কানাইঘাটের ভাড়ারী মাটি খেওয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি না থাকায় নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী

Kanaighat News on Monday, July 30, 2012 | 11:56 PM

কানাইঘাট উপজেলার ৪নং সাতবাঁক ইউনিয়নের ভাড়ারী মাটি সুরমা নদীর খেওয়া ঘাটে জনস্বার্থে একটি যাত্রি ছাউনি ও খেওয়া ঘাটের নদীর ঘাট পাঁকা করনের দাবী জানিয়েছেন, এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সর্বস্থরের জনসাধারণ। এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উক্ত খেওয়া ঘাটে কোন যাত্রী ছাউনি না থাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও নারী পুরুষদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উক্ত খেওয়া ঘাটে উভয় ধারে কোন জনবসতি না থাকায় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত পরিমাণ খেওয়া নৌকার অভাবে নদীর ঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজন বর্ষা ও রোদ্রে কোথাও দাড়াবার নিরাপদ যায়গা খোঁজে পান না। বিশেষ করে উক্ত খেওয়া ঘাট দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন গ্রামের যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনা লাঘবে নদীর ঘাটটি পাঁকা করণ ও একটি যাত্রী ছাউনি সরকারীভাবে স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গত ২০/০৬/২০১২ইং তারিখে এলাকাবাসীর পক্ষে ভাড়ারী মাটি খেওয়া ঘাটে যাত্রী ছাউনি স্থাপনের দাবী জানিয়ে সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবরে স্থানীয় পাত্রমাটি গ্রামের কলেজ পড়–য়া নুরুল আম্বিয়া এলাকাবাসীর পক্ষে দরখাস্ত দাখিল করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা কার্যকর

সোমবার পুলিশ বাহিনীর দুই হাজার ৩০০ জন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) ও ১২ হাজার ৫০০ জন উপপরিদর্শকের (সাব-ইন্সপেক্টর) পদ উন্নীত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এখন থেকে পরিদর্শকেরা প্রথম শ্রেণী (নন-গেজেটেড) এবং উপপরিদর্শকেরা দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হলেন। সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হবেন।পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, �এটি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি। এতে পুলিশের কাজের মান কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। পরিদর্শক থেকে নিচের দিকের পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেদের পদ নিয়ে যে হীনমন্যতায় ভোগেন, তা-ও দূর হয়ে যাবে।�এর আগে গত মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেন। প্রস্তাবটি অনুমোদন করার পর থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় এই পদোন্নতির বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে আসছিল। এ পদোন্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, �আমি অত্যন্ত খুশি। এই পদমর্যাদার জন্য আমি অনেক দিন ধরে চেষ্টা করে আসছিলাম। এখন পুলিশের কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শকেরা তাঁদের কাজে অনেক অনুপ্রাণিত হবে বলে মনে করছি। খবর:-ফেয়ার নিউজ

শক্ত আন্দোলনে যেতে বিএনপি আরও সময় নেবে

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ঈদের পরপরই কঠোর আন্দোলন হবে না। যদিও ঈদের পর সরকারবিরোধী লাগাতার কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে বিএনপি। বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে যেতে আরও কিছু সময় নেবে দলটি। বড় ধরনের একটি আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করতে ঈদের পর থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা হবে।বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের দাবিতে ঈদের পর মাঠে নামবেন । এই দাবির সপক্ষে জনসমর্থন বাড়ানোর পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে বিভিন্ন জেলা সফর করবেন তিনি। তবে তাঁর সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে ঈদের পর পদ্মা সেতু দুর্নীতির প্রতিবাদে কিছু কর্মসূচিও দেবে দলটি। নেতা-কর্মীদের চাঙা রাখাসহ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং �গ্রেপ্তার ও সরকারের নির্যাতনের প্রতিবাদে� থানাভিত্তিক হরতালের কর্মসূচি দেওয়ারও চিন্তাভাবনা আছে। দলীয় একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, সরকার কোনো ক্ষেত্রেই যেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি, তেমনি বিএনপিও এখন পর্যন্ত এর সুযোগ নিতে পারেনি। তার পরও ক্রমাগত ব্যর্থতার কারণে সরকার দিন দিন জনগণের আস্থা হারাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাই তাঁরা এখন বিএনপির পক্ষে জনসমর্থন বাঢ়ানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। জনসমএ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এখন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কিছু সাংগঠনিক সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো রমজান মাস বিএনপি সাংগঠনিক মাস হিসেবে কাটাবে। তিনি বলেন, রমজানজুড়ে সারা দেশে ইফতার আয়োজনের পাশাপাশি চলবে জনসংযোগ। রমজান মাসের পর আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুতে আন্দোলন শুরু হবে। তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির পাশাপাশি পদ্মা সেতু দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিএনপি আলাদা কর্মসূচি পালন করবে।র্থন বাড়ানোর পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির পক্ষে বিএনপির নেতারা।এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে সরকারকে তিন মাসের সময় বেঁধে দেন খালেদা জিয়া। গত ১০ জুন এ সময়সীমা শেষ হয়। পরদিন ১১ জুন সমাবেশ থেকে সারা দেশে পাঁচটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। একবার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দাবি আদায় করতে না পারায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির অনেক নেতা। তাই এবার আর সে ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না তাঁরা। সে জন্য তাঁরা ধীরে চলার পক্ষে। এর পাশাপাশি বিএনপি মনে করছে, ঈদের পরপরই লাগাতার কঠোর আন্দোলন শুরু করা হলে তা কত দিন অব্যাহত রাখা যাবে, এ নিয়ে সংশয় আছে। কারণ, সরকারের ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ রয়েছে আরও এক বছরের বেশি।বিএনপির স্থায়ী কমিটির ওই সদস্যের মতে, আন্দোলন এক দিনে গড়ে ওঠে না। এ বছর আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি করা হবে। সরকারের শেষ বছর আটঘাট বেঁধে মাঠে নামবে বিএনপি। তখন দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা যাবে। তিনি বলেন, তবে রাজনীতিতে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। প্রয়োজনে এর আগেও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। খবর:-ফেয়ার নিউজ

ভারতে ট্রেনে আগুন : ৪৭ যাত্রী নিহত

আজ সোমবার সকালে ভারতের তামিল নাড়� এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লেগে ৪৭ জন নিহত ও ২২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে মৃত্যের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সূত্র জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে চারটায় চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে ট্রেনটি হায়দেরাবাদের নিলোর স্টেশন ত্যাগ করে।এর কিছু সময় পর ট্রেনে আগুন লেগে যায় ।নিলোর জেলা কালেক্টর জানান, ধারণা করা হচ্ছে ট্রেনটির টয়লেটের কাছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছে। আহতদের নিলোর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিভাবে আগুনের উৎপত্তি হয়েছে তা এখনো সনাক্ত করা যায়নি। এদিকে দুর্ঘটনার ফলে ওই রুটে সব ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খবর:-ফেয়ার নিউজ

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

৫ দিন লন্ডন সফর শেষে আজ সোমবার দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে সকাল ৯ টায় তিনি শাহাজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এ সময় তাকে মন্ত্রীপরিষদের সদস্য ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা স্বাগত জানান। তার সফর সঙ্গী ছিলেন পরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপুমনি, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ।উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৫ জুলাই অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন । ২৬ জুলাই লন্ডনে তিনি সেন্ট প্যানক্রাস রেনেসাঁ হোটেলে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছেন ।পরে ২৭ জুলাই হাউস অব লর্ডস-এর ব্রিটিশ রক্ষণশীল দলের সদস্য ও উইম্বলডনের লর্ড আহমেদ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ২৮ জুলাই আল জাজিরা টেলিভিশনকে প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাতকার দেন। ওইদিন দুপুরে ব্রিটেনের বিরোধী লেবার পার্টির নেতা এডোয়ার্ড স্যামুয়েল মিলিব্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। পরে বিকেলে লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। খবর:-ফেয়ার নিউজ

খসরুজ্জামান কল্যাণ ট্রাষ্টের উদ্যোগে ইফতার ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরন

কানাইঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ইফতার ও ত্রান সামগ্রী বিতরন করেছে খসুরুজ্জামান কল্যাণ ট্রাষ্ট। সম্প্রতি বিকেল ৩ টায় স্থানীয় বীরদল এন.এম.একাডেমী মাঠে এ ইফতার ও ত্রান সামগ্রী বিতরন করা হয় । বীরদল এন.এম একাডেমীর প্রধান শিক্ষক জারউল্লাহ,র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দ্রব্য সামগ্রী বিতরন উদ্বোধন করেন ৬ নং সদর ইউ,পি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন আহমদ,কানাইঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহবায়ক নাজমুল ইসলাম হারুন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আশফাক,তারেক,পারভেজ,সাহীন প্রমূখ।

কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি’র শ্রমিকলীগের কমিটি গঠন

জাতীয় শ্রমিকলীগ কানাইঘাট উপজেলা শাখার ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের কমিটি গঠন উপলে এক কর্মীসমাবেশ গত ২৭ জুলাই বিকেল ৪টায় স্থানীয় সুরাইঘাট বাজারস্থ নাসির বিল্ডিংয়ে দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক শ্রমিকনেতা জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলা উদ্দিন আল আজাদের পরিচালনায় উক্ত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মামুন রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, উপজেলা শ্রমিকলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সেবুল আহমদ, আলমগীর কবির, আদনান আহমদ। বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় কৃষকলীগ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক। শ্রমিকলীগ নেতা নুরুল ইসলাম জ্বালালী, আব্দুল কুদ্দুস, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলিম উদ্দিন মেম্বার, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা বোরহান উদ্দিন, যুবলীগ নেতা ফয়েজ আহমদ, কাওছার আহমদ মেম্বার, হারিছ উদ্দিন প্রমুখ। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শ্রমিক নেতা আব্দুল লতিফ (ফছন) কে সভাপতি ও নজরুল ইসলামকে সিনিয়র সভাপতি, আবুল লেইছকে সাধারণ সম্পাদক, ইব্রাহিম আলীকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ওলিউর রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট লীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি জাতীয় শ্রমিকলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

আমরা কারও কাছে হাত পাতব না : শেখ হাসিনা

Kanaighat News on Sunday, July 29, 2012 | 11:59 PM

শনিবার সন্ধ্যায় লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টারের পার্ক প্লাজা হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার পদ্মা সেতুর জন্য ইতিমধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়ন থেকে খরচ করেছে। সেটা অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো সংস্থা যদি এগিয়ে আসে আমাদের সহায়তার জন্য, আমরা সেটা নেব। আমরা কারও কাছে হাত পাতব না। আমরা স্বনির্ভরভাবেই পদ্মা সেতু করব।তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পেরেছি আর একটি সেতু করতে পারব না? পদ্মা সেতু হবেই হবে। দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বেশি বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি আহবান জানান তিনি। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরিক্ত কথা বলেন। খবর:-ফেয়ার নিউজ

দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূকম্পন

আজ রোববার সকালে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জসহ দেশেরে বিভিন্নস্থানে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ইউএসজিএসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মিয়ানমারের রাজধানী নে পেই তাওয়ের চেয়ে ৪০৬ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠের ৬৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার গভীরে। মিয়ানমারে সৃষ্ট মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। ঢাকা আবহাওয়া অফিস জানা যায়, সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূমিকম্প হয় । ঢাকার ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৩৯৭ কিলোমিটার পূর্ব দিকে ছিল এর উৎসস্থল। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামবাসী এই ভূকম্পন অনুভব করেছেন। তবে কোথাও ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৬ বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূপর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। খবর:-ফেয়ার নিউজ

ঈদের পরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে: খালেদা জিয়া

রোববার গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে ১৮ দলীয় জোটের শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ইফতার মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, অন্যায়-জুলুম-অবিচারের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষার জন্য আমরা ১৮ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদের পর সংগ্রাম করবো। আমাদের পক্ষেই দেশের মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব। এজন্য নিজ নিজ দলকে এখন থেকেই প্রস্ত্ততি নিতে হবে।খালেদা জিয়া বলেন, আজকে সংবাদপত্রের কোনো স্বাধীনতা নেই। সাংবাদিক হত্যার কোনো বিচার হচ্ছে না। এই সরকারের আমলে ১৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে। এর কোনো তদন্ত হয়নি। প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা সাংবাদিকরে আক্রমন করছে। আমরা ক্ষমতায় এলে এই হত্যার বিচার করা হবে এবং সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে।তিনি বলেন, শহীদ জিয়া মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের অবদান রয়েছে। তাই বর্তমান সংকট মূহুর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আমরা গণতন্ত্র রক্ষা করব।ঈদের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, ঈদের পর জোরালো আন্দোলন করে এই সরকারকে বাধ্য করা হবে সংবিধান সংশোধন করতে। তাই ১৮ দলীয় জোটের প্রত্যেক নেতা কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ইফতারের আগে দেশের সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।এলডিপি�র সভাপতি কর্নেল অব.অলি আহমেদের সভাপতিত্বে ইফতার পার্টিতে ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।ইফতারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, ১৮ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর এ কে এম নাজির আহমেদ, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, কর্ম পরিষদের সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি খন্দকার গোলাম মূর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গানি, মুসলিম লীগের নির্বাহী সভাপতি এ এইচ এম কামারুজ্জামান খাঁন, ও পিপলস পার্টির সভাপতি গরীব নেওয়াজ ইফতারে অংশ নেন।মঞ্চে বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে এলডিপি�র সভাপতি অলি আহমেদ, মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি বসেন। এর আগে অলি আহমেদ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে ফেলেছে। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তাই এই রোজায় সবাইকে শপথ নিতে হবে- ঈদের পর আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করব।এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জে. অব. মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, রাজিয়া ফয়েজ, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসেরনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক, মাহমুদুল হাসান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডা. এ জেড মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এম এ মান্নান, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, বরকত উল্লহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আ ন হ এহছানুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিরিন সুলতানা, সাবেক এমপি নাসের রহমান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। ইফতারে এলডিপ�র সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মামদুদুর রহমান চৌধুরী, আবদুল গনি আববাসী, আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সাহাদাত হোসেন সেলিমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার পূর্বমূর্হুতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য অলি আহমেদ, সাবেক স্পিকার রাজ্জাকসহ দলের একডজন নেতা ও সংসদ নিয়ে নতুন দল এলডিপি গঠন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিলেও বর্তমানে তারা ১৮ দলীয় জোটের শরীক। খবর:-ফেয়ার নিউজ

ত্রিশালে গণপিটুনিতে নিহত ৪ : আহত ৬

Kanaighat News on Saturday, July 28, 2012 | 11:29 PM

শুক্রবার রাতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে ৪ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন।সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ২টার দিকে কানহর ও নামা ত্রিশাল এলাকা থেকে ট্রান্সফরমার নিয়ে ট্রাকে করে বালিপাড়া রুট হয়ে কিছু লোক পালানোর চেষ্টা করছিল।পুলিশ তাদের ধাওয়া করে এবং তাদেরকে ধরতে ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।স্থানীয় এলাকাবাসী ট্রাকসহ ১০ জনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।এতে ঘটনাস্থলেই ২ জনের মৃত্যু হয়। আর হাসপাতালে নেয়ার পর আরো ২ জন মারা যান।এ ঘটনায় ৬ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ২ জনকে ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ভর্তি করা খবর:-ফেয়ার নিউজ

জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পর্দা উঠলো অলিম্পিকের

শনিবার দ্যা ব্যাটল অব দ্যা অলিম্পিয়ন্স, লন্ডন অলিম্পিক ২০১২ এর পর্দা উঠলো । শেকসপিয়ারের টেমপেস্ট থেকে শুরু করে জেমস বন্ড, মিস্টার বিন, আকরাম খান ও সাবেক বিটলস স্যার পল ম্যাককার্টনির গান, ও এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ এ ক্রীড়া মহাযজ্ঞের উদ্বোধন হয়। বৃটিশ রাণী দ্বিতীয় এলিজাবে ৩০ তম অলিম্পিকের আসর উদ্বোধন করেন । গ্রিনিচ মান সময় ৮টা আর বৃটিশ সময় ৯টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২ টায়) প্রায় ৬২,০০০ দর্শকের সামনে শুরু হয় অনুষ্ঠান। স্লামডগ মিলেনিয়ামখ্যাত চলচ্চিত্রকার ড্যানি বয়েল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিন ঘণ্টার চোখ ধাঁধানো নানা আয়োজন ছিল । বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক এ আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান টেলিভিশনের সরাসরি উপবোগ করেন। দু� সপ্তাহব্যাপী বিশ্ব ক্রীড়াযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় অলিম্পিক মশাল প্রজ্বলনের মাধ্যমে । বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বিশ্ববাসীকে লন্ডন অলিম্পিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বক্তৃতা দেন।এটা লন্ডনের তৃতীয় অলিম্পিক। এর আগে ১৯০৮ ও ১৯৪৮ সালে অলিম্পিক গেমস হয় ইংল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের এই রাজধানী শহরে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও নিখুঁতভাবে �টিউনিং� করা একটি ঘণ্টার ধ্বনী দিয়ে শুরু হবে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের।বেইজিংকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিশ্র�তি দেয়া ড্যানি বয়েলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে তুলে ধরা হয় যুক্তরাজ্যের গ্রামীণ �সবুজ ও সমাহিত� পটভূমি। সত্যিকারের খামারের গবাদি পশুই ব্যবহার করেন বয়েল। ছিল সত্যিকারের গরু-ছাগলই।সংগীত পরিচালনা করেছেন ইংল্যান্ডের ব্যান্ড �আন্ডারওয়ার্ল্ড�-এর বিখ্যাত জুটি রিক স্মিথ ও কার্ল হাইড। যুক্তরাজ্যের গর্ব সিক্রেট এজেন্ট �জেমস বন্ড�ও ছিলেন অনুষ্ঠানে। বর্তমান বন্ড ড্যানিয়েল ক্রেইগ অভিনীত একটি শর্ট ফিল্ম দেখানো হয় বিশাল পর্দায়। আর অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে ছিল �বিটলস� খ্যাত স্যার পল ম্যাককার্টনির গান। যুক্তরাজ্যে ভারতীয় প্রভাব বোঝাতে ছিল জনপ্রিয় সুরকার এ আর রহমানের সুর করা একটি পাঞ্জাবি গানও।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাণীর স্বামী �ডিউক অব এডিনবার্গ� প্রিন্স ফিলিপ এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি জ্যাক রগের উপস্থিতিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লন্ডন অলিম্পিক আয়োজক কমিটির সভাপতি সেবাস্টিয়ান কো। এবারের অলিম্পিকে ২৬টি খেলায় ৩০২টি ইভেন্টে ২০৪টি দেশের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধানরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ আগের মতো এবারও �ওয়াইল্ড কার্ড� নিয়ে অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছে । শুটিংয়ে শারমিন আক্তার রত�া, আরচারিতে ইমদাদুল হক মিলন, সাঁতারে মাহফিজুর রহমান সাগর, অ্যাথলেটিক্সে মোহন খান ও জিমন্যাস্টিক্সে সাইক সিজার বাংলাদেশের পাঁচ প্রতিযোগী।বৃটিশ সময় সকাল ৮টা ১২ মিনিটে গণঘণ্টা বাজানোর মধ্য দিয়ে গৌরবের দিনটি শুরু করে লন্ডনবাসীরা। রাজা ষষ্ঠ জর্জ মারা যাওয়ার পরে এই প্রথম �বিগ বেন� বাজানো হয় তিন মিনিট ধরে।স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় লন্ডনে রাণী ও ডিউক অব এডিনবরা বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের প্রধানদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বাকিংহাম প্যালেসের এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাও উপস্থিত ছিলেন। খবর:-ফেয়ার নিউজ

কানাইঘাটে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

Kanaighat News on Friday, July 27, 2012 | 11:50 PM

কানাইঘাট পৌরসভার বায়মপুর (গৌরিপুর) গ্রামে ২৫বছর বয়সী এক যুবক গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজ বসত ঘরের শয়ন করে কাঠের টাইয়ের সাথে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে স্থানীয় জনসাধারণের কাছ থেকে জানা যায়, গৌরিপুর গ্রামের আব্দুল আহাদের পুত্র বরকত উল্লাহ (২৫) গত বৃহস্পতিবার রাত ১টায় সাহরির খাবার খেয়ে নিজ বসত ঘরের কে ঘুমাতে যায় গতকাল বেলা ১টায় জুমআ’র নামাযে যাওয়ার জন্য পরিবারের লোকজন তাকে ডাকাডাকি শুরু করে একপর্যায়ে তার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বসত ঘরের কে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে পরিবারের লোকজন বরকত উল্লাহ’র লাশ ঘরের কাঠের সাদের টাইয়ের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরে বিষয়টি কানাইঘাট থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ বিকেল পোনে ৪টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে আত্মহত্যাকারী বরকত উল্লার লাশ উদ্ধার করে গতকাল রাতে পোস্টমর্টামের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে বরকত উল্লাহ কী কারণে আত্মহত্যা করেছে তা প্রকৃত কারণ জানা যায় নি তবে লাশ উদ্ধারকারী থানার এস.আই.শফিক জানিয়েছেন, হতাশা গ্রস্ত হয়ে বরকত উল্লাহ আত্মহত্যা করতে পারে এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে মামলা নং- (৯) ২৭-০৭-১২ইং

সুব্রত পুরকায়স্থকে কানাইঘাট স্বেচ্ছাসেবকলীগের অভিনন্দন

সিলেট জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ স্বেচ্ছাসেবকলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কানাইঘাট উপজেলা শাখা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ। এক অভিনন্দন বার্তায় নেতৃবৃন্দ জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্থ আন্দোলন ও সংগ্রামের অকোতভয় মুজিব সৈনিক সুব্রত পুরকায়স্থকে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সুব্রত পুরকায়স্থের সুযোগ্য নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আগামী দিনে আরো শক্তিশালী হবে বলে আসাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অভিনন্দন দাতারা হলেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কানাইঘাট উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আব্দুল হাই, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিলাল আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক বুরহান উদ্দিন, শাহীন আহমদ, জমির উদ্দিন প্রমুখ।

রমজানুল মুবারক: আজ রহমতের ৭ম দিন

আজ শুক্রবার,৭ রমজান ১৪৩৩ হিজরী। রহমতের দশকের সপ্তম দিন। দীর্ঘ রোযা,গরম ও তাপদাহের মধ্যেও মুমিনের সিয়াম সাধনা পুরোদমে অব্যাহত আছে। প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর দরবারে আরজ তিনি যেন আবহাওয়া ও পরিবেশকে সহনীয় রাখেন। মানব জাতিকে সৎপথের দিশা দেয়ার জন্য এক লক্ষ চবিবশ হাজার নবী রাসূল দুনিয়াতে এসেছেন। হযরত আদম আ. থেকে নিয়ে হযরত ঈসা আ. পর্যন্ত সকল নবী রাসূলের উম্মতের উপরই সিয়াম সাধনার ফরয বিধান ছিল। যার ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত আছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ কুরআন মাজীদে বলেন,‘ ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য রোযার বিধান দেয়া হল যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের দেয়া হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া হাসিল করতে পার। (সূরা বাকারা-২/১৮৩) এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপর রোযা ফরয ছিল। তবে আগেকার উম্মতের সিয়ামের দিন,সময় সংখ্যা ও প্রকৃতি নির্ধারনের ব্যাপারে বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট কোন বিধি বিধানের সন্ধান পাওয়া যায়না। মানুষের ইচ্ছা মর্জি ও খেয়াল খুশির উপরই ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। ফলে সবাই নিজ নিজ সুবিধা বুঝে সিয়াম সাধনার সময় ইত্যাদি নির্ধারন করতে পারতো। এমনি ভাবে পূর্ণ সিয়াম বা আংশিক সিয়াম রাখার এখতিয়ারও তাদের ছিল। এখতিয়ার ছিল বিশেষ কয়েকটি জিনিস বর্জন করার। অবশ্য ধর্মের পক্ষ থেকেও বিশেষ কয়েকটি জিনিস বর্জন ও অপর কয়েকটি জিনিস গ্রহণের নির্দেশ ছিল। কোন কোন ভারতীয় ধর্মে এর নজীর পাওয়া যায়। কেউ হয়তো গোশত জাতীয় খাবার বর্জন করা জরুরী মনে করতো। আবার কেউ হয়তো আগুন স্পর্শিত খাদ্য পরিহার করতো। আবার কেউ হয়তো লবন মিশ্রিত পানীয়ও এ ধরনের সাধারণ জিনিস ব্যতিত অন্য সকল কিছু বর্জন করা জরুরী মনে করতো। গান্ধীজীও তার অনুসারীদের ব্রত শেষোক্ত পর্যায়ের ছিল। (বিস্তারিত দেখুন ‘আরকানে আরবাআ ২৭১-২৭২ ফৃ.) সিয়ামের প্রকৃকি নির্ধারনে এই অবাধ স্বাধীনতা প্রকৃতপক্ষে সিয়ামের ভাবমূর্তি ও তার প্রাণশক্তি সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করে দিয়েছিল। চারিত্রিক মহত্বতা,নৈতিক শুচিতা,চিন্তার বিশুদ্ধতা,আত্নিক পবিত্রতা এবং আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। এই সিয়াম কালক্রমে অন্ত:সার শূন্য নিছক এক অনুষ্ঠানে পর্যবশিত হয়ে পড়েছিল। যেহেতু যাবতীয় এখতিয়ার মানুষের হাতেই অর্পিত ছিল সেহেতু খাদ্যেরে পরিমান সংকোচন বিশেষ কোন খাদ্য গ্রহণ ও বর্জন, সময় ও সংখ্যা নির্ধারন, এক কথায় যাবতীয় বিষয়টিই ছিল মানুষের ইচ্ছাধীন। ফলে এর মধ্যে অলসতা অবহেলা ও ফাঁকিবাজির অভ্যাস গড়ে উঠলো। একটি মহান ধর্মীয় বিধান মানুষের খেয়ালিপনা ইচ্ছা ও মর্জির শিকাড় হয়ে পড়েছিল।এর রশি টেনে ধরার মত কোন উচ্চতর শক্তি ছিলনা সেখানে। কেননা সিয়াম পালনকারীদের যদি একথা বলা হতো যে সিয়ামের দিনে কি ভাবে তুমি পানাহার করছো? উত্তরে সে বলতো আমার রোযা তো শেষ বা আমার রোযা শুরু করতে যাচ্ছি কেবল। এ কারণেই পূর্বতন ধর্মের অনুসারীরা সিয়ামের আত্নিক,নৈতিক তথা সর্ববিধ কল্যাণ থেকে বঞ্চিত ছিল। বাস্তবে সিয়ামের প্রকৃত মর্ম ও হাকীকতই তাদের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। ইসলামী শরীয়তে সিয়ামের যাবতীয় বিধি বিধান নির্ধারিত করে দেয়ার সবচেয়ে বড় হিকমত ও তাৎপর্য এখানেই। ইমামুল হিন্দ শাহ ওয়ালিউল্লাহ রহ.দেহলভী তাঁর অমর গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’য় লিখেছেন,‘সিয়ামের ব্যাপারে এখতিয়ার দেয়া হলে ব্যাখ্যাদান ও পলায়নের দরজা উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। আর ইসলামের এই সর্বাপেক্ষা আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যম অলসতার শিকাড় হয়ে যাবে। (‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ ২/৩৭) প্রাচীন ধর্মসমূহে ধারাবাহিক সিয়ামের কোন বিধান ছিল না। বছরে বিভিন্ন দিন বিক্ষিপ্তভাবে সিয়াম পালনের প্রথা চালু ছিল। দুই রোযার মাঝে এত বেশি সময়ের ব্যবধান থাকতো যে মানব জীবনে সিয়ামের কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হতো না। ভেতরের পাশবিক রিপু গুলো দমিত হবার পরিবর্তে আরো উসকে যেত। মানুষের ধ্যান ধারণা মন মানসিকতা ও আবেগ অনুভূতিকে পবিত্র বিশুদ্ধ ও নির্মল করার পূর্বেই সিয়ামের মেয়াদ ফুরিয়ে যেত। ফলে প্রাচীন ধর্মসমূহ কার্যত আল্লাহ প্রদত্ত্ব সিয়ামের ফলাফল লাভ থেকে বঞ্চিতই ছিল। এজন্য বিক্ষিপ্ত সিয়ামের পরিবর্তে ধারাবাহিক সিয়াম ছিল মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতির একান্ত দাবী। ইসলাম সেই আবেদনে সারা দিয়ে নাযিল করেছে দীর্ঘ একমাস ব্যাপী ধারাবাহিক সিয়ামের বিধান। এ সম্পর্কে শাহ ওয়ালিইল্লাহ দেহলভী রহ. লিখেছেন,‘আত্নিক উৎকর্ষ তথা নিরংকুশ আনুগত্যের ফলপ্রসূ অনুশীলনের জন্য বিক্ষিপ্ত পানাহার বর্জনের পরিবর্তে ধারাবাহিক সিয়ামের বিধানই ছিল অপরিহার্য। কেননা দু একবারের অনশন /উপবাসব্রত যত কঠোর ও দীর্ঘই হোক তা মানুষের জন্য কাংখিত সুফল বয়ে আনতে সক্ষম নয়।’ (‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ ২/৩৭) রমজানুল মুবারকের সিয়াম ফরয হওয়ার পূর্বে আশুরার সিয়াম পালনের নির্দেশ ছিল মুসলমানের উপর। হিজাযের গুটি কতক আরব গোত্র এবং আরব ইহুদীদের মধ্যেও আশুরার সিয়ামের প্রচলন ছিল। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টি আলোচনার দাবী রাখে। ইনশাআল্লাহ আগামীতে এ বিষয়ে আলোকপাতের চেষ্টা করবো। দয়ময় আল্লাহ আমাদের জন্য যে সুষম কার্যকর সিয়ামের বিধান দিলেন সে জন্য তাঁর দরবারে আলীশানে নিযুত কোটি শোকর আদায় করছি। আল্হামদুলিল্লাহ! আসুন এই সিয়ামের কদর করি। সবাই উপকৃত হই। এর রূপ রস প্রকৃতি থেকে নিজেদের সমৃদ্ধ করি। পরিপূর্ণ মানুষ হই। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফীক দিন। আমীন। দৈনিক সিলেটের ডাক ২৭ জুলাই

অলিম্পিক গেমসের পর্দা উঠছে আজ রাতে

৩০তম অলিম্পিক গেমসের পর্দা উঠবে আজ। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এটি লন্ডনে তৃতীয় অলিম্পিক। অলিম্পিকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে অপরূপ রূপে সেজেছে লন্ডন। এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন রাণী এলিজাবেথ। আর স্বাগত বক্তব্য রাখবেন আয়োজক কমিটির সভাপতি সেবাস্টিয়ান কো। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের গুরুদায়িত্ব কে পালন করবেন তা বরাবরের মতো এবারও শেষ পর্যন্ত রহস্যই থাকবে। দর্শক মাতাতে সঙ্গীত পরিচালনায় ইংল্যান্ডের ব্যান্ড ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’-এর বিখ্যাত জুটি রিক স্মিথ ও কার্ল হাইড থাকবেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের গর্ব সিক্রেট এজেন্ট ‘জেমস বন্ড’ও থাকছেন অনুষ্ঠানে। আর বর্তমান বন্ড ড্যানিয়েল ক্রেইগ অভিনীত একটি শর্ট ফিল্ম দেখানো হবে বিশাল পর্দায়। এছাড়া অনুষ্ঠানের শেষ ‘বিটলস’ খ্যাত স্যার পল ম্যাককার্টনির গান থাকবে। ভারতের জনপ্রিয় সুরকার এআর রহমানের সুর করা একটি পাঞ্জাবি গানও থাকছে এ অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের অনেক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এবারের অলিম্পিকে ২৬টি খেলায় ৩০২টি ইভেন্টে ২০৪টি দেশের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। আর আগের মতো এবারও ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া ১২ অগাস্ট সমাপণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের পর্দা নামবে। খবর:-(দি-এডিটর)

জনতা ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, আটক ১৬

জনতা ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রসহ ১৬ জনকে করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ঢাকার সিদ্দিক বাজারের একটি হোটেল থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৩ টায় প্রশ্নপত্রসহ তাদেরকে আটক করা হয়। আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়েছে। র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুভেচ্ছা হোটেলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে হাতে লেখা একটি প্রশ্নপত্রের অনুলিপিসহ তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এই প্রশ্নপত্রে মোট ১০০টি প্রশ্ন ছিল।পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উদ্ধার করা প্রশ্নপত্র জনতা ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন কি না, তা বোঝা যাবে। আটক ব্যক্তিরা এখন র‌্যাবের হেফাজতে আছেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিল পাওয়া সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।উল্লেখ্য,গত ৯ ফেব্র�য়ারি ৪৩৭টি পদ পুরণে একটি জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পরকাশ করা হয়। আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ১৫মার্চ� ২০১২। স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম ২য় শ্রেণী/ সমমান সিজিপি, ৪ বছরের স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রী এবং অন্যান্য একাডেমিক পরীক্ষার যে কোনো ২টি তে প্রথম বিভাগ প্রাপ্তরা এ পদে আবেদন করেন। খবর:-ফেয়ার নিউজ

পদ্মাসেতু নির্মাণে সরকার পিছু হটেনি : প্রধানমন্ত্রী

Kanaighat News on Thursday, July 26, 2012 | 10:33 PM

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ থেকে সরকার সরে আসেনি। তিনি বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হচ্ছে। আমাদের যে উদ্যোগ- তাতে ভাটা পড়েনি। গত বুধবার লন্ডনে হোটেল সেন্ট প্যানক্রসে স্থানীয় বাংলা প্রচার মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইফতারের পর তাদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন শেখ হাসিনা।বিশ্ব ব্যাংক ঋণ বাতিলের সিদ্ধান্ত পাল্টে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করলে সেটা তারা �নিজেদের বিবেচনায়� করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা তাদের বিবেচনা। আর এটা ভুল ধারণা, আমরা পিছু হটিনি। আমরা পিছু হটবো না।উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুতে পরামর্শক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংক গত ২৯ জুন ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্থগিত করে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের রূপরেখা ঘোষণা করেন। এজন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহেরও সিদ্ধান্ত হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে।তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ২২ জুলাই সাংবাদিকদের বলেন, সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চারটি বিকল্প নিয়ে এগোচ্ছে, যার মধ্যে প্রথমটি হলো বিশ্ব ব্যাংককে ফেরানো এবং সর্বশেষ পথ নিজস্ব অর্থায়ন।সূত্র জানায়, বিশ্ব ব্যাংককে পদ্মা প্রকল্পে ফেরাতে সরকারের চেষ্টার অংশ হিসাবে গত সোমবার মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেন সৈয়দ আবুল হোসেন, যিনি বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির সময় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে ২০০৫ সালে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময়ের মন্ত্রী কী পদত্যাগ করেছিল?এ সরকারের মেয়াদেই পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর প্রত্যয় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব ব্যাংক আসুক আর না আসুক- আমরা পদ্মা সেতু করব। আমাদের নিজেদের প্রস্তুতি আছে। বিশ্ব ব্যাংক কী করে- এটা তাদের এখতিয়ার।বর্তমান মহাজোট সরকারের মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীরা প্রতি বছর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সম্পদের হিসাব দিচ্ছেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে গেলেও তাদের সম্পদের হিসাব পাওয়া যাবে। তাছাড়া আয়কর দেওয়ার সময়ও তারা হিসাব দেন।বর্তমান সরকার বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তারা বৈধতা পেলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা আর জয়ী হতে পারতাম না। জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেনি বলেই আমাদের ভোট দিয়েছে।তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার কারণেই তাকে ২০০৭ সালে তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছিল। তখন তো কেউ টু শব্দটা করেনি। বিএনপির এক নেতার অবিবাহিত মেয়ে গ্রেপ্তরার হওয়ার প্রতিবাদ আমিই করি। বিএনপি নেত্রী তো প্রতিবাদ করেন নাই।বর্তমানে বিরোধী দলে থাকা বিএনপিরও সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন করতে এসেছি। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আসি নাই। তারা তো এখন স্ব-নির্ধারিত নির্বাসনে চলে গেছেন। তাদের বিচার করতে লাগে নাই। আল্লাহই তাদের বিচার করেছে।কথিত গুম ও ক্রস ফায়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির লোকেরাই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতা জামালউদ্দিনকে হত্যা ও গুম করেছিল। তিনি বলেন, বিএনপি চালু করে দিয়ে গেছে। এখন রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় মানবাধিকারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি কারো নাম বলতে চাই না। যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা যে কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সে কাজেই পতন হয়। সিলেটে কতো নেতা গুম হয়েছে? তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে কতো হত্যা ও গুমের ঘটনা ঘটেছিল- তা খুঁজে বের করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান।লন্ডনে হোটেল সেন্ট প্যানক্রসে ইফতার অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিগত বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে �হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের� ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং ২০১৬ সালে লন্ডনে বাংলা প্রত্রিকা প্রকাশনার শতবর্ষ উদযাপনের জন্য প্রবাসী সাংবাদিকদের উদ্যোগ নিতে বলেন।বিদ্যুৎ উৎপাদান ও স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গত সাড়ে তিন বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি হয়েছে।এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ায় সৈয়দ আবুল হোসেনের প্রশংসা করে বলেন, তার গাটস্ আছে বলেই রিজাইন দিতে পেরেছে। দেশপ্রেম আছে বলেই রিজাইন দিয়েছে। তবে বিশ্ব ব্যাংক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো তথ্য প্রমাণ দিতে পারেনি বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (বিশ্ব ব্যাংক) এক মন্ত্রীর দিকে হাত তুলেছে। সে পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আমার কাছে রিজাইন লেটার দিয়ে গেল। তিনি বলেন, তার গাটস্ আছে বলেই রিজাইন দিতে পেরেছে। দেশপ্রেম আছে বলেই রিজাইন দিয়েছে।সূত্র জানায়, অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্ব ব্যাংক যে চারটি শর্ত দিয়েছিল তার মধ্যে চতুর্থটি ছিল- যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই সব সরকারি ব্যক্তি অর্থাৎ আমলা ও রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের তদন্ত চলাকালে সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে ছুটি দিতে হবে।এ নিয়ে টানাপোড়েনের পর গত ২৯ জুন ঋণ চুক্তি বাতিল করে বিশ্ব ব্যাংক। এরপর গত সোমবার মন্ত্রিত্ব ছাড়েন ওই সময় যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা সৈয়দ আবুল হোসেন। মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াও ছুটিতে যান, যিনি ওই সময় সেতু বিভাগের সচিব ছিলেন।অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পরদিন আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ব ব্যাংকের �সব শর্ত� পূরণ হওয়ায় তারা হয়তো চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।আবুল হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা লন্ডনে সাংবাদিকদের বলেন, সেও চায় পদ্মা সেতু হোক। আপনারা অ্যাপ্রিশিয়েট করেন। আওয়ামী লীগ বলেই পারে।এ সরকারের মেয়াদেই পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরুর ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পিছু হটছি না। আমরা ভিক্ষা নিই না। আমরা সুদসহ ঋণ নেই। বিশ্ব ব্যাংক আসুক আর না আসুক। আমরা পদ্মা সেতু করব। আমাদের নিজেদের প্রস্তুতি আছে। বিশ্ব ব্যাংক কী করে- এটা তাদের এখতিয়ার, যোগ করেন শেখ হাসিনা।সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ের পর প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে নৈশভোজেও অংশ নেন।অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এম সাইদুর রহমান খান, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার লন্ডনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।তিনি ২৭ জুলাই লন্ডনে অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন। এর আগে, সেদিন বিকালেই বাকিংহাম প্যালেসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের দেওয়া রাজকীয় সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।এছাড়া বৃটিশ পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা লেবার পার্টির এড মিলিব্যান্ডের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।লন্ডন থেকে রোববার বিকালে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় তার দেশে পৌঁছাবেন।এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি বিশেষ প্যানেল গঠনে করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ে (দুদক) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।গোলাম রহমান বলেন, পদ্মা সেতু দুর্নীতির তদন্তে বিশেষজ্ঞ তিন জনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ প্যানেল গঠন হবে। এই প্যানেল দুদকের সঙ্গে কাজ করবে।প্রাকযোগ্যতা নির্বাচন এবং পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুতে প্রতিশ্র�ত ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্ব ব্যাংক। এছাড়া প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্তের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সচিব ও কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক তদন্তের শর্তারোপ করে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা এই সংস্থাটি।তদন্তের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাঙ্কের শর্ত ছিল অভ্যন্তরীন তদন্তের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন এবং তদন্ত সম্পর্কিত তথ্য ওই টিমের সঙ্গে বিনিময় করা।কিন্তু সরকার বিশ্বব্যাঙ্কের পরিপূর্ণভাবে পালন করেনি অভিযোগে গত ২৯ জুন ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্ব ব্যাংক। এর এক মাসের মধ্যে গত ২৩ জুলাই মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন সাবেক যোগাযোগ এবং বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন।দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপনের পর থেকে দুদক একক ভাবে তদন্ত কাজ পরিচালনা করে এলেও বুধবার সংস্থটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের বললেন, কমিশন তথ্য বিনিময়ে সম্মত রয়েছে। খবর:-ফেয়ার নিউজ

কানাইঘাটে বিদ্যুত বিভ্রাটে দুর্ভোগ

Kanaighat News on Tuesday, July 24, 2012 | 11:40 PM

নিজাম উদ্দিন:-

কানাইঘাটে পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে পল্লী বিদ্যুৎের লোডশেডিং পূর্বের চাইতে বেড়ে যাওয়ায় ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রমজানের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে সাহরি ও ইফতার এবং তারাবির নামাযের সময় দফায় দফায় বিদ্যুতের আসা যাওয়ার খেলায় উপজেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ােভ বিরাজ করছে। যে কোন সময় এ নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ কানাইঘাট জোনাল অফিসে অনাঙ্কাখিত ঘটনা ঘটতে পারে। পবিত্র রমজান মাস উপল্েয সেহরী ও ইফতারের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে সরকারের এমন ঘোষণায় কিছুটা হলেও আশ্বস্থ হয়েছিল এখানকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তার পুরো বিপরীত। রমজানের শুরুতে লোডশেডিং আর বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরো বেড়ে গেছে। প্রায়ই ইফতারের পূর্বে, তারাবীহ এবং সেহরীর সময় বিদ্যুৎ থাকে না। প্রত্রন্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোর অবস্থা আরো করুণ গড়ে অনেক এলাকার মানুষ ৭/৮ঘন্টা বিদ্যুৎ পেয়ে থাকেন। বিশেষ করে উপজেলার মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় সাময়িক পরীা চলাকালীন সময়ে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছে না। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যেমন বিপাকে পড়েন তেমনিভাবে কম্পিউটার স্টুডিও, ওয়ার্কশপ, রাইছমিল, স’মিল সহ অন্যান্য ছোট ছোট কলকারখানায় স্বাভাবিক উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিউলী কম্পিউটারের পরিচালক সুজন চন্দ অনুপ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুতের অভাবে যথাসময়ে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারছিনা। এতে আমার ব্যবসার অপূরণীয় তিসাধিত হচ্ছে। এভাবে কানাইঘাট বাজারের অসংখ্য ব্যবসায়ী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নামায় তাদের মাঝে ােভের দানা বাধছে। এ ব্যাপারে সিলেট পলীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কানাইঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম তাজুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কানাইঘাটে বর্তমানে ৭/৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে আমরা প্রতিদিন মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যা দিয়ে কোনভাবে পুরো উপজেলায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব নয়। তবে তিনি লোডশেডিং পূর্বের চেয়ে কম দাবী করে বলেন, নির্ধারিত লোডশেডিং সর্বোচ্চ দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সম্প্রতি কুমারগাঁও থেকে বটেশ্বর পর্যন্ত ৩৩ কে.ভি পিডিবি লাইনে প্রায়ই সমস্যা দেখা দেয়, এজন্য গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অথচ এর দায়িত্ব নিতে হচ্ছে পল্লীবিদ্যুৎকে। সাহরি, ইফতার ও নামাযের সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আমি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত হচ্ছি। অথচ এর জন্য পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপ দায়ী নয়। তিনি আরো বলেন, পিডিবি’র এ অনিয়ম দূর হলে কানাইঘাটে অনেকটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিং হ্রাস পাবে।

নুহাশ পল্লীতে মানুষের ঢল

বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদকে শেষ বিদায় জানাতে নুহাশ পল্লীতে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ। নানা শ্রেণী পেশার মানুষ শেষ বারের মতো হুমায়ূন আহমেদকে দেখতে জড়ো হয় সেখানে। প্রিয় লেখকের কফিনে অগনিত ভক্তরা জানায় শেষ শ্রদ্ধা। নুহাশ পল্লীর মাঠে রাখা কফিনে পাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে ভক্তরা শুভান্যধ্যায়ীরা শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানানিয়েছেন লেখককে। কফিনের পাশে লেখকের বড় ছেলে নুহাশ, ভাই ড. জাফর ইকবাল ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন। হুমায়ূন আহমেদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় শোকের ব্যনার পোস্টার নিয়ে সকাল থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। তারাও নন্দিত কথা সাহিত্যিককে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। প্রিয় নুহাশ পল্লীতে শেষ জানাযায় হাজারো মানুষ অংশ নেয়। সর্ব শেষে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে চেনা ভূবণ নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় হুমায়ূন আহমেদ চির নিদ্রায় শায়িত হলেন। ফেয়ার নিউজ

বৃষ্টির মধ্যেই নুহাশপল্লীতে জানাজা

বৃষ্টির মধ্যেই নুহাশপল্লীতে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দাফনপূর্ব জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাযায় অসংখ্য মানুষ অংশ নিয়েছে। এর আগে তারই হাতে গড়া গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে মরদেহ দাফনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা ১২টায় তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স নুহাশপল্লীতে পৌঁছায়।বেলা সোয়া ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিনিত ও নিষাদ। এসেছেন হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ।এর আগে হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তাকে বহনকারী জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বারডেম থেকে বের হয়ে যায়। এসময় পুলিশের ৩টি গাড়ি সঙ্গে ছিল।ঢাকা-গাজীপুর সড়কের আবদুল্লাহপুর থেকে ২টি গাড়িতে করে যোগ দেন হুমায়ূন আহমেদের ভাই ড. জাফর ইকবাল, আহসান হাবীব, ছেলে নুহাশ আহমেদ, মেয়ে শীলা ও নোভাসহ স্বজনেরা।বারডেমের হিমঘর থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন শাওনের বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী। জনপ্রিয় এ লেখকের মরদেহ শেষ বারের মতো দেখতে সকাল থেকে বারডেমের সামনে ভিড় করেছিলেন অনেক মানুষ। সোমবার গভীর রাতে পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নুহাশপল্লীতে দাফন হবে হুমায়ূন আহমেদের। এদিন দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে একথা সাংবাদিকদের জানান ড. জাফর ইকবাল। খবর:-ফেয়ার নিউজ

যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন ইয়াফেস ওসমান

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন । সরকার এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানা গেছে।সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগের পর ইয়াফেস ওসমানকে এ দায়িত্ব দেয়া হলো।পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে গত সোমবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। এর আগে তিনি যোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।এদিকে, মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের শর্ত পূরণের অংশ হিসেবেই সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেছেন। খবর:-ফেয়ার নিউজ

নুহাশপল্লীর লিচুবাগানে চিরনিদ্রায় হুমায়ূন আহমেদ

জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তার প্রিয় স্থান গাজীপুরের নুহাশপল্লীর লিচু বাগানের শীতল ছায়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। দিনভর টানাপোড়েনের পর মঙ্গলবার বেলা দুইটায় তাকে দাফন করা হয়।সূত্র জানায়, হুমায়ূন আহমেদের বর্তমান স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদের সন্তানদের ভিন্ন চাওয়ার কারণে গত সোমবার দিনব্যাপী টানাপোড়েন চলে এই নিয়ে।এর আগে নুহাশ পল্লীতে দুপুর দেড়টায় তার তৃতীয় ও শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ জানাজায় অংশ নেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নুহাশ পল্লীতে জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তসহ সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। তার মরদেহ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নুহাশপল্লীতে পৌঁছলে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।দিনভর সিদ্ধান্তহীনতার পর গতকাল সোমবার গভীর রাতে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়াত লেখককে নুহাশপল্লীতেই সমাহিত করা হবে। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বারডেমের হিমঘর থেকে হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ নিয়ে নুহাশপল্লীর দিকে রওয়ানা দেন তার স্বজনেরা।হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ পৌঁছার আগেই নুহাশপল্লীতে যান তার মেয়ে নোভা, শীলা ও নুহাশ, লেখকের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীবসহ অন্য স্বজনেরা। এছাড়াও সেখানে যান হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও তার পরিবারের সদস্যরা।নুহাশপল্লীতে প্রবেশ করে মাঠ ধরে একটু সামনে এগিয়ে গেলেই হাতের বাঁ পাশে শেফালিগাছের ছায়ায় নামাজের ঘর। এর পাশেই তিনটি পুরানো লিচুগাছ নিয়ে একটি ছোট্ট বাগান। লিচুবাগানের উত্তর পাশে জামবাগান আর দক্ষিণে আমবাগান। ওই লিচুগাছের ছায়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন হুমায়ূন আহমেদ। নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, জীবদ্দশায় হুমায়ূন আহমেদ যেমন এখানে থাকতে ভালোবাসতেন, তেমনি মৃত্যুর পর এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে চেয়েছিলেন তিনি। নুহাশ পল্লীর সবুজ গালিচার পাশে তিনটি পুরনো লিচু গাছ রয়েছে। যেখানে তিনি সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন। আর তার ইচ্ছায় সেখানেই লেখককে কবর দেয়া হলো।এর আগে সোমবার কয়েকদফা বৈঠকের পর গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে হুমায়ূনের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, নুহাশ পল্লীতেই দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাত আড়াইটার দিকে সংসদ ভবন এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এই সিদ্ধান্ত জানান তিনি। জানা যায়, পরিবারের মধ্যে মতদ্বন্দে�র অবসানে প্রতিমন্ত্রীসহ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা কয়েক দফা দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। নানকের বাড়িতে তখন ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রীর তিন সন্তান নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ ও নুহাশ হুমায়ূন; যারা নুহাশ পল্লীতে বাবার দাফনে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।জাফর ইকবাল জানান, তার ভাইয়ের তিন সন্তান মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের পক্ষে থাকলেও কার্যত বাধ্য হয়ে নুহাশ পল্লীতে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, তার প্রথম পক্ষের সন্তানরা খুব করে চাচ্ছিল, তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করতে। তাহলে তারা সহজে যেতে পারত। দেশের মানুষও সহজে যেতে পারত। আমাদের মা-ও এটা চাচ্ছিলেন। আমরা দিনভর শাওনকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি। বোঝাতে পারলে ভাল হত, কিন্তু বোঝাতে পারিনি।শাওনের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে জাফর ইকবাল বলেন, তার (হুমায়ূন) সন্তানরা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করতে চাইলেও তারা এটাও চায়নি যে তাদের বাবা বারডেমের হিমঘরে থাকুক। তারা যে কোনোভাবে তাকে মাটির নিচে ফিরিয়ে দিতে চায়। এই জন্য নুহাশ পল্লীতে কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আর দেশের মানুষও যেন মনে না করতে পারে যে আমরা তাকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া করছি। তিনি জানান, মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর হুমায়ূনকে দাফন করা হবে। সকালে বারডেম থেকে লাশ নিয়ে যাওয়া হবে।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জাফর ইকবালের সঙ্গে ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ।নুহাশ পল্লীর কর্মচারী খলিলুর রহমান বলেন, নুহাশ পল্লীতে একটি লিচু তলা রয়েছে, যেখানে এক সময় বাংলো ছিল, সেখানে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছার কথা আগে একবার বলেছিলেন লেখক।এদিকে নুহাশ পল্লীতে দাফনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় হুমায়ূনের ধানমণ্ডির বাড়ি দখিন হাওয়ায় অবস্থানকারী শাওন সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।সূত্র জানায়, সোমবার দেশে ফেরার পর থেকেই কবরের স্থান নিয়ে পরিবারের মধ্যে মতদ্বন্দে�র কারণে হুমায়ূনের দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যায়। হুমায়ূনের সাবেক স্ত্রীর সন্তানরা বুদ্ধিজীবী কবরস্থানসহ ঢাকার কোনো স্থানে সমাহিত করার পক্ষে অবস্থান নিলেও তাতে আপত্তি জানান যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বামীর লাশ নিয়ে ফেরা শাওন। মরদেহ ঢাকায় আনার পর সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের এক ফাঁকে শহীদ মিনারের পাশে পরিবারের সদস্যরা আলোচনায় বসেন। সেখানে হুমায়ূনের মা আয়েশা ফয়েজ, স্ত্রী শাওনসহ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। কিন্তু তাতে মতৈক্য হয়নি।এরপর বিকালে মিরপুরে হুমায়ূনের ছোট ভাই আহসান হাবীবের বাড়িতে আলোচনায় বসেন পরিবারের সদস্যরা। সেখানে জাফর ইকবাল, আহসান হাবীব ছাড়াও ছিলেন নোভা ও শীলা, তাদের স্বামী এবং নুহাশ। নোভা ও শীলার আরেক বোন বিপাশা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।সন্ধ্যার পর নোভা সাংবাদিকদের বলেন, তার বাবা বেঁচে থাকতেই বলেছেন, নুহাশ পল্লী কবরস্থান হোক- তা তিনি চান না। এই বিষয়ে ডকুমেন্ট আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা চাই, মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান বা অন্য কোথাও কবর হোক, নুহাশ পল্লীতে নয়। আমরা চাই, এমন একটা জায়গায় কবর হোক, যেখানে সবাই যেতে পারে।যত দ্রুত সম্ভব, হুমায়ূনকে দাফনের বন্দোবস্ত করার ওপর জোর দেন সন্তানরা। নোভা বলেন, বাবাকে এই অবস্থায় দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগছে।নোভার চাচি মুহম্মদ জাফর ইকবালের স্ত্রী ইয়াসমিন হক সাংবাদিকদের বলেন, এরা হুমায়ূন আহমেদের সন্তান। কোথায় দাফন হবে, সে বিষয়ে তাদের স্ট্যান্ড (অবস্থান) আছে।তবে নোভাদের এই অবস্থান পরিবারের মিলিত সিদ্ধান্ত নয় জানিয়ে হুমায়ূনের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, এই বিষয়ে পরিবারের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।এরপর নোভা, শীলা ও নুহাশকে নিয়ে জাফর ইকবাল রওনা হন সংসদ ভবন এলাকায় প্রতিমন্ত্রী নানকের বাড়ির পথে। আহসান হাবীব সাংবাদিকদের বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি দেখে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাই তিনি ডেকেছেন।আহসান হাবীবের বাড়িতে প্রয়াত লেখকের প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা থাকলেও ছিলেন না বর্তমান স্ত্রী শাওন। দুই শিশু সন্তান নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে তিনি ছিলেন ধানমণ্ডিতে লেখকের বাড়ি �দখিন হাওয়া�য়।শাওন সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, গত ১২ তারিখ (জুলাই) সকাল ৫টায় অপারেশনে যাওয়ার আগে তিনি (হুমায়ূন) বলছিলেন- আমি জানি আমি ভালো হয়ে যাবো। তবে আমার যদি কিছু হয় আমাকে নিয়ে ওরা অনেক টানাহেঁচড়া করবে, তুমি শক্ত থেকো কুসুম। আমাকে নুহাশপল্লীতে নিয়ে যেও।এই বক্তব্যের প্রামাণ্য কোনো দলিল না থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো স্ত্রী, কোনো আ�ীয়-স্বজন অপারেশনের আগের দিন রাতে বলা কথা কি রেকর্ড করে রাখে?সূত্র জানায়, হুমায়ূন এক সময় নুহাশ পল্লীতে তাকে সমাহিত করার কথা বললেও অসুস্থতার সময় দেশে ফিরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, কবরকে কেন্দ্র করে নুহাশ পল্লীতে মাজার তৈরি হোক তা তিনি চান না। ক্যান্সারে আক্রান্ত হুমায়ূন ৬৪ বছর বয়সে গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালে মারা যান। অস্ত্রোপচারের আগে গত ১২ মে নুহাশ পল্লীতে বসে সাক্ষাৎকার দেন তিনি, যার অডিও রেকর্ডও রয়েছে।তবে শাওনের দাবি, মৃত্যুর আগে তার স্বামী তাকে নুহাশ পল্লীতেই কবর দেওয়ার ইচ্ছা জানিয়ে গিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথায় হুমায়ুন পরিবারের অন্য সদস্যদেরও আক্রমণ করেন শাওন। তিনি বলেন, জীবিত অবস্থায় যারা হুমায়ূন আহমেদের পাশে দাঁড়ায়নি, পারিবারিক মিটিং করেননি, তাদের অধিকার নেই এখন মিটিং করার।এদিকে গুলতেকিনের তিন সন্তান নোভা, শীলা, নুহাশকে নিয়ে জাফর ইকবাল প্রতিমন্ত্রী নানকের বাড়িতে বৈঠকে বসেন। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সেখানে ছিলেন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ। এরপর রাত সাড়ে ১০টার পর দখিন হাওয়ায় যান তারা। তবে নোভা, শীলা ও নুহাশ দখিন হাওয়ায় যাননি। দখিন হাওয়ায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা শাওনের সঙ্গে বৈঠকেও কোনো মতৈক্য না হওয়ায় রাত ১২টা ৫০ মিনিটে পুনরায় প্রতিমন্ত্রীর নানকের বাড়িতে ফেরেন তিনি, জাফর ইকবালসহ সাংস্কৃতিক জোট নেতারা।তখন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সাংবাদিকদের বলেন, পরিবারের সদস্যরা মতৈক্যের কাছাকাছি এসেছেন। আমাদের ভূমিকা শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের মা প্রথম পক্ষের সন্তানদের মত সমর্থন করছেন বলে মুহম্মদ জাফর ইকবাল জানিয়েছেন। তবে শাওন নুহাশ পল্লীতে দাফনের বিষয়ে অনড় ছিলেন।এরপর নানকের বাড়িতে ফিরে নোভা, শীলা ও নুহাশের সঙ্গে আবার বৈঠক হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর জাফর ইকবাল জানান, তার ভাইকে নুহাশ পল্লীতেই দাফন করা হচ্ছে।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হুমায়ূন আহমেদ আমেরিকার নিউ ইয়র্কে ম্যানহাটন বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছোটভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং বন্ধু মাজহারুল ইসলামসহ আরো স্বজনরা। মৃত্যুকালে এ তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। খবর:-ফেয়ার নিউজ

কানাইঘাটে অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

Kanaighat News on Monday, July 23, 2012 | 11:49 PM

সম্প্রতি বিকেল ৩টায় কানাইঘাট দক্ষিণ বাজারে কানাইঘাট উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন, ২০১১ এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ অবমুক্তি বিধিমালা ২০১২এর আলোকে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কানাইঘাট হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবু দুর্গাকুমার দাসের সভাপতিত্বে এবং পূজ উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু সলিল চন্দ্র দাসের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট বারের এ্যাডভোকেট অরুন চন্দ্র নাথ। বক্তব্য রাখেন, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সুদিপ্ত চক্রবর্তী, সুমন্ত দেবনাথ, বাবু মতিলাল দাস, বাবু বজন লাল দাস, বকুল চন্দ্র দাস প্রমুখ। সভায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন পাশ করায় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। উক্ত সভায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইনে মামলা করার সময় বর্ধিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনাসহ অপর এক প্রস্তাবে ত্র“টিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ গেজেট প্রকাশিত এবং যথাসময়ে না পাওয়ায় ভোক্তভোগীরা হয়রাণির স্বীকার হওয়ায় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আবুল হোসেনের পদত্যাগ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি যোগ দেননি। তবে কী কারণে তিনি যোগ দেননি, তা এখনো জানা যায়নি।সূত্র জানায়, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের ওপর বিশ্বব্যাংকের চাপ ছিল। গত রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পদ্মা সেতুর ঋণ পেতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের চারটি প্রস্তাবই মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কারণ পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ সংগ্রহের জন্য সরকার এখনো বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১২০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।গত রোববার অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, গোল্ডস্টেইনের (বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর) দেওয়া ৪ প্রস্তাবের মধ্যে চতুর্থটি মেনে নেওয়া একটু অসুবিধা ছিল। আমরা চেষ্টা করছি, এটাও কীভাবে সমাধান করা যায়। অর্থমন্ত্রী বলেন, তা-ই যদি হয়ে যায়, তাহলে শিগগিরই আমরা শুরু করতে পারি। জানা গেছে, চতুর্থ শর্তটি ছিল তদন্ত চলাকালে সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে সরকারি ব্যক্তি অর্থাৎ আমলা ও রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের ছুটি দেওয়া।উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু নিয়ে যে সময় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, সে সময় সৈয়দ আবুল হোসেন যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। পরে তাঁকে সরিয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। খবর:-ফেয়ার নিউজ

শেষ শয্যার অপেক্ষায় হিমঘরে হুমায়ূনের লাশ

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জানাজা সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দাফনের আগে পর্যন্ত বরেণ্য এ লেখকের মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। তাকে কোথায় দাফন করা হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে তার পরিবারের সদস্যরা। ঈদগাহ ময়দানের প্রায় অর্ধেকটাজুড়ে কয়েক হাজার মানুষ হুমায়ূনের জানাজায় অংশ নেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানাজা পরিচালনা করেন। জানাজা শুরুর আগে হুমায়ূনের বড় ছেলে নুহাশ রীতি অনুযায়ী সবার কাছে বাবার হয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন।হুমায়ুনের মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরে তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন জানান, তার শেষ ইচ্ছা ছিলো নুহাশ পল্লীতে যেন তাঁকে কবর দেয়া হয়। নুহাশপল্লীর মাটির প্রত্যেকটি ইঞ্চি তার চেনা, প্রতিটি ঘাস তার চেনা। আপনারা দয়া করে তাকে সেখানেই দাফনের ব্যবস্থা করুন। উনাকে আর কষ্ট দেবেন না। অন্য কোথাও নিয়ে গেলে সে ভয় পাবে। অচেনা জায়গায় ও ভয় পায়।যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর হুমায়ুনের ভাই কথা সাহিত্যিক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, হুমায়ূন শুধু পরিবারের নয়, গোটা জাতির। আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।আহসান হাবীব সাংবাদিকদের বলেন, কোনো সমস্যা না থাকলে আমরা আজই উনাকে দাফন করতে চাই। আমাদের মায়ের ইচ্ছা, মিরপুর বা বনানীতে এটা হোক।দেশে আনার পর হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ প্রথমে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের করা অস্থায়ী মঞ্চে দুপুর ২টা পর্যন্ত মরদেহ রাখা হয়।প্রথমেই রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের পক্ষে তার সামরিক সচিব ও পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার দুই কর্মকর্তা হুমায়ূন আহমেদের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। পরে একে একে শ্রদ্ধা জানান সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনরা। এছাড়া ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে শহীদ মিনারে যান হুমায়ূন আহমেদের রত�গর্ভা জননী আয়েশা ফয়েজ।প্রিয় লেখককে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই শহীদ মিনার এলাকা জনস্রোতে রূপ নেয়। এ সময় হুমায়ূন আহমেদের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং গুণমুগ্ধরাসহ হাজার হাজার জনতা ভিড় করেন স্মৃতির মিনারে। তারা জানান, গুণী এ মানুষটি সাহিত্য জগতে একটি স্বতন্ত্র ধারার সৃষ্টি করেছিলেন। এছাড়া শ্রদ্ধা জানানোর পর্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দোয়েল চত্বর, শিববাড়ী মোড়, জগন্নাথ হল ক্রসিং এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখে পুলিশ। শ্রদ্ধা জানাতে দোয়েল চত্বর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের রুমানা চত্বর এলাকা দিয়ে ঢুকে জগন্নাথ হল ক্রসিং এবং শিববাড়ী ক্রসিং দিয়ে বের হতে হয়। আর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আশপাশে ৪টি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সাধারণ মানুষ এই কিংবদন্তি লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুরু করেন। বিপুলসংখ্যক ভক্ত, শুভাকাক্সক্ষী, পাঠকসহ সর্বস্তরের মানুষ দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি তাঁদের শেষশ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্বদেশের মাটিতে হুমায়ূনসোমবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে তার কফিনবাহী বিমানটি শাহজালাল বিমানবন্দরে হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ পৌঁছায়। সুসজ্জিত একদল পুলিশ সদস্য কাঁধে করে বিমান থেকে তার কফিন নামিয়ে নিয়ে যান ফুলে ফুলে সাজানো একটি অ্যাম্বুলেন্সে। একই বিমানে স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত, শাওনের মা তহুরা আলী, বোন সেঁজুতি এম আফরোজ এবং পারিবারিক বন্ধু প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম পৌঁছান। আহসান হাবীব, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, তাদের দুই বোন এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা সকালেই বিমানবন্দরে যান। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও ভক্তরা বিমানবন্দরের বাইরে ভিড় করেন।রোববার সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ নিয়ে তার স্বজনরা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। প্রিয় লেখককে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকশ প্রবাসী বাংলাদেশি। ফুল আর অশ্র�তে শেষ শ্রদ্ধাজননন্দিত কথা সাহিত্যিক, নাট্যকার কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদেকে শেষ বিদায় জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হওয়া ভক্ত, পাঠক, বন্ধু, সহকর্মী, ছাত্র বা স্বজন- কারো অশ্র�ই বাঁধ মানেনি। হুমায়ূনের কফিন রাখা হয় শহীদ মিনার চত্বরের উত্তর পাশে নির্মিত শোক মঞ্চে। সেখানে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ।শোক মঞ্চে হুমায়ূনের মা আয়েশা ফয়েজ এবং তারপর লেখকের দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন উপস্থিত হন শোক মঞ্চে। এ সময় তরুণ নুহাশকে কফিন জড়িয়ে ধরে অঝোর ধারায় কাঁদতে দেখা যায়, যার পরনে ছিল বাবার সৃষ্ট চরিত্র হিমুর সেই হলুদ পাঞ্জাবি। হুমায়ূনের দীর্ঘদিনের বন্ধু প্রবীণ সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী ও সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকও কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে জাতীয় সংসদের উপনেতা ও দলের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক ফুল দিয়ে হুমায়ূনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে হুমায়ূনের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আব্দুস সালাম ও খায়রুল কবির খোকন।অর্থমন্ত্রী আবুল মা�ল আব্দুল মুহিত, সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, এ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শওকত হোসেন, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, পূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটার্স অধ্যাপক আনিসজ্জামান, বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে একেএম শহীদুল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির পক্ষে কমিশনার বেনজির আহমদ, ফরিদুন নাহার লাইলী এমপি, কবি হাসান হাফিজ, যুবলীগের পক্ষে সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, শিল্পী কুদ্দুছ বয়াতী, কবি নাসির আহমেদ, বুয়েট উপাচার্য এসএম নজুরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ার হোসেন, পুলিশের অতিরিক্ত আইজি শহীদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা। আর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে এই অনুভূতি প্রকাশ করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইকবাল মাহমুদ। কদম ফুল হাতে সকাল ১০টা থেকে সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। শহীদ মিনারে আগত মানুষের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। তাঁদের অনেকের হাতে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় কদম ফুল। এ ছাড়া গোলাপসহ নানা ফুলে ভরে উঠছে লেখকের কফিন।কিছু প্রতিক্রিয়াশিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, হুমায়ূন আহমেদ আমাদের নাটক ও নাট্যতত্ত্বের চর্চা শিখিয়েছেন। আমরা তার কর্মময় জীবনের নানা কর্মকাণ্ড প্রতিনিয়ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবো। পরবর্তী প্রজন্মকে আমরা তার কর্মময় জীবনের কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে উপস্থাপন করবো। তার জীবন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানার জন্য পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা আমরা করবো।বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ম হামিদ বলেন, বাংলা নাটকের নতুন করে পথশ্রষ্ঠা হুমায়ূন আহমেদকে আমরা হারিয়ে টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যেন অনেক কিছু হারিয়ে ফেললাম। টেলিভিশন নাটকের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে শিখিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। সাজেদা চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচদ্র ও শামসুর রাহমানের মতো হুমায়ূন আহমেদও আমাদের সাহিত্যে অমূল্য অবদান রেখে গেছেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, হুমায়ূন এমন লেখক ছিলেন যে তার বই আমি বইমেলা থেকে কিনে আনার পর পড়া শেষ না করে থাকতে পারিনি। শুধু সাহিত্য নয়, চলচ্চিত্র, নাটকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি তার বিচক্ষণ বিচরণ রেখে গেছেন। ব্যাক্তিগতভাবেও তিনি ছিলেন আমার খুব কাছের।খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, সাহিত্য, চলচ্চিত্র নাটকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রেখে হুমায়ূন চলে গেলেন। অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।হুমায়ূন আহমেদের অবদান জাতি চিরদিন স্মরণে রাখবে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি।কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ বিষয়ে কথা বলা আজ সত্যিই আমার পক্ষে অনেক কষ্টের। আমি বাবার মৃত্যুর পর অনেক দিন বাকরুদ্ধ ছিলাম, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুতেও সেই অবস্থা হয়েছে। শরীরের চেয়েও কোটি গুণ বড় ছিল হুমায়ূন আহমেদের হৃদয়। তিনি জীবন যাপন করতেন সম্রাটের মতো। �তুই রাজাকার� অমর সংলাপ তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেছেন।জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, তার মৃত্যুতে অন্ধকার অনুভূত হচ্ছে।জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ)�র সভাপতি হাসানুল হক ইনু জানান, হুমায়ূন আহমেদের সব বই যাতে ই-বুকে রূপান্তর করা যায়, সবাই যাতে তাঁর বই পড়তে সেজন্য সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সেই দাবি জানাবো সরকারের কাছে।আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও বিএনপি�র স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ট সন্তানদের একজন। তাঁর মৃত্যুতে সারাদেশ আজ শোকে ম্তব্ধ। এই মহান সন্তানের সৃষ্টি সকলদল-মত রাজনীতির উর্ধ্বে।নাট্যজন আতাউর রহমান বলেন, হুমায়ূন আহমেদ ৩শ� মতো বই লিখে গেছেন। বেঁচে থাকলে তিনি (হুমায়ূন আহমেদ) রবীন্দ্রনাথের সমান বই হয়তো লিখে যেতে পারতেন। বাঙালি যতদিন বেঁচে থাকবে, হুমায়ূন আহমেদও ততদিন বেঁচে থাকবেন।শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার বলেন, হুমায়ূন আহমেদ মার্জিত রুচির রসিকতা করতেন তার রচনায়, নাটকে, চলচ্চিত্রে।বাবার কফিনের সামনে শিলাবাবার লাশের পাশে তার আদরের মেয়ে শিলা। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে তার বাবাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। নন্দিত হুমায়ূনের কফিনের পাশে শিলা ছাড়াও তার বোন নোভা, ভাই নুহাশ, পরিবারের আর সব সদস্য। শেকা বিহবল শিলা বিরামহীন কাঁদেন। কতো লেখায় কতোভাবে যে আদরের মেয়ে শিলার নাম এনেছেন হুমায়ূন। সেই বাবা এখন শিলার সামনে প্রাণহীন। ছেলের কফিনে মাথা রাখলেন মাকেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ১১টায় আসেন রত�গর্ভা আয়েশা ফয়েজ। তার সদ্য প্রয়াত ছেলেকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা অগণিত মানুষের ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেলেন কফিনের কাছে। আয়েশা ফয়েজ বলেন, হুমায়ূনরা নিউইয়র্কে যাওয়ার পর থেকে টেলিফোনে তাদের সঙ্গে প্রায়ই কথা হতো। এখন ছেলের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে পেরে ভালো লাগছে। আল্লাহ যেন আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও ছেলেটাকে সুস্থ করে দেন।নির্বাক নুহাশবাবার লাশের কাছে গিয়ে নুহাশ ছিল নির্বাক। হলুদ পাঞ্জাবী গায়ে বাবার সৃষ্টি করা চরিত্র হিমু সাজে নুহাশ কেবল তাকিয়ে ছিল বাবার লাশের দিকে। পিতার মৃত্যু শোক যেন তার সমস্ত মন নিঙ্গরে নিয়ে গেছে সব আনন্দ, উচ্ছ্বাস। তার শুকনো নির্বাক দৃষ্টি যেন চিৎকার করে বলছে �বাবা একবার উঠে দেখ আমি তোমার নুহাশ, আমি এসেছি তোমার প্রিয় চরিত্র হিমু সেজে।�মন্ত্রিসভার শোককথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ ও স্থপতি মাজহারুল ইসলামের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভায় সর্বসম্মতিক্রমে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা এই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদন করেন।শ্রদ্ধা জানালেন কুতুবপুরবাসীরাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশবরেণ্য লেখক হুমায়ূন আহমেদকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দুয়ার কুতুবপুরবাসী। এ সময় তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রিয় এই সাহিত্যিককে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর পৈত্রিক নিবাস কুতুবপুর থেকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলে আসেন। কুতুবপুরবাসী পক্ষে হুমায়ূন আহমেদের চাচা শিক্ষক আলতাফুর রহমান এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্কুল �শহীদস্মৃতি বিদ্যাপীঠ�-এর প্রধানশিক্ষক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হুমায়ূন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যানহাটন বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এ নাট্যনির্মাতার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। খবর:-ফেয়ার নিউজ

নুহাশপল্লীতে হুমায়ূনের দাফন চান স্ত্রী শাওন

আজ সোমবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে হুমায়ূূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, উনার (হুমায়ূন আহমেদ) শেষ ইচ্ছা ছিল নুহাশপল্লী। উনাকে আর কষ্ট দিবেন না। নুহাশপল্লীতেই ব্যবস্থা করেন।এদিকে হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই আহসান হাবীব জানিয়েছেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জাতীয়ূ ঈদগাহে জানাজার পর আজই হুমায়ূূন আহমেদের দাফন সম্পন্ন হবে। নুহাশপল্লীতে দাফন হচ্ছে না, এটি আপাতত নিশ্চিত। বনানী বা শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হতে পারে।হুমায়ূূন আহমেদের মেজো ভাই লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল গতকাল রোববার সাংবাদিকদের জানান, হুমায়ূূন আহমেদের দাফনের স্থান চূড়ান্ত হয়নি। যদিও এর আগে নুহাশপল্লীতেই তাঁর দাফনের কথা বলা হয়েছিল। তবে আপাতত সেই সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়া হয়েছে।জাফর ইকবাল বলেন, �তিনি ছিলেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের প্রিয়ূ একজন মানুষ। সে কারণে এমন একটি স্থানেই তাঁর কবর হওয়ূা উচিত, যেন তাঁর অনুরাগীরা সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। নুহাশপল্লীতে কবর হলে সেটি সাধারণ লোকচক্ষুর আড়ালে একটি কোণে গিয়ে পড়বে। আমরা আপাতত তিনটি স্থানের কথা ভেবেছি। এর মধ্যে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবি নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বর, মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এবং বনানী কবরস্থান।�হুমায়ূূন আহমেদের মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি আজ সোমবার সকাল নয়ূটার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই শিশুপুত্র নিষাদ ও নিনিত, শাশুড়ি সাংসদ তহুরা আলী, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম ও শাওনের বোন সেঁজুতি একই ফ্লাইটে নিউইয়ূর্ক থেকে ঢাকায় এসেছেন। খবর:-ফেয়ার নিউজ

কানাইঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলে আছে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার

কাওছার আহমদ:

কানাইঘাট উপজেলার মুলাগুল এলাকায় ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলে আছে বিদ্যুতের ক্যাবল ও খুঁটি। যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও একটি ট্রান্স মিটার নষ্ট হওয়ায় দু’ সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ নেই নিকটবর্তী সতিপুর গ্রামে। এতে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। জানা যায়, বন্যার পানিতে এলাকা প্লাবিত হলে পাহাড়ী ঢলের প্রবল স্রোতে মালবাহী কারগো বানের পানিতে ভেসে আসে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সতিপুর গ্রামের পশ্চিম পার্শ্বের লোভার চরের বিদ্যুতের খুঁটি ও ক্যাবলে ধাক্কা লাগে। এতে খুঁটি অনেকটা হেলে পড়ে এবং ক্যাবল ফিটিংয়ের অংশ ভেঙ্গে ঝুলে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ বানের পানি শুকিয়ে গেলেও অদ্যাবধি বিদ্যুৎ কর্তৃপ মেরামতের উদ্যোগ নেয় নি। এছাড়া নিকটবর্তী বৈদ্যুতিক ট্রান্স মিটারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সতিপুর গ্রামে দু’সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ নেই। অত্র এলাকার বাসিন্দা আলতাফ উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকায় অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই। এব্যাপারে সিলেট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি- ২ কানাইঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বন্যার পানি থাকায় তিগ্রস্ত লাইন মেরামত করা সম্ভব হয় নি। এখন মাঠ পর্যায়ে তদন্ত সাপেে তিগ্রস্ত লাইন মেরামত করা হবে। আর নষ্ট ট্রান্স মিটারের সংযোগকৃত বিদ্যুৎ গ্রাহকের বকেয়া বিল পরিশোধ ও মেরামত খরচ প্রদান করলে নতুন ট্রান্স মিটারের মাধ্যমে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।

কানাইঘাটে কারেন্ট জাল পোড়াল প্রশাসন

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ- ’০১২ উদ্যাপন উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় হতে আটককৃত ১০হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল আজ রোববার উপজেলা প্রশাসন চত্ত্বরে পুড়ানো হয়েছে। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.সোহরাব হোসেন, মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আলী হোসেন শামীম, অফিস স্টাফ মোঃ হানিফ, আল-আমিন ও ইলিয়াস সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

স্যার আসছেন আমাদের মাঝে তবে শেষ বারের মতো

জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ৯টায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন স্বজনরা। এমিরেটসের ফ্লাইটটি দুবাই হয়ে সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা।স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, শাশুড়ি তহুরা আলী, দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিত, শ্যালিকা সেজুতি এম আফরোজ এবং অন্য প্রকাশের স্বত্ত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলামও একই বিমানে ফিরছেন। হুমায়ূনকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকশ প্রবাসী বাংলাদেশি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেনও ছিলেন তাদের সঙ্গে।মোমেন জানান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু শনিবার জানান, সোমবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই লেখকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের মানুষ। এরপর বেলা আড়াইটায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে মরদেহ।মঙ্গলবার বাদ জোহর গাজীপুরে হুমায়ূনের গড়া নুহাশ পল্লীতেই তাকে সমাহিত করা হবে। খবর:-ফেয়ার নিউজ

ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি বাঙালি প্রণব

সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখাজি ভারতের ত্রয়োদশ এবং প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুরে নির্বাচনের ফলাফল গণনা পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। ৭৪৮ ভোটের মধ্যে প্রণব পেয়েছেন ৫২৭ ভোট। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাংমা পেয়েছেন ২০৬ ভোট। আগামী ২৫ জুলাই তিনি শপথগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে ।পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রণব মুখার্জির জন্ম ১১ ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়। প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রায় পাঁচ দশক ভারতীয় সংসদের সদস্য। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা।এদিকে দেশটির ক্ষমতাসীন ইউপিএ জোটের প্রার্থী প্রণব মুখার্জিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করার পর তার নিজ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। তার সুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রথম বাঙালি হিসেবে প্রণব রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করছেন। অনেককে মিষ্টি বিতরণ করতেও দেখা গেছে।
আপলোড তারিখ : 2012-07-22 খবর:-ফেয়ার নিউজ

পুলিশ কর্তৃক পাইপগান উদ্ধার কানাইঘাটের রাজাগঞ্জে স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ঝগড়া গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক আহত ২

Kanaighat News on Sunday, July 22, 2012 | 12:27 AM

স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ঝগড়াকে কেন্দ্র করে কানাইঘাট উপজেলার ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত হাওর বেষ্টিত ছোট মির্জারগড় গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়ীতে গত ১০জুলাই গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর, গুলি বর্ষণ এবং দু’জনকে গুরুতর আহত এবং স্থানীয় জনসাধারণের বাঁধার মুখে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া একটি পাইপগান কানাইঘাট থানা পুলিশ কর্তৃক উদ্বারের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে জানা যায় মির্জারগড় গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র সিদ্দিক আহমদ (৩০) গত ১০জুলাই সকালে তার স্ত্রী ২ সন্তানের জননী রশনা বেগম (২৫) এর সাথে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার বিষয়টি রশনা বেগম তার বড়ভাই একই ইউনিয়নের নয়াগ্রাম (খালরপার) গ্রামের মাওঃ ফরিদ উদ্দিন (৩৫)কে মোবাইল ফোনে অবহিত করেন। মাওঃ ফরিদ উদ্দিন বোনের ফোন পেয়ে তাঁর শ্বাশুড়ী খাদিজা বেগমকে ৩বার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে বলেন, আমার বোনকে কেন নির্যাতন করা হল এর পরিণাম খুব ভাল হবে না, তোদের বাড়ীর সবাইকের্ যাব ও পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যাব এমনও হুমকি দেন বলে রশনা বেগমের শাশুড়ী খাদিজা বেগম ও বাড়ীর লোকজন জানান। স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ঝগড়ার বিষয়টি উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে নিষ্পত্তি করা হলেও ঐদিন রাত ৯টায় মাওঃ ফরিদ উদ্দিন ও তার ছোট ভাই আলী হোসেন (২৫) এর নেতৃত্বে ৪/৫জন লোক বোন রশনা বেগমের শ্বশুড়বাড়ীতে হানা দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং বাড়ীর লোকজনদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চলে যায়। রশনা বেগমের শ্বশুড় আব্দুর রশিদ ও শ্বাশুড়ী খাদিজা বেগম জানান, বাড়ীর সবাই যখন গভীর ঘুমে মগ্ন তখন রাত অনুমানিক আড়াইটায় বসত ঘরের দরজা ভাঙ্গার শব্দ এবং তাঁর ছেলে ফিরুজ আহমদ (২৮)এর চিৎকার শুনে বাড়ীতে ডাকাত হানা দিতে পারে বলে সুরচিৎকার দেন। এরই মধ্যে পুত্র বধূ রশনা বেগমের ভাই মাওঃ ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে বাড়ীতে আশা স্বশস্ত্র লোকজন হামলা চালিয়ে আব্দুর রশিদের পুত্র ফিরুজ আহমদ (২৫) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত উপর্যুপরি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীদের বন্ধুকের গুলির আঘাতে ফিরুজ আহমদের বড় বোন রাজিয়া বেগম (৩৫) হাতে গুলিবিদ্ধ হন। এসময় গুলির আওয়াজ ও বাড়ীর লোকজনদের আর্তচিৎকারে আশপাশ এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের লোকজন ঘুম থেকে জেগে উঠে আব্দুর রশিদের বাড়ীতে জড়ো হলে হামলাকারীরা ৩ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে একটি দেশীয় তৈরী পাইপগান ফেলে বাড়ীর পার্শ্ববর্তী ফতেগঞ্জ হাওর এলাকা দিয়ে ইঞ্জিল নৌকা যুগে হরিপুরের দিকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় লোকজন জানান। সাথে সাথে বিষয়টি এলাকার কয়েকজন কানাইঘাট থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে অবহিত করলে ঘটনার ২০মিনিট পর রাজাগঞ্জ এলাকায় টহলরত থানার এস.আই আকিক হোসেন একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া পাইপাগানটি জব্দ করেন। পুলিশ গুলিবিদ্ধ রাজিয়া বেগম এবং গুরুতর আহত ফিরুজ আহমদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ওসমানী হাসপাতালে ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বর্তমানে নিজ বাড়ীতে চিকিৎসাধীন আহত ফিরুজ আহমদ ও বাড়ীর লোকজন কান্না জড়িত কন্ঠে স্থানীয় সাংবাদিকদের আরো জানান, তুচ্ছ ঘটনার সূত্র ধরে মাওঃ ফরিদ উদ্দিন তাদের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য গভীর রাতে স্বশস্ত্র ভাড়াটিয়া ১০/১২ লোকজনদের নেতৃত্বে বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর গুলি বর্ষণের মত জগন্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে। আব্দুর রশিদ বলেন, এলাকার লোকজন এগিয়ে না আসলে হামলাকারীরা তার দুই মেয়েকে ধরে নিয়ে যেত। বর্তমানে প্রাণের ভয়ে তারা থানায় মামলা করতেও সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা মাষ্টার ইকবাল আহমদ, ওলিউর রহমান, আহমদ আলী, সিরাজ উদ্দিনসহ আরো অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ঝগড়া নিয়ে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা হামলাকারী ও পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারকৃত অস্ত্র বাজদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন, থানা প্রশাসনের কাছে। এ ব্যাপারে অস্ত্র উদ্ধারকারী থানার এস.আই আকিক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ঝগড়া নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। আমি খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রশিদ উদ্দিনের বাড়ী থেকে হামলাকারী কর্তৃক ফেলে যাওয়া দেশীয় তৈরী একটি পাইপগান উদ্ধার করেছি। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান।

আয়ারল্যান্ডকে হারালো বাংলাদেশ

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে ১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেই সাথে টি-২০ র‌্যাঙ্কিংয়ে নাম লেখালো বাংলাদেশ । বাংলাদেশের সহ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের দূর্দান্ত বোলিংয়ে এই দুটি প্রাপ্তিই সম্ভব করেছেন । শেষ ওভারে আয়ারল্যন্ডের যখন ৬ বলে ১০ রান দরকার আর হাতে আছে ৬ টি উইিকেট। তখনই তার রিয়াদের হাতে বল উঠে। তার প্রথম ৫ বলে আয়ারল্যান্ডের প্রাপ্তি ২ রান তাও দুটি উইকেট হারিয়ে। নিজের চতুর্থ বলে পয়েন্টারকে ১২ রানে ও ৫ম বলে ৪১ রান করা জয়সিকে ফিরিয়ে দিলেন তিনি। তখন আইরিশদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১ বলে ৮ রান। কিন্তু হলো না। বিশাল একটি ছক্কা হাকিয়ে শুধু রানের ব্যাধানই কমাতে পেরেছেন জোহান স্টোন। বাংলাদেশের ২০ ওভারে করা ৬ উইকেট হারিয়ে করা ১৪৬ রান তাড়া করতে আয়াল্যান্ডের ২০ ওভার শেষ হয় ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। ফলে সহ অধিনায়কের কারিশমায় ১ রানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।বাংলাদেশের ১৪৬ রান তাড়া করতে নেমে আইরিশা দৃঢ়তার সঙ্গেই শুরু করে। তবে অধিনায়ক পোর্টারফিল্ডকে ১৪ রানে রান আউট করে সাজ ঘরের ফেরান নাসির হোসেন। গতকারও আইরিশ ব্যাটসম্যানরা পাওাই দিচ্ছিলেন না বাংলাদেশের পেস বোলারদের। অবশেষে আবারো স্পিনার সানিই লাড়াইটা আরেকটু জামিয়ে তুলতে ২৬ রান করা স্টারলিংকে সাজ ঘরের পথ দখান। আর আয়ারল্যান্ডে দূবার হয়ে ওঠা সানি আবারো ফেরালেন ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা উইলসনকে। উইলসন করেন ২৭ বলে ৩৭ রান। আরেক স্পিনার রাজ্জাকের আঘাতে ওব্রেন। তবে শেষ লড়াইটি শুধু ছিল বাংলাদেশ দলের সহ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের জন্যই। শেষ ওভারেই বল হাতে বাংলাদেশে জন্য জয় এনে দেন তিনি। করণ তিনি আয়ারল্যান্ডকে ধিরে ধিরে জয়ের বন্দরের কাছে নিয়ে যাওয় জয়সাকে ফিরিয়েছেন ৪১ রানে। মাহমুদুল্লাহ ২৮ রানে ২টি আর ইলিয়াস সানি ১৮ রানে ২টি করে উইকেট নেন।এর আগে টসে জিতে প্রথম ম্যাচের মতো ব্যাটে ঝড় তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরু থেকে ব্যাটসম্যানদের জন্য ব্যাটিংটা কঠিন করে তোলেন আইরিশ বোলাররা। ওপেনার তামিম ইকবাল ৯ বল খেলে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেছেন। তবে আশরাফুলের ৩৮ রাননের সঙ্গে নাসির হোসেনের অর্ধশতকে ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৪৬ রান করে বাংলাদেশ। নাসির ৩৩ বলে ৪টি চার ও ২টি ছয়ের সাহায্যে কাটায় কাটায় ৫০ রান করেন। এই অপরাজিত ইনিংসটিই টি- টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ার সেরা। সেই সঙ্গে তিনি হন ম্যাচ সেরাও। খবর:-ফেয়ার নিউজ

বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কালো তালিকা থেকে মুক্তি পেল

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (ইকাও) এর সিগনিফিকেন্ট সেফটি কনসার্ন (এসএসসি) এর তালিকা থেকে বাদ পড়েছে । ২০০৯ সালে জুন মাসে বিভিন্ন অসঙ্গতি�র কারণে ইকাও ৩৪টি প্রটোকল প্রশ্নে বিমান চলাচলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের (এসএসসি) তালিকায় বেবিচককে অন্তর্ভুক্ত করে। এ তালিকায় থাকার ফলে এতোদিন বাংলাদেশের নতুন কোনো বিমান সংস্থা আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায়নি। এসএসসি তালিকা এভিয়েশন ব্যবসায় কালো তালিকা হিসেবে পরিচিত।বেবিচকের সেফটি এবং রেগুলেশন বিভাগের পরিচালক উইং কমান্ডার এস এম নাজমুল আনাম শনিবার বলেন, একটু আগেই আমরা খবর পেলাম, তালিকা থেকে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।৩৪টি প্রটোকল প্রশ্ন তুলে বেবিচকের কার্যক্রম প্রায় তিন বছর আগে কালো তালিকাভুক্ত করে ইকাও। তবে গত ৯ জুন একটি আইসিডিএম বা ইকাও অডিট টিম পাঁচটি বিভাগে তাদের অডিট পরিচালনার পর বেবিচক আশা করে আসছিল, কালো তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হবে। নাজমুল বলেন, অডিটে ৩৯টি বিষয়ে ৩০৪টি প্রটোকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল বেবিচককে।বেবিচককে যে পাঁচটি বিভাগে প্রটোকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ওর্ডিনেন্স, লাইসেন্স প্রদান, অপারেশনাল কার্যক্রম, অর্গানোগ্রাম ও এভিয়েশন নিয়ম কানুন।কালো তালিকাভুক্তির কারণে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোকে আমেরিকা এবং ইউরোপের অনেক দেশে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধায় পড়তে হয়। এর আগে এসএসসি থেকে বের হয়ে আসার জন্য বেবিচককে কয়েকটি পরামর্শ দেয় ইকাও। সেই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা তা পরিদর্শনের জন্য দুই সদস্যের একটি ইকাও অডিট দল গত ২১ থেকে ২৭ জুন এবং ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত দুই দফা অডিট পরিচালনা করে।উইং কমান্ডার নাজমুল বলেন, ইকাওয়ের চাহিদা অনুযায়ী এয়ার ওর্ডিনেন্সের ক্ষেত্রে বেবিচক একটি পরিকল্পনা ছক তৈরি করে। অর্গানোগ্রাম ও এভিয়েশনের আইন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।বেবিচকের কর্মকর্তারা জানান, ইকাও নিরীক্ষা দল বেবিচকের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও কয়েকটি বিষয়ে কার্যক্রম জোরদারের পরামর্শ দিয়ে গেছে। পরামর্শের মধ্যে রয়েছে বেবিচকের বেতন কাঠামোতে জাতীয় বেতন কাঠামো থেকে আন্তর্জাতিক মানের করা, বেবিচক আইন আধুনিকায়ন, কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।কালো তালিকায় প্রসঙ্গে বেবিচকের এক কর্মকর্তা জানান, এসএসসি তালিকায় থাকার কারণে এতদিন বাংলাদেশের নতুন কোনো বিমান সংস্থা আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায়নি।খবর:-ফেয়ার নিউজ

আহলান সাহলান মাহে রমযান : শনিবার থেকে সিয়াম পালন শুরু

Kanaighat News on Friday, July 20, 2012 | 8:15 PM

শুক্রবার বাংলাদেশের আকাশে মাহে রমযানের চাঁদ দেখা গেছে। আহলান সাহলান মাহে রমযান। বছর ঘুরে আবার এলো সিয়াম সাধনার মাস রমযান। আজ পহেলা রমযান। আজ সন্ধ্যায় ১৪৩৩ হিজরী সালের মাহে রমযানের চাঁদ দেখার পর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এ ঘোষণা দিয়েছে। প্রযুক্তির কল্যাণে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এ খবর ছড়িয়ে যায় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক বিবৃতি দিয়েছে, র‌্যালি বের করেছে। মাসব্যাপী রোজা পালনসহ মহান আল্লাহ-তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ইবাদত-বন্দেগী করার জন্যে রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যন্ত জনপদের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ পূর্বাহ্নেই তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এদিকে, আত্মসংযম, অনুকম্পা ও ক্ষমা লাভের মাস রমযান উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীসহ মুসলিম বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।মাহে রমযান মুসলিম উম্মাহর জন্য শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। প্রতি বছর এই মাস আমাদের মাঝে উপস্থিত হয় আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য লাভ, রহমত ও বরকত লাভের অপার সওগাত নিয়ে। আল-কুরআনে বলা হয়েছে, রোজা পালনে আল্লাহর প্রতি যে ভয় ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়, সে জন্য বান্দাকে তিনি নিজ হাতে পুরস্কৃত করবেন। হাদিস শরীফে রয়েছে, রোজাদার ব্যক্তিদের বেহেশতে প্রবেশের জন্য �রাইয়ান' নামক বিশেষ দরজা সংরক্ষিত থাকবে।গতকাল মাগরিব নামাযের পর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার খবর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে প্রতীক্ষমান ধর্মপ্রাণ মুসলমান নারী, পুরুষ, এমনকি শিশুরা জানতে পেরে তারাবীহ নামাযের প্রস্তুতি নেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিটি মসজিদে একই নিয়মে খতমে তারাবীহ পড়ানোর জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগে-ভাগেই নির্দেশনা দিয়েছে। তবে লোডশেডিংয়ের কারণে মুসল্লীদের মসজিদে এশা ও তারাবীহ নামায আদায় করতে অনেক ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রমযানকে সামনে রেখে গতকাল অপরাহ্নে রাজধানীর প্রতিটি গণপরিবহণ ছিল যাত্রীপূর্ণ। অনেকেই গন্তব্যের গাড়ি পেতে হিমশিম খেয়েছেন। সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত অফিসের অধিকাংশেই দুপুর হওয়ার সাথে সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কমতে থাকে। ভিড় বাড়তে থাকে বিশেষ করে খেজুর ও ইফতার সামগ্রীর কাঁচামালের দোকানে। প্রয়োজন মেটাতে কেউ কেউ নতুন টুপী, তসবীহ ও পবিত্র কুরআন মাজীদ কিনে নিয়েছেন। মাহে রমযান উপলক্ষে বিটিভিসহ ইলেকট্রনিক চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার গতকাল সন্ধ্যা থেকেই শুরু করেছে।আজ মাহে রমযানের সূচনা দিবসে স্বাভাবিক কারণেই অফিস-আদালত, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারের দৃশ্যপট বদলে যাবে। মসজিদে মুসুল্লীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। ইফতার সামগ্রী তৈরি বিপণনের জন্য বসবে মওসুমী দোকানপাট। রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে গুলশান বনানী সর্বত্র পরিণত হবে ইফতার বাজারে। অনেকেই ঘরে তৈরি করবে বিশেষ খাবার। এদিকে মাহে রমজানের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে, আত্মশুদ্ধি, সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবীয় গুণাবলীর সৃষ্টির উদাত্ত আহবান নিয়েই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমযান আমাদের দ্বারপ্রান্তে সমাগত। তারা মাহে রমযানের প্রাক্কালে দেয়া বিবৃতিতে বলেন যে, মুসলিম জাতীয় ঐতিহ্য চেতনায় এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে রমযান অতি গুরুত্বপূর্ণ। রমযান মাস পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস, ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাস, বিজয়ের মাস। মুসলমানের দ্বীন ও দুনিয়ার সমৃদ্ধি, পার্থিব ও আধ্যাত্মিক উন্নতি, দৈহিক ও মানবিক শ্রেষ্ঠত্ব আর গৌরব ও মর্যাদার অবিস্মরণীয় স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসে মাহে রমযান। উন্নত চরিত্র অর্জনের পক্ষে অন্তরায় পাশবিক বাসনার প্রাবল্যকে পরাভূত করে পাশবিক শক্তিকে আয়ত্তাধীন করা হচ্ছে সিয়ামের তাৎপর্য। ব্যক্তিগত এবং সামাজিকভাবে সর্বত্র আল্লাহর দীনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় যাবতীয় প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার জন্য যে মন-মানসিকতার প্রয়োজন, সিয়াম সাধনার দ্বারাই তা অর্জিত হয়। মানবতার মহান নেতা রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তার বিপ্লবী সাহাবারা এ মহান মাসে লড়াই করেছিলেন বাতিলের বিরুদ্ধে, অন্যায়, অসত্য, জুলুম ও শোষণের বিরুদ্ধে এবং মানুষের ওপর মানুষের প্রভুত্ব খতম করার মহান লক্ষ্যে। সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মানব জাতিকে মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের আহবান জানায় এ মাস। এ মাসের যথাযথ মর্যাদা রক্ষার জন্য সর্বস্তরের মুসলমানকে এগিয়ে আসতে হবে। রমযানের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সরকারকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য নাগালের ভিতর রাখতে হবে। গরীব, অসহায় ও মেহনতি মানুষ যেন অর্ধাহারে ও অনাহারে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শ্রমিকদের শ্রম কমিয়ে দিয়ে পুরাপুরি মজুরি প্রদান করা সকলের কর্তব্য। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সকলকে দ্বন্দ্ব-কলহ, হিংসা-বিদ্বেষ, পরনিন্দা ও চোগলখোরী ছেড়ে দিয়ে আত্মসংযম অর্জন করতে হবে। এ মাস বেশি বেশি নেক আমল, কুরআন-হাদিস, ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন এবং রমযানের পবিত্রতা রক্ষা করে যাবতীয় বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা থেকে সমাজকে রক্ষার জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তারা উল্লেখ করেন। খবর:-ফেয়ার নিউজ

কানাইঘাটে ইলিয়াস আলী মুক্তি পরিষদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কানাইঘাটে ইলিয়াস আলী মুক্তি পরিষদ উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি’র কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদের আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ছাত্রদল নেতা আব্দুল করিম শাহীনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন মুক্তি পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দের মধ্যে উপজেলা বিএনপি নেতা পৌর কাউন্সিলার শরীফুল হক, জেলা ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হাজী জসিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি রাশিদুল হাসান টিটু, নিজাম উদ্দিন, জালাল আহমদ জনী, আব্দুল খালিক। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তি পরিষদ নেতা সালেহ আহমদ, রুহুল আম্বিয়া, শাহিনুল ইসলাম, করিম চৌধুরী, ওলি, রাসেল চৌধুরী, রানা, সুহেল প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় বক্তারা ইলিয়াস আলীকে সুস্থ অবস্থায় অনতি বিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আজ চাঁদ দেখা গেলে,কাল মাহে রমজান শুরু

আজ হিজরী বর্ষপঞ্জির ২৯শে শাবান। আজ মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেলে কাল হবে ১লা রমজান, শুরু হবে রোজা পালন বা সিয়াম সাধনা। কালের পরিক্রমার পথ ধরে মুসলিম উম্মাহর কাছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বারতা নিয়ে আবার আসবে পবিত্র মাহে রমযান। আল্লাহর বিশেষ করুণা ও দয়ার অপার সুযোগের মাস মাহে রমযান। দীর্ঘ এগারটি মাসের পাপ পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হওয়ার অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় পবিত্র রমযান। রোজা ইসলামের মৌলিক ইবাদাতের মধ্যে অন্যতম। আর এ রোজা পবিত্র রমযান মাসেই আমাদের উপর ফরয করা হয়েছে। এ মাসের আগমনে মুসলিম সমাজ ও ইসলামী জীবন ধারায় এক বিরাট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পাপী তাপী সকল মানুষের জন্য এক অনাবিল শান্তি ও চিরস্থায়ী মুক্তির পয়গাম নিয়ে মাহে রমযান প্রতি বছরই আমাদের সামনে হাজির হয়। কিন্তু প্রতি বছরই এর আহবান থাকে চিরন্তন। এ মাসে ইবাদাত বন্দেগীর তাৎপর্য অনেক। এর আবেদনের কোন শেষ নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরয করা হয়েছে যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে করে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। এ আয়াত প্রমাণ করে রোজা আমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও ফরয ছিল। রমযান আরবী শব্দ। অর্থ দহন। ইসলামী বিশ্বকোষে রমযান অর্থ গ্রীষ্মের উত্তাপ উল্লেখ করা হয়েছে। আরবী বছরের নবম মাস হিসেবেই এর পরিচয় রয়েছে। রমযান মাসেই পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে মানুষের হেদায়েতের জন্য। আল্লাহ পাক রমযান মাসের রোজা ফরয করেছেন এবং এর রাতগুলোতে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে নফল ইবাদত রূপে সুনির্দিষ্ট করেছেন। হাদীস শরিফে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহর রেজামন্দি, সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশে কোন ওয়াজিব, সুন্নাত বা নফল আদায় করবে, তাকে এর জন্য অন্যান্য সময়ের ফরয ইবাদততুল্য সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে কোন ফরয আদায় করবে, সে অন্যান্য সময়ের সত্তরটি ফরয ইবাদতের সমান সওয়াব লাভ করবে। এ মাস ধৈর্য, তিতিক্ষা ও সবরের। ধৈর্যের প্রতিফল হিসেবে আল্লাহর নিকট থেকে জান্নাত লাভ করা যাবে। এটা পরস্পর সৌজন্য ও সহৃদয়তা প্রদর্শনের মাস। এ মাসে মুমিন বান্দাদের রিযিক প্রশস্ত করে দেয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে এর বিনিময়ে তার গুণাসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং জাহান্নাম হতে তাকে মুক্তি ও নিষ্কৃতি দেয়া হবে। আর তাকে আসল রোযাদারের সমান সওয়াব দেয়া হবে। তবে সেজন্য আসল রোজাদারের সওয়াব বিন্দুমাত্র কম করা হবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা আরয করলাম ইয়া রাসুলুল্লাহ। আমাদের মাঝে সকলেই রোজাদারকে ইফতার করাবার সামর্থ্য রাখে না এমতাবস্থায় তারা কিভাবে এই পুণ্য লাভ করবে? তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে একটা খেজুর, দুধ বা এক ঢোক সাদা পানি দ্বারাও ইফতার করাবে, তাকেও আল্লাহ পাক এই সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি একজন রোযাদারকে পূর্ণমাত্রায় পরিতৃপ্ত করবে আল্লাহ পাক তাকে হাউজে কাউসার হতে এমন পানীয় পান করাবেন যার ফলে জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। এটা এমন এক মাস যে, এর প্রথম দশ দিন রহমতের ঝর্ণাধারায় পরিপূর্ণ। দ্বিতীয় দশ দিন ক্ষমা ও মার্জনার জন্য সুনির্দিষ্ট এবং শেষ দশ দিন জাহান্নাম হতে মুক্তি ও নিষ্কৃতি লাভের উপায়রূপে নির্ধারিত। আর যে ব্যক্তি এ মাসে নিজের অধীনস্থ লোকদের শ্রম ও মেহনত হ্রাস বা হালকা করে দেবে, আল্লাহ পাক তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করবেন এবং তাকে জাহান্নাম হতে নিষ্কৃতি ও মুক্তিদান করবেন। আল্লাহ পাক এর মহান বাণী পবিত্র আল কুরআনসহ আসমানী কিতাবসমূহ এই মাসে নাজিল হয়েছে। এই মাসেই রয়েছে পবিত্র লাইলাতুল কদর। যার মূল্য হাজার মাস ইবাদতের ঊর্ধ্বে। এই মাসের প্রথম দশ দিন রহমতের বারিধারায় অবগাহন, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাত ও ক্ষমার আলোকে উদ্ভাসিত, আর শেষ দশ দিন জাহান্নাম হতে মুক্তি ও নিষ্কৃতির সুবর্ণ সুযোগ। এই সুযোগ লাভ করে ধন্য হওয়ার কামনা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের অন্তরে থাকা প্রয়োজন।খবর:-ফেয়ার নিউজ

হুমায়ুন আহমেদ আর নেই

বরেণ্য লেখক হুমায়ুন আহমেদ আর নেই। হুমায়ুন আহমেদ বৃহদান্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যানহাটন বেলভিউ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বৃহদন্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে যান জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। সেখানে ৮ মাসে তাকে দেয়া হয় ১২টি কেমোথেরাপি।
এরপর গত ১১ মে মাসে তিনি বাংলাদেশে আসেন। ২০ দিন অবস্থান করে ২ জুন নিউইয়র্কে ফিরে যান হুমায়ূন। তারপর ১২ জুন চিকিৎসকরা তার বৃহদন্ত্রে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা শেষে ১৯ জুন কুইন্সে নিজ বাসায় যান হুমায়ূন আহমেদ। কিন্তু একদিন পরই জনপ্রিয় এ লেখকের পেটে তীব্র ব্যাথা অনুভব করায় আবার তাকে স্থানীয় জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে জরুরি ভিত্তিতে বেলভ্যু হাসপাতালে নেয়া হয়। আর আরেক দফা অস্ত্রোপচার করা হয়।
হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন। তাঁর বাবা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন। তাঁর বাবাও লেখালিখি করতেন।খবর:-বাংলাদেশ বার্তা ডট কম

এইচএসসিতেও দেশ সেরা সিলেট শিক্ষাবোর্ড : জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৬৫ জন

মো: কয়েছ মিয়া :: এসএসসি পরীক্ষার পর বরাবরের মত এইচএসসি পরীক্ষায়ও দেশসেরা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে সিলেট শিক্ষাবোর্ড। ২০১২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডের ৩৭ হাজার তিনশ’ ৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ হাজার ৯০৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার ৮৫.৩৭%।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের ইতিহাসে এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এবার দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ড সমূহের মধ্যেও এটি উচ্চতম হার। সারাদেশে গড় পাশের হার শতকরা ৭৮.৬৭ ভাগ। সিলেট বোর্ডে এবার গত বছরের চাইতে প্রায় আড়াইগুন ছাত্রছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ১২টি কলেজ শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। শতভাগ ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান নেই একটিও। এবছর সিলেটে ছেলেদের চাইতে প্রায় আড়াই হাজার মেয়ে বেশি পাশ করেছে। তবে পাশের হার ও জিপিএ ৫ ছেলেদের বেশি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের আওতায় বৃহত্তর সিলেটের ১৬৯টি কলেজের মোট ৩৭ হাজার তিনশ ৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ হাজার ৯০৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশের হার শতকরা ৮৫.৩৭ ভাগ, যা গতবারের চাইতে ৯.৬৯ ভাগ বেশি। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ হাজার ১৮ জন ছাত্র এবং ১৬ হাজার ৮৮৫ জনছাত্রী। বিজ্ঞান বিভাগে ৫৭৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮৬৫ জন, মানবিক বিভাগে ২৪ হাজার ১৩২ জনের মধ্যে ২০ হাজার ১৫৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সাত হাজার ৫০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছয় হাজার ৮৮০ জন পাশ করেছে। বিভাগ ওয়ারি পাশের হার বিজ্ঞানে ৮৪.৮০% মানবিকে ৮৩.৫৩% এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯১.৭০%। জিপিএ ৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ও অতীতের রেকর্ড ভঙ্গঁ করেছে সিলেট বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা। অপেক্ষাকৃত নবীন এই শিক্ষাবোর্ড থেকে এ বছর দু’হাজার ৬৫ জন ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ ৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজার ৩৭ জন ছেলে এবং এক হাজার ২৮ জন মেয়ে। বিজ্ঞান বিভাগে ৬৭৫ জন ছাত্র ও ৫৪৮ জন ছাত্রী, মানবিক বিভাগে ১১৯ জন ছাত্র ও ২৯৪ জন ছাত্রী এবং ব্যবসায়শিক্ষা বিভাগে ২৪৩ জন ছাত্র ও ১৮৬ জন ছাত্রী জিপিএ ৫ পেয়েছে। এবার সংখ্যার দিক থেকে ছেলেদের চাইতে মেয়েরা বেশি পাশ করলেও পাশের হার ছেলেদের বেশি (ছেলে ৮৫.৮৮%, মেয়ে ৮৪.৯১%।
অন্যান্য সূচকেও অতীতের চাইতে ভাল করেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। জিপিএ ৪ থেকে ৫ এর মধ্যে পেয়েছে ৬৩১৪ জন, ৩.৫০ থেকে ৪ এর মধ্যে আছে ৬৩৩৩ জন, ৩ থেকে ৩.৫০ এর মধ্যে ৬৯২৮ জন, ২ থেকে ৩ এর মধ্যে ৮৯২৯ এবং ১ থেকে ২ এর মধ্যে ১৩৩৪ জন। এদিকে, এইচএসসির ফল প্রকাশ উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মনির উদ্দিন সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সিলেটে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ডের ফলাফলই এটি প্রমাণ করে। সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি, সময়মত বই সরবরাহ ও পাঠদানের কারণেই এ সাফল্য এসেছে। এ জন্য তিনি শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক একেএম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার উপস্থিত ছিলেন।খবর:-বাংলাদেশ বার্তা ডটকম
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩