পূর্ব শক্রুতার জের:কানাইঘাটে খড়ের ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ

Kanaighat News on Wednesday, February 29, 2012 | 8:49 PM

পূর্ব শত্রুতা ও মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত সোমবার কানাইঘাটে লখাইর গ্রামে প্রতিপক্ষের একটি গাভী চুরির পর খড়ের ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দূবৃত্তরা। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, লখাইর গ্রামের মৃত হাজী তবারক আলীর পুত্র মাসুক উদ্দিন গংদের সাথে একই গ্রামের তমছির আলীর পুত্র এবাদুর রহমান ও জয়নাল গংদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আদালতে মামলা চলছে। এর জের ধরে গত ২১ফেব্র“য়ারী গভীর রাতে জয়নাল গংরা মাসুক উদ্দিনের বাছুর রেখে একটি গাভী ঘর থেকে চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মাসুক উদ্দিন গ্রাম্য বিচার প্রার্থী হলে ক্ষিপ্ত হয়ে এবাদুর রহমান গংরা গত সোমাবার সকাল ১০টায় দলবলে মাসুক উদ্দিনের বসত বাড়ীতে চড়াও হয়ে সীমানা নির্ধারনের নামে মাটি খুঁড়ে খাল খনন করে ও যাবার সময় তার খড়ের ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় মাসুক উদ্দিন থানায় ১৭জনের বিরুদ্ধে গরু চুরি ও ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করলে থানার এস.আই শফিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। অভিযুক্তরা পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের অপরাধের কথা স্বীকারও করে।

কানাইঘাটে ভারতীয় মদসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার

Kanaighat News on Tuesday, February 28, 2012 | 10:55 PM

কানাইঘাটে ভারতীয় অফিসার চয়েস্ মদসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তি হলো উপজেলার বীরদল (হাওর পশ্চিম) গ্রামের মৃত আব্দুল হকের পুত্র আজমল হোসেন (৪০)। জানা যায়,আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইঘাট থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে চৌদ্দ বোতল ভারতীয় অফিসার চয়েস্ মদসহ ধৃত আজমলকে গ্রেফতার করে। এব্যাপারে থানার এস.আই শফিকুল ইসলাম খান বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে কানাইঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- (২৪) ২৮/০২/২০১২ইং। আজ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

কানাইঘাট পৌর মেয়র লুৎফুর রহমানকে অভিনন্দন

Kanaighat News on Monday, February 27, 2012 | 11:04 PM

কানাইঘাট পৌরসভার মেয়র লুৎফুর রহমান মিউনিসিপ্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব) এর সিলেট বিভাগীয় জয়েন্ট সেক্রেটারী নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র হাজী আব্দুল মালিক, ফখর উদ্দিন শামীম, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। অভিনন্দন বার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, পৌর মেয়র লুৎফুর রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে এসোসিয়েশনের কর্মকান্ড আরো গতিশীল হবে এবং এর সুফল সিলেট বিভাগের সকল পৌর নাগরিকবৃন্দ ভোগ করবে।

কানাইঘাটে অধ্যক্ষ ছমিকে ঘিরে ফের উত্তেজনা

কানাইঘাট সড়কের বাজার আহমদিয়া আলীম মাদ্রাসার অপসারিত অধ্যক্ষ ছমিকে নিয়ে এলাকায় ফের উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবারো বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। জানা যায়, অপসারিত অধ্যক্ষের বিরুদ্বে সম্প্রতি মাদ্রাসার ওয়াকফ এস্টেটের দেড়কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে অর্ধকোটি টাকার সত্যতা পাওয়া যায়। এছাড়া তিনি একটি মামলার এফ.আই.আর ভুক্ত আসামী হয়ে পলাতক থাকায় গত শনিবার মাদ্রাসার এডহক কমিটির এক সাধারণ সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধূরী ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুমিন চৌধূরীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আব্দুছ ছমিকে অধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারিত করে মাদ্রাসার সিনিয়র শক্ষক হাফিজ মাওলানা আব্দুল মান্নানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যরে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এরই দুদিন পর একটি মহলের ইন্ধনে অপসারিত ছমির আন্তীয়স্বজন আঞ্চলিকতার ইস্যু নিয়ে নিজ এলাকার কিছু সংখ্যক জনসাধারণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আজ সোমবার উপজেলা সদরে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। এসময় কানাইঘাট বাজারে প্রতিপরে লোকজনের মহড়ায় উত্তেজনা দেখাদিলে আইনশৃংখলা বাহিনীর জোরালো তৎপরতায় কোন ধরনের বিশৃংখলা ঘটেনি। তবে বাজার এলাকা উত্তপ্ত ছিল। পরে তারা ছমির উপর দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.সোহরাব হোসেন বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেন। এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্য আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,প্রতিদিনের মতো গতকালও মাদ্রাসায় নিয়মিত কাস হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল লনীয়। মানববন্ধনের সাথে মাদ্রাসা কর্তৃপরে কোন সম্পৃক্ততা নেই।

লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে অভিযান তিনটি ট্রাক ও পাঁচটি ট্রাক্টর জব্দ

Kanaighat News on Sunday, February 26, 2012 | 8:34 PM

শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.সোহরাব হোসেন একদল পুলিশ নিয়ে লোভা পাথর কোয়ারীতে অভিযান পরিচালানা করেন। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে পাথর সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত আব্দুল মালিক ও কামাল মেম্বার এবং সফর আলী মেম্বারের ৩টি ট্রাক ও ট্র্যাক্টর আটক করেন। এছাড়াও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত অপর ৫টি ট্র্যাক ও ট্যাক্টরের চাবি জব্দ করেন তিনি। স্থানীয় সচেতন মহল জানান ইদানিং শুকনা মৌসুমে একটি প্রভাবশালী চক্র পাথর কোয়ারীর সংলগ্ন নদীর পাড় শত শত সল ম্যাসিনের সাহায্যে গভীর থেকে প্রতিদিন লক্ষফুট পাথর উত্তোলন করছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগের কোন বৈধ কাগজ পত্র নেই। প্রভাব কাটিয়ে তারা পাথর উত্তোলন করছে। এ ব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য তিনি গতকাল পাথর কোয়ারীতে যান এবং অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন না করার জন্য সবাইকে নির্দেশ প্রদান করেন। পাথর পরিবহনের দায়ে আটককৃত গাড়ির মালিক এবং অন্যান্য পাথর উত্তোলনকারীদের বৈধ কাগজ পত্র নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। বৈধতা না পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পুরনো বাইবেলে বিশ্বনবীর সা. আগমনী বার্তা: ভ্যাটিকানে তোলপাড়

Kanaighat News on Saturday, February 25, 2012 | 10:35 PM

লন্ডন, ২৫ ফেব্রুয়ারি: হযরত ঈসা (আ.) বা যিশু খ্রিস্ট কর্তৃক হযরত মুহাম্মদের সা. আবির্ভাবের ভবিষ্যদ্বাণী সম্বলিত বাইবেলের একটি প্রাচীন সংস্করণ দেখতে চেয়েছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ। বৃটেনের ডেইলি মেইল এ খবর দিয়ে জানিয়েছে, ১৫০০ বছরের পুরনো এ বাইবেল সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে এবং তা গত ১২ বছর ধরে তুরস্কে গোপন রাখা হয়েছে। অনেকেই মনে করেন এই বাইবেলই নির্ভরযোগ্য প্রাচীন ইঞ্জিল বা হযরত ঈসার আ. প্রাথমিক বাণী বা শিক্ষা সম্বলিত বাইবেল হিসেবে খ্যাত ‘বার্নাবাসের বাইবেল।’পোপ ষোড়শ বেনিডিক্ট এই বাইবেল দেখতে চেয়েছেন বলে খবর এসেছে। এক কোটি ৪০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড মূল্যের এ বাইবেল স্বর্ণাক্ষরে এবং হযরত ঈসার আ. নিজ ভাষা তথা আরামীয় ভাষায় লিখিত।তুরস্কের পুলিশ ২০০০ সালে চোরাচালান দমনের এক অভিযানে পশুর মোটা চামড়ায় লেখা এবং চামড়া দিয়ে বাঁধাই করা এ বাইবেলটি উদ্ধার করে। ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত বইটি কড়া প্রহরার মধ্যে গোপন রাখা হয় এবং এরপর আঙ্কারার প্রত্নতাত্তিক জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়। সামান্য কিছু সংস্কারের পর বইটিকে শিগগিরই জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হবে। হস্তলিখিত বইটির একটি পৃষ্ঠার ফটোকপির দাম ১৫ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড বলে মনে করা হচ্ছে।তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী এর্তুগরোল গুনায় বলেছেন, প্রাচীন এই বাইবেল ইঞ্জিল শরীফের নির্ভরযোগ্য সংস্করণ হতে পারে এবং হযরত ঈসা আ. সম্পর্কিত ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গীর সঙ্গে এ বাইবেলের মিল থাকায় বইটি হয়ত খ্রিস্টান গির্জার ক্ষোভের শিকার হয়েছিল।তিনি আরো বলেছেন, ভ্যাটিকান এ পাণ্ডুলিপি দেখার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছেন। প্রোটেস্টান্ট পাদ্রী ইহসান ওজবেক তুরস্কের জামান পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সম্ভবত বার্নাবাসের কোনো অনুসারী এ বাইবেল লিখেছেন এবং বার্নাবাসের বাইবেলের বিষয়বস্তুর সঙ্গে এর কোনো মিল নাও থাকতে পারে। ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক ওমর ফারুক হারম্যান বলেছেন, এ বাইবেলের ওপর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হলেই এটা স্পষ্ট হবে যে তা কত বছরের পুরনো।

কানাইঘাটে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে যুবকের ৪ মাসের কারাদন্ড

কানাইঘাটে ইভটিজিং এর অভিযোগে এক যুবকের ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত গত বৃহস্পতিবার এ দন্ড দেন। স্থানীয় সূত্র জানায়,কানাইঘাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর জনৈক ছাত্রী প্রতিদিনের মত গত বৃহস্পতিবার কোচিং ক্লাস শেষে সকাল ১০টায় বাড়ী ফিরছিল। কানাইঘাট থানা কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত স্কলার’স মডেল স্কুলের সামনে আসা মাত্র আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা নন্দিরাই গ্রামের মৃত মুহিবুর রহমান (দুরমুজ) এর ছেলে আবুল কালাম (২২) ঐ ছাত্রীর পিছু নেয়। সে তাকে দেখে অশ্লীল ভাষায় কথা বার্তা বলে এবং ওই ছাত্রীর গতিরোধ করে। এ সময় ছাত্রীর সুর-চিৎকারে আশপাশের দোকান থেকে লোকজন এসে উদ্ধার করে অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেয়। পরে ঐ ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কানাইঘাট থানায় কালামকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং-(১৭)/ ২৩/০২/১২)। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার থানার এসআই এনাম উদ্দিন আহমেদ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বখাটে কালামকে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম. সোহরাব হোসেনের বাসভবনে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ১১টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ধৃত কালামকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। গতকাল শুক্রবার কালামকে থানা পুলিশের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে কানাইঘাটের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার আত্মহত্যা

Kanaighat News on Friday, February 24, 2012 | 11:52 PM

কানাইঘাট উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুল বাছিত (৩৫) গত বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় সিলেট রেলওয়ে ষ্টেশনের অদূরে চট্টগ্রাম থেকে সিলেট অভিমুখী চলন্ত সুরমা মেইলের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৯টায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল বাছিত তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, মোটর সাইকেলের চাবি নিজ অফিসের টেবিলে রেখে কাউকে কিছু না বলে বাহিরে চলে যান। সারাদিন অপেক্ষার পর ফিরে না আসায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজে তাকে না পেয়ে তার পরিবারকে নিখোঁজের বিষয়টি অবগত করে পরদিন বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানায় একটি জিডি করেন। এদিকে বৃহস্পতিবার আব্দুল বাছিতের আত্মীয়-স্বজন পত্রিকা পড়ে জানতে পারেন যে, একজন অজ্ঞাত নামা ব্যক্তি বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় সিলেট রেলওয়ে ষ্টেশনের আউটার সিগনালে সুরমা মেইলের নিচে কাঁটা পড়ে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন। নিহতের কোন পরিচয় না পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ বেওয়ারীশ লাশ হিসেবে ময়না তদন্ত শেষে দাফন করেছে এর সূত্র ধরে নিহতের আত্মীয়স্বজনরা গতকাল রেলওয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের তোলা ছবি ও সার্ট-প্যান্ট দেখে আব্দুল বাছিতের লাশ সনাক্ত করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আত্মীয় স্বজনরা লাশটি পুনরায় কবর থেকে উত্তোলন করে তার গ্রামের বাড়ী বিয়ানীবাজার উপজেলার বড়দেশ গ্রামে নিয়ে দাফন করার আইনি প্রক্রিয়া করছেন। নিহত সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুল বাছিত প্রায় ৪বছর থেকে কানাইঘাটে কর্মরত ছিলেন। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নিহত আব্দুল বাছিতকে প্রায়ই বিষন্ন মনে হত এবং তার কতাবার্তা ছিল অগোছালো। আবার বেশ কয়েকজন শিক্ষকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আব্দুল বাছিত বসর খানিক থেকে মানষিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই মাসের একটি কন্যা সন্তান রেখে গেছেন বলে জানা যায়।

কানাইঘাটে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত

কানাইঘাট সড়কের বাজার আহমদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সমি কর্তৃক মাদ্রাসার ওয়াকফ এস্টেটের দেড়কোটি টাকা আত্মসাতের আংশিক অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এমপিভুক্ত মাদ্রাসার প্রধান হিসেবে সরকারীভাবে শতভাগ বেতন গ্রহণ করা স্বত্বেও মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তির অর্থ থেকে নিয়ম বর্হিভূতভাবে অধ্যক্ষ আব্দুস সমি প্রতিমাসে ২১হাজার ৫৬৫টাকা উত্তোলন এবং মাদ্রাসার ওয়াকফ এস্টেটের মালিকানাধীন সড়কের বাজার একসনা নিলাম বাবদ সহ দোকান-পাট ভাড়া, লীজ, অগ্রিম অর্থ গ্রহণ ও বরাদ্দের নামে অনিয়মের মাধ্যমে ৪৯লক্ষ ৪৬হাজার ৯৪৮ টাকা বিধি বহির্ভূতভাবে উত্তোলন করে আত্মসাত করিয়াছেন বলে তদন্ত রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে গত ১৩/১২ ২০১১ইং তারিখে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি ওলিউর রহমান ও এলাকাবাসীর পক্ষে নিজাম উদ্দিনসহ আরো অনেকে ০৬/০২/১২ইং তারিখে বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সমির বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তির অর্থ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রতিমাসে ২১হাজার টাকা করে বেতন ভাতা উত্তোলন এবং সড়কের বাজারের নিলামের টাকা আত্মসাৎসহ আংশিক দূর্নীতির অভিযোগ এনে পৃথক দু’টি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.সোহরাব হোসেন অভিযোগ দু’টির তদন্তের জন্য উপজেলা একাউন্টস অফিসার এ কে এম ওহিদুজ্জামানকে তদন্তের নির্দেশ দেন। একাউন্টস অফিসার সরেজমিনে সড়কের বাজার মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে মাদ্রাসার বেতন ভাতা ও হিসাবের খাতা পত্র এবং ব্যাংক একাউন্ট খতিয়ে দেখে ব্যাপক গরমিল দেখতে পান। পরে তিনি মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তির ২০০৮ হইতে ২০১১ ইং পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব এক নজরে খতিয়ে দেখে অধ্যক্ষ আব্দুস সমি কর্তৃক দূর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে মাদ্রাসার ৪৯লক্ষ ৪৬হাজার ৯৪৮টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করিয়াছেন উল্লেখ করে গত ১৩ ফেব্র“য়ারী নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্বপত্তির দেড়কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত আব্দুস সমির বিরুদ্দে বর্তমানে অতিরিক্ত একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্তের কাজ চলছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুদক বরাবরে অভিযোগ দিয়েছেন।

বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের খালপারবাসী

Kanaighat News on Thursday, February 23, 2012 | 11:20 PM

কানাইঘাট উপজেলার ৯ নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের খালপারবাসী এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পর হলেও বিদ্যুৎ পেয়ে উল্লাসিত খালপার গ্রামের মানুষ। গ্রামে বিদ্যুতায়ন উপলক্ষে গত সোমবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিলেট পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২। কানাইঘাট উপজেলা ডাইরেক্টর মো: ইমাম উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি ২এর বোর্ড সভাপতি মো: মুহিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সমিতির জেনারেল ম্যানেজার উমর আলী, সদর উপজেলা ডাইরেক্টর বদরুজ্জামান এনাম, কানাইঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম তাজুল ইসলাম, এজিএম এমএম হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমিতির বোর্ড সভাপতি মো: মুহিবুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এদেশের গ্রামীন জনগোষ্ঠির সদস্যা সমাধানে আন্তরিক। আমাদের প্রত্যেকের উচিত সরকারকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা।

কানাইঘাট দারুল উলূম মাদ্রাসার বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলন সম্পন্ন

ভারতের শাহী মুরাদাবাদের প্রধান মুফতি ও মহা-পরিচালক আওলাদে রাসূল (সাঃ) আল্লামা সায়্যিদ সালমান মনসুরপুরী বলেছেন, দেওবন্দী আলেম-উলামা বেঁচে থাকতে ব্রাহ্মণবাদী নীল নকশা বাস্তবায়ন হতে দেবে না। মুসলমানরা আজ ইহুদী-খৃষ্টানদের হাতে নির্যাতিত ও নিষ্পেতিত হওয়ার একমাত্র কারণই হচ্ছে মুসলিম জাতি কুরআন-হাদীসের আদর্শ থেকে দূরে সরে গিয়ে নাসারাদের আদর্শ অনুসরন করছে। এ থেকে মুক্তি পেতে মুসলমানদের কুরআনের আদর্শকে অনুসরন করে সঠিক দিন ও ইসলামের পথ অনুসরন করে চলতে হবে এবং দ্বীন ইসলামকে জাগ্রত করতে দেওবন্দের পথ প্রদর্শনের মাধ্যমে কৌমি মাদ্রাসার খেদমতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। আল্লামা মনসুরপুরী গত বুধবার কানাইঘাট জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম দারুল হাদীস মাদ্রাসার বার্ষিক ইসলামি মহাসম্মেলনে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। বৃহত্তর সিলেটের সর্ব বৃহৎ এ ইসলামী মহা-সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মুহতামিম শায়খুল হাদীস আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইদ্রীস লীপুরী। এ ধর্মীয় মাহফিলে ইসলামী নেতৃবৃন্দের মধ্যে বয়ান পেশ করেন, বিশিষ্ট কলামিষ্ট আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ ঢাকা, মাওঃ ফরিদ উদ্দীন ফেনী, মাওঃ ইয়াহিয়া মাহমুদ ঢাকা, মাওঃ আলিমুদ্দীন দূর্লভপুরী, মাওঃ মুফতি নুরুল হক, মাওঃ শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী, মাওঃ মাহমুদুল হাসান রায়গড়ী, মাওঃ নূরুল ইসলাম এল.এল.বি, মাওঃ মস্তাক আহমদ খান, মাওঃ মখলিছুর রহমান, মাওঃ নজরুল ইসলাম, মাওঃ শিহাব উদ্দিন, মাওঃ শফিকুর রহমান। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল কাহির চৌধুরী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, আ’লীগ নেতা ও পৌর মেয়র লুৎফুর রহমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক এম.এ.হান্নান, বিএনপি নেতা জসীম উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.সোহরাব হোসেন, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল হোসেইন প্রমুখ। মাদ্রাসার সহকারী শিক মাওঃ কারী হারুনূর রশিদ চতুলী’র উপস্থাপনায় দিনরাত ব্যাপী এ ইসলামী সম্মেলনে বৃহত্তর সিলেটের হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহন করেন।

কানাইঘাটে সাংবাদিক দম্পতি খুনীদের গ্রেফতারের দাবীতে প্রতিবাদ সভা

মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও এটিএন বাংলার সিনিয়র স্টাফরিপোর্টার সাগর-রুনি দম্পতি ঘাতকদের চিহ্নিত করে সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবীতে দেশব্যাপী সাংবাদিকদের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গত বুধবার বিকেল ৩টায় কানাইঘাট প্রেসকাবের উদ্যেগে ক্লাব মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়। প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম.এ.হান্নানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এখলাছুর রহমানের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি বাবুল আহমদ,অফিস সম্পাদক নিজাম উদ্দিন,ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন,সদস্য মাহবুবুর রশিদ,সাংবাদিক কাওছার আহমদ,আব্দুন নূর,বদরুল ইসলাম,মাহবুবুল আলম বাবুল ও জয়নাল আবেদীন প্রমূখ। সভায় বক্তারা বলেন নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের শিকার সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকান্ডের ১২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও খুনীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে ব্যার্থ হওয়ায় দেশবাসী ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে সাংবাদিকদের নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয়। এদিকে ফটো সাংবাদিক সি.এম মারুফের অকাল মৃত্যুতে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে মরহুমের আন্তার মাগফেরাত কামনা করেন।

কানাইঘাটে আসামি ধরতে গিয়ে জকিগঞ্জ থানার ওসি অবরুদ্ধ

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে জকিগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ কানাইঘাট বাজার থেকে গরু চুরি মামলার এফআইআরভুক্ত এক আসামীকে গ্রেফতার করতে এসে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির জেরধরে ২ঘন্টা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে জনতা। এক পর্যায়ে কানাইঘাট থানার ওসি রফিকুল হোসেন ও ওসি (তদন্ত) রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লোকজনকে শান্তনা প্রদান করে জকিগঞ্জ থানার ওসি ও তার সাথে আসা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। উত্তেজিত লোকজন এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত গরু চোর কানাইঘাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন কে হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে অন্যত্র লোকিয়ে রাখে। তবে পরে জনতার সহযোগীতায় কানাইঘাট থানা পুলিশ হাতকড়াসহ গরুচোর ইসলাম উদ্দিনকে ২ঘন্টা পর পূণরায় ধরে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত অনুমানিক ১টায় জকিগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কানাইঘাট বাজারের শাহজালাল রেষ্টুরেন্ট থেকে জকিগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত একটি গরু চুরি মামলার আসামী কসাই ইসলাম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলার সময় হোটেলে বসা লোকজন পুলিশের পরিচয় ও ইসলাম উদ্দিন কে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে জানতে চাইলে গরু চুরি মামলার বাদী বাদল কানাইঘাটের লোকজনকে নিয়ে কুটুক্তি করলে তাকে উপস্থিত লোকজন মারধর করেন এবং গ্রেফতাকরকৃত ইসলাম উদ্দিনকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। এ সময় পুলিশের সাথে উপস্থিত লোকজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে কানাইঘাট থানার ওসি রফিকুল হোসেইন ও ওসি তদন্ত রুহুল আমিন বাজারে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে ঘটনার মূল থেকে উপস্থিত আ’লীগ নেতা জামাল উদ্দিন ও থানা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল ইসলাম হারুনের উপস্থিতিতে ওসি রফিকুল হোসেন উত্তেজিত জনতার উদ্দ্যেশে বক্তব্য রাখেন। পরে কটূক্তিমলক আচরণের জন্য গরু চুরি মামালার বাদী বাদল উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চাইলৈ অবরুদ্ধ জকিগঞ্জ থনার ওসি সহ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে কানাইঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ভোর রাতে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত ইসলাম উদ্দিনকে কানাইঘাট থানা থেকে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার ওসি (তদন্ত) রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জকিগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত একটি গরুচোরী মামলার এফআইআর ভুক্ত আসামী কানাইঘাট বাজারের পেশাদার কসাই ইসলাম উদ্দিনকে জকিগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ কানাইঘাট বাজার থেকে রাত ১টার পরে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় মামলার বাদী বাদল স্থানীয় উপস্থিত লোকজনের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণের জের ধরে এবং গ্রেফতারকৃত আসামীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে উপস্থিত জনতার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে আমি এবং ওসি স্যার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি ও আসামীকে পূনরায় গ্রেফতার করে জকিগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেই। জকিগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি গরুচুরি মামলার আসামীকে কানাইঘাট বাজার থেকে গ্রেফতার করে ফেরার পথে কিছু সংখ্যক দুস্ককৃতিকারী উপস্থিত লোকজনকে ভুল বুঝিয়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত গরু চোর ইসলাম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে জকিগঞ্জ থানার নিরীহ লোকজনদের গরু চুরি করে কানাইঘাটে এনে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় আরো দুটি গরুচুরির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উল্লেখ্যযে, গ্রেফতারকৃত ইসলাম উদ্দিনের বাড়ী কানাইঘাট পৌরসভার দূর্লভপুর গ্রামে। সে কানাইঘাট বাজারের একজন মাংস ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে চোরাই গরু জবাই করে বিক্রির ঘটনায় কানাইঘাট থানায় দু’টি মামলা রয়েছে বলে জানাগেছে।

কানাইঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

Kanaighat News on Wednesday, February 22, 2012 | 12:01 AM

মহান একুশে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস কানাইঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে । উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে পুর্ষ্পাপণ, র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । একুশের প্রথম প্রহরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আ’লীগ ও কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। অমর একুশে ফেব্রয়ারী ষাট বছরে পদার্পন উপলক্ষে শহীদ মিনার চত্ত্বরে কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এক আলোচনা সভায় মিলিত হয় । শোকাবহ, গৌরবোজ্জ্বল একুশের ইতিহাস নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুল আলম, শিক্ষক ফয়ছল উদ্দিন, ওলিউর রহমান ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বদরুল ইসলাম প্রমুখ।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারী আজ

Kanaighat News on Tuesday, February 21, 2012 | 2:01 PM

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। আমাদের জাতিসত্তা বিকাশের দিন। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মারক মহান শহীদ দিবস। একই সঙ্গে দিনটি আজ সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও পালিত হবে। দিনটি বাঙালির ভাষা আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অনন্য গৌরবের দিন। স্বজন হারানোর বেদনাদীর্ণ শোকের দিন। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয়ার প্রথম নজির। কালক্রমে সেই শোকের দিন উত্তীর্ণ হয়েছে বাঙালির জাগরণের মহাশক্তির প্রতীক হিসেবে।১৯৪৮ সালে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবির মধ্য দিয়ে যে সংগ্রামের শুরু, বায়ান্নতে সেই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি রক্তের আখরে। ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঢাকার রাজপথে প্রাণ উৎসর্গ করেন সালাম, জব্বার, রফিক, সফিউদ্দিন, বরকতসহ বাংলার বীর তরুণরা। সেই থেকে দিনটি মহান শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।সোমবার মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সারি দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, সবাই ফুল নিয়ে অপেক্ষায় ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে প্রথমে ফুল দেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। কয়েক মিনিট পর ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এরপর রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ছেড়ে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রি পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী।সংসদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করেন ১২টা ২১ মিনিটে। এর পরপর তিনি দলের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান তিন বাহিনীর প্রধান, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তাদের শ্রদ্ধা জানানোর পর শুরু হয় রাজনৈতিক দলগুলোসহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের এই পালা চলবে মঙ্গলবার সকালে নামবে মানুষের ঢল। সবার কণ্ঠে থাকবে অমর সেই গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…’।

কানাইঘাটে প্রেমিক জুটি আটক

Kanaighat News on Saturday, February 18, 2012 | 8:35 PM

কানাইঘাট থানা পুলিশ গোয়াইনঘাট উপজেলার হাতিরপাড়া থেকে কানাইঘাট থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক জুটিকে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় আজ সকাল ৭টায় আটক করেছে। জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলার ৭নং দণি বাণীগ্রাম ইউপির দলইকান্দি গ্রামের মৃত তবারক আলীর পুত্র দুবাই ফেরত প্রবাসী জাহিদুল আলম (২৫) এর সাথে তিন মাস পূর্বে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের নারাইনপুর গ্রামের বদরুল আলমের মেয়ে লুবনা বেগম (১৮) এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমিক জাহিদুল পারিবারিক ভাবে প্রেমিকা লুবনাকে বিয়ে করার জন্য তার পিত্রালয়ে প্রস্তাব পাঠালে তারা প্রত্যাখান করে সম্প্রতি লুবনাকে বাণীগ্রামের আব্দুল লতিফের পুত্র হুমায়ুনের সাথে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লুবনা অন্যত্র বিয়ে মেনে না নিয়ে গত ১১ ফেব্র“য়ারী বাড়ী থেকে পালিয়ে প্রেমিক জাহিদুলের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে স্থানীয় লোকজনের পরামর্শে দুবাই ফেরত প্রবাসী জাহিদুল লুবনাকে ১২ ফেব্র“য়ারী নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে দুই ল টাকা মোহরানা ধার্য্য করে কোর্ট ম্যারেজ হয়। অপর দিকে লুবনা পিতা বদরুল আলম তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে প্রেমিক জাহিদুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলে জাহিদুল প্রেমিকা লুবনাকে নিয়ে তার মামার বাড়ী গোয়াইনঘাট উপজেলার হাতির পাড়ায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে গত শুক্রবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে কানাইঘাট থানার এসআই শফিক খান গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় প্রেমিক জুটিকে আটক করে থানা নিয়ে আসেন। থানার হাজতে আটক জাহিদুল স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়, সে চার মাস পূর্বে ছুটি নিয়ে দুবাই থেকে দেশে ফেরে। লুবনার পিতার সাথে সম্পর্কের জের ধরে লুবনার সাথে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে লুবনা তাকে প্রেম নিবেদন করলে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা একে অন্যকে ভালবেসে কোর্ট ম্যারেজ করে বিয়ে করেছে বলে জানায়। অপর দিকে প্রেমিকা লুবনা সাথে কথা বলতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল হোসাইন আইনী বাধার অজুহাত দেখিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে দেননি। তিনি আরো বলেন, পিতার অপহরণ মামলার প্রেক্ষিতে জাহিদুলকে আটক ও লুবনাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

গাছবাড়ী-হরিপুর সড়কের অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নের দাবীতে মানব বন্ধন

কানাইঘাট গাছবাড়ী-হরিপুর রাস্তার অসমাপ্ত ৭ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ব্রীজসহ পাকাকরণের দাবীতে আজ শনিবার সকাল ১১টায় কানাইঘাট-হরিপুর রাস্তা বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে রাস্তার জংলা নামকস্থানে ৩ কিলোমিটার ব্যাপী দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। মানববন্ধন চলাকালে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীসহ হাজারো মানুষ অংশ গ্রহণ করে গাছবাড়ী এলাকাসহ পূর্ব সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী গাছবাড়ী-হরিপুর রাস্তার বাইপাস সড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবী জানান। মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মজুমদার স্থানীয় জনগণের কাছে ওয়াদা করেছিলেন তিনি যদি নির্বাচনে বিজয়ী হন তাহলে সবার আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ গাছবাড়ী-হরিপুর রাস্তার অসমাপ্ত কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন। তার এরূপ আশ্বাসে স্থানীয় জনসাধারণ তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করলেও সরকারের তিন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর আজও রাস্তার অসামাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন করা হয়নি। আগামী একমাসের মধ্যে রাস্তার কাজ শুরু না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচিসহ বৃহত্তর আন্দোলন সংগ্রামের ডাক দেওয়া হবে বলে রাস্তা বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ৩ ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন গাছবাড়ী-হরিপুর রাস্তা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলে হক, আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সমাজসেবী ওলিউর রহমান, ইউপি সদস্য মর্তুজ আলী, আলহাজ্ব বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন, জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, কৃষক লীগের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন, ছাত্রনেতা হামজা হেলাল প্রমুখ। উল্লেখ্য যে, গাছবাড়ী-হরিপুর রাস্তার জৈন্তাপুর উপজেলার অংশের কাজ বহু আগে সম্পন্ন করা হলেও কানাইঘাট অংশের অবশিষ্ট ৭ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় এ রাস্তা দিয়ে সিলেট শহরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন হলে অল্প সময়ে কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানিবাজার ও গোলাপগঞ্জের ১০ লাধিক জনসাধারণের যাতায়াত ক্ষেত্রে সময়ের পাশাপাশি আর্থিক সাশ্রয় হবে।

কানাইঘাটে জামায়াত নেতা ছমিরের গ্রেফতার দাবি

কানাইঘাট সড়কেরবাজার আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা আবদুছ ছমির গ্রেফতার ও অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসী মিছিল-সমাবেশ করছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আবদুছ ছমি অধ্যক্ষ পদে যোগদানের পর থেকে মাদ্রাসার বিভিন্ন ফান্ডের কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে শনিবার সড়কেরবাজার মাদ্রাসা সংলগ্ন মাঠে অধ্যক্ষ ছমির অপসারণের দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছমি পরদিন সকালে মাদ্রাসার ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে পাল্টা মিছিল-সমাবেশ করার উদ্যোগ নিলে এলাকাবাসী প্রতিরোধ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বাজারের দোকানপাট ভাংচুর ও সাধারণ মানুষকে মারধর করে। এ ঘটনায় স্থানীয় শাহপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে অধ্যক্ষ ছমিকে প্রধান আসামি করে মাদ্রাসার ৩৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ জনের বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় মামলা করেন। এতে ছমির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মাদ্রাসা খোলা থাকলেও ক্লাস না হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কানাইঘাট থানার ওসি রফিকুল হোসাইন বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে কানাইঘাটে মানববন্ধন

Kanaighat News on Friday, February 17, 2012 | 11:18 PM

মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার সহধর্মীনি এটিএন বাংলার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মেহরুন রুনীর নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসি এবং দেশের সকল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবীতে আজ বিকেল ৪টায় কানাইঘাট প্রেসকাবের উদ্যোগে পৌর শহরের ত্রিমোহনীতে ২ঘন্টা ব্যাপী এক বিশাল মানব বন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচীতে স্বতসফুর্তভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পেশার কয়েকশত মানুষ অংশগ্রহন করে নৃশংস এ হত্যাকান্ডের শিকার সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকারীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং খুনীদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সরকারের কাছে, জোর দাবী জানান। কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ.হান্নানের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনের যৌথ উপস্থাপনায় মানববন্ধন কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, পৌর মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, পৌর বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সিলেট জেলার আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মামুন রশিদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এ.কে.এম ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা পৌর কাউন্সিলর শরিফুল হক, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডাঃ হোসেন আহমদ, সাধারন সম্পাদক প্রভাষক আহমদ হোসেন, জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক বাবুল আহমদ, আ’লীগ নেতা নজির উদ্দিন প্রধান, রিংকু চক্রবর্তী, কাউন্সিলর তাজ উদ্দিন, হাবিব আহমদ, উপজেলা জমিয়তে উলামা ইসলামের সভাপতি মাওঃ ফজলুর রহমান, খেলাফত মজলিশের সাধারন সম্পাদক মাওঃ নজরুল ইসলাম, কানাইঘাট বাউল বহুমূখী সমাবায় সমিতির সভাপতি দেওয়ান কালা মিয়া, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি বাবুল আহমদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এখলাছুর রহমান, সদস্য মাহবুবুর রশিদ, সাংবাদিক কাওছার আহমদ, আব্দুন নুর, আলিম উদ্দিন, কানাইঘাট পৌরসভার কাজী হেলাল আহমদ, ব্যবসায়ী আলী আহমদ, তাজুল ইসলাম, এখলাছুর রহমান, ইব্রাহীম আলী, থানা ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি রাশিদুল হাসান টিটু, ছাত্র শিবিরের সভাপতি সেলিম উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক রশিদ আহমদ, সমাজকর্মী কামাল উদ্দিন, যুবদল নেতা রফিক আহমদ, ছাত্রদলনেতা আলমগীর হোসেন, নজরুল ইসলাম, মাষ্টার বশির আহমদ প্রমুখ। পরে সাংবাদিক দম্পতির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন কানাইঘাট বাজার জামে মসজিদের পেশ ঈমাম মাওঃ আলিম উদ্দিন।

যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে খেলাধূলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের বিকল্প নেই..............পুলিশ সুপার

Kanaighat News on Thursday, February 16, 2012 | 10:48 PM

সিলেটের পুলিশ সুপার এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, তরুণ ও যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে খেলাধূলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের বিকল্প নেই। গ্রাম পর্যায়ে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধূলা সুষ্টুভাবে পরিচালনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, কানাইঘাটের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষে এখানে একটি স্টেডিয়াম ও আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতির লক্ষে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনে সরকারের পক্ষ থেকে শীগ্রই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পুলিশ সুপার আজ বৃহস্পতিবার(১৬ফেব্র“য়ারী) বিকেল ৩টায় কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন মাঠে ঐতিহ্যবাহী কানাইঘাট আজাদ ইলেভেন স্পোটিং কাবের উদ্যোগে আয়োজিত ৪র্থ আজাদ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। আজাদ ইলেভেন স্পোটিং কাবের প্রধান উপদেষ্টা কানাইঘাট সদর ইউপি’র চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম হারুনের পরিচালনায় উক্ত উদ্বোধনী খেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.সোহরাব হোসেন, কানাইঘাট পৌরসভার মেয়র লুৎফুর রহমান, কানাইঘাট ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ পলাশ, কানাইঘাট প্রেসকাবের সভাপতি এম.এ.হান্নান, কানাইঘাটর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল হোসেন। খেলা পরিচালনা কমিটির সকল নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী খেলায় কানাইঘাট বহুমুখী স্পোটিং কাব-বিয়ানীবাজার ইলেভেন ব্রাদার্সকে ১-০ গোলে পরাজিত করে।

কানাইঘাটে ফ্রেস সোস্যাল ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নব-নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা প্রদান

ফ্রেস সোস্যাল ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নব-নির্বাচিত নির্বাহী পর্ষদের নেতৃবৃন্দের সংবর্ধনা উপলক্ষে গত মঙ্গলবার(১৪ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৩টায় কানাইঘাট ইউনিক কমিউনিটি সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফ্রেস সোস্যাল ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, আল্লামা মুশাহিদ জোন কানাইঘাটের উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী। কোম্পানীর আল্লামা মুশাহিদ জোনের সভাপতি মাওঃ আলীমুদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং ফ্রেসের ফিল্ড অফিসার আবুল কালাম আজাদের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট পৌরসভার মেয়র লুৎফুর রহমান, ৬নং সদর ইউপি’র চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, সাঁতবাক ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার ফয়জুল ইসলাম, ৯নং রাজাগঞ্জ ইউপি’র চেয়ারম্যান ডাঃ মানিক মিয়া, সিলেট ঈমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর উপ-পরিচালক মাওঃ শাহ্ নজরুল ইসলাম। ফ্রেসের ফিল্ড অফিসার হাফিজ নজির আহমদের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিলেট বেতারের সংবাদ উপস্থাপক ও কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ফয়সল উদ্দিন। অনুষ্ঠান শেষে ফ্রেস সোস্যাল ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নব-নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির সংবর্ধিত অতিথি চেয়ারম্যান শাহ্ মাহবুবুর রশিদ, ভাইস চেয়ারম্যান মুখতার হুসাইন, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফারুক আহমদ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহ্ মাশুুকুর রশিদ, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর শরীফ খালিদ সাইফুল্লাহ, প্রজেক্ট ডিরেক্টর জুনেদ আহমদ, কমিউনিকেশন ডিরেক্টর সিরাজুল ইসলাম, এডমিন ডিরেক্টর আমিরুল হক, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স ডিরেক্টর মোঃ রুহুল আমীন নগরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সম্মাননা স্বরূপ কোম্পানীর মুশাহিদ জোনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। কোম্পানীর সম্মানিত কার্যনির্বাহী পর্ষদের সকল সদস্য,শেয়ার হোল্ডার এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফ্রেস কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনোনীত হওয়ায় ফারুক আহমদকে কানাইঘাট স্বদেশ ট্রেডিং কোম্পানীর চেয়ারম্যান আলী আকবর, আল-মারজু কোম্পানীর পে এবাদুর রহমান, ওয়েসিস কোম্পানীর পে হাফিজ নজরুল ইসলাম, নিউ সিটির পক্ষে জসিম উদ্দিন রেজাউল করিম রানা, মাওঃ আলীমুদ্দিন ও পারভেজ মোশারফ প্রমুখের পক্ষে থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

জেদ্দা মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদককে বিমান বন্দরে সংবর্ধনা

সৌদি আরব জেদ্দা মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেদ্দা মহানগর মুসনা বাজার আঞ্চলিক শাখা শ্রমিক দলের সভাপতি সেখানকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওয়েস আহমদ এক সংপ্তি সফরে গত সোমবার(১৩ ফেব্র“য়ারী) স্বপরিবারে দেশে ফিরেছেন। বিকেল ৪টার ফাইটে তিনি সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরে অবতরণ করলে তাকে ফুলের তুড়া দিয়ে বিমান বন্দরের স্বাগত জানান কানাইঘাট উপজেলা শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রবাসী বিএনপি নেতা ওয়েছ আহমদ বলেন, দেশ আজ ক্রান্তি কাল অতিক্রম করেছে। সরকার দমন নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাধ্যমে বিএনপি’কে নিশ্চিন্ন করার জন্য প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে। সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্র নীতির ফলে সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যে বাংলাদেশীরা কষ্টের মধ্যে দিন জাপন করছেন। কিন্তু সরকারের কোন মাথাব্যাথা নেই। এ থেকে দেশকে রা করার জন্য আগামী দিনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকল বেদাবেদ ভূলে গিয়ে রাজপথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এসময় বিমান বন্দরে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট থানা ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি রাশিদুল হাসান টিটু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম শাহীন, যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন, মহানগর ছাত্রদল নেতা সালেহ চৌধুরী, ছাত্রদলনেতা মোঃ কিবরীয়া প্রমুখ।

কানাইঘাটে সংঘর্ষের ঘটনায় অধ্যক্ষ সহ ৩৫জনের বিরুদ্ধে মামলা

Kanaighat News on Tuesday, February 14, 2012 | 9:58 PM

কানাইঘাট সড়কের বাজারে মাদ্রাসার ছাত্র ও এলাকাবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সমিসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে জানা যায়, অধ্যক্ষ সমি নিজের অপরাধ কর্মকান্ড ঢাকার জন্য ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে গত রোববার সকাল ১১টায় একটি ঝাড়ু– মিছিল বের করান। এসময় স্থানীয় সড়কের বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মিছিলটি পন্ড করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা পাল্টা হামলা ও বাজারের দোকান-পাট ভাংচুর করে। এতে উভয় পরে ২০/২৫জন আহত হন এবং বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রচুর ক্ষতি সাধিত হয়। এ ঘটনায় শাহ্পুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সমি সহ ৩৫জন এবং আরো ১৫০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে কানাইঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা (নং- ৯) ১২-০২-০১২। মামলার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে আরো ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন সময় আবারো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকাবাসী আশংঙ্কা প্রকাশ করছেন। এব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুর রহমান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়েছে। তবে দায়েরকৃত মামলা তদন্ত চলছে।

কানাইঘাটে মাদ্রাসা ছাত্র ও এলাকাবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ॥ আহত ২৫

কানাইঘাট সড়কের বাজার আহমদিয়া আলিম মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আব্দুস সমি কর্তৃক মাদ্রাসার ওয়াকফ্ এস্টেট ও বিভিন্ন ফান্ডের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোব্ধ হয়ে উঠেছেনু এলাকাবাসী। আব্দুস সমির অনিয়ম দূর্নীতি দামাচাপা দিতে গতকাল মাদ্রাসার ছাত্ররা তার পক্ষ নিয়ে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে সড়কের বাজারে ঝাড়– মিছিল কে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার ছাত্রদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২৫জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম সোহরাব হোসেন ও কানাইঘাট থানার ওসি রফিকুল হোসেইন অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। সংঘর্ষ এড়াতে সড়কের বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শত শত লোকজন মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সমির অবিলম্বে অপসারাণ দাবী করে তার কুশপুত্তলিকা দাহ এবং তাকে সড়কের বাজারে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেন। স্থানীয় লোকজনদের কাছ থেকে জানা যায়, সড়কের বাজার মাদ্রাসার ওয়াকফ্ এস্টেটের সম্পত্তির লক্ষ লক্ষ টাকা আব্দুস সমি কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সম্প্রতি তিনি বেপরোয়াভাবে অনিয়ম দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তার সাথে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি ও এলাকাবাসীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি ব্যাংক কর্মকর্তা ওলিউর রহমান সমির বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানাইঘাট সমির বিরুদ্ধে আনিত দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেন। গত শনিবার আব্দুস সমি কর্তৃক মাদরাসার ওয়াকফ এস্টেটের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসীকে অবহিত করার জন্য সড়কের বাজারে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুমিন চৌধুরীর মাদ্রাসার এডহক কমিটির নেতৃবৃন্দ এলাকার বিভিন্ন স্থরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সভায় আব্দুস সমিকে দূর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে মাদ্রাসা থেকে তার অপসারন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়ে বাজারে একটি মিছিল বের হয়। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন এর জের ধরে আব্দুস সমির নির্দেশে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় বহিরাগত বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র সহ সড়কের বাজার আলিম মাদ্রাসার ছাত্ররা মাদ্রাসা এডহক কমিটির সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও ইউপি চেয়াম্যান মুমিন চৌধুরীসহ আরো কয়েকজনের নাম উলে¬খ করে অশ¬ীল ¯ে¬াগান দিয়ে সড়কের বাজারে একটি ঝাড়– মিছিল বের করলে বিক্ষোব্ধ এলাকাবাসী ও সড়কের বাজারের ব্যবসায়ীরা মিছিলটি প্রতিরোধের চেষ্টা করলে মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ বেধে যায়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল উভয় পক্ষের ২৫জন আহত হয়। এসময় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ভয়ে ব্যবসায়ীরা দোকান পাট বন্ধ করে ফেলেন। সংঘর্ষের সময় প্রায় ঘন্টা খানেক জকিগঞ্জ-সিলেট রোডে সব ধরনের যানবাহান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সমি কে ধরার জন্য মাদ্রাসায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তিনি অবস্থা বেগতিক দেখে বোরকা পরে পালিয়ে যান বলে প্রত্যেক্ষদর্শী জানিয়েছেন। মাদ্রাসা ছাত্ররা কর্তৃক এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিলের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত লোকজন সড়কের বাজারে জড়ো হয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। খবর পেয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিক্ষোব্ধ লোকজন শান্ত হন। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্থানীয় লোকজনদের দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আব্দুস সমির বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিছিল মিটিংয়ে লেলিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আব্দুস সমির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান প্রশাসনের কাছে। আশিক চৌধুরী জানান, দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ আব্দুস সমি মাদ্রাসার বিভিন্ন ফান্ডের অর্থ আত্মসাত করেছে। এতে এলাকাবাসী তার অপসারনের জন্য যখন সোচ্চার ঠিক তখনই নিজেকে রক্ষার জন্য ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। এডহক কমিটির সভাপতি ওলিউর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ আব্দুস সমি মাদ্রাসার ৫০লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছে। যে কোন মূল্যে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসা ফান্ডের আত্মসাতকৃত টাকা উদ্ধার করা হবে। তার বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ যখনি উঠেছে তখন আব্দুস সমি আমাদের ছেলেদের এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে বার বার তার অসৎ উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু এবার এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে জেগে উঠেছেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে পার পাবেন না। অপরদিকে মাদ্রাসা সুপার আব্দুস সমি বলেন, মাদ্রাসার সব সম্পত্তি ও বেতন ভাতার হিসাব রেজুলেশনের মাধ্যমে সংশি¬ষ্ট সব কমিটিকে অবগত করা আছে এবং রেজুলেশন ও বেতন ভাতার বিলে এডহক কমিটির সভাপতি ওলিউর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রউফ এর স্বাক্ষর রয়েছে। সামাজিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.সোহরাব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্ত চলছে। গতকালকের সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত ঘটনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি কানাইঘাট থানার ওসি রফিকুল হোসেইনকে বলেছেন বলে জানান। এদিকে মাদ্রাসার এডহক কমিটির পক্ষ থেকে গতকালকের ঘটনায় আব্দুস সমি সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সব ধরনের অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে সড়কের বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয় পক্ষের আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান, কালাম আহম, জুবায়ের আহমদ, ছাবিলা বেগম, মাহবুবুর রহমান, নাজিম উদ্দিন, ইছহাক আহমদ, মাহফুজুর রহমান, ফরিদ উদ্দিন, হাবিবুর রহমান, আব্দুল করিম, কলিম উদ্দিন, স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে আহত হলেন, জয়নাল আবেদীন, রাসেল আহমদ, সুজন উদ্দিন, আব্দুল লতিফ, আজির উদ্দিন, মামুন আহমদ, আম্বিয়া, মাসুক উদ্দিন, আলী হোসেন কাজল, রুহিন চৌঃ, আব্দুস সবুর, কুতুব উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান।

আনন্দে ভাসছে কানাইঘাট:সুরমার সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন

Kanaighat News on Thursday, February 9, 2012 | 9:16 PM

নিজাম উদ্দিন/মাহবুবুর রশিদ/কাওছার আহমেদ:

আনন্দে ভাসছে কানাইঘাট ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর ১৫লক্ষাধিক মানুষ। শত বছরের স্বপ্ন কানাইঘাট সদরে সুরমা নদীর উপর নির্মিত জিয়াউর রহমান সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ায় নতুন করে সংযোগ স্থাপন হলো পার্শ্ববর্তী ৭ উপজেলাসহ সমগ্র দেশের সাথে। এখন শুধু উদ্বোধনটাই বাকি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতেই এই স্বপ্নের সেতুটি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছেন এলাকাবাসী। উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, সুরমা নদীর উপর ২৯৩.৯২ মিটার দীর্ঘ ও ৯মিটার প্রস্ত সেতু নির্মাণের জন্য ২০০৫ অর্থ বছরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে কাজের দায়িত্ব পায় তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের স্থানীয় সরকার ও পল¬ী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী আব্দুল মান্নানের আর্শীবাদপুষ্ঠ আব্দুল মোনায়েম কোম্পানী লিমিটেড। পল¬ী উন্নয়ন অবকাঠামো প্রকল্পের অধীনে সেতু নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৪কোটি ২৪লক্ষ ৭৯হাজার ৩শত ১৮টাকা ১৭ পয়সা। কাজের ভিত্তিপ্রস্তর করা হয় ২০০৫সালের ২০ ফেব্র“য়ারী এবং কাজ উদ্বোধন হয় ২০০৬ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর। উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরী। কাজ সম্পন্ন করার নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ২০০৯ সালের ৮ফেব্র“য়ারী কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি সম্পন্ন করতে না পারায় দু’দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতে এলাকায় নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। চলতি বছরের চলতি মাসেই সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলাবাসীর মুখে হাসি ফোটে। এ সেতুটি নির্মাণের ফলে কানাইঘাটের সাথে জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সহ সমগ্র দেশের সাথে মানুষের ব্যবসা-বানিজ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হবে তেমনি অর্থ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হবে। কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বৃহত্তর জৈন্তিয়ার শত বছরের দাবী পূরণ হয়েছে সুরমার উপর জিয়াউর রহমান সেতু সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে। কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় উত্তর-পূর্ব সিলেটের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি ঘটেছে এবং এই এলাকার জনসাধারন যথেষ্ট উপকৃত হবে। কানাইঘাট পৌরসভার মেয়র লুৎফুর রহমান তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, কানাইঘাটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সেতু নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসীর আশা পূরণ হলো।

অবশেষে জরিমানা ছাড়াই দাখিল পরীক্ষার্থীদের ১৮০ মোবাইলসেট ফেরত দিচ্ছেন কানাইঘাটের ইউএনও

Kanaighat News on Wednesday, February 8, 2012 | 7:57 AM

অবশেষে জরিমানা ছাড়াই পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জব্দকৃত মোবাইল সেটগুলো ফেরত দিতে সম্মত হয়েছেন কানাইঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সোহরাব হোসেন। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কিছুটা শান্ত হয়েছেন। গত সোমবার কানাইঘাট মনসুরিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিলের হাদীস শাস্ত্র বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের পূর্বে পরিদর্শকরা পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশী করে ১৮০ টি মোবাইল সেট উদ্ধার করে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে জমা রাখেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সোহরাব হোসেন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে মোবাইল সেটগুলো জব্দ করে তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং এক হাজার টাকা করে প্রতি মোবাইল সেটে জরিমানা দিতে বলেন। এসময় কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ আতাউর রহমান জরিমানা ছাড়া মোবাইল সেটগুলো পরীক্ষার্থীদের হাতে ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে ইউএনও এবিষয়ে কর্ণপাত না করে বলেন, অফিস কক্ষে মোবাইল সেটগুলো রাখাটা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। জরিমানা অবশ্যই দিতে হবে। এ ঘটনায় এলাকার সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ইউএনওর অনড় অবস্থানে এলাকায় অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। কেউ কেউ আন্দোলনেরও হুমকি দেন। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনওর টনক নড়ে। গতকাল তিনি কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ আতাউর রহমানকে তার কার্য্যালয়ে ডেকে নিয়ে জব্দকৃত মোবাইল সেটগুলো জরিমানা ছাড়াই আজ বুধবার ফেরত দেবেন বলে জানান। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সোহরাব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং ‘একটি মিটিংয়ে আছেন’ বলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন। তবে কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ আতাউর রহমান বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আজ সকাল ১০টায় মোবাইল সেটগুলো হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

মাতৃভাষা ব্যবহারে উদাসীনতা

Kanaighat News on Tuesday, February 7, 2012 | 6:57 PM

মাহবুবুর রশিদ:

প্রত্যেক জাতির একটা নিজ ভাষা থাকে। ছোট বেলায় শিশুরা মায়ের কাছ থেকে যে ভাষা বা বুলি শিখে সেটি তার মাতৃভাষা। আমাদের মাতৃভাষা হচ্ছে বাংলা। অন্যান্য ভাষার তুলনায় এ ভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য্য অনেক বেশী। কারণ বাংলা ভাষা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। যে ভাষা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী বাংলার মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২১ শে মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভার ভাষণে ঘোষনা করেন‘‘ উর্দূই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’’। জিন্নাহের এ ভাষণ মেনে নিতে পারেনি বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। তারা এর তীব্র প্রতিবাদ করে। ১৯৫২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ২১শে ফেব্রুয়ারী পূর্ব পাকিস্তানে হরতালের আহবান করে। হরতাল ব্যর্থ করতে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ দ্বারা ভঙ্গ করে রাজপথে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ বেপরোয়া গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে রফিক,সালাম,বরকত,জববার সহ আরোও অনেক শহীদ হন। সেসব শহীদের স্মরণ করতে প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাবগম্ভীর পরিবেশে সারা বিশ্বে ২১ শে ফেব্রুয়ারী বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। আমরা ও কাক ডাকা ভোর থেকে প্রভাতফেরিতে গিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্বাভরে স্মরণ করে গেয়ে থাকি--- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো ২১শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি কিন্তু শুধুই কি ২১শে ফেব্রুয়ারীর প্রভাতফেরীর মাধ্যমে সালাম,রফিক,বরকত,জববার তথা বাংলা ভাষাকে স্মরণ করার কাজ শেষ হবে? মাতৃভাষাকে বাংলা রাষ্ট্রভাষায় উন্নীত করা পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা ছিল । অথচ সেই ভাষার প্রতি আজ আমরা কতটুকু উদাসীন, কতটুকু শ্রদ্বাশীল? কেউ যদি প্রশ্ন করে আমাদের মাতৃভাষা কি? অবশ্যই বুক ফুলিয়ে,গর্ব করে বলব ‘‘বাংলা আমাদের মাতৃভাষা’’‘‘বাংলা আমাদের রাষ্ট্রভাষা’’। বিদেশী ভাষার প্রভাবে আমাদের মাতৃভাষা হুমকির মুখে আজ বিদেশী ভাষায় সয়লাব হয়ে গেছে পুরো বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষার সাথে বিদেশী ভাষার মিশ্রণ,বাংলা বানানে ভুল,ভাষার অবাধ ব্যবহারে কলুষিত হয়ে যাচ্ছে আমাদের মাতৃভাষা। বাংলা ভাষা ব্যবহারে আমরা কতটা উদাসীন তা একটু পরখ করলেই দেখা যায়,মুদির দোকান থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারী প্রতিষ্ঠানেও ঝোলানো হয় ইংরেজী অক্ষরে লেখা বড় বড় সাইনবোর্ড। বিজ্ঞাপন বোর্ড,বিল বোর্ড তো আছেই। বাংলা লেখা সাইনবোর্ড খুঁজে পাওয়া কঠিন,দু একটি থাকলে ও লেখায় বানানে ভুলের সংখ্যা বেশী। এ ব্যাপারে ষ্পষ্ট প্রতীয়মান হয় আমরা আমাদের মাতৃভাষা ব্যবহারে কত উদাসীন। ইংরেজী সাইনবোর্ডের পাশাপাশি আমরা কি বাংলা সাইনবোর্ড লিখতে পারিনা? মাতৃভাষাকে অবহেলা,অসম্মান মাতৃভূমিকে অবহেলা ও অসম্মানের শামিল। মাতৃভাষার সঠিক ও বহুল ব্যবহারের মাধ্যমে মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ দেখানো আমাদের প্রত্যেকেরই উঁচিত।

লেখক: সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী

কানাইঘাট দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে ১৮০টি মোবাইল সেট জব্দ

Kanaighat News on Monday, February 6, 2012 | 10:39 PM

কানাইঘাট দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র সচিবের কক্ষ থেকে ১৮০ টি মোবাইল সেট জব্দ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সোহরাব হোসেন। এ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, আজ সোমবার কানাইঘাট মনসুরিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিলের হাদীস বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পূর্বে কেন্দ্র পরিদর্শকরা পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশী করে ১৮০ টি মোবাইল সেট উদ্ধার করে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে জমা রাখেন। নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সোহরাব হোসেন গতকাল পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় কেন্দ্র সচিবের কক্ষে রাখা মোবাইল সেটগুলো তার নজরে পড়লে তিনি জব্দ করে তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং প্রতি মোবাইল সেটে ১হাজার টাকা করে জরিমানা দিয়ে ফেরত নেওয়ার জন্য কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ আতাউর রহমানকে বলেন। নতুবা যেসব পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করেছে তাদেরকে বহিস্কার করা হবে বলে নির্বাহী কর্মকর্তা কেন্দ্র সচিবকে জানান। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র সচিবসহ অন্যান্য শিক্ষকরা জব্দকৃত মোবাইল সেটগুলি জরিমানা ছাড়া পরীক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়ার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করলেও তিনি মোবাইল সেটগুলো ফেরত দেন নি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত— নীতিমালা ২০১২ সালের দাখিল পরীক্ষার জন্য নির্দেশিকার ৩২ অনুচ্ছেদের ১৯নং কলামে মোবাইলে sms এর মাধ্যমে কোন কিছু লেখা থাকলে তা পরীক্ষার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত হলে কর্তব্যরত কক্ষ প্রর্যবেক্ষক তার বিরুদ্বে শাস্তি—মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করার বিধান থাকলেও পরীক্ষা হলের বাহিরে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে বন্ধ করে রাখা পরীক্ষর্থীদের মোবাইল সেট জব্ধ বিষয়টি বিধি সম্মত হয়নি বলে কেন্দ্র সচিব আতাউর রহমান জানান। এব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম সোহরাব হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কেন্দ্রের ভিতরে পরীক্ষর্থীদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ প্রবেশ পত্রে এ সংক্রান্ত— নিয়মাবলী রয়েছে। তারপরও পরীক্ষর্থীরা কেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল সেট নিয়ে প্রবেশ করায় ১৮০টি মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছে। জরিমানা দিয়ে অবশ্যই সেটগুলো ফেরত নিতে হবে। এছাড়া নির্বাহী কর্মকর্তা গতকাল একই দিনে কানাইঘাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় এস.এস.সি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ৪টি এবং গত ২ ফেব্র“য়ারী ২৬টি মোবাইল সেট জব্দ করে পরে ফেরত দেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত— জরিমানা না দেওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মোবাইল সেটগুলো ফেরত দেন নি নির্বাহী কর্মকর্তা।

কানাইঘাট আইডিয়াল স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

কানাইঘাট আইডিয়াল স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে গত শনিবার(৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১২টায় স্কুল ক্যাম্পাসে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক মাহবুবুল আলম বাবুলের পরিচালনায় উক্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম সোহরাব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুল আলম মামুন, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল বাছিত, কানাইঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খোকন, স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ওলিউল্লাহ অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হাজী জসিম উদ্দিন, জাফর আহমদ, কুদরত উল্লাহ, হাজী জালাল আহমদ ও জসিম উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি বৃন্দ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

কানাইঘাটে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন

Kanaighat News on Sunday, February 5, 2012 | 9:20 PM

মাহবুবুর রশিদ/কাওছার আহমেদ:

প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকায় কানাইঘাট উপজেলা সুরমা নদীর চরে এ বছর শীতকালীন শাক-সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। কার্যত শীতকালে সুরমা নদীর পানি শুকিয়ে জেগে উঠে বিশাল চর । খননের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর চরে শাক-সবজি চাষ করে সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা । উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,সুরমা নদীর প্রায় ২৫ কিলোমিটার চরে ৩ হাজার ছয়শত হেক্টর জমিতে এ বছর শাক-সবজি চাষ হয়েছে । উপজেলার ১,২,৪,ও ৬ নং সদর ইউনিয়নে শাক-সবজি বেশি উৎপন্ন হয়। । ১ নং পূর্ব ও ২ নং পশ্চিম লীপ্রসাদ ইউনিয়নের লোভারমুখ,মেছারচর,আন্দুরমুখ,৪ নং সাতবাঁক ইউনিয়নের পাত্রমাটি,চরিপাড়া,ছাপনগর,বায়মপুর,মূলাগোল,৬ নং কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ডালাইচর,গোসাইনপুর,সুতারগ্রাম,সোনাপুরের চরে ও ৭ নং দণি বাণীগ্রাম ইউনিয়নের কায়স্তগ্রাম,বড়দেশ চরের গ্রামগুলোতে শীতকালীন সবজি উৎপন্ন হয়। এসব উৎপাদিত সবজিগুলোর মধ্যে রয়েছে মূলা,শিম,বাঁধাকপি,ওলকপি,টমেটো,লাইশাক,লাল শাক,শশা,ঝিংগা,লাউ,সরিষা,মরিচ,আলু,পিঁয়াজ,ফরাস,ইত্যাদি। সবজিগুলো উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ছাড়াও সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ,হবিগঞ্জ,মৌলভীবাজার,বিয়ানীবাজার,জকিগঞ্জ,কোম্পানীগঞ্জ,জৈন্তা,গোয়াইনঘাট,এলাকাসহ আরো কয়েকটি উপজেলায় বিক্রি করা হয়। কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে ব্যাস্ত। কেউ শাক-সবজিতে পানি দিচ্ছেন আবার কেউ বাজারে বিক্রির জন্য নৌকা,টেম্পুসহ বিভিন্ন যানবাহনে তুলছেন সবজিগুলো। এর মধ্যে কিছু কিছু সবজি সস্তা আবার কোন কোন সবজির দাম প্রচুর। যেমন বাজারে মূলা,লাইশাক,ধনেপাতা কিছুটা সস্তা হলেও ফুলকপি,ফরাস,ঝিংগার দাম এখনো প্রচূর। এখনো মাইলের পর মাইল জুড়ে শুধু সবজি আর সবজি। এদিকে কানাইঘাটে এখন পর্যন্ত কোন হিমাগার না থাকায় এসব সবজি কোথাও সংরণ করে রাখা যায়না। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ১০/১২ টাকার সবজি ৩/৪ টাকা দরে বিক্রি করেন। কানাইঘাটে হিমাগারে সংরণ করার ব্যবস্থা হলে প্রায় সারা বছর এই সবজি পাওয়া যাবে বলে কৃষকরা মনে করেন। উপজেলা কৃষি অফিসার ডঃ রতন চন্দ্র দে জানান, এ বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় সবজি চাষের ফলন বেশি হয়েছে এবং রোগবালাই কম হওয়ায় কৃষকেরা প্রত্যাশিত রবি শস্য বাজারজাত করতে পেরেছে।

কানাইঘাট বিএনপিতে ফের ভাঙ্গনের সুর

কাওছার আহমদঃ

সিলেট মহাসমাবেশকে ঘিরে কানাইঘাট বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের যে বন্ধন তৈরী হয়েছিল, ফের তা ভেঙ্গে গেছে। শহীদ জিয়ার জন্ম দিবস পালন ও টিঁপাই মুখে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচী নিজ নিজ অবস্থান থেকে পৃথক ভাবে পালন করার মধ্য দিয়ে তার বহিঃ প্রকাশ ঘটেছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের যে কর্মসূচী ঘোষণা করবেন কানাইঘাটের বিভক্ত দু’টি গ্র“প আলাদা ভাবে এসব কর্মসূচী পালন করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাফলং লংমার্চ ও সিলেট মহাসমাবেশ কে সামনে রেখে জেলা বিএনপির নির্দেশে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন কানাইঘাটের বিএনপি নেতাকর্মীরা। কর্মসূচী সফলভাবে শেষ হওয়ার পর কৃত্রিম ঐক্যের খোলস ছেড়ে আগের অবস্থানে চলে যান তারা। প্রসঙ্গত: কানাইঘাট উপজেলায় ছোট-বড় কয়েকটি গ্র“প থাকলেও সক্রিয় রয়েছে দু’টি গ্র“প। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী, সাবেক এমপি আব্দুল কাহির চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও চাকসুর সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশিদ কে ঘিরে এই গ্র“পগুলোর সাংগঠনিক কর্মকান্ড আবর্তিত হচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে দলের প্রায় সব নেতাকর্মীরা বহুদা বিভক্ত, আলাদা ভাবে পালন করা হয় দলীয় সব কর্মসূচী ও। সূত্র জানায়, জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের পরামর্শে সাবেক ছাত্র নেতা মামুনুর রশিদ সব গ্র“পকে একই প্লাটফর্মে আনার চেষ্ঠা করছিলেন কিন্তু তার সে চেষ্ঠা তেমন ফলপ্রসু হয়নি। মাঝপথে অদৃশ্য শক্তি দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। আর এর পিছনে জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলীর হাত রয়েছে বলে সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করছেন। তাদের কথা, কানাইঘাট বিএনপিতে ইলিয়াস আলী কারো উপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না বলেই একক কর্তৃত্ব হারানোর ভয়ে তারই ইশারায় দলাদলী হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের একটি অংশ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাহববুর রব চৌধুরী ফয়সল কে দায়ী করছেন। তাদের বক্তব্য হলো, নিকট আত্মীয় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর নির্বাচনী পথ সুগম করতে ফয়সল আড়াল থেকে এসব কলকাঠি নাড়ছেন। উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা ুব্ধ হয়ে বলেন, ফয়সল চৌধুরী দলের ভিতরে ঘাপটি মেরে বসে জামায়াতের এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন। এদিকে মামুনুর রশিদ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে টার্গেট করে নেতাকর্মীদের নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। তিনি কানাইঘাট-জকিগঞ্জের রাস্তা-ঘাট, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে আর্থিক অনুদান দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও নির্বাচনী মাঠ অনুকূলে রাখার জন্য নেতাকর্মীদের টার্গেট করে কৌশল অবলম্বন করছেন। এমতাবস্থায় সাধারণ নেতাকর্মীরা দিক নির্দেশনাহীনতায় ঘুরপাক খাচ্ছেন। ফলে দলের কোন কর্মসূচী সফল ভাবে পালন করতে পারছে না কানাইঘাট বিএনপি। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এম ইলিয়াস আলী কে ফোন করলে রিসিভ না করায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। নেতৃবৃন্দ দলের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে নিজের স্বার্থ কে প্রাধান্য দেওয়ায় দলের অস্তিত নিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীরা নিয়ে দুশচিন্তায় রয়েছেন।

কানাইঘাটে ৪৯ হাজার ভারতীয় রুপীসহ যুবক আটক

Kanaighat News on Friday, February 3, 2012 | 8:45 AM

কানাইঘাট থানা পুলিশ গতকাল ৪৯ হাজার ভারতীয় রুপীসহ তহিদ উদ্দিন নামের এক যুবককে আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এস.আই. শফিখ খান একদল পুলিশ ফোর্স নিয়ে গতকাল দুপুর অনুমানিক সাড়ে ১২টায় উপজেলার ৫নং বড়চতুল ইউপি’র পর্বতপুর গ্রামের রাস্তা থেকে এক অভিযান চালিয়ে তহিদ উদ্দিন (২৫) কে ৪৯ হাজার ভারতীয় রুপীসহ আটক করেন। আটক তৌহিদ উদ্দিনের বাড়ী কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী ১নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতন পুঞ্জি গ্রামের শফিকুল হকের পুত্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তহিদ ঘটনার সাথে নিজে জড়িত থাকার পাশাপাশি ভারতীয় রুপী আমদানির সাথে সোনাতন পুঞ্জি গ্রামের আব্দুর রহমান, হারিছ উদ্দিন, বড়বন্দ গ্রামের বাবুল আহমদ ও নয়াখেল গ্রামের এবাদ উদ্দিন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় এ.এস.আই আফসর আহমদ বাদী হয়ে তহিদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, ভারতীয় রুপীসহ পুলিশের হাতে আটক তহিদ উদ্দিন ও তার অন্যান্য সহযোগিরা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানী পেশার সাথে জড়িত রয়েছে। তারা কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী সুরাইঘাট সোনাতন পুঞ্জি ও বেলেরতল এলাকা দিয়ে চোরাই পথে বাংলাদেশ থেকে রসুন, ভোজ্য তৈল, চাল, সুপারী, মেলামাইন দ্রব্য, ডিজেল, পেট্ট্রোল ভারতে পাচার করে আসছে। অবৈধ পথে ভারতীয় রুপি আদান-প্রদান ব্যবসার সাথে তারা জড়িতও রয়েছে। এ ব্যাপারে এস.আই শফিক খান বলেন, ভারতীয় রুপীসহ আটক তহিদ উদ্দিনের কাছ থেকে প্রাথমিক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অনেকের নাম বেরিয়ে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কানাইঘাটে বিষপানে যুবকের আত্মহত্যা

কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কান্দলা গ্রামে বিষপানে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। সে মৃত আবু সৈয়দের পুত্র ইউসুফ (২২)। জানা যায় গত বুধবার ভোরে নিজ বসতঘরে বিষপানে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানার এস.আই মোস্তফা কামাল একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রির্পোট তৈরী করে ওসমানী হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নং- ১) ০২-০২-১২) দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাৎক্ষনিক ভাবে তার আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি।

কানাইঘাটে অগ্নিদগ্ধ হোটেল শ্রমিকের মৃত্যু

Kanaighat News on Wednesday, February 1, 2012 | 9:25 PM

কানাইঘাটে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হোটেল শ্রমিক সাহাব উদ্দিন ৪দিন সিলেট ওসামানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জ্যা লড়ে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মারা গেছেন। জানা যায়, কানাইঘাট বাজারের শাহজালাল রেস্টুরেন্টের কর্মচারী সাহাব উদ্দিন (২৫) গত শনিবার সকালে রুটি তৈরির সময় কেরোসিনের চুলা বাস্ট মেরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হয়। ঐদিন তাকে আশংকা জনক অবস্থায় হোটেল কর্তৃক ওমেক হাসপাতালে ভর্তী করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে সে মারা যায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণকারী সাহাব উদ্দিনের বাড়ী উপজেলার ১নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বাউরভাগ ২য় খন্ড গ্রামে। তার পিতার নাম ইয়াকুব আলী। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের খবর পাওয়া যায় নি।

কানাইঘাটে এফ.আই.ডি.ভি পরিচালিত ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে শিক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত

কানাইঘাটে এনজিও সংস্থা এফ.আই.ডি.ভি পরিচালিত ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এক শিক্ষা মেলা আজ বুধবার দিনব্যাপী কানাইঘাট ঠাকুরের মাটি এফ.আই.ডি.ভি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় ১৫টি স্টল অংশগ্রহন করে। শিক্ষা মেলায় এফ.আই.ডি.ভি পরিচালিত কানাইঘাট নয়ামাটি, জয়পুর, ছইদুলের মাটি, মনিপুর লীপুর ও চাঁপনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও ভাড়ারী মাটি ও চরিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন। উক্ত শিক্ষা মেলায় দিনব্যাপী ক্ষুধে শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যেমন উচ্চতর মাপ, ওজন, মাপ, পায়ের দীর্ঘ মাপ, নাকের দৈর্ঘ্য মাপ, প্রাজন মার্বেল গণনা, পানি মাপা, টাকায় রূপান্তর পয়সা খেলা, নিশানা চর্চা, শরীর চর্চা, বাক্য তৈরী, শব্দ তৈরী, স্লিপিং গেইম, জুড়িতে বল ফেলা, সাবধানে হাঁটা ইত্যাদি বিষয়ের উপর মেলায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মেলায় এফ.আই.ডি.ভি’র ৫টি স্কুল ছাড়াও ভাড়ারী মাটি ও চরিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন। দিনব্যাপী এ শিক্ষা মেলার শুভ উদ্বোধন করেন এফ.আই.ডি.ভি’র কানাইঘাট প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচীর সহকারী আবিদুর রহমান। মেলার স্টল পরিদর্শন করেন কানাইঘাট মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ৪নং সাঁতবাক ইউপি চেয়ারম্যন মাষ্টার ফয়জুল ইসলাম, চরিপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী, এফ.আই.ডি.ভি’র কানাইঘাট এরিয়ার টিম লিডার লুৎফুর রহমান, কর্মসূচীর সহকারী কুতুব উদ্দিন, গৌতম মল্লিক, মোঃ গুলেনুর, মাহফুজ মিয়া। বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিকদের মধ্যে মঈনূল হক চৌধুরী, ফখর উদ্দিন, আব্দুল ওদুদ চৌধুরী, আবুল খায়ের, ইসলাম উদ্দিন, ও আব্দুল কাদির প্রমুখ। ব্যাতিক্রমধর্মী এ শিক্ষা মেলায় কোমল মতি শিক্ষার্থীরা মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহনের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদের কাছে পেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকে পুরো দিন।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩