিকাটি বলছে, তারা স্নোডেনের কাছে ২০১০ সালে একটি টপ সিক্রেট বা সর্বোচ্চ গোপনীয় নথি দেখেছে। আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির ঐ নথিতে বলা হয়েছে, কিভাবে ইইউর অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার নেটওয়ার্কে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হয় এবং ইইউ কে একটি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বলা হয়।

তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শাল্টজ বলছেন, এমন গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের খবর যদি সত্যি হয় তাহলে এটি আমেরিকা ও ইইউর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক বড় আঁচড় হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, ইইউর পক্ষ থেকে তিনি এ বিষয়ে আমেরিকার কাছে দ্রুততম সময়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে এখনো কোন মন্তব্য করেনি। ওদিকে মি স্নোওডেন ইকুয়েডরে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন।

৩০ বছর বয়স্ক তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এডওয়ার্ড স্নোডেন ইন্টারনেটে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন নজরদারী কার্যক্রমের তথ্য গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দেন।(ডিনিউজ)

না’গঞ্জে বিএনপি নেতাদের জামিন মঞ্জুর


নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া মামলায় নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, মহানগর যুবদল ও ছাত্রদলের আহবায়ক সহ ১০ নেতার ৬ জুলাই পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাবিদ হোসেন এ জামিন মঞ্জুর করেন। সেই সাথে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে তাদেরকে জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে স্থায়ী জামিন নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
জামিনপ্রাপ্তরা হলো, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহম্মেদ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর যুবদলের আহবায়ক ও ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, যুগ্ম আহবায়ক রানা মুজিব, তোফাজ্জল হোসেন তোফা, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, ছাত্রদল নেতা সাইদুর, তৈয়ব ও আফজাল। অধ্যাপক মামুন মাহমুদ হেফাজতে ইসলামের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া অপর একটি মামলায় কারাগারে রয়েছে।
উল্লেখ্য উক্ত মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীরা হাইকোর্টে দেয়া ৬ জুন থেকে ১মাসের জামিনে রয়েছেন। বিচারপতি সালমা মাসুদ ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ১মাসের জন্য ১০নেতার জামিন মঞ্জুর করেন।(ডিনিউজ)

হাড়িভাঙ্গা আম এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশে

রংপুর: বাংলাদেশে আমের নগরী বলে রাজশাহী ও এর আশপাশের জেলা পরিচিত হলেও এবার তাতে ভাগ বসিয়েছে রংপুর। এ অঞ্চলের হাড়িভাঙ্গা আমের সুখ্যাতি এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে এ আম চাষ হচ্ছে। হাড়িভাঙ্গা আম চাষ করে অনেকই এখন স্বাবলম্বি হয়ে উঠেছেন। এতোদিন রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলী, ল্যাংড়া, হিমসাগর এবং মিশ্রি ভোগ আমের কদর ছিলো আমাদের দেশে। কিন্তু এখন এসব আমের সুখ্যাতিকে ছাপিয়ে হাড়িভাঙ্গা আমের চাহিদা দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।
মাত্র ৫ বছর আগে প্রথম রংপুরের বদরগঞ্জের পদাগঞ্জে আঁশমুক্ত, রসালো এবং সুস্বাদু এ আমের ফলন শুরু হয়। আস্তে আস্তে এর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে রংপুরের অন্যান্য এলাকায়।
এরপর থেকেই জেলার প্রায় ৫০০ গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ শুরু হয়। পায়রাবন্দ, লতিফপুর, শাল্টি গোপালপুর, দূর্গাপুর, ইমাদপুর, বদরগজ্ঞ উপজেলার পদাগজ্ঞ এবং শ্যামপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে হাজার হাজার বাগানে এ আম চাষ হচ্ছে। এসব এলাকার মাটি লাল হওয়ায় ধান ও পাটসহ অন্যান্য ফসলের ফলন কম হওয়ায় কৃষকরা আবাদী জমিতে বাণিজ্যিকভিত্তিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চারা রোপন করে।
হাড়িভাঙ্গা আমের প্রধান বৈশিষ্ট হচ্ছে আমটি অত্যান্ত সুস্বাদু, কোনো আঁশ নেই, বড় ছোট দুই ধরনের এই আম খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু এবং এর ঘ্রানও খুব সুন্দর। আমের মুকুল ধরার সঙ্গে সঙ্গে আগাম আমের পুরো বাগান বিক্রি হয়ে যায়। বড় বড় ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা দিয়ে আমের বাগান কিনে নিয়ে নিজেরাই পরিচর্যা করে বড় করে তারপর বাজারে বিক্রি করে।
চলতি মৌসুমেও আমের ভাল ফলন হয়েছে। ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা মন দরে বাগানে এ আম বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই কমপক্ষে ১০০ ট্রাক আম কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা। আর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাড়িভাঙ্গা আম চাষ করে রংপুরের অনেকেই এখন স্বাবলম্বি হয়ে উঠেছেন।
আকবার হোসেন নামের এক আম চাষি বলেন, ‘গত ৩ বছর ধরে আমরা হাড়িভাঙ্গা আম চাষ করছি। ধান বাদ দিয়ে আমরা এখন হাড়িভাঙ্গা আমের আবাদ করছি।’
আব্দুস সালাম নামের অপর এক চাষি বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি ৪০০ গাছে আড়াইশ মন আম আছে। যদি ৫০-৬০ কেজি দরে বিক্রি করি তাহলে আমাদের ৫-৬ লাখ টাকা আসে।’
এছাড়া হাড়িভাঙ্গা আম এখন দেশ ছাড়িয়ে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।
রংপুর কৃষি উদ্যান বিশেষজ্ঞ এমএ ওয়াজেদ সাংবাদিকদের বলেন, হিমাগার ও গবেষণাগার স্থাপন করা হলে এ আম রংপুরের প্রধান অর্থকরী ফসল হতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের উত্তরাঞ্চলে আম সংরক্ষণে এবং আমের জুস তৈরির কোনো কারখানা নেই। এ অঞ্চলে এ ধরনের কারখানা গড়ে উঠলে এবং এর বাজার আরো ব্যাপক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ আরো বিস্তার লাভ করবে।’(ডিনিউজ)

বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল সোহাগী

রংপুর: মিঠাপুকুরে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল সোহগী নামের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হারুন-অর-রশীদের নির্দেশে এ বিয়ে বন্ধ করা হয়।
জানা যায়, উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের মরহুম ওয়ারেছ আলীর শিশু কন্যা সোহাগী সবেমাত্র স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর অধ্যায়নরত ছাত্রী। এদিকে সরকারী নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে বিয়ের দিন তারিখ ধার্য করে সোহাগীর পরিবার। একই ইউনিয়নের মজিদের বিবাহিত ছেলে শাহআলম (২৫) এর সাথে গতকাল শনিবার এ বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হয়। খবরপেয়ে ঐ দিনই দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ৬নং কাফ্রিখাল ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ সোহাগীর পরিবারের সাথে কথা বলে এ বিয়ে বন্ধ করে দেন।  ফলে, বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল সোহাগী। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজ জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে এ বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি।(ডিনিউজ)

গনেশপুরে এইডস বিষয়ক এডভোকেসী সভা


রংপুর: রংপুর নগরীর গনেশপুরে রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হেলপ এর আয়োজনে জাতীয় এইডস ও এসটিভি প্রোগ্রামের এইডস বা এইচআইভি বিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক দাবানল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এমবি আলম বাদশা।
সভায় হেলপ এর ডি,আই কো-অর্ডিনেটর শহিদুল ইসলাম এইডস বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে বলেন, এইডস সম্পর্কে আমাদেরকে শুধুমাত্র সচেতন হতে হবে ও নারীদের প্রতি সহায় হয়ে অন্যায়, অবিচার, নির্যাতন বন্ধ করে তাদেরকে সৎ ও সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। এসময় উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন  সাংবাদিক মিরু সরকার, নুর হাসান চান, শাহীন সরকার। আরও বক্তব্য রাখেন হেলপ এর আউটরিছ সুপার-ভাইজার রাশেদুল ইসলাম শাহীন। আরো উপস্থিত ছিলেন বাবু, সাজু, অহেদুল, মানুদরানা, হায়দার আলী, হাসি, সীমাসহ অর্ধশত দর্শক শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন।(ডিনিউজ)

শরীয়তপুরে লিংকন হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের নর বেড়া চিকন্দী গ্রামের মো. মোজাম্মেল খানের ছেলে লিংকন খানের (১৮) হত্যাকারী খুনি সোহাগ, বাবলু ও বাবুলের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে ডোমসার ও বেড়া চিকন্দী এলাকাবাসী। এছাড়া তারা এই নৃশংস হত্যার দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবীতে জেলা প্রশাসক বরবারে স্বারকলিপি প্রদান করেন। রবিবার সকালে ডোমসার ইউনিয়ন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বেড় হয়ে পালং থানার সামনে এসে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবী করেন। এসময় পুলিশের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে তারা থানা ত্যাগ করে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। পরে তারা এই নৃশংস হত্যার দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবীতে জেলা প্রশাসক বরবারে স্বারকলিপি প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডোমসার ও বেড়া চিকন্দী এলাকাবাসীর পক্ষে সিরাজুল ইসলাম খান, আলী হোসেন খান, মো. খলিলুর রহমান, মো. আতাহার আলী, আবু আলম সিকদার ও নিহতের পিতা মো. মোজাম্মেল খান প্রমুখ।    
উল্লে¬খ্য, গত ২৫ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের বেড়া চিকন্দী গ্রামের মো. মোজাম্মেল খানের ছেলে লিংকন খানকে তাহার ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেল ছিনতাইদের উদ্দেশ্যে তাকে প্রলোভন দিয়া বাড়ী থেকে এনে নির্মম ভাবে হত্যা করে বিনোদপুরের রাস্তার পাশের পাট ক্ষেতে ফেলে হত্যাকারীরা মটর সাইকেল নিয়ে যায়। সোহাগ ও বাবলুর স্বীকারোক্তি ও দেখানো মোতাবেক ঘটনার ৪ দিন পর লিংকর খানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এব্যাপারে নিহতের পিতা মো. মোজাম্মেল খান বাদী হয়ে পালং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-৩৩, তাং ২৮/৬/১৩ ইং, জি.আর. ১৯২/১৩। (ডিনিউজ)

বামনায় শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক কলেজে ভর্তির চেষ্টা


বামনা (বরগুনা): বরগুনার বামনা উপজেলা সদরের সারওয়ারজান মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ২০১৩ সালের এসএসসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২৪জন শিক্ষার্থীর ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র আটকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এসএসসি উত্তীর্ণ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানটির সদ্য অনুমোদনকৃত কলেজ শাখায় জবরদস্তি ভর্তির জন্য ১২৪ শিক্ষার্থী কাগজপত্র আটকে রেখেছে।  রবিবার বেলা ১১টায় ভুক্তভোগী শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ওই প্রতিষ্ঠানের  বারান্দায় অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ ১২৪ জন এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র আটকে রেখেছেন যাতে তারা অন্য কোথাও ভর্তির সুযোগ না পায়। 
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করে। অভিযোগে বলা হয়,বামনা সদরের সারওয়ারজান মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ২০১৩ সালের এসএসসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২৪জন শিক্ষার্থী  এসএমএস এর মাধ্যমে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করে। তাদের মধ্যে ৬১জন শিক্ষার্থীর নাম ভালো কলেজের ভর্তি তালিকায় প্রকাশিত হয়। ওই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সারওয়ারজান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র উত্তোলন করতে গেলে টালবাহানা শুরু করে। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাফ জানিয়ে দেন কাগপত্র দেওয়া হবেনা কেননা সকলকে এই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখায় বাধ্যতামূল ভর্তি হতে হবে। এমন কি কলেজ শাখায় ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ দেয়। ভাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গতকাল রবিবার (৩০ জুন) ভর্তির শেষ তারিখ ছিল। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র না দেওয়ায় তারা ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। 
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. নাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে, সে এবার ওই প্রতিষ্ঠান হতে মানবিক বিভাগে সন্তোষজনক ফলাফল করে উত্তীর্ণ হয়। ভাল একটি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করে সে ভর্তির সুযোগ পায়। ভর্তির জন্য স্কুল হতে কাগজপত্র উত্তোলনের জন্য গেলে স্কুল কর্তপক্ষ কাগজপত্র আটকে রাখে। কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক ওই স্কুলে সদ্য অনুমোদনকৃত কলেজ শাখায় ভর্তির জন্য চাপ দেয়। রবিবার ভর্তির শেষ তারিখ থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তার মত সকল শিক্ষার্থীর কাগজপত্র আটকে রাখায় সে পছন্দমত ভাল কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
এ ব্যাপারে বামনা সদরের পশ্চিম শফিপুর গ্রামের বাসিন্দা অভিভাবক তপন কুমার দাস ক্ষোভ প্রক্শা করে বলেন,ওই স্কুলের নতুন খোলা কলেজ শাখায় কোন শিক্ষক নেই। সেখানে আমার ছেলে কোন ভবিষ্যতের আশায় ভর্তি হবে। জবরদস্তি ছেলের কাগজপত্র আটকে রাখায় আমার ছেলে শিক্ষা জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়ছি। এর প্রতিকার চাই। 
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাদের ফরাজী এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভূক্ত বলে পরে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। 
এ বিষয়ে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. বিমল কৃষ্ণ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে কোন প্রতিষ্ঠান ভর্তি করাতে পারেনা। এটা বেআইনী। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।(ডিনিউজ)

বিজয়নগরে স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে রোববার সকাল ১০টায়  ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাত করেছে বখাটেরা। আহত স্কুলছাত্রকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্যক্ত করে আসছিল উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সহদেবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে টিপু-(১৭)। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন বন্ধু নিয়ে টিপু স্কুলের সামনে এসে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করতে থাকে। এ সময় স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র দোলোয়ার চৌধুরী এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টিপু ও তার বন্ধুরা স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে দোলোয়ার চৌধুরীকে বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত দোলোয়ারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাপ্রভু ভৌমিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বখাটে টিপু দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করে আসছে। বিষয়টি তার অভিভাবককে একাধিকবার জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসুল আহমেদ নিজামী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বখাটে টিপুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।(ডিনিউজ)

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ: নিহত ১

নরসিংদী : নরসিংদীর চরাঞ্চলের আলোকবালী উত্তরপাড়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত, গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরেক জন।

এলাকাবাসী জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থক সাব মিয়া মেম্বার ও বিএনপি সমর্থক মিজান মেম্বারের লোকজনের মধ্যে কথাকাটা কাটি হয়। এঘটনার জের ধরে সাব মিয়া মেম্বার এর লোকজন  মিজান মেম্বারের কর্মী খোরশেদ মিয়া (৫০) কে গুলি করে আহত করে। ঘটনার পর উত্তেজিত বিএনপি সমর্থকরা আলোকবালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেনের পিতা হাজী লিয়াকত আলীকে কুপিয়ে হত্যা করে।(ডিনিউজ)

এরশাদের মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় : হানিফ

ঢাকা : মহাজোট ছেড়ে জাতীয় পার্টির এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণাকে, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। এরশাদের এই বক্তব্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানতেও নারাজ ক্ষমতাসীন দল।

শনিবার রাজধানীতে জাতীয় পার্টির এক প্রতিনিধি সম্মেলনে মহাজোট ছেড়ে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন এরশাদ।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম বলেন, জাতীয় পার্টির সাথে এখনো মহাজোটের সম্পর্ক অটুট আছে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মহাজোটের সাথে থেকেই অংশ নেবে। কর্মীদের চাঙ্গা ও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং জনপ্রিয়তা বাড়াতেই জাতীয় পার্টি নানা বক্তব্য দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন হানিফ।(ডিনিউজ)

৭ মার্চের সমাবেশে থেকেও কেন আমি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক নই : সালাহউদ্দিন কাদের

ঢাকা : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি ৭ মার্চ রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী) ময়দানের ঐতিহাসিক সমাবেশে অংশ নিয়েছিলাম।’

রোববার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে প্রথম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি সপ্তম দিনের সাক্ষ্য দিতে গিয়ে একথা বলেন।

একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের কাছে জিজ্ঞাসা করেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে অংশ নিয়েছিলাম। তাহলে তো আমি দাবি করতেই পারি, আমিও মুক্তিযুদ্ধের একজন সমর্থক।’

এছাড়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আজ মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর ভূমিকা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন।

সাক্ষ্য দেয়ার সময় সালাহউদ্দিন কদের চৌধুরী সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা ছিলেন। এ সময় তাকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। সাক্ষ্য দেয়ার সময় তিনি বেশ কয়েকবার বসে পড়েন।

আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই সময় তার ধানমন্ডির বাসায় নিয়মিত আসতেন শেখ কামাল, তোফায়েল আহমেদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সিরাজুল আলম খান, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, সালমান এফ রহমান, শাহজান সিরাজসহ আরো অনেকে।’

তিনি আরো বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে আসাদকে যখন হত্যা করা হয় তখন তার ১০ ফুট দূরত্বের মধ্যে আমি ছিলাম। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাস সমাবেশেও অংশ নিয়েছিলাম।’

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘ওই সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাকে স্বাধীনতার ঘোষণা বলে দাবি করা হয়ে থাকে। যদি তাই হয় তবে আমি দাবি করতে পারি আমি মুক্তিযুদ্ধের একজন সমর্থক ছিলাম।’

তিনি বলেন, ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আমি ঢাকায় থাকতাম। যেহেতু ঢাকায় আমাদের কোনো ড্রাইভার ছিল না সে কারণে আমার বাবার বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমিই গাড়ি ড্রাইভ করতাম।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ধানমন্ডির বাড়িটি আমার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের আড্ডাখানা ছিল। আমার জানা মতে, আমিই একমাত্র ছাত্র ছিলাম যে ধানমন্ডিতে একাকী একটি বাড়িতে বাস করতাম এবং তার একটি গাড়ি ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমার পিতা চট্টগ্রামের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে জড়িত ছিলেন। এমএলএ, এমএনএ, মন্ত্রিসভার সদস্য, স্পিকার এবং ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার পিতার কর্মকাণ্ডের স্বাক্ষর আজও বহন করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমি প্রভৃতি।’

সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, ‘১৯৬০ সালে যখন আমি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। তখন থেকে আমি নিজস্ব পদ্ধতির জীবন যাপন করতাম, যা আমার পুরো শিক্ষা জীবনেই বহাল ছিল। যার মধ্যে সাদিক পাবলিক স্কুল, নটরডেম কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সময় অন্তর্ভুক্ত ছিল।’

তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালের শেষ এবং ’৬৬ সালের শুরুর চার মাস সময়, যখন আমি প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম সে সময় ছাড়া ’৬৬ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত আমি কখনোই চট্টগ্রামে আমার পারিবারিক বাসভবন গুডস হিলে থাকিনি।

তিনি আরো জানান, চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার সামাজিক যোগাযোগের পুরোটাই ১৯৭৪ সালের পরের। ১৯৭৯ সালের পূর্বে চট্টগ্রামের ভোটার তালিকায়ও আমার নাম ছিল না। ১৯৬৬ সালের শুরুর দিকে আমার পিতা যখন মুসলীম লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন তখন থেকে ’৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি গণপরিষদের একজন স্বতন্ত্র সদস্য ছিলেন। এ সময় তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন, যে আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে আইয়ুব শাসনের সমাপ্তি হয়।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এ সময় সাধারণভাবেই তার যোগাযোগ ছিল মুসলীম লীগার নন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিচারপতি মাহবুব মোর্শেদ, এয়ার ভাইস মার্শাল আসগার খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান, নুরুল আমীন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।’

তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে তখন আমার ঘনিষ্টতা ছিল। যদিও আমি নিজে কখনো কোনো ছাত্র সংগঠনের সদস্য ছিলাম না।

তিনি জানান, আমার বন্ধুদের সঙ্গে ’৬৯ সালে আমি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। সে আন্দোলনের একটি ধানমন্ডি অধ্যায়ও ছিল। তারা প্রায়শই আমার ধানমন্ডির বাসায় মিলিত হতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার বন্ধুদের মধ্যে যারা ধানমন্ডিতে থাকতো এবং যারা ধানমন্ডির বাইরে থাকতো তারা আমার বাসায় আসতো।

সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, বাসায় যারা আসতো তাদের মধ্যে যাদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ছিল তারা হলেন- তওহিদ সামাদ, আহমেদ সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান), শেখ কামাল, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নিজাম আহমেদ, খায়রুল বাশার, ইরফান খান, ইমরান আহমেদ, কাজী আনোয়ার, আব্দুস সামাদ, কাইয়ুম রেজা চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

জেষ্ঠ্যদের মধ্যে আব্দুর রউফ, তোফায়েল আহমেদ, খালেদ মোহাম্মদ আলী, সিরাজুল আলম খান, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজদের তিনি আমন্ত্রণ জানাতেন বলে জানান।

আন্দোলনকে বেগবান করতে তারা আমার বাড়িতে মিলিত হতেন। সিনিয়রদের এসব মিটিংয়ে আতিথেয়তা দেয়াই ছিল আমার কাজ। এসব নেতাদের অনেকে আমার পিতার সঙ্গেও প্রায়শই দেখা করতেন।

সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, ছাত্রলীগ এবং ছাত্রইউনিয়নের বন্ধুদের সঙ্গে আমিও ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের রেসকোর্স ময়দানের ঐতিহাসিক সমাবেশে অংশ নিয়েছিলাম। সে ঐতিহাসিক বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণের আকাঙ্খাই ব্যক্ত করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এটা দাবি করা হয়ে থাকে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণা। ওই ঐতিহাসিক সমাবেশে আমার উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে পারেন, এমন বহুসংখ্যক ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তোফায়েল আহমেদ, মনিরুল হক চৌধুরী, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ, সালমান এফ রহমান, খায়রুল বাশার, নিজাম আহমেদ, কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, ড. বেলাল বাকী, তাওহিদ সামাদসহ আরো অনেকে।’

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আমার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর একাধিক বৈঠক হয়। ওইসব বৈঠকের খবর সে সময়কার সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

মধ্যহ্ন বিরতির আগে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে আজকের মতো সাক্ষ্য শেষ করার আবেদন জানান। এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আপনাকে তো সাক্ষ্য শেষ করতে হবে। আপনি ইতিহাসের কথা বলছেন, তা শুনে আমাদের কী লাভ?’

এ সময় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তো ইতিহাস থেকেই অভিযোগ আনা হয়েছে। পলাশী থেকে শুরু করা হয়েছে। দেড় বছর আমার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে। অথচ আমাকে বলতে দেয়া হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, সাঈদী সাহেবের মামলার সময় বলা হয়েছে, এখনকার সাঈদীর বিচার হচ্ছে না। দেলু শিকদারের বিচার হচ্ছে। আমার ব্যাপারে বলা হচ্ছে, ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলের বিচার হচ্ছে, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচার হচ্ছে না।

‘আপনাদের লিমিটেশন আমি বুঝি, আমার লিমিটেশনও আমি বুঝি’ যোগ করেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দীর্ঘ সাক্ষ্যে আপত্তি জানান। পরে ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবি করেন। একই সঙ্গে আগামীকালের মধ্যেই সাক্ষ্য শেষ করতে বলেন।(ডিনিউজ)
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩