খালেদাকে ধন্যবাদ হাসিনার

Kanaighat News on Tuesday, April 30, 2013 | 10:51 PM

হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করায় বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাভারে ধসে পড়া ভবন মালিক ও কারখানা মালিকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সারাদেশে হরতাল ডাকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। একই দাবিতে একই দিন সিপিবি হরতাল ডাকলেও বিএনপি হরতালের ঘোষণা দিলে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
সোমবার সকালে সাভারে ধসে পড়া ভবনে উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে ‘মানবিক কারণে’ ওই হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “আমি তাদের বলব, হরতাল যেন মানবিক কারণে প্রত্যাহার করে নেয়। এই হরতালের পেছনে যে টাকা খরচা করবে, সেটা যেন আহতদের চিকিৎসায় খরচ করে।”
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এক বিবৃতিতে হরতাল স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এতে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে, মানবতার স্বার্থে, জাতীয় এই ট্র্যাজেডির সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবার সুযোগ করে দিতে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল স্থগিত ঘোষণা করছি।”
সাভারে ধসে পড়া ভবনের মালিক ও কারখানা মালিকদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের হওয়া এসব মামলায় রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ভবন ধসে প্রায় চারশ’ লাশ উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার সপ্তম দিনের মতো চলছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ।
বিবৃতিতে হরতাল স্থগিতের কারণ ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি খালেদা জিয়া এই উদ্ধার অভিযান নিয়ে সরকারের পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন।(বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
)

মুরাদ জং আমার বড় ভাইয়ের মতো

ঢাকা : পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা বলছেন, কারখানা খুলতে মালিকদের কোন চাপ দেননি তিনি। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। মুরাদ জং আমাকে ছোট ভাই হিসেবে স্নেহ করেন।  তিনি আমার বড় ভাইয়ের মতো। রিমান্ডে নেয়ার আগে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনুতপ্ত রানা নিজের শাস্তি চান। এতগুলো নিরপরাধ লোক মারা যাওয়ার ঘটনা আমিও মানতে পারছি না। ভবনের মালিক যেহেতু আমি, তাই আমার শাস্তি হওয়া উচিত। রিমান্ডে নেয়ার আগে গ্রেপ্তারকৃত রানা ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা জানান। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র মানবজমিনকে জানান, রানা বলছেন- আমি ভবনের মালিক হলেও গার্মেন্টের মালিক নই। তাই শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করার কোন সুযোগ আমার নেই। আমি তা করিওনি। গার্মেন্ট খোলা রাখতে আমি মালিকদের কোন চাপ প্রয়োগ করিনি। তারা নিজেরাই শ্রমিকদের কারখানায় আসতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত গার্মেন্ট মালিকরা বলছেন- রানার চাপেই আমরা গার্মেন্ট খোলা রেখেছি। শ্রমিকদের কারখানায় আনতে বাধ্য হয়েছি। ঢাকা জেলার সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, রানা ও গার্মেন্ট মালিকরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব বক্তব্যের কোনটি সত্য তা জানতে রিমান্ডে রানা ও গার্মেন্ট মালিকদের মুখোমুখি করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, রানা মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত। ফেনসিডিল না খেয়ে সে এক মুহূর্তও থাকতে পারে না। গ্রেপ্তারের পর থেকে সে বারবার ফেনসিডিল চাইছে। আমরা তাকে ফেনসিডিল দিইনি। মাদক না পেয়ে গত ২ দিনে সে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ২৩শে এপ্রিল ভবনে ফাটল ধরার পর স্থানীয় প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা বুয়েট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। বুয়েট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা আমার ছিল। রানা বলেন, ঘটনার দিন সকাল সোয়া ৮টার দিকে প্লাজার সামনে আসি। যুবলীগের কয়েকজন কর্মী আগে থেকেই আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। সেখানে গিয়েই আমি হরতালবিরোধী মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওই মিছিলে স্থানীয় সংসদ সদস্য তৌহিদ জং মুরাদেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। পুলিশকে রানা জানায়, ঘটনার দিন সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ দেখি পোশাক শ্রমিকরা চিৎকার করছে। তারা কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ওই সময় আমি তাদের বলি, তোমরা কাজে যাবে কি যাবে না সেটা তোমাদের ব্যাপার। গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে তোমরা অফিস করবে। এই বলে আমি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে দলীয় কর্মীদের নিয়ে মিটিং করছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে ভবন ধসে পড়ে। রানা পুলিশকে জানায়, ভবনে ফাটল দেখার পর কারখানা বন্ধ রাখতে গার্মেন্ট মালিককে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কারখানা মালিকরা আমার কথা শোনেনি।
রিমান্ড: রানাকে ১৫ দিন এবং ইথার টেক্স লিমিটেড-এর মালিক আনিসুর রহমানকে ১২ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। দুই মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে এক মামলায় ৮ দিন এবং অন্য মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ইথার টেক্স-এর মালিককে দুই মামলায় ২০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত ৬ দিন করে ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। অপরদিকে রানার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া দুই সহযোগী শাহ আলম মিঠু এবং অনিলকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে গতকাল ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রানার পিতা গ্রেপ্তার: রানার পিতা আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, গতকাল দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মগবাজারের আড়ং-এর গলি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, সাভারের ভবন ধসের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি আবদুল খালেক। মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি পালাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, তিনি মগবাজারে অবস্থান করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখন ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে আছেন। শিগগিরই তাকে আদালতে হাজির করে আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেপ্তার-আটক: ইথার টেক্স লিমিটেডের মালিক আনিসুর রহমানকে রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে রমনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় ফ্যান্টম অ্যাপারেলস ও ফ্যান্টম টেকের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামকে। এর আগে শনিবার দুপুরের দিকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির মূল হোতা রানাকে। তার সঙ্গে তার ২ সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয় নিউওয়েব স্টাইল এবং নিউওয়েব অ্যাপারেলস-এর চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান তাপস এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক বজলুস সামাদ আদনানকে। শুক্রবার রাতে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাভার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আলম মিয়াকে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে মহাখালীস্থ মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পাশ থেকে ভোরে গ্রেপ্তার করা হয় সাভার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এহতেশাম হোসেনকে। দুই মামলায় তাপস ও আদনান ৬ দিন করে ১২ দিন এবং ২ পৌরকর্মকর্তা ৪ দিন করে ৮ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। ফ্যান্টম অ্যাপারেলস ও ফ্যান্টম টেকের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম ২ মামলায় ৫ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ডে আছে। অপরদিকে শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জ থেকে রানার প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীরের মা মনোয়ারা, স্ত্রী সুমি এবং রানার ভগ্নিপতি মোমেন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুমি ও মনোয়ারাকে শনিবার ছেড়ে দেয়া হলেও আটক রাখা হয় মোমেন মিয়াকে। গতকাল তাকেও ছেড়ে দেয়া হয়।
পুলিশের বক্তব্য: ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, রানাকে রোববার গভীর রাতে আমাদের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। আদালতে হাজির সংক্রান্ত কাজের কারণে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। তাকে রিমান্ডে আনা হয়েছে। রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রিমান্ডে থাকা এবং গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিদেরকেও এখন পর্যন্ত ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ হয়নি। তিনি জানান, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ঘটনায় আরও এক গার্মেন্ট মালিকসহ বিভিন্ন গার্মেন্ট-এর এমডি, পিএম, জিএম এবং ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে পুলিশ মাঠে রয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহিন শাহ পারভেজ বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখন আসামিদের বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। রিমান্ড শেষ হলে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সাংবাদিকদের জানানো হবে।-মানবজমিন

রানা-প্লাজায় ধস এবং কিছু কথা

Kanaighat News on Monday, April 29, 2013 | 10:13 AM

ড. ইকবাল হোসেন
আজকের লেখাটি আমি লিখছি একটি বিশেষ দায়ভার  থেকে। দায়ভারের  প্রেক্ষাপট-টি প্রথমেই  একটু বলে নেয়া যাক। আমার  পিএইচডি থিসিস জমা দিয়েই চলে আসি বাংলাদেশে। অতঃপর প্রায় আট মাস  নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলাম  পারিবারিক এক তৈরি পোশাক কারখানায়। তৈরি পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা ও সমস্যা সম্পর্কিত বেশকিছু  বিষয় খুব  কাছ থেকে উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছিল আমার।  আমার স্বল্প অভিজ্ঞতা থেকে শুধু এটুকু বলব যে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সদিচ্ছা, আন্তরিকতা ও চেষ্টা থাকলে পোশাক শ্রমিকদের পূর্ণ-নিরাপত্তা এবং জীবনযাপনে একটা সন্তোষজনক মান  নিশ্চিত করেই এই শিল্পকে অনেক দূরে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। কিছু কিছু  তৈরি পোশাক কারখানা  এভাবে  এগিয়েও যাচ্ছে দিন দিন।যাই হোক, পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি আজ যে জীবনযাপন করছি, এর পেছনে আজো এক ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে  এই তৈরি পোশাক শিল্প তথা এ শিল্পে কর্মরত  শ্রমজীবী মানুষের। সুতরাং সেই দায়ভার  থেকে এই  ক্রান্তিলগ্নে  আজ কিছু লেখা।

সকালে ঘুম ভাঙলেই জানতে পাই,  সাভারের রানা-প্লাজা ধসের ঘটনা। দৈন্যদিন জীবনে আমাদের নেতিবাচক ঘটনাগুলোর সঙ্গে এখন এত বেশি  মুখোমুখি হতে হয় যে, কোনো ঘটনাই প্রাথমিকভাবে খুব একটা গুরুত্ব পায় না। সময়ের প্রবাহে ধসের তীব্রতা  প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। দু’চোখ ঝাপসা ও কণ্ঠভার হয়ে উঠে। উদ্ধারকৃত এক একটি লাশের খবর  যেন ঠিক বুকের ভেতর চাপ দিয়ে বসে। নতুন করে আজ অন্য কিছু/কাউকে দায়ী করার  আদৌ কি কোনো প্রয়োজন রয়েছে? আর দায়ী যে-ই হোক না কেন, বরাবরের মতো মর্মান্তিকভাবে নিস্পেষিত হলো তো সেই খেটে  খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলোই।

নিঃস্ব হলো তো রেখে যাওয়া তাদের পরিবারগুলো। শ্রমজীবী মানুষ ওরা, ওদের ভাগ্যে এর চেয়ে বেশি আর কী থাকবে? অবশেষে এই দুর্ঘটনার যে সুরাহা  হবে তার ছকও তো আমাদের অনেকটা জানা আছে। তারপরও নিজে নিজেই সান্ত্বনা নেয়ার বৃথা চেষ্টা চলে ভিন্ন ভিন্নভাবে। পাল্লা দিয়ে ভেসে আসে রাজনৈতিক নেতাদের সেই একই ধাঁচের নিয়মিত বক্তব্য। হঠাৎ  করে আসা  দু’টি বক্তব্য আমাদের মর্মাহত করে। শুধু মর্মাহত-ই না, এক ধরনের স্তম্ভিতও করে।

দুর্ঘটনার দিন বুধবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ডেমো ট্রেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আগে থেকেই সচেতন ছিলাম। আমরা জানতাম বলে সব লোক সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু মূল্যবান জিনিস সরিয়ে নিতে সকালে লোকজন সেখানে গিয়েছিল। তারাই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।” প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলতে পারবেন, কী তার উদ্দেশ্য ছিল এই বক্তব্যের পেছনে। তবে বক্তব্যের  এই ভাষা থেকে বোধসম্পন্ন যেকোনো নাগরিকের কাছেই তার লক্ষ্য/ উদ্দেশ্য অনুমেয়। যা হলো- খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলো সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজেদের দোষেই এই পরিণতির  শিকার  হয়েছে। সুতরাং  দায়দায়িত্ব সরকার বা অন্য কারো  নয়, নিস্পেষিত হওয়া ওই শ্রমজীবী  মানুষের ওপরই বর্তায়। আর এই যদি প্রকৃতভাবে প্রধানমন্ত্রীর ওই শ্রমজীবী মানুষগুলো যদি সত্যিকার অর্থেই নিজেদের দোষে এই পরিণতির শিকার হয়ে থাকেন, তারপরও মানবিক-রাষ্ট্রীয়  দিক বিবেচনায় একজন সরকারপ্রধান  কখনই এই ধরনের বক্তব্য প্রদান করতে পারেন না।

পাশাপাশিভাবে সরকার নাগরিকের সঙ্গে শুধু ভোট-সূত্রে বাধা। আর এ ধরনের সরকার-নাগরিক ব্যবস্থাপনা কখনোই সুস্থ-সংস্কৃতির ধারা হতে পারে না। কেননা, এই ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ রাষ্ট্রই একসময়ে ভঙ্গুর হয়ে পরাটা  সু-নিশ্চিত।

আসা যাক শ্রমজীবী ওই মানুষগুলো আসলেই  স্বেচ্ছায় ওই মৃত্যুকোপে গিয়েছিল কি না সে প্রসঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর  ওই  বক্তব্য  দেয়ার বেশ খানিক আগেই গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরা জানতে পারি যে, নিরূপায় মানুষগুলোকে একরকম কৌশলগতভাবে  বাধ্য করা হয়ে ছিল কাজে যোগদানের জন্য। প্রধানমন্ত্রী কি এই ব্যাপারে অবগত নন? আর যদি সে আসলেই বিষয়টি জেনে না থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে তার সুবিশাল সহকারী-উপদেষ্টা দল  পোষা-টা  কতটুকু যৌক্তিক? পাশাপাশি, ওই সহকারী-উপদেষ্টাদের  এহেন পরিস্থিতিতেও স্বপদে বহাল থাকা-টা  কতটুকু নৈতিক, প্রশ্ন জাগে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও কি বিষয়টি না জানার দায়ভার এড়াতে পারবেন? ভেবে দেখার আহ্বান রইলো।

অপর বক্তব্যটি আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের পক্ষ থেকে। তিনি বিবিসি-কে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন- “আমি শুনেছি, সাভার এলাকার যে স্থানে রানা প্লাজা সেটি মৌলবাদীপ্রবণ এলাকা।  তাছাড়া কিছু হরতাল সমর্থক ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ এবং গেট ধরে নাড়াচাড়া করেছে। ভবনটি ধসে পড়ার পেছনে সেটাও একটি সাম্ভাব্য কারণ হতে পারে।” (নতুন বার্তা ডটকম, ২৫ এপ্রিল)। বক্তব্যটির প্রতিক্রিয়ায় কী বলব তা ভাবছি। একটি নয়তলা ভবনের ভার সহ্য করার মতো পিলার বা স্তম্ভের  জন্য  কিছু ব্যক্তিবিশেষের নাড়াচাড়া বা ঝাঁকুনি  নিত্তান্তই এক সামান্য ব্যাপার । আর ধসে  পরা তো অনেক দূরের ব্যাপার। ভবনটি ধসে পরার পেছনে নির্মাণকালের কারিগরি ত্রুটিই সম্পূর্ণভাবে দায়ী। এই যৌক্তিক ব্যাপারটি একজন  ডক্টরেট ডিগ্রিধারী  ব্যক্তির বোধগম্য না হওয়া-টা একদিকে যেমন বিস্ময়কর আর অন্যদিকে দুর্ভাগ্যজনক। বক্তব্যটি শুধু  এই বিস্ময় আর দুর্ভাগ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার জন্যই এটা একটা বিরাট হুমকিস্বরূপ। কেননা এখানে মূল কারণ-কে পাশ কাটিয়ে অন্য পক্ষকে  জড়িয়ে  ঘটনাকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার  অথবা সন্দেহবশত অযৌক্তিক ভিন্ন-কারণ সংযোজন করে ঘটনার মূল-কারণকে লঘু করার একটা  হীন-প্রয়াস প্রকাশ পাচ্ছে। যা রাজনীতি বা এর বাইরের যেকোনো সুস্থ মানুষের কাছে কখনই কাম্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। এখানেই শেষ নয়। এহেন নীতি /মতাদর্শন-সম্পন্ন  ব্যক্তির অধীনস্থ অন্যান্য সব বিষয়গুলোর স্বচ্ছতা-কার্যকারিতাও আজ অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। নিখোঁজ ইলিয়াস আলী, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রূনি হত্যাকাণ্ড, সংখ্যালঘু নির্যাতন, প্রধান বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার- ইত্যাদি বিষয়গুলো কিভাবে চলেছে বা এখনো চলছে তা সহজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যটি আজ শুধু আমাদের ব্যথিত-ই করেনি আন্তর্জাতিক  পরিমণ্ডলে স্বয়ং এদেশের স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রণালয়কে এক ধরনের হেয়ও  করেছে।

অতএব সরকারপ্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দু’টির  অনতিবিলম্বে  যথাযথভাবে প্রত্যাহার দাবি করছি। পরিচিত ক্যামেরার সামনের বিশিষ্ট মানবধিকার ব্যক্তিত্ব বা সংগঠন বা কর্মীদের কার্যত অদৃশ ভূমিকায় এক ধরনের দুঃখ-ই  প্রকাশ করছি। ক্রান্তিকালে চলমান হরতাল প্রত্যাহার-সহ উদ্ধার প্রক্রিয়া পরিদর্শনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা সত্যিকার অর্থেই আজ ধন্যবাদ পাওয়ার দাবি রাখেন। আহ্বান জানাচ্ছি খেটে-খাওয়া শ্রমজীবীদের স্বার্থ-সম্বলিত বিষয়গুলো  তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রাধান্য দেয়ার।

পরিশেষে, চলমান উদ্ধার  প্রক্রিয়ায়  সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দ্রুততা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সব মহলের প্রতি  আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি। উদ্ধার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল জনসাধারণের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আবেদন করছি। ভবন মালিক রানা, গার্মেন্টস মালিকরা, ভবন-মালিক রানার আশ্রয়দাতা, সাভার পৌরসভা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রাজউক ও বিজেএমই-বিকেএমই কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিবেচনায় এনে দ্রুত ও নিরেপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিসমূহের  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। এমন  দুর্ঘটনাগুলো চিরতরে নির্মূলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ আশা করছি।

ড. ইকবাল হোসেন: সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
iqbalhossain.press@gmail.com(নতুন বার্তা)

Kanaighat News on Sunday, April 28, 2013 | 10:51 PM

মো:-মহিউদ্দিন
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

গ্রামঃ গোসাইনপুর,পোঃ বীরদল বাজার-৩১৮০,উপজেলা কানাইঘাট,জেলাঃসিলেট।






মাহবুবুর রশিদ
সম্পাদক
গ্রামঃ গোসাইনপুর,পোঃ বীরদল বাজার-৩১৮০,উপজেলা কানাইঘাট,জেলাঃসিলেট।
মোবাঃ০১৭২৭-৬৬৭৭২০/০১৯১২-৭৬৪৭১৬ইমেইল: mahbuburrashid68@yahoo.com





নিজাম উদ্দিন
নিবাহী সম্পাদক
গ্রামঃ ধর্মপুর,পোঃ কানাইঘাট-৩১৮০
উপজেলা: কানাইঘাট,জেলাঃসিলেট।
মোবাঃ০১৭৩১-৯৮৩৫৩৮

হরতাল-সাম্প্রতিক সহিংসতায় রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের আনাগোনা কম

রাঙ্গামাটি: হরতাল ও সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে রাঙ্গামাটিতে পর্যটক কমে গেছে। এতে করে পর্যটন শিল্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় কমে গেছে। এরমধ্যেও যারা আসছেন তারাও ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়।

এমনিতেই বছরের এ সময়টাতে পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকে। তারওপর হরতাল আর সহিংসতার কারণে পর্যটক আরো কমে গেছে।

এমনকি ছুটির দিনগুলোতেও ফাঁকা পড়ে থাকে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। বলা যায় রাঙ্গামাটি শহর এখন অতিথি শূন্য।

এসব অনিশ্চয়তার মধ্যেও ঘুরতে এসেছে যারা, নিরাপত্তাহীনতার ছাপ তাদের চোখেমুখে।

পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এ শিল্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেশের সম্ভাবনাময় এ শিল্পের বিকাশে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি সংশ্লিষ্টদের।

হাতিরঝিলের সৌন্দর্য্য রক্ষার সুপারিশ

ঢাকা: ঢাকার অন্যতম সুন্দর স্থান হাতিরঝিল। হাতির ঝিল প্রকল্পের দু’পাশের সৌন্দর্য রক্ষায় ১০ কাঠার নীচে কোনো প্লটের নকশার অনুমোদন না দিতে রাজউককে সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। 

 


বুধবার জাতীয় সংসদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত স্থায়ী কমিটির  ৪৪তম বেঠকে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।  


 


সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।


 


বৈঠকে কমিটির সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, নূর-ই-আলম চৌধুরী, আসাদুজ্জামান খাঁন, জহিরুল হক ভূঁঞা মোহন, কে এম খালিদ, আজিজুল হক চৌধুরী এবং বেগম সাফিয়া খাতুন অংশ নেন। 


 


এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরকে তাদের নির্মিত ভবনে হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ফেরোসিমেন্ট দিয়ে কম খরচে তৈরি পানির ট্যাংক সরবরাহ করারও সুপারিশ করা হয়।


 


জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর  বিস্তারিত আলোচনায় তাদের গৃহীত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার সুপারিশ করা হয়। 


 


বৈঠকে আগের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। 

স্ট্রবেরি চাষে নরসিংদীর নজরুলের সাফল্য

নরসিংদী: স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন নরসিংদীর নজরুল ইসলাম। তার সাফল্য দেখে বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এলাকার অনেকেই।

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার সররাবাদ গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। দুই বছর আগে শখের বশে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করে ব্যাপক সাফল্য পান।

অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন পাওয়ায় এ বছর ২০ শতাংশ জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন তিনি। আর সাত শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন নার্সারি।

অন্যান্য সবজির তুলনায় কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এলাকার অনেকেই।

স্ট্রবেরি চাষের সম্ভাবনার কথা জানালেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মুকছেদ আলী।

লোহাগাড়ায় কোয়েল পাখির বাণিজ্যিক খামারে সাফল্য

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন হচ্ছে কোয়েল পাখি। ইনকিউবেটর মেশিনের মাধ্যমে ডিম থেকে এ পাখি উত্পাদন করে ভাগ্য বদলাচ্ছে উদ্যমী যুবক মো. ইয়াছির আরাফাত চৌধুরী। উপজেলার আধুনগরস্থ উত্তর হরিণার নিজ এলাকা মিয়াপাড়ায় তিনি এ পাখির খামার গড়ে তোলেন। ২০০৯ সালের দিকে বগুড়া থেকে ৯ হাজার টাকা দিয়ে ৯শ'টি কোয়েল পাখির বাচ্চা এনে খামার শুরু করেন আরাফাত। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ নিয়ে এদের ঋণ সহায়তায় প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকায় দুটি ইনকিউবেটর মেশিন কিনে পাখির খামার আরো সম্প্রসারিত করেন। এইচএসসি পাস এ বেকার যুবক কোয়েল পাখি খামারের পাশাপাশি পোল্ট্রি ফার্মসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ করে থাকেন। বর্তমানে আরাফাতের খামারে ১৫ হাজার কোয়েল পাখি রয়েছে। জানা যায়, কোয়েল পাখি ৪৫-৫৫দিনের মধ্যে ডিম দেয়। প্রতিদিন ১টি করে প্রতিটি পাখি বছরে ৩শ'টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। সপ্তাহে ৪ হাজার ৫শ' ডিম একসাথে মেশিনে দেয়া যায়। ৩ হাজার ৫শ' পাখির বাচ্চা উত্পন্ন হয় সপ্তাহে। ৫-১০ ভাগ পাখি মারা যায়। ৪ জন কর্মচারী সার্বক্ষণিক খামারে কাজ করছে। প্রতিমাসে পাখি উত্পাদনে তার খরচ হচ্ছে এক থেকে দেড় লাখ টাকা। খুচরা মূল্যে প্রতিটি পাখি ৪০-৫০ টাকা। কিন্তু খামার থেকে বিক্রি হয় ৩০-৪০ টাকা। মাসে তার লাভ হচ্ছে ৩০-৫০ হাজার টাকা। পোল্ট্রি ফার্মেও তার প্রচুর আয় হচ্ছে। গত বছর মুরগি ও কোয়েল পাখি বিক্রি করে লাভ হয়েছে ৭ লাখ টাকা। এ বছর ১০ লাখ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা
সৌজন্য: ইত্তেফাক

মেহেরপুরে পামচাষীদের পামচাষে সাফল্য হচ্ছে পামতেল : বাজারজাতের অপেক্ষায়

বাংলাপোষ্ট২৪/ই: মেহেরপুরে সৌখিন ও আশাবাদী প্রায় ৩শ পামচাষী তাদের ২শ বিঘা জমিতে ১০ হাজার পামগাছের চারা লাগিয়েছিল ২০০৯ সালে। কোম্পানীর লোকের কাছে শিখেছিল গাছে পামওয়েল হরমোন প্রয়োগ, গাছে সুষম জৈবসার কিভাবে দিতে হয়, রোগ প্রতিরোধ ট্যাবলেটের মাত্রা কত?
পামচাষ করতে এসে সবই তারা রপ্ত করেছে। পামগাছে তিন বছর থেকেই ফল পাওয়া যায়। আট মাস ফলের বয়স হলেও সেই ফল থেকে তেল আসে। পামগাছ ৩০ ফুটের চাইতেও বড় হয়। বছরে ১০ থেকে ৩০টি কাঁদি হতে পারে এবং প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৮০ কেজি হারে ফল আসে। বাংলাদেশে প্রায় সব ধরনের জমিতেই পামচাষ হয়ে থাকে।
পামচাষী আশরাফপুরের রুহুল, গাংনীর জিয়া এবং আমঝুপীর আশরাফ বলেন কৌতুহল এবং ইচ্ছা নিয়েই পামচাষ শুরু করেছিলাম মালোয়েশিয়া নয় বাংলাদেশে এবং তাদের নিজেদের জমিতে নিজেদের পরিচর্যায় পামগাছ হয়েছে, এসেছে গাছে ফল এটা ভাবতে তাদের আনন্দ।
পামওয়েল খাদ্য ছাড়াও কসমেটিক, সাবান, ডিটারজেন্ট, গ্রীজ, লেখার কালি, মিল্ক পাউডার ও এসিডের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। বোটানিক এগ্রো লিঃ হেড অফিস মেহেরপুরের এক কর্মকর্তা কাজী মেহেদী হাসান বলেন পামতেল প্রস্তুত এর মেশিন এখন মেহেরপুরে।
সারা বাংলাদেশ থেকে মেহেরপুরে পামের ফল সরবরাহ করে পামতেল উৎপাদন এবং বাজারজাত করা হবে। তিনি আরো বলেন পামচাষের মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে পারে একটি মাঝারী আয়ের দেশ।

ঝালকাঠিতে সোনালি জাতের মুরগি উত্পাদনে দুই ভাইয়ের সাফল্য

ঝালকাঠি নাচনমহল ইউনিয়নের ডেবরা গ্রামে তুষ পদ্ধতিতে সোনালি জাতের মুরগির বাচ্চা ফুটিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন দুই ভাই মিজান ও মিরাজ। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩ হাজার সোনালি জাতের মুরগির বাচ্চা নিয়ে যাত্রা শুরু করে তাদের প্রতিষ্ঠিত শাফিন আদর্শ খামার। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তুষ পদ্ধতিতে এখানে বাচ্চা ফোটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখানে সোনালি জাতের মা মুরগির ডিম দিয়ে বাচ্চা ফোটানো হয়।
মিজান ও মিরাজ জানান, প্রতিদিন খামার থেকে পাওয়া ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো পর্যন্ত মোট সময় লাগে ২১-২২ দিন। এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিদ্যুত্ ছাড়াই কম খরচে বাচ্চা ফোটানো সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগের কারণ সম্পর্কে মিরাজুর রহমান সোহেল বলেন, বড় ভাই মিজানুর রহমান মাসুদের পরিকল্পনায় আমাদের নিজস্ব জায়গাতেই এ খামার গড়ে তোলা হয়েছে। এই খামার করার কারণে আমাদের দুই ভাইয়ের সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থান হয়েছে।
এই খামারে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ফার্মে কর্মরতরা বলেন, প্রতিদিন খামার থেকে পাওয়া ডিমগুলো রোদে তিন ঘণ্টা তাপ দিয়ে কাপড়ে বাঁধা হয়। এরপর কাপড়ে বাঁধা ডিমের পোঁটলাগুলো কাঠের তৈরি বাক্সের ভেতরে বাঁশের চাটাই দিয়ে বানানো ঝুড়িতে তুষের ভেতরে ১৬-১৭ দিন রাখা হয়। এ সময় বাক্সের ভেতরে হারিকেন জ্বালিয়ে সামান্য তাপ দেয়া হয়। এখান থেকে ডিমগুলো বের করে কাঠের টেবিলে রাখা কাপড়ের ওপর রেখে তার ওপর লেপ দিয়ে ৫ দিন ঢেকে রাখা হয়। এরপর ধীরে ধীরে ডিম থেকে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। বাচ্চাগুলো বের হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা বিশেষ যত্নে রাখা হয়।
শাফিন আদর্শ খামারের উদ্যোক্তা মিজান ও মিরাজ জানান, বর্তমানে এ ফার্মে ১২শ’ মুরগি আছে। প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় সাড়ে ৬শ’ ডিম পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোকে পর্যায়ক্রমে তুষ পদ্ধতিতে ফুটিয়ে এজেন্টের কাছে বিক্রি করা হয়।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মাওলা জগলুল বলেন, সোনালি জাতের মুরগির মাংস ব্রয়লারের চেয়ে সুস্বাদু এবং প্রচুর চাহিদা আছে। বিশেষ করে বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে রোস্ট করার জন্য এ জাতটি সবচেয়ে ভালো। শুনেছি ঝালকাঠির নলছিটিতে তুষ পদ্ধতিতে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে একটি খামার করা হয়েছে, তবে যাওয়া হয়নি।
সৌজন্য:-আমারদেশ

ভারত্তোলনের স্বর্ণ আলীর

ঢাকা : ভারত্তোলন ইভেন্টের ১০৫ কেজি ওজন শ্রেণীতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সেনাবাহিনীর মো. ফরহাদ আলী। সবমিলে মোট ২৮১ কেজি উত্তোলন করেন তিনি।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেশিয়ামে মোট ২০১ কেজি উত্তোলন করে মেহেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার আশরাফুল ইসলাম দ্বিতীয় ও নওগাঁ জেলা ক্রীড়া সংস্থার মো.রনি শেখ হয়েছেন তৃতীয়।

আর +১০৫ কেজিতে স্বর্ণ জিতেছেন বাংলাদেশ আনসারের মো.ফিরোজ মাহমুদ। রৌপ্য বিমানবাহিনীর ইমতিয়াজ হোসেন ও ব্রোঞ্জপদক পেয়েছেন বাগেরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার খান কামরুজ্জামান।

সবচেয়ে বেশি অর্থের মালিক রুনি

ঢাকা : ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেওয়া ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থের মালিক ওয়েইন রুনি। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘সানডে টাইমস’-এর এক সমীক্ষায় এটি উঠে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর, ম্যানইউ তারকা রুনির মোট অর্থের পরিমাণ ৫১ মিলিয়ন পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।
তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের সব ধরনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেওয়া ফুটবলারদের মধ্যে অর্থের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন রিও ফার্ডিনান্ড। তাঁর অর্থের পরিমাণ ৪২ মিলিয়ন পাউন্ড।
২০১২ সালের চেয়ে রুনির অর্থের পরিমাণ ছয় মিলিয়ন পাউন্ড বেড়েছে। রুনির সঙ্গে স্ত্রী কলিন ম্যাকফলিনের অর্থ যোগ করলে রুনি-কলিন দম্পতির অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ মিলিয়ন পাউন্ড।

প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ ১০ ধনী
১. ওয়েইন রুনি (ম্যানইউ), ৫১ মিলিয়ন পাউন্ড
২. রিও ফার্ডিনান্ড (ম্যানইউ), ৪২ মিলিয়ন পাউন্ড
৩. মাইকেল ওয়েন (স্টোক সিটি), ৩৮ মিলিয়ন পাউন্ড
৪. রায়ান গিগস (ম্যানইউ), ৩৪ মিলিয়ন পাউন্ড
৪. ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড (চেলসি), ৩৪ মিলিয়ন পাউন্ড
৬. স্টিফেন জেরার্ড (লিভারপুল), ৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড
৭. ফার্নান্দো তোরেস (চেলসি), ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড
৮. জন টেরি (চেলসি), ২৪ মিলিয়ন পাউন্ড
৯. জো কোল (ওয়েস্ট হ্যাম), ২১ মিলিয়ন পাউন্ড
১০. পিওতোর চেক (চেলসি), ২০ মিলিয়ন পাউন্ড

মার্ক জুকারবার্গ পৃথিবীর সেরা সিইও

ঢাকা : তারুণ্যের জয় আটকিয়ে রাখা যায় না। বাঁধ ভাঙ্গা তীব্র জোয়ারে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে তারুণ্যের এই তরী পৌঁছাবেই। আর সেই প্রমাণ আবারও বিশ্ববাসীর সামনে হাজির করলেন তরুণ উদ্যোক্তা ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী পরিচালক (সিইও) মার্ক জুকারবার্গ। অসংখ্য অর্জনের এই নাবিক পৃথিবীর সেরা সিইও নির্বাচিত হয়েছেন। ক্যারিয়ার ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্ল্যাসডোর এক জরিপ চালিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এছাড়া এ মুহূর্তে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও বেশ জনপ্রিয় আর বেশি পরিচিত মার্ক জুকারবার্গ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্ল্যাসডোরের এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পুরো ১২ মাসের সব ধরনের কর্মকাণ্ডকে বিবেচনায় নিয়ে কর্মীদের গোপন জরিপ নেওয়া হয়। স্যাপ সহ-প্রধান বিল ম্যাকডারমট এবং জিম হেগম্যান শীর্ষ সিইওর তালিকায় জুকারবার্গেই পরেই অবস্থান করছেন এ দুজন। প্রসঙ্গত, তবে আরেক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান ল্যারি পেজ ৯৫ ভাগ জনপ্রিয়তা নিয়ে ১১তম অবস্থান পেয়েছে।

এদিকে অ্যামাজন ডটকমের প্রধান জেফ বেজোস এবং অ্যাপলের টিম কুক যথাক্রমে ১৬ এবং ১৮তম অবস্থান অর্জন করেছেন। এদের দুজনই ৯৩ ভাগ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। প্রসঙ্গত, জীবিত অবস্থায় অ্যাপলের স্টিভ জবসই বিশ্বসেরা সিইও নির্বাচিত হন। অত্যন্ত হালকা মেজাজ এবং সাদামাটা পোশাকে বিশ্ব কাঁপানো পণ্য উপস্থাপনার জাদুকর বলা হয় স্টিভকে। শুধু নিজ কর্ম পরিবেশ নয়, সরল বক্তব্য প্রকাশে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হন স্টিভ।

তার হঠাৎ প্রয়াণে পুরো বিশ্বের শোকের ছায়া এ কথারই নিরব সাক্ষী। একজন সিইও কতটা জনপ্রিয় হতে পারে তা স্টিভই প্রমাণ করে গেছেন। বিশ্বে এখন সব ধরনের অনলাইন গণমাধ্যমের ব্যাপক জয়জয়কার। তাই নেতৃত্বগুণ আর কর্মীদের মধ্যে সর্বদা উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে সঠিক সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সিইও পদের প্রধান দায়িত্ব।

বিশ্বের অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে আর্থিকভাবে সফল করা অনেকাংশেই সিইও পদের ওপর নির্ভর করে। এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা। গ্ল্যাসডোর তাদের গবেষণার ফলাফলে জানিয়েছে, যোগ্য নেতৃত্বের বিচারে এবং কর্মীদের কাছে অত্যান্ত জনপ্রিয়তার কারণেই বিশ্বের সেরা সিইও নির্বাচিত হয়েছেন মার্ক জুকারবার্গ।

নিজের অফিসের কর্মীদের ৯৯ ভাগ জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে জুকারবার্গ এ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক একটি প্রতিষ্ঠানকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সফলতার চূড়ান্তে নিয়ে গেছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ এ প্রধান নির্বাহী (সিইও)। এ জরিপে ফেসবুকের একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার পাঁচ তারকার মধ্যে সবগুলো দিয়েই জুকারবার্গকে মূল্যায়ন করেছেন।

সবগুলো তারকা দেয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, দ্রুত এগোতে হবে। আর তা হতে হবে নির্ভয়ে। এ দুটি কারণেই জুকারবার্গ প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও হলেও কর্মীদের মধ্যে সব সময়ই প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেন। অবশ্য জুকারবার্গের বিপক্ষের বেশ কিছু অভিযোগ আছে। এর মধ্যে কর্ম পরিবেশকে অতিমাত্রায় কঠিন এবং বাড়তি দায়িত্বের চাপ দেওয়া অন্যতম। কিন্তু নেতৃত্বের সুকৌশলে একে ভিত্তিহীন এবং অমূলক প্রমাণ করেই শীর্ষ সিইও নির্বাচিত হয়েছেন এ তরুণ উদ্যোক্তা।

গবেষকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে তরুণরা অভিজ্ঞদের থেকেও বেশি ভালো করার কারণ হচ্ছে তারা জানে তরুণরা কি পছন্দ করে। আর সহকর্মীদের স্বাধীনতা দেয়ার মধ্যেই বড় প্রাপ্তি রয়েছে। আর এই বুঝতে পারার কারণেই আজ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ পৃথিবীর সেরা সিইও নির্বাচিত হতে সক্ষম হয়েছেন।

তিন মাসে গুগলের উপার্জন ১৪ বিলিয়ন ডলার!

ঢাকা : এই বছরের শুরুতে অর্থাৎ ২০১৩ সালের প্রথম তিনমাসে গুগলের উপার্জন ১৪ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার অনেক নিচে।

বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গুগলের তিন মাসে আয়ের পরিমাণ থাকার কথা ১৪.২ বিলিয়ন ডলার।

গুগলের এই ১৪ বিলিয়ন ডলার উপার্জনের ক্ষেত্রগুলো হচ্ছেঃ

১. মূল ইন্টারনেট সার্ভিস থেকে ৯.৯৯ বিলিয়ন ডলার
২. মটোরোলা মোবাইল হার্ডওয়্যার থেকে ১.০২ বিলিয়ন ডলার
৩. অন্যান্য ব্যবসা থেকে ২.৯৯ বিলিয়ন ডলার

বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও গুগলের লাভ ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গুগলের প্রধান অর্থনৈতিক অফিসার প্যাট্রিক (CFO) বলেন যে, গত বছর অর্থাৎ ২০১২ সালের মে মাসে মটোরোলা মোবাইলের মালিকানা পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের(গুগলের) উন্নতি চলছে।

গুগলের সিইও ল্যারি পেজ বর্তমান সময়ের ট্যাবলেট পিসিগুলোর দূর্বলতা দূর করার জন্য চেষ্টা করছে। তার মতে, “বাচ্চারা ট্যাবলেটে পানি ফেললে তার স্ক্রিন নষ্ট হওয়া উচিত না, আপনার ফোন হাত থেকে পড়ে গেলে চূর্ণবিচূর্ণ হওয়াও উচিত না”।

প্রথম এই তিন মাসে গুগলের প্রতি ক্লিকে খরচের পরিমাণ ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সূত্রঃ নিউ স্ট্যাটসম্যান

উপযোগিতা হারানো ১১ প্রযুক্তি

ঢাকা : আজকের প্রযুক্তি দ্রুতই পুরোনো হয়ে যাচ্ছে আগামীকাল। দ্রুত প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় একে একে বিদায় নিয়েছে অনেক প্রযুক্তিই। ফ্লপির মতো অনেক প্রযুক্তি বিদায় নিলেও এখন হরদম ব্যবহূত হচ্ছে, এমন অনেক প্রযুক্তিই রয়েছে বাতিল হয়ে যাওয়ার তালিকায়।

এরকম অনেক প্রযুক্তির উপযোগিতাই আজ আর খুঁজে পাচ্ছেন না পিসির ব্যবহারকারীরা। কম্পিউটারের যাত্রার পর থেকেই দ্রুত বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি বিশ্বের দৃশ্যপট। একের পর এক নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের ফলে প্রযুক্তির পুরোনো হয়ে যেতেও সময় লাগছে না খুব একটা। যেমন ধরা যাক অপটিক্যাল ড্রাইভের কথা। সিডির সময় যেন শেষের দিকে। এরকমই সময়ের অনেক অপরিহার্য এবং জনপ্রিয় প্রযুক্তিরই আজ উপযোগিতা না থাকায় অবস্থান হারিয়ে যাওয়ার পথে। এই রকম কিছু প্রযুক্তির কথা তুলে ধরা হলো এই লেখায়।

প্যারালাল এটিএ (পাটা)
প্যারালাল অ্যাডভান্সড টেকনোলজি অ্যাটাচমেন্ট (পাটা - PATA)কে অনেকে ইন্টিগ্রেটেড ডিভাইস ইলেকট্রনিক্স বা আইডিই (IDE) নামেও চিনে থাকেন। কম্পিউটারের সাথে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার বা অপটিক্যাল ড্রাইভ যুক্ত করতে আশির দশকের মাঝামাঝি যাত্রা শুরু করে PATA। তবে সময়ের সাথে সাথে অনেকটাই অপাঙেক্তয় হয়ে পড়েছে এই প্রযুক্তি। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠা PATA অবশ্য তার রাজত্ব হারায় সিরিয়াল এটিএ বা (SATA)'র আবির্ভাবে। এখনও অনেক জায়গায় এর ব্যবহার থাকলেও কয়েক বছর পরে হয়তো আর এর নামই শোনা যাবে না।

পিএস/২ কানেক্টর (PS/2)
কিবোর্ড এবং মাউসের মতো বহুল ব্যবহূত দুইটি পেরিফেরালকে পিসির সাথে সংযুক্ত করতে আইবিএম ১৯৮৭ সালে নিয়ে আসে পিএস/২ কানেক্টর। দীর্ঘদিন ধরেই কিবোর্ড-মাউস পিসিতে সংযুক্ত করতে এর বিকল্প ভাবতেও হয়নি মানুষকে। তবে ইউএসবি'র আবির্ভাব দ্রুত পুরোনো করে দিয়েছে একে। এখনকার দিনে বাজারে গিয়ে পিএস/২ পোর্টের মাউস বা কিবোর্ড খুঁজে পেতে কষ্টই করতে হয়। অনেক অফিসেই অবশ্য ইউএসবি পোর্ট নিষ্ক্রিয় রাখার ফলে এখনও এর ব্যবহার রয়েছে। তবে তাও খুব বেশিদিন বোধহয় থাকবে না।

ফায়ারওয়্যার (আইট্রিপলই ১৩৯৪)
দ্রুত গতির সিরিয়াল বাস হিসেবে অ্যাপল তৈরি করে ফায়ারওয়্যার। তবে ইউএসবির পাশাপাশি প্রায় সব ধরনের পিসিতেই দেখা মিলবে আইট্রিপলই ১৩৯৪ স্ট্যান্ডার্ডের ফায়ারওয়্যার। তবে গতির দিক থেকে এটি দ্রুত হলেও শুরু থেকেই সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। এর চেয়ে ইউএসবিই অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সবার কাছে। কাজেই ফায়ারওয়্যার ইতোমধ্যেই তার উপযোগিতা হারিয়ে বসেছে।

ইউএসবি ১.০ ও ২.০
দ্রুত গতির তথ্য স্থানান্তরে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি ইউএসবি। ইউএসবি বাজারে আসার পর থেকেই দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। দেখতে দেখতে প্রথম সংস্করণ শেষে দ্বিতীয় সংস্করণের ইউএসবি ২.০ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। তবে কয়েক বছর আগে ইউএসবি ৩.০ আগে দৃশ্যপটে। আর তাতে করেই ইউএসবি ২.০ অনেক ধীরগতির হয়ে গেছে অনেকের কাছেই। ফলে ইউএসবি ১.০ আর ২.০ কে এখন পুরোনো বাতিল প্রযুক্তির কাতারে ফেলা যায় সহজেই।

ইসাটা (eSATA)
হার্ডডিস্ক বা ইন্টারনাল স্টোরেজগুলোতে সর্বোচ্চ গতির তথ্য স্থানন্তর নিশ্চিত করতে পারে ইসাটা। তবে এর মূল সমস্যা হলে এতে তথ্য স্থানান্তরে একটি কেবলের পাশাপাশি ডিভাইসকে সচল রাখতে পৃথক পাওয়ার কেবল প্রয়োজন হয়। ফলে এক্সটার্নাল ড্রাইভ ব্যবহারের উপযোগী নয় এটি। তাছাড়া ইউএসবি ৩.০ আর থান্ডারবোল্ট এর চেয়ে অনেক বেশি গতি প্রদানে সক্ষম। ফলে ইসাটার সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে, এটা বলাই যায়।

ইসাটা/ইউএসবি কম্বো
ইনপুট/আউটপুট প্যানেলে অনেক মাদারবোর্ডেই রয়েছে ইসাটা এবং ইউএসবি ২.০-এর কম্বো পোর্ট। এই পোর্টে ইসাটা সমর্থিত ডিভাইসের পাশাপাশি ইউএসবি ডিভাইস ব্যবহারের সুবিধাও ছিল। তবে ইউএসবি ৩.০ বাজারে আসার পর থেকেই এসব কম্বো পোর্টের কদর কমেছে। আর থান্ডারবোল্টের আগামবার্তা এর জন্য অশনিসংকেত হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে বছর দুয়েকের মধ্যে এই কম্বো পোর্ট হারিয়ে যাবে পুরোপুরি।

মেমোরি কার্ড রিডার
ক্যামেরা, মোবাইল বা অন্যান্য বহনযোগ্য ডিভাইসে এখনও মেমোরি কার্ডের বহুল ব্যবহার রয়েছে। আর সেই ব্যবহারও এত সহজে শেষ হবে না বলেই জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তবে মেমোরি কার্ডে রিডারের দিন বোধহয় কেবল দিয়েই তথ্য স্থানান্তর হয়ে থাকে। ডিভাইস থেকে কার্ড খুলে কম মানুষই ব্যবহার করছেন। তা ছাড়া এখন ওয়াইফাই কার্ড চলে আসায় শেয়ারিং হয়েছে আরও সহজে। ফলে আমাদের দেশে না হলেও খুব দ্রুতই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে অপ্রচলিত হয়ে যাবে মেমোরি কার্ড রিডার।

সিডি/ডিভিডি ড্রাইভ
অপটিক্যাল ড্রাইভ হিসেবে এই তালিকায় সিডি/ডিভিডিকে দেখে অনেকেই ভুরু কুঁচকে ফেলতে পারেন। তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইন্টারনেটের এই যুগে এসে সিডি/ডিভিডির হ্যাপা আর কেউ সামলাতে চায় না। মাল্টিমিডিয়া ফাইলগুলো অনলাইনে এখন লেনদেন হচ্ছে বেশি। আর যারা অপটিক্যাল মিডিয়াকে স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তারাও ব্লুরে ডিস্কের দিকেই ঝুঁকে পড়ছেন। ফলে সিডি ডিভিডি, আর খুব বেশিদিন রাজত্ব করতে পারবে না প্রযুক্তি বিশ্বে, তা বলাই বাহুল্য।

ভিজিএ
ভিডিও গ্রাফিক্স অ্যারে বা ভিজিএ দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহূত হয়ে আসছে পিসিতে। তবে এর দিন বোধহয় শেষ হয়ে আসছে। নতুন নতুন ধরনের ডিসপ্লে প্রযুক্তি বাজারে আসতে থাকায় ভিডিজএ ক্রমেই মনোযোগ হারাচ্ছে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের। সেই সাথে কম্পিউটার নির্মাতাদেরও অনেকেই ভিজিএ পোর্ট ব্যবহার করা বাদ দিতে শুরু করেছেন। ফলে ভিজিএ'র আর বেশিদিন আয়ু নেই।

অ্যানালগ সারাউন্ড সাউন্ড
সাউন্ড সিস্টেমকে পিসির সাথে সংযুক্ত করতে সারাউন্ড সাউন্ডের ব্যবহার অত্যন্ত পুরোনো। এর শুরুটা অ্যানালগ সারাউন্ড সাউন্ড দিয়েই। এই সিস্টেমে সাইড স্পিকার, রেয়ার স্পিকার, সাবউফার, মাইক্রোফোন এবং প্রতিটি অংশের জন্য আলাদা আলাদা পোর্ট থাকত। তবে এরকম সারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেমের আর ব্যবহার নেই বললেই চলে। এখন ডিজিটাল সারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেমের যুগ। স্পিকার সিস্টেমের জন্য ত াই ডিজিটাল স্টিরিও ২.০ আউটপুটই চাহিদা আবার। ইতোমধ্যেই এই অ্যানালগ সিস্টেমের ব্যবহার কমে এসেছে। আর কিছুদিন পর হয়তো আর দেখাই যাবে না এই সিস্টেম।

মাউস
অপাঙেক্তও প্রযুক্তির তালিকায় মাউসকে দেখেও অনেকের ভুরু আকাশে উঠে যেতে পারে। তবে সত্যিই কি অনেক বেশি অবাক হওয়ার প্রয়োজন আছে? যে হারে ট্যাবলেট পিসি আর স্মার্টফোন পিসি'র বাজার দখল করে নিচ্ছে, তাতে করে মাউসের প্রয়োজনীয়তা তো দিন দিন কমছেই। শুধু তাই নয়, ল্যাপটপ টাচপ্যাড আর টাচ ডিসপ্লে কিংবা টাচ অল-ইন-ওয়ান ডিভাইসে মাউসের তো সত্যিই খুব বেশি প্রয়োজন নেই। অবশ্য গেমার আর প্রফেশনাল কাজে নিয়োজিতদের কথা আলাদা। তাদের জন্য মাউসের বিকল্প খুঁজে পাওয়া একটু মুশকিল বটে। তবে সাধারণ পিসি ব্যবহারকারীর জন্য এর প্রয়োজন ক্রমেই কমে আসছে। এই তালিকার সবগুলো প্রযুক্তির মধ্যে হয়তো এর আয়ুই সবচেয়ে বেশি।

এরকম হয়ত আরও অনেক প্রযুক্তিই খুঁজে পাওয়া যাবে, যেগুলো খুব বেশিদিন আর ধরে রাখতে পারবে না নিজেদের। তবে এটি আসলে সময়েরই ধারাবাহিকতা। এসবের স্থান তো আর ফাঁকা থাকছে না!

সৌজন্যে দৈনিক ইত্তেফাক

হুমকির মুখে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা!

ঢাকা : বাজারে মোবাইল এবং ট্যাবলেট পিসির অপারেটিং সিস্টেম হিসেব অ্যান্ড্রয়েড সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিন্তু এই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এখন হুমকির মুখে, কারণ একটাই সাইবার আক্রমণের সম্মুক্ষীণ হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা।

বর্তমানে ম্যালওয়্যারের আক্রমণ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে আর তার অধিকাংশ শিকার হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা, প্রায় ৯৫ শতাংশ। আমেরিকা এবং চীনের মোবাইল সিকিউরিটি হেডকোয়ার্টস থেকে বলা হয়েছে,যে ২০১২ সালে প্রায় ৩৩ মিলিয়ন অ্যান্ড্রয়েড যন্ত্রাংশ ম্যালওয়্যার আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০০ শতাংশ বেশী।

এনকিউ মোবাইলের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন যে, "অ্যান্ড্রয়েড হচ্ছে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম, আর অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স বলে, ডেভেলপাররা নতুন নতুন অ্যাপ্লিকেশন বের করার সুযোগ পায়।"

আর ওপেন সোর্স হওয়াতে, অ্যান্ড্রয়েড ম্যালওয়ারের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু অ্যাপ্লিকেশনে আক্রমণকারীরা ম্যালওয়্যার প্রোগ্রাম করে দিচ্ছে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা এইসব অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে ইনস্টল দেওয়ার পর, তার সেই যন্ত্রে ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

অনেকসময় কিছু ভুয়া লিঙ্ক থেকেও ম্যালওয়্যারের আক্রমণ হতে পারে, সেই জন্য সাবধান থাকা উচিত কখনো কোন লিঙ্কে ক্লিক করার আগে, যে লিঙ্কটা কি আসল না ভুয়া।

মাঝেমধ্যে, মোবাইল ব্যবহারকারীরা ভুয়া এসএমএস-এর মাধ্যমে ফিশিং এর শিকার হচ্ছে, যার ফলে তার ব্যাক্তিগত মেইল আইডি, ক্রেডিট কার্ডের গোপন নম্বর সব চুরি হয়ে যাচ্ছে।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের সবসময় সতর্ক থাকা উচিত অ্যাপ্লিকেশন নির্বাচনের দিক থেকে,এমনকি কোন লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে। কারন নিজের নিরাপত্তার দিকে নিজেরই খেয়াল রাখা উচিত।

ব্লু কোট নামক একটি ওয়েব সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা মতে, মোবাইল ফোনের প্রায় ২৫ শতাংশ ম্যালওয়্যার প্রবেশ করে পর্ন সাইটে প্রবেশের মাধ্যমে।

ম্যাকেফি(McAfee) নামক এক ওয়েব নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষা মতে, প্রতি ১০ জন মোবাইল ব্যবহারকারীর মধ্যে ৩ জন তাদের মোবাইলে কোন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নাহ, যার ফলে অনেকে অনুপ্রবেশ করে ম্যালওয়্যারের আক্রমণ ঘটাতে পারে।

এনকিউ এর সমীক্ষা মতে, বিশ্বের মধ্যে ভারত, চীন এবং রাশিয়া হচ্ছে ম্যালওয়্যার(মোবাইলে) শিকারের মধ্যে শীর্ষে। তথ্যসূত্রঃ সিএনএন


ডিনিউজবিডি/রুবেল/কামাল/সোহেল/রেজা/এস এইচ কে

উষ্ণ পৃথিবী, আমরা যাব কোথায়?

ঢাকা: পৃথিবী আসলে কখনো এত গরম ছিল না৷ মানবজাতির ইতিহাসে কখনো এমন উত্তাপ দেখা যায় নি৷ অনেক হিসেব-নিকাশ করে সম্প্রতি গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন৷

বেশ বড় আকারে এই গবেষণা চালানো হয়েছে৷ এর জন্য প্রথমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৭৩টি জায়গা থেকে জীবাশ্ম সহ কিছু বস্তু সংগ্রহ করা হয়েছিল৷ তারপর সেই সব তথ্য বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর তাপমাত্রার একটা ইতিহাস রচনা করেছেন বিজ্ঞানীরা৷ মোটামুটি ১১,০০০ বছর আগে শেষবার ‘আইস এজ' আসার পর থেকে আজ পর্যন্ত জলবায়ুর বিবর্তনের দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে৷

এই গবেষণার ফল বেশ চমকপ্রদ৷ তাতে দেখা যাচ্ছে, গত ৮০ বছরে পৃথিবীর উত্তাপ অবিশ্বাস্য গতিতে বেড়ে গেছে, যেমনটা তার আগের ১১,৩০০ বছরে দেখা যায় নি৷ আগামী কয়েক দশকে এই প্রবণতা আরও দ্রুত হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা৷ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন সম্পর্কে যত মতভেদই থাকুক না কেন, প্রতিটি মডেলেই এই বাস্তব চিত্র ফুটে উঠছে৷

এতদিন ধারণা করা হতো, শুধু গত ২,০০০ বছর ধরেই তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে৷ এবার ১১,০০০-এরও বেশি বছরের বিবর্তন বিশ্লেষণ করে আরও বড় একটা চিত্র পাওয়া গেল৷ আরও জানা গেছে, গত ৫,০০০ বছরের হিসেব অনুযায়ী তাপমাত্রা একদিকে ০.৮ শতাংশ কমেছে বটে, কিন্তু গত ১০০ বছর ধরে তা আবার হু হু করে বেড়ে চলেছে৷

এই প্রবণতা সত্যি হলে চলতি শতাব্দীর শেষে তাপমাত্রা ১.১ থেকে ৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে৷ কার্বন নির্গমনের মাত্রার উপর এর তীব্রতা নির্ভর করছে৷ তবে এই প্রবণতার পেছনে শুধু মানবজাতির কার্যকলাপ কাজ করছে না, পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে সম্পর্কের কিছু বিষয়ও এর অন্যতম কারণ৷ সূত্র: এএফপি।

জলবায়ু পরিবর্তনে সুন্দরবনে বড় আঘাত আসবে

খুলনা : জলবায়ু পরিবর্তন বা ক্লাইমেট চেইঞ্জ বর্তমান বিশ্বের একটি আলোচিত বিষয়। এর প্রভাব থেকে নিস্তার পাওয়ার কোন পথ নেই বাংলাদেশেরও। শুধু সময়ের জন্য অপেক্ষা করা মাত্র। তবে উদ্বেগের বিষয় আমাদের সুন্দরবন নিয়ে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় জানা গেছে জলবায়ু পরিবর্তনে সুন্দরবনের উপর বড় আঘাত আসবে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ একক ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৮৫ হেক্টর বা প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার। মোট আয়তনের বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৮০০ বর্গ কিলোমিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশে ও ভারতের আনুপাতিক হার দাড়ায় প্রায় ৬ ঃ ৪। সুন্দরবনের বন এলাকা হচ্ছে ৪ লাখ ১ হাজার ৬০০ হেক্টর এবং জলাভূমি বা নদী-খাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৫ হেক্টর। সুন্দরবনের যতটা এলাকা জুড়ে বনভূমি রয়েছে তার মধ্যে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৩৪০ হেক্টর উন্নত বনভূমি এবং ২৬ হাজার ৮০৭ হেক্টর অপ্রধান বনভূমি।
‘লিভিং উইথ চেইঞ্জিং ক্লাইমেট’ শিরোনামে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এখনই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের প্রতি একটি মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (সিএসই) মতে, দুই দেশের মধ্যে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আরও বলা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবন ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রতিক্রিয়া এটি এখন রুগ্ন বালকের মতো হয়ে যাচ্ছে। তাই সরকারকে এখনই এই সমস্যায় গুরুত্ব দিয়ে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে সুন্দরবন বড় ধরনের হুমকির মধ্যে পড়বে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবন এলাকায় পানির উচ্চতা গত এক দশকে সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় ১০ মিলিমিটার বেড়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা (এসএসটি) শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দশকওয়ারি বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। গত ১০০ বছরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়েছে ২৬ শতাংশ। এছাড়া সুন্দরবনের আশপাশের এলাকায় লবণাক্ততা বেড়ে গেছে অনেক বেশী। এর নিচু ভূমিতে মাটির উর্বরতা কমছে। পাশাপাশি ভূমিক্ষয়ও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখানকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীবিকা মৎস্য চাষ। এর ফলেও মিঠাপানির মাছ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে নতুন আবাসস্থল খুঁজছে।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, এ অবস্থা থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে একটি ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) আওতায় এর গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আমাদের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা সেকেলে। তাছাড়া আমরা অপেক্ষায় থাকি বিপর্যয় ঘটার জন্য। বিপর্যয় ঘটে গেলে কর্তৃপক্ষ উদ্ধার তৎপরতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেজন্য কার্যকরী ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট থাকা উচিত, যার মাধ্যমে আমরা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস জানতে পারব এবং তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে পারব।
উল্লেখ্য বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম সীমান্তে বঙ্গোপসাগরের তীরে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনা, এই পাঁচটি জেলা এবং ভারতের পঞ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার দক্ষিণাঞ্চলে সুন্দরবনের অবস্থান। ভৌগলিক ভাবে এর অবস্থান ২১ ডিগ্রী ৩০ মিনিট থেকে ২২ ডিগ্রী ৩০ মিনিট উত্তর দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত এবং ৮৯ ডিগ্রী থেকে ৯০ ডিগ্রী পূর্ব অক্ষাংশের মধ্যে। বাংলাদেশের ৫টি জেলার মধ্যে রয়েছে ১৭টি উপজেলা এবং যার মধ্যে প্রায় ২০০টি ইউনিয়ন। তবে উল্লেখ্য ৫টি জেলার মধ্যে উত্তরে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট এই তিনটিতে বনের বিস্তৃতি অনেক বেশী। যার উপজেলা গুলো হচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, কালীগঞ্জ ও আশাশুনি, খুলনার কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ এবং বাগেরহাট জেলার মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা। পূর্বে পিরোজপুর জেলার মাঠবাড়িয়া, ইন্দুরকানী এবং বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা। সুন্দরবনের দক্ষিনে কোন জনবসতি নাই। আছে শুধু অগাধ জলরাশির বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যের সুন্দরবনকে বিভক্ত করেছে হরিণভাঙ্গা ও রায়মঙ্গল নদী।

রামপালে কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে পশুর নদী শুকিয়ে যাবে

খুলনা : সুন্দরবনের অদূরে রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে এক বছরে পশুর নদী শুকিয়ে যাবে। প্রতিদিন এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ঘন্টায় ২৫ হাজার মিটার পানির প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুষিত পানিতে পশুর নদীর জীববৈচিত্র ধ্বংস হবে। এই কেন্দ্র থেকে বছরে ৩ লাখ ৬০ হাজার ছাই এবং ৩ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিন টন তরল বর্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য একটা বড় সমস্যা হবে দাঁড়াবে। গত শনিবার ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ ভারত ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যুৎ কোম্পানীর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালেল ৭ ডিসেম্বর জীববৈচিত্রের জন্য সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করে। পাশাপাশি ১৯৯৯ সালে ৩০ আগষ্ট পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চতুর্দিকের ১০ কিলোমিটার এলাকা পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বলে ঘোষণা করে। এই ঘোষণার আওতায় মাটি, পানি ও শব্দ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিকারক বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. এনামুল হক তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ৩ কিলোমিটার দূরে রামপালের শাপমারি ও কাটাখালী মৌজায় ৪ হাজার একর জমির ওপর বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন পাওয়ার প্রশ্ন আসে না।
২০১০ সালের ৮ অক্টোবর ভারতের দ্যা হিন্দ পত্রিকায় মধ্য প্রদেশে এনটিপিসির কয়লা ভিত্তিক প্রকল্প বাতিল শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জনবসতি সম্পন্ন এলাকায় কৃষি জমির ওপর বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই ভারতের কেন্দ্রীয় গ্রীন প্যানেল এনটিপিসির ১৩২০ মেগাওয়াট একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়নি। তাহলে কৃষি জমি, নিকটবর্তী জনবসতি, পাশ্ববর্তী নগরী, নদীর পানির স্বল্পতা এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করে ভারত সরকার মধ্যপ্রদেশে এনটিপিসির কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে দেয়। সেই এনটিপিসির বাংলাদেশের সাথে যৌথ বিনিয়োগে তার দ্বিগুন ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাগেরহাটের রামপালে নির্মাণ করা হচ্ছে।
পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংরক্ষিত বনভূমি ও বসতির ১৫-২০ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয় না। যে ভারতীয় এনটিপিসি বাংলাদেশে সুন্দরবন ধ্বংস করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে সেই ভারতেই ওয়ার্ল্ড লাইফ প্রটেকশন এ্যাক্ট ৭২ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন বাঘ, হাতি সংরক্ষণ অঞ্চল, জীব বৈচিত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান, বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য কিংবা অন্য কোন ধরনের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকা চলবে না। প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবনের ৯ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে হওয়ায় তরল বর্জ্যরে দুষণে সুন্দরবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ঘন্টায় ২৫ হাজার মিটার পানির প্রয়োজন হলে এক বছরের মধ্যে পশুর নদীর শুকিয়ে যাবে এমন অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকৌশলী ম. এনামুল হক জানান, শাপমারী ও কাটাখালী এলাকায় মিষ্টি পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলন করলে মাটির স্তরের পরিবর্তন ঘটবে।
উল্লেখ্য, রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য গত শনিবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ ভবনে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ অনুষ্ঠানে দু’দেশের সচিব উপস্থিত ছিলেন। ২০১৬ সালের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাকৃবির ঈশা খাঁ হল ফিরে পেল শিক্ষার্থীরা

বাকৃবি : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রতিষ্ঠাকালীন ঈশা খাঁ হল শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ৩৭দিন থেকে চলমান আন্দোলনের ফলে সোমবার রাতে প্রশাসন ও ওই হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে লিখিত এক অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষরের মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৭ফেব্রুয়ারি থেকে ঈশা খাঁ হল নিয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পর লিখিত এক অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে প্রশাসনের সাথে সমঝোতা করেছেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অঙ্গীকারনামায় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: শহীদুর রহমান খান ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ এবং ঈশা খাঁ হল শিক্ষার্থীদের পক্ষে হলের প্রায় সকল শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেন। অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা হলে থেকে হলের সংস্কার কাজের আশ্বাস দেন। পরে ওই রাতেই প্রক্টর, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, প্রভোস্ট কাউন্সিলেরর আহবায়ক এবং ওই হলের প্রভোস্ট হলে গিয়ে দ্রুত হল মেরামতের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার থেকে হলের প্রশাসনিক কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ্ওই হলের শিক্ষার্থীরা। অঙ্গীকারনামায় হলের সংস্কার কাজ শুরু করা, কোন কিছু চুরি গেলে তার দায় দায়িত্ব প্রশাসনের না নেওয়া, জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করা প্রমুখ বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: শহীদুর রহমান খান বলেন, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগীতার ফলেই দীর্ঘদিন পর সমস্যাটির সুষ্ঠ সমাধান হল।

ভয়াবহ সেশনজটের মুখে রাবি

রাবি :  ঘন ঘন হরতাল, অবরোধ, শীতকালীন অবকাশ এবং সরকারী ছুটিতে বিপর্যস্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে প্রতিটি বিভাগের একাডেমিক রুটিন। ঘন ঘন হরতালের ফাঁদে চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষনার কাজ। সে কারণে বিভাগগুলো যেমন সময়মতো সিলেবাস শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছে তেমনি বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা গ্রহনেও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। হরতালের কারণে চলমান প্রায় ২০টি বিভাগের পরীক্ষা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এরফলে এরই মধ্যে প্রায় তিন মাসের সেশনজটে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এরপরেও আসছে মে মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ব নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীণ ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। ছুটিতে হল ভ্যাকেন্ট করার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। যার ফলে আবারো দীর্ঘ ৪০ দিনের ক্লাশ-পরীক্ষাহীন ছুটি কাটাতে হবে শিক্ষার্থীদের। যা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সেশনজটকে আরো ভয়াবহ করে তুলবে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। যা একদিকে বিশ্ববিদ্যালযের শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ভাবিয়ে তুলছে অন্যদিকে অভিভাবকদেরকেও করছে উদ্বিগ্ন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি হতে ২৫ এপ্রিল  পর্যন্ত শীতকালীন ছুটিসহ নানা দিবস বাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মদিবস ছিল ৮০ দিন। এর মধ্যে সারাদেশে ও শুধুমাত্র রাজশাহী বিভাগে সর্বমোট হরতাল ছিল ৪৭ দিন। অর্থাৎ চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ক্লাশ হয়েছে মাত্র ৩৩ দিন।
বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, রাবি’র ৪৮টি বিভাগের মধ্যে অন্তত ২৯টি বিভাগের কোন না কোন বর্ষের পরীক্ষা চলছে। হরতালের কারণে একটি কোর্সের পরীক্ষার জন্য দুই তিনটি তারিখ নির্ধারণ করেও সময়মত পরীক্ষা নিতে পারছেন না বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। হরতালে ক্লাস বা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। এদিকে একই কারণে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, পরিবহন ও ইনস্টিটিউটগুলো বন্ধ থাকায় চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে গবেষণা কার্যক্রম। যার ফলে এরই মধ্যে প্রায় ৫ মাসের দীর্ঘ সেশনজটে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
 বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যমান সেশনজন নিরসনের জন্য গ্রীষ্মকালীন ছুটির দিকে তাকিয়ে থাকলেও প্রশাসন ভবছে ভিন্নভাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পহেলা মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত টানা ৪০ দিনের গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছুটি কমানোর দাবী জানালেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তার ঠুনকো অজুহাতে বন্ধ এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন ব্যক্তি জানিয়েছে। যা পহেলা মে’র পরিবর্তে আগামী শনিবার থেকে শুরু হবে বলে তিনি জানান। এছাড়াও ছুটিতে আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রাখা হবে বলেও তিনি জানান। ফলে দীর্ঘ ৪০দিনের ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ক্লাশ-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যা বিদ্যমান সেশনজটকে আরো ভয়াবহ করে তুলবে।
এদিকে হরতালে শিক্ষার পাশাপাশি চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে গবেষনা কার্যক্রম। হরতালে নিয়মিতভাবে বন্ধ থাকছে ইনস্টিটিউটগুলো। এরফলে গবেষকরা তত্ত্বাবধায়কদের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না । যা তাদের গবেষনা কর্মকে বাঁধাগ্রস্থ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আক্ষেপ করে বলেন, তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত একাডেমিক রুটিন মাফিক সব পরীক্ষা শেষ হলেও এবার চতুর্থ বর্ষে এসে আটকে গেছি। দুই মাস আগে আমাদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখনো আমাদের সিলেবাসই শেষ হয়নি। আমরা সবাই এখন গ্রীষ্মকালীন অবকাশের দিকে চেয়ে আছি যাতে সেসময় আমরা আমাদের পিছিয়ে যাওয়া পড়াগুলো শেষ করতে পারি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য  প্রফেসর ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল বলেন, আমরা সিন্ডিকেটে বন্ধের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করব। তবে বিভিন্ন কারণে ছুটি কমানোর সম্ভবনা কম রয়েছে।

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ শ্রীপুরের বেল

Kanaighat News on Saturday, April 27, 2013 | 8:01 PM

মাগুরার শ্রীপুরের দেশীয় সুমিষ্ট বেলফলের পুষ্টিগুণের জুড়ি নেই। রফতানিও হচ্ছে দেশে-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে। আবহাওয়াগত কারণে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শ্রীপুর এলাকাতে দেশীয় বেলগাছ পর্যাপ্ত রয়েছে। স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় এ ফলের চাহিদা প্রচুর। উপজেলার প্রতিটি বাজারে প্রতিটি পাকা বেল আকারভেদে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গাছে থাকতে ১শ'টি বেল ৮শ' থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় জাতীয় এক-একটি বেলা গাছে ২ থেকে ৩ হাজারের ঊর্ধ্বে বেল ধরে থাকে। বাণিজ্যিকভাবে এলাকায় বেলের আবাদ না হলেও প্রতিটি পরিবারের আঙ্গিনায় কমবেশি বেলগাছ আছে। বেলের পাতা থেকে শুরু করে কচি, মাঝারি ও পাকা বেলের পুষ্টিগুণ অপরিসীম। বেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। পাকা ও কাঁচা বেল সমান উপকারী। গরমের দিনে বেলের সরবতের কোন জুড়ি নেই। কাঁচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগের এবং পাকা বেল কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের মহৌষধ। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বেল একটি পুষ্টিকর ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শ্বেতসার,ক্যারোটিন,ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স,ক্যালসিয়াম ও লৌহ উপাদান। প্রতিগ্রাম বেলের শাঁসে ৬২.৫% পানি,১.৮ গ্রাম আমিষ, ৩১.৮ গ্রাম শ্বেতসার, ০.৩৯ স্নেহ, ৮৭ কিলোক্যালোরি খাদ্য শক্তি, ৫৫ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন, ০.১৩ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ১.১৯

‘মোশাররফকে অপহরণের পরিকল্পনা করছে তালেবানরা’

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে অপহরণের পরিকল্পনা করছে তালেবান জঙ্গিরা। শুক্রবার দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।

বেনজির হত্যা মামলা, বিচারক অপসারণ ও তাদের গৃহবন্দি রাখাসহ বেশ কয়েকটি মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন মোশাররফ। আদালতের নির্দেশক্রমে তাকে নিজের বাসভবনে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মোশাররফকে তার বাগানবাড়ি থেকে আদালতে নেওয়ার সময় অপহরণ করার চেষ্টা করবে নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই- তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও তাদের দোসররা।

এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি তালেবান জঙ্গিরা। তবে দীর্ঘ ৪ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার সময় মোশাররফকে হত্যা করার হুমকি দেয় তালেবানরা। তালেবানদের এমন হুমকির পরও ১১ মে’র জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে ফিরেন মোশাররফ।

এছাড়া, চারটি সংসদীয় আসনে জমা দেওয়া মোশাররফের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। বিচারক অপসারণ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার শুনানিতে সাবেক প্রেসিডেন্টের জামিন বাতিল করেন আদালত। বর্তমানে ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে চাক শাহজাদের বাগানবাড়িতে বিচারিক রিমান্ডে গৃহবন্দি আছেন এই সেনাশাসক।

‘ঘৃণায় হিজড়া হইছি’

“পুরুষের প্রতি ঘৃণায়ই হিজড়া হইছি” এমনটাই মন্তব্য করলেন আসাদ গেটের ফুটওভার ব্রিজে ভাসমান এক দেহপসারিণী সাগরিকা।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই নারীর প্রতি পুরুষের অত্যাচার দেখে আমার মনে এক ধরনের ঘৃণা জন্ম নেয়।“

সে কারণে সাগরিকা ২২ বছর বয়সে ২০১০ সালে ভারতে গিয়ে অপারেশন করে পুরুষ থেকে হিজড়া হন। এতে তার খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। দেশে ফিরে এসে জড়িয়ে পড়েন দেহ ব্যবসায়।

সাগরিকা খুবই সাধারণ পরিবারের ছেলে ছিলেন। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে বার বার হোঁচট খেয়েছেন তিনি। অর্থের প্রয়োজনে একসময় চলে আসেন দেহ ব্যবসায়।

রোজ রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত আসাদগেট ফুটওভার ব্রিজে দেহ ব্যবসা করেন তিনি। খদ্দেরপ্রতি একশ থেকে ৫০০ টাকা নেন।

সাগরিকা বলেন, “যার কাছ থেকে যেমন পারি, তেমনটাই নিই। আমার নির্দিষ্ট কোনো চাহিদা নেই।”

তিনি জানান, পুলিশ সরাসরি বাধা দেয় না। তবে খদ্দেররা এলে তাদের সঙ্গে ঝামেলা করে। এ জন্য পুলিশের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তার।

কেন এ পেশায় এসেছেন জানতে চাইলে সাগরিকা বলেন, “পুরুষের প্রতি ঘৃণা থেকে হিজড়া হয়েছি। আবার এই পুরুষের নিয়মের কারণেই আমরা এই সমাজে থাকতে পারছি না। কারণ, পুরুষরাই তো সমাজের মাথা। তারা আমাদের রাখতে চায় না। কেউ কাজ দিতে চায় না। তাই, এ পেশায় এসেছি।“

তিনি জানান, পেশা সম্পর্কে তার পরিবারের সদস্যরা কিছুই জানে না। তার পরিবারের সবাই বরিশালে থাকেন।

অশ্রু চোখে তিনি বলেন, “বাড়ির সবাই জানে, আমি গার্মেন্টেসে কাজ করি। কিন্তু আমি তো এই হানে...। কী হরমু, কিছুই তো করার নেই।”

এ চিত্র শুধু আসাদ গেটের ফুটওভার ব্রিজের নয়, ঢাকার প্রায় প্রতিটি ফুটওভার ব্রিজেই এমন ঘটনা ঘটে বলে জানান সাগরিকা। এমন অসংখ্য সাগরিকারা প্রতিনিয়ত অন্তর্দহনে দংশিত তাদের এ অবস্থার জন্য।

জানা যায়, শুধু ফুট ওভারব্রিজই নয়, মানিক মিয়া এভিনিউতে চলে আরেক কায়দায় দেহ ব্যবসায়। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সামনে রাত ১০টার পর থেকেই সংসদ ভবনের সামনের ফুটপাতে হাঁটাহাঁটি শুরু করেন দেহপসারীরা।

এ সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি এসে থামে মানিকমিয়ার ফুটপাতের পাশ ঘেঁষে। তবে এ ক্ষেত্রে খদ্দেররা কেউই গাড়ি থেকে নামেন না। নেমে আসেন তাদের দালাল বা ড্রাইভাররা। চলে দর কষাকষি। দাম মিটে গেলে গাড়িতে উঠে চলে যান নির্দিষ্ট গন্তব্যে।

ফুটওভার ব্রিজের ভাসমান দেহপসারীদের চেয়ে যেন উল্টো পথেই হাঁটেন মানিকমিয়া এভিনিউয়ের নিশিকন্যারা। এদের অনেকেই আবার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষিত শ্রেণির মেয়ে বলে জানান সংসদ ভবনের সামনের ফুটপাতের দেহপসারিণী জলি (ছদ্মনাম)।

তিনি বলেন, “এখানে রাতে নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা আহে। তাদের লগে আগে থেইক্যাই খদ্দেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়। এইখান থেইকা গাড়িতে ওইঠ্যা চইলা যায়। তবে দোষ শুধু আমাগো। সবাই কেবল আমাগোই বেশ্যা কয়!”

সেতু ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন বগুড়া-সিরাজগঞ্জ বাইপাস সড়ক

Kanaighat News on Friday, April 26, 2013 | 10:16 PM

ইছামতি নদীর সোনামুখী ঘাটে বিকল্প বেইলি সেতু ভেঙ্গে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে পড়েছে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ বাইপাস সড়কের যোগাযোগ। শুক্রবার সকালে সেতুর পাটাতন ভেঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া থেকে শেরপুর-ধুনট-কাজিপুর বাইপাস সড়কে দৈনিক কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে।

যান চলাচলের সুবিধার্থে সড়কের কাজিপুরের ইছামতি নদীর সোনামুখী ঘাটে প্রায় ২২ বছর আগে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়।

নির্মাণের পর থেকেই অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই যানবহন চলাচলের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে সেতুটি। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বেইলি সেতুটিকে ১২৪ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুতে রূপান্তরের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়।

কার্যাদেশ পেয়ে ২০১২ সালের ১ জুলাই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করে মেসার্স তাহের এন্ড সন্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া নদী পারাপারের জন্য অস্থায়ীভাবে নদীর উপর ৩০ মিটার দীর্ঘ অস্থায়ী বেইলি সেতু নির্মাণ করে দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

কিন্তু অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ সেতুটিরও পাটাতন ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ।

এতে কেবলমাত্র দূরপাল্লার যাত্রীদেরকেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না, নদীর দুই দিকে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ায় ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। এছাড়া একশ্রেণীর অসাধু নৌকা চালকরা (মাঝি) এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রহমত আলী স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, সেতুর উপর দিয়ে অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই যান চলাচল করায় পাটাতন খুলে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তবে অল্প সময়ে মধ্যেই (দুই এক দিনের মধ্যে) সেতুর উপর দিয়ে পুনরায় যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করবে সওজ।

সোহেল রানাকে আত্মসমর্থন করার আহ্বান

সাভারে ভবন ধসে শ্রমিক নিহতের জন্য দায়ী রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে আত্মসমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজিএমইএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানান। এর আগে সংগঠন দুটি এক বৈঠকে মিলিত হন।

ভবন মালিকের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইনের কাছে নিজেদের সোপর্দ করুন। কারণ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ কখনো কোনো অন্যায় কাজের সমর্থন করে না। বরং আমরা সব সময় আইনের ব্যাপারে সহযোগিতা করছি।”

প্রসঙ্গত, রানা প্লাজার মালিক ও এই ভবনের গার্মেন্টস মালিকদের অবিলম্বে গ্রেফতার করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই নির্দেশের পর বিজিএমইএ ও বিকেএমেএ এ আহ্বান জানালো। এছাড়া রানাকে গ্রেফতার ও শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।

মর্মান্তিক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার দাবিতে সারাদেশে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের জের ধরে আগামী শনিবার ও রোববার গার্মেন্টস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে রানা প্লাজায় অবস্থিত পোশাক কারখানায় নিয়োজিত সব শ্রমিকদের বেতন ও পাওনাদি পরিশোধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনবার্সন করা হবে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে বুয়েট ও চুয়েটের প্রকৌশলী দিয়ে রানা ভবনের স্ট্রাকচারাল ডিজাইন পরীক্ষা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম মহিউদ্দিন, সালাম মোর্শেদী, বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান প্রমুখ।

ক্ষমতাসীনদের বাধার মুখে বিএনপির মেডিকেল টিম: অভিযোগ দুদুর

সাভারে আহতদের জন্য ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যাওয়া বিএনপির মেডিকেল ও সেবা টিমগুলোর কার্যক্রমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বাধার সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শামসুজ্জামান দুদু।

বাংলানিউজকে দুদু বলেন, ‘ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতা ডাক্তার সুমনের নেতৃত্বে একটি টিম শুক্রবার দুপুরে সাভারে আহতদের মাঝে সেবা কার্যক্রম চালাতে গেলে, তাতে বাধা দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ওই টিমের সঙ্গে ছিলো ট্রাক ভর্তি ওষুধ, স্যালাইন, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও বিভিন্ন সাহায্য সামগ্রী।’

বাংলানিউজকে দুদু আরও বলেন ড্যাব ছাড়াও বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভবন ধসের ঘটনায় আহতদের সেবা এবং ভবনে চাপা পড়া লোকদের উদ্ধারে প্রথম থেকেই টানা কাজ করে যাচ্ছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব সেবা তৎপরতা সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করছেন বলেও জানান দুদু।

এছাড়া বিএনপির বিভিন্ন টিম উদ্ধার কাজের প্রয়োজনীয় টর্চলাইট, গ্রিল কাটার মেশিন, অক্সিঅ্যাসিটিলিন সিলিন্ডার ইত্যাদি নিয়ে ঘটনাস্থলে আগেই পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

ইতিমধ্যেই বিএনপির পক্ষ থেকে আহতদের জন্য সাভারে দেড় হাজার ব্যাগ রক্ত পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে দুদু বলেন,  বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনে এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের নেত্রী  শ্যামা ওবায়েদের নেতৃত্বে সাভারে ঘটনাস্থলের পাশেই রক্ত সংগ্রহ অভিযান চলছে।

সাভার ট্র্যাজেডি: ২ মে হরতাল ডাকছে বাম দলগুলো

সাভারে রানা প্লাজা ধসে বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টস শ্রমিকের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গার্মেন্টস মালিকসহ দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার, ২ মে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও বামমোর্চা।

 শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে হরতালের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ।

 বাংলানিউজকে তিনি বলেন, “বিগত সময়ে স্পেকট্রাম গার্মেন্টস কারখানা ধসে এবং তাজরীন ফ্যাশনে আগুনে পুড়ে অগণিত শ্রমিকের মৃত্যু হলেও এ পর্যন্ত দায়ীদের কোনো প্রকার শাস্তি হয়নি। এমনকি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। দেখা গেছে, সরকার বা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায় দায়ী ব্যক্তিরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আর প্রায় প্রতি বছরই শত-শত শ্রমিক নির্মম মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি, স্পেকট্রাম ধস, তাজরীণ গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধ্বস, এর কোনোটাই দুর্ঘটনা নয়। সাদা চোখে এগুলোকে দুর্ঘটনা মনে হলেও আসলে এগুলো হচ্ছে সচেতন অবহেলায় সংগঠিত ‘হত্যাকাণ্ড’। এখন অনেক রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, এমপিরাও একে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলছেন।”

হরতাল আহ্বান প্রসঙ্গে সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ আরো জানান, এখন পর্যন্ত সিপিবি-বাসদ হরতাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে গার্মেন্টস টিইউসিসহ অন্যান্য গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে হরতাল সফল করার ব্যপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এছাড়াও গণতান্ত্রিক বামমোর্চা এবং মবিনুল হায়দার চৌধুরী এবং শুভ্রাংশু চক্রবর্তীর নেতৃত্বে নবগঠিত বাসদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে বামমোর্চার প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিপিবি-বাসদের সঙ্গে যুগপৎভাবে তারাও একই দিনে হরতাল আহ্বান করবেন। এ বিষয়ে বামমোর্চাভূক্ত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, শুধু রানা প্লাজা ধসে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতেই নয়, এর সঙ্গে স্পেকট্রাম গার্মেন্টসে ভবন ধস, তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী গার্মেন্টস মালিক, ভবন মালিক ও দায়িত্বে অবহেলাকারী সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতার, নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকার দাবিতে এ হরতাল আহ্বান করা হবে।

সাভার থেকে ঢাকায় ফিরেছেন খালেদা

ধসে পড়া ভবন পরিদর্শন, হাসপাতাল ও মরদেহ রাখার মাঠ পরিদর্শন শেষে সাভার থেকে ঢাকায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে তিনি গুলশানে তার বাসায় ফেরেন। এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌছান খালেদা জিয়া।

ঢাকা থেকে তার সঙ্গী হন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, আ স ম হান্নান শাহ, ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান জানান, সাভারে ধসে পড়া ভবন পরিদর্শন ছাড়াও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান খালেদা জিয়া। পরিদর্শন করেন লাশ রাখা অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ।

এছাড়াও রক্তদান কর্মসূচিসহ বিএনপি আয়োজিত অন্যান্য সেবা কার্যক্রমের খোঁজখবরও নেন বিএনপি প্রধান।

এর আগে বুধবার ওই ভবন ধসের পর খালেদা জিয়ার নির্দেশে ১৮ দলীয় জোটের চলমান হরতাল প্রত্যাহার করা হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আহতদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য নয়াপল্টনে চালু করা হয় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার সকালে খালেদা জিয়ার নির্দেশে আরো একটি দল সাভার যায়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভবন ধসের ঘটনায় ২৪৩ লাশ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

কাঁকড়া চাষ করে স্বাবলম্বী মংলার নাছিমা

মাত্র এক বছর আগেও নাছিমা বেগমের সংসারে অনেক অভাব ছিল। অভাব যেন সারাক্ষণ তাকে ঘিরে রাখতো। তার স্বামী আব্দুর রশিদ শেখ যে কয় টাকা আয় করতো সেই টাকা দিয়ে তার সংসার চলতো টানাটানি করে। কিন্তু কাঁকড়া চাষ করে তিনি সফলতা পেয়েছেন, হয়েছেন স্বাবলম্বী।

তার ব্যাবসায় এখন অনেকেই টাকা বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

নাছিমার স্বামী আব্দুর রশিদ শেখ জানান, বড় মেয়ে ময়না এখন ৩য় শ্রেণীতে লেখাপড়া করে, ১৩ মাসের ছেলে রাব্বি জন্য দুধ কিনতে পারছে। তাদের সংসার ভালোই চলছে।

হাসোজ্জ্যল মুখে নাছিমা বেগমও জানালেন, সরকারের “একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প” এর অধীনে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে গাববুনিয়া গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্য হিসাবে যোগ দেন। এরপর ২০১২ সালের জুন মাসে তিনি জানতে পারেন সরকার তাদের সহজ ও সামান্য সুদে ঋণ দিবে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে ২০১২ সালের জুলাই আসে নাছিমা বেগম ঋণ নেয় ১০ হাজার টাকা এবং তার এক আত্বীয়ের কাছ থেকে আরও ঋণ নেয় ১০ হাজার টাকা । মোট ২০ হাজার টাকা দিয়ে কাঁকড়া কেনার অর্ডার দেওয়া হয়। কাঁকড়ার জন্য খাদ্য হিসাবে দেওয়া হয় শামুক ও গুড়া মাছ। মাত্র ২০-২৫ দিনেই বিক্রির উপযুক্ত হয় কাঁকড়া।

তিনি আরও জানান, নিয়মিত সঞ্চয় এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছেন তিনি। ঋণের কিস্তি শোধ হলে পুনরায় আবার বেশী করে টাকা ঋণ নেবেন।

নাছিমাকে দেখে চিলা ইউনিয়নের গাববুনিয়া এলাকার অনেক সদস্যই এখন কাঁকড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। নাছিমার ঘেরে এখন অনেকেই পুঁজি বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মো. সেলিম বাংলানিউজকে জানান, মংলাসহ উপকূলীয় এলাকার কাঁকড়া অনেক সু-স্বাদু ,তাই এ এলাকার কাঁকড়ার  চাহিদাও বেশী।  অনেক দেশে কাঁকড়া রফতানি হয়ে থাকে। বিশেষ করে  থাইল্যান্ডে বেশি রফতানি হয়। এজন্য তার দফতর ২ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এসব সমিতিভুক্ত  কাঁকড়া চাষী সদস্যদের।          

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবদুস সোবহান বাংলানিউজকে জানান, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে সম্পদ সহয়তা হিসাবে ১শ জন সদস্যকে একশটি গরু, ৪৪ জন সদস্যকে ঘর তৈরির টিন, ৯০ জন সদস্যকে শাক-সবজির বীজ, ১২০ জন সদস্যকে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এবং মাছ চাষ, কাঁকড়া চাষ, হাঁস-মুরগী ও গবাদী পশু পালন এবং নার্সারী খাতে ১ হাজার ১১ জন সদস্যকে প্রায়  ৮৯ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে  বিতরণ করা  হয়েছে।

এ ব্যাপারে মংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশবিদ ড. মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটির সদস্যদের বিভিন্ন পেশায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে, তিনি পরিবেশের স্বার্থে কাঁকড়া চাষ লবন পানিতে না করে মিষ্টি পানিতে করতে চাষীদের পরামর্শ দিয়েছেন।

মংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ইদ্রিস আলী বাংলানিউজকে জানান , গ্রামের অবহেলিত জনগোষ্টি যাতে অপরের ওপর নির্ভর থাকতে না হয় সেজন্য তার উপজেলাতে কাজ চলছে। নাছিমা বেগমের মতো অনেক গরীরদেরকে বাছাই করে ঋণ দেওয়া হযেছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি আরও সম্প্রসারিত করা গেলে অচিরেই গ্রাম ও শহরের জীবনযাত্রা সমান হয়ে যাবে। সফলতা অজর্নকারী নাসিমাসহ সবাইকে তিনি সাধুবাদ জানিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ইদ্রিস আলী মনে করেন, ঋণের টাকা যারা কাজে লাগিয়েছে তারা সফলতা অর্জন করেছেন।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. প্রশান্ত কুমার রায় জানান , একজন সদস্য ২শ টাকা প্রকল্পে জমা দিলে সরকারও ২শ টাকা কল্যান অনুদান দিচ্ছে। টাকা রাখা হচ্ছে ব্যাংকে। তাই ব্যাংকও এ টাকার লাভ দিচ্ছে। এসব কিছুই পাচ্ছে সদস্যরা। ঋণ নিয়ে আয় করবে এবং টাকাও সঞ্চয় হবে যা দিয়ে এক সময় সদস্যরা স্বাবলম্বী হবে এটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘স্বপ্ন ’। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এমন ভাবে সম্পসারিত হচ্ছে  যার ভবিষ্যত খুবই ভাল।

বাগেরহাট-৩ (মংলা-রামপাল) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার বাংলানিউজকে জানান, মহাজোট  সরকার সব সময় ভাল কাজ করে আসছে। অসহায় ও গরীব মানুষের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা “একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প” চালু করেছেন। গ্রামীণ জনগোষ্টি যাতে অবহেলিত না থাকে সেই লক্ষ্যে তিনিও কাজ করছেন, আগামীতেও করে যাবেন বলে জানান।

জন কল্যাণকর এ প্রকল্পটি যাতে বন্ধ  না হয় এজন্য তিনি ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ’কে স্থায়ী করণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

রূপার গ্রাম ভাকুর্তা: তৈরি হচ্ছে রূপার অলঙ্কার

রাজধানী শহরের গা ঘেঁষে মোহাম্মদপুর, আদাবর বেড়িবাঁধের ওপারে তুরাগ নদী পেরিয়ে যে জনপথ তার নাম ভাকুর্তা।

সাভার উপজেলার এই ইউনিয়নটিতে রয়েছে ৩৬টি গ্রাম। লেখাপড়ার দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকা অবহেলিত এই জনপথের বেকারদের অনেকেই একসময় বেপরোয়া চলাফেরায় অভ্যস্ত ছিলেন।

তবে সময়ের পরিবর্তনে এখানকার গ্রামগুলোতে ছোটবড়, নারীপুরুষ, ছেলেবুড়ো সবাই এখন ব্যস্ত রূপার অলঙ্কার তৈরিতে।

এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রূপার অলঙ্কার তৈরি করে তাদের ভেতর ফিরে এসেছে সচ্ছ্বলতা।

এখন তারা যেন আধুনিক এ সমাজের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

গ্রামগুলোর মধ্যে চুনারচর, ডোমরাকান্দা, সোলারমার্কেট, খাগুড়িয়া, নলাগুড়িয়া, মোগরাকান্দা, চাপরা, কান্দিভাকুর্তা, হিন্দুভাকুর্তা, বাহেরচর, মুশরিখোলা, ঝাউচর, লুটেরচর, চরতুলাতুলি, চাইরা সবখানে ঘুরে-ফিরে অলঙ্কার তৈরির একই রকম দৃশ্য চোখে পড়ে।

এরই মধ্যে কৃষিকাজের পাশাপাশি গ্রামের লোকজন অলঙ্কার তৈরির শিল্পকে তাদের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাই, বাড়ির পুরুষ সদস্যের পাশাপাশি নারী সদস্যরাও অলঙ্কার তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

এছাড়া পহেলা বৈশাখের কারণে তাদের কাজ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই আবার নাওয়া-খাওয়ার সময় পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন।

রূপার অলঙ্কার তৈরির কারিগররা হিন্দু ভাকুর্তা চৌরাস্তা এলাকায় অফিস নিয়ে গড়ে তুলেছেন ভাকুর্তা রৌপ্য ব্যবসায়ী সমিতি।

সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক বাবু লাল দাস বাংলানিউজকে জানান, ভাকুর্তা ইউনিয়নে প্রায় সাত হাজার নারী-পুরুষ রৌপ্য অলঙ্কার তৈরি পেশায় জড়িত।

রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কারিগররা অর্ডার নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এখান থেকে অলঙ্কার তৈরি করে তা সরবরাহ করে থাকেন। এক সময় শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন রূপার অলঙ্কার তৈরি পেশায় জড়িত থাকলেও বর্তমানে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই এই পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

বংশ পরম্পরায়  হিন্দু ধর্মের লোকজন সীতাহার, কানের দুল, ঝুমকা, চেইন, পায়ের নূপুরসহ নানা অলঙ্কার তৈরি করে আসছেন। তবে এখন গ্রামগুলোতে প্রবেশ করলে প্রত্যেক বাড়িতেই অলঙ্কার তৈরির দৃশ্য চোখে পড়ে।

হিন্দু ভাকুর্তা গ্রামের জোসনা রানী, কনা রানী, মমতা রানী, শিপু রানীসহ অনেকেই জানান, পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বিভিন্ন মার্কেট থেকে সীতাহার, কানের দুল, হাতের বালা ইত্যাদির অর্ডার নিয়ে আসেন। এর মধ্যে পাঁচশ থেকে সাতশ টাকায় একটি চেইন অথবা নূপুর তৈরি করে দেওয়া যায়। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে অর্ডার হলে একটু বেশি মজুরি পাওয়া যায়।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা রূপার পাশাপাশি তামা দিয়েই অলঙ্কার তৈরি করে থাকেন।

ডোমরাকান্দার রেজিনা আক্তার, চুনার চরের ফুলেজা বেগম, মোগরা কান্দার নাসিমা, ফিরোজাসহ অনেকেই ঘর-সংসার সামলানোর পাশাপাশি অলঙ্কার তৈরি করে পরিবারে সচ্ছ্বলতার মুখ দেখেছেন। ব্যবসার সফলতায় কেউ কেউ জমি কিনে সুন্দর পাকা বাড়িও নির্মাণ করেছেন।

কিন্তু রৌপ্য ব্যবসায় সফল সুশীল দাস, রবীন্দ্র নাথ, আবদুল বাতেন, জাহাঙ্গীর আলম, বাবু লাল দাস, পরিতোষ সরকার, সাধু সরকারসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, এখানকার কারিগররা বিভিন্ন সময় পুলিশি হয়রানির শিকার হন। অর্ডার করা মালামাল বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতে গিয়ে পথে নানা প্রশ্নবানে জর্জড়িত হতে হয় তাদের।

তাই, এই শিল্পের উন্নয়নে পুলিশি হয়রানি থেকে রেহাই পেতে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সম্রাট জোসেফের চুল নিলামে বিক্রি

আশির দশকের অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত হাঙ্গারিয়ান সম্রাট ফ্রাঞ্জ জোসেফের এক গুচ্ছ চুল নিলামে দর হাঁকিয়ে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকায় (১৩,৭২০ ইউরো) বিক্রি হয়েছে। এটা প্রত্যাশিত দামের চেয়ে ২০ গুণ বেশি।

সম্রাট মারা যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে চুলগুচ্ছ তার ব্যক্তিগত কর্মচারি জুগান কেটার্ল (১৮৫৯-১৯২৮ সাল) এর কাছে সংরক্ষণে ছিল। সম্রাট মারা যাওয়ার পর জুগেন কেটার্ল তাকে নিয়ে বইও প্রকাশ করেন।

ফ্রাঞ্জ জোসেফ ১৮৪৮-১৯১৬ সাল পর্যন্ত ইউরোপে রাজত্ব করে গেছেন। তিনিই ইউরোপকে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে শাসন করেছিলেন।

২০১১ সালে টিনেজ তারকা জাস্টিন বিবারের একগুচ্ছ চুল অনলাইন মার্কেট প্লেস ইবে’তে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকায় (২৫ হাজার পাউন্ড) বিক্রি হয়েছিল।

২০১০ সালে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ান বেনাপোর্টের একগুচ্ছ চুল নিউজিল্যান্ডে নিলামে ওঠানো হলে প্রায় সাড়ে ১০ লক্ষ টাকায় (৮ হাজার ৬০০ ডলার) বিক্রি হয়।

হাসপাতাল থেকে কারাগারে বোস্টন হামলাকারী

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলাকারী জোখার সারনায়েভকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় পুলিশ এ খবর নিশ্চিত করেছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ‘মার্শালস সার্ভিস’ জানিয়েছে, “১৯ বছর বয়সী সন্দেহভাজন জোখারকে বেথ ইসরায়েল ডিসোনেস মেডিকেল সেন্টার থেকে ম্যাসাচুসেটসের ফোর্ট ডেভেন্সের একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।”

এক সপ্তাহ আগে বোস্টন হামলার ঘটনায় পুলিশি অভিযানে আটক হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে ছিলেন জোখার।

পুলিশের ওই অভিযানে বড় ভাই তামেরলান সারনায়েভ নিহত হলেও তাকে আহত অবস্থায় একটি নৌকা থেকে আটক করা হয়।

এ সপ্তাহের শুরুতে গণহত্যাকারী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে জোখারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

সূত্র জানায়, মাথা, নাক, পা ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগার কারণে আহত জোখার কথা বলতে পারছেন না। তাই আইন প্রয়োগকারী ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে ইঙ্গিতে ও লিখিত জবাব দিচ্ছেন জোখার।

সিরিয়ায় রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে: ক্যামেরন

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন অভিযোগ করেছেন, সিরিয়া রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে তার ‘সীমিত কিন্তু যথেষ্ট’ প্রমাণ রয়েছে। তিনি বলেছেন, এটি খুবই গুরুতর, এটি একটি যুদ্ধাপরাধ।

সিরিয়ার সরকারি সেনাবাহিনী যুদ্ধে রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে-যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এ ধরনের মন্তব্য করলেন।

রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহার সম্ভাব্য হামলার ‘শেষ সীমা’ হবে-সিরিয়ার প্রতি হোয়াইট হাউজের এমন হুঁশিয়ারির সঙ্গে ক্যামেরন একমত বলে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সিরিয়া রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু কখন বা কিভাবে এ অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে তা জানায়নি হোয়াইট হাউজ।

আইনপ্রণেতাদেরকে দেওয়া চিঠিতে হোয়াইট হাউস এ কথা জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের আইন বিষয়ক বিভাগের পরিচালক মিগুয়েল রদ্রিগুয়েজের সাক্ষরিত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সংগ্রহ করেছে যে সিরিয়ার সরকার সিরিয়ায় স্বল্প মাত্রায় রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, বিশেষ করে সারিন গ্যাস।”
তবে গোয়েন্দা সংস্থাদের পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত হিসেবে দাবি করেনি হোয়াইট হাউজ।

হোয়াইট হাউজের দাবিকে প্রতিধ্বনিত করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সিরিয়ায় রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছ- এ ব্যাপারে স্বল্প কিন্তু বিভিন্ন সূত্র থেকে বিশ্বাস করার মতো তথ্য পেয়েছে তারা।

জানা গেছে, সিরিয়ার ভেতর থেকে ব্যবহৃত রাসায়ণিক অস্ত্রের নমুনা সংগ্রহ করেছে যুক্তরাজ্য। উইল্টশায়ারের পর্টন ডাউনের ডিফেন্স সায়েন্ট ও টেকনোলজি ল্যাবরেটরিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “সিরিয়া থেকে আনা বস্তুতে সারিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।”

ধারণা করা হয়, সিরিয়ায় বিপুল সংখ্যক রাসায়ণিক অস্ত্র রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

দুই বছর ধরে চলা ‍গৃহযুদ্ধে বেশ কয়েকবার রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও যথার্থ প্রমাণ দিতে পারেনি দাবিকারীরা।

এন্থনি লিয়ড নামে এক সাংবাদিক জানান, এ মাসের শুরুতে আলেপ্পোর উত্তরাঞ্চলে রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

তিনি দাবি করেন, চিকিৎসকরা তাকে ভিডিও দেখিয়েছেন, রোগীদের গায়ে গ্যাসের স্পষ্ট উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হুঁশিয়ারি দেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ যদি রাসায়ণিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।
সিরিয়ায় দুই বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধে ৬০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে, আশ্রয়চ্যুত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

‘যুক্তরাষ্ট্র আমার কাছ থেকে সন্তানদের কেড়ে নিল’

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন ম্যারাথানে বোমা হামলায় অভিযুক্ত দুই ভাইকে নিজের বুক খালি করে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তার মা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজের ছেলেকে হত্যার অভিযোগও তুলেছেন জুবাদেইত সারনায়েভা।

রাশিয়ায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ তুলে ধরেন জুবাদেইত। নিজের ছেলেদের নির্দোষ দাবি করেন তিনি।

তামেরলানের নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে জুবাদেইত বলেন, “কেন তারা তাকে হত্যা করল? তারা তাকে জীবন্ত ধরেছিল, সে তাদের হাতে ছিল।”

তিনি বলেন, “আমি মনে করেছিলাম আমেরিকা আমাদের, আমার সন্তানদের রক্ষা করতে যাচ্ছে। যেকোনো কারণে এটি নিরাপদ হবে। ...আমেরিকা আমার সন্তানদের আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল, শুধু আমেরিকা।”

এর আগে রাশিয়ার একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুবাদেইত অভিযোগ করেছিলেন, তার ছেলেদের ফাঁদে ফেলা হয়েছে।

১৬ এপ্রিল (যুক্তরাষ্ট্র সময় ১৫ এপ্রিল) বোস্টনে ম্যারাথন চলাকালে জোড়া বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত ও শতাধিক লোক আহত হয়।

হামলার পর ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীকে সনাক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এর সূত্র ধরে ম্যাসাচুচেটসে ১৮ এপ্রিল অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সন্দেহভাজন তামেরলান সারনায়েভ। এরপর তামেরলানের ভাই জোখার সারনায়েভকে গুরুতর আহত অবস্থায় গ্রেফতার করে পুলিশ।

গণবিধ্বংসী অস্ত্র রাখার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে জোখারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

আইফোনে ফেসবুক ‘চ্যাট হিডস’ অ্যাপ

এবারে আইফোন এবং আইপ্যাডের জন্য ফেসবুক চ্যাট নিয়ে এল ফেসবুক। শুধু অ্যানড্রইড ঘরানা নয়, বরং অ্যাপল ঘরানার ভোক্তাদের লাইভ চ্যাট সুবিধা নিশ্চিত করতেই এ অ্যাপ তৈরি করেছে ফেসবুক। সংবাদমাধ্যম সূত্র এ তথ্য দিয়েছে।

এ অ্যাপের মাধ্যমে কাজের সময়েও ফেসবুক চ্যাট অব্যাহত রাখা যাবে। এতে বারবার লগইন ও লগআউটের ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। ‘চ্যাট হিডস ’ নামে এ অ্যাপ ফিচারে পপআপ করে চ্যাট উপভোগ করা যাবে আইফোন এবং আইপ্যাডে।

ঘরোয়া ভোক্তাদের জন্য হোম অ্যাপ তৈরির ঘোষণায় এ সেবাভুক্ত হচ্ছে ফেসবুক। অ্যানড্রইড সিস্টেমের জন্য ফেসবুক অ্যাপ থাকলেও অ্যাপল ঘরানার পণ্যের জন্য এটি নব্য সংযোজিত চ্যাট সার্ভিস।

এরই মধ্যে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে এ ‘চ্যাট হিডস’ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ অ্যাপ পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে ফেসবুক সূত্র জানিয়েছে।

৯ মাসেই ১০০ কোটিতে পৌঁছবে অ্যানড্রইড!

স্মার্টফোনের জোয়ারে ভাসছে অ্যানড্রইড। স্মার্টফোনের মানেই যেন অ্যানড্রইড। রাতারাতি বিশ্বপ্রযুক্তির চেহারা বদলে এ সিস্টেম অতীতের সব রেকর্ডকেই ছাড়িয়ে গেছে।

আগামী ৯ মাসের মধ্যেই আরও ১০০ কোটি অ্যানড্রইড সিস্টেমের পণ্য বাজারে আসবে। এমনটাই বললেন গুগল নির্বাহী চেয়ারম্যান এরিক স্মিড।

প্রসঙ্গত, গুগলের তত্ত্ববধানে পাঁচ বছর আগেই অ্যানড্রইড সিস্টেম আত্মপ্রকাশ করে। শুরুতে আলোড়ন না তুললেও এখন বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। এক অ্যানড্রইডই বিশ্বের পিসির বাজারে ধস নামে। এখানে জায়গা করে নেয় স্মার্টফোন।

এ প্রসঙ্গে গুগল নির্বাহী চেয়ারম্যান এরিক স্মিড বলেন, আসছে ৬ থেকে ৯ মাসের ব্যবধানে নতুন করে ১০০ কোটি অ্যানড্রইড গ্রাহক তৈরি হবে। আর এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতে সময় লাগবে ১ থেকে বড়জোড় দুবছর।

অ্যানড্রইড সিস্টেমে প্রতিদিনই নিত্যনতুন চমক আর্বিভূত হয়। এ মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটিং সিস্টেম অ্যানড্রইড। আর বিশ্বব্যাপী অ্যানড্রইড সিস্টেম ভোক্তার সংখ্যা ৭৫ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০ কোটি গ্রাহকের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে গুগলের অ্যানড্রইড।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩