Monday, January 2, 2012

নিঃস্বার্থ সমাজসেবী ক্যাপ্টেন ফাহিম আল্ ইসহাক চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আজ বিশ্বের মানুষ যেখানে আত্নকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর হয়ে ঊঠেছে ঠিক সেই সময়ে কেউ না কেউ আর্থ মানবতার সেবায় নিজেকে বিলীন করে দিয়েছেন। এখনো পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যারা সত্যিকার অর্থে দেশ,সমাজ ও মানুষের কথা ভাবেন। সমাজ সেবা এই শব্দটি এখন বড় রহস্যময়। আজ কাল সেবা দেখলেই প্রায় সবার মনে একটা প্রশ্ন জাগে? নিশ্চই এখানে তার স্বার্থ জড়িত আছে-হয়তো নির্বাচন করবে কিংবা নিজের যে টাকা পয়সা আছে তা জানানোর জন্য,অথবা বাপ-দাদার নাম প্রচার করার জন্য মাঠে নেমেছেন। আবার অনেক দানবীর ক্যামেরার সামনে ছাড়া দান করেন না। কেউ আবার ১০ টাকা দিয়ে ১০০০ টাকার গল্প করেন। তাদের ছাড়াও আরো কিছু নিঃস্বার্থ নিবেদিত প্রান সমাজসেবী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন তদের ক’জনের খবরই বা আমরা জানি। যারা প্রচার বিমূখ। তাদেরই একজন ক্যাপ্টেন ফাহিম আল্ ইসহাক চৌধুরী। তিনি সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের মুহিতপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মাওলানা আব্দুল মুছাব্বির চৌধুরী ও মাতা জাহানারা বেগম। পিতা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সমাজসেবী ব্যাক্তিত্ব। মা - বাবা ও ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন বেশ আদরের। মাত্র ৭ বছর বয়সে পিতা - মাতার সাথে লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পাড়ী জমান। শিশুকাল থেকে ক্যাপ্টেন ফাহিম আল্ ইসহাক ছিলেন মেধাবী ও সরলমনা। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে ও তিনি ছিলেন কীর্তিমান। বাল্যকাল শিক্ষা শেষে তিনি লন্ডনস্থ কেম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে ব্যাচলর অব সাইন্স সমাপন করেন। তার উদারতার ফলক হিসাবে তিনি ২০০৫ সালের কেম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট বয় নির্বাচিত হন। দেশ ও জাতীর গর্ব হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগের স্বপ্ন নিয়ে তিনি ২০০৬ সালে ভর্তি হন ডিসকভারী ট্রেনিং সেন্টারে (Toront Canada)। সেখানে ও দাতার পরিচয় দেয় ২০০৭ সালে ট্রেনিং শেষ করে প্রথমে চাকরী নেন ইজি জেড এয়ারওয়েজে প্রথম বাংলাদেশী ক্যাপ্টেন হিসাবে। দীর্ঘদিন চাকুরী করার পর এয়ার পরিবহনে সবচেয়ে পরিচিত ব্রিটিশ এয়ারওয়েজেও প্রথম বাংলাদেশী ক্যাপ্টেন হিসাবে চাকুরী করেন। বর্তমানে তার সিলভার জেট-এ বি এম আই এয়ার লাইন্সে চাকরিরত। কিন্তু লন্ডনের বিলাস বহুল জীবন ছেড়ে একমাত্র নাড়ীর টানে সূদুর প্রবাস থেকে ছুটে আসেন গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য। আজ মানুষ যেখানে প্রায় সবাই প্রতিযোগিতায় ব্যাস্ত; কিভাবে লাখপতি থেকে ট্রিলিয়নপতি হওয়া যায়। কিন্তু গরিব-দুঃখী মানুষের বন্ধু ক্যাপ্টেন ফাহিম আল্ ইসহাক চৌধুরী তাদের ব্যাতিক্রম। তিনি তার নিজের বেতনের একটি অংশ বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন মানব কল্যানে। ক্যাপ্টেন ফাহিম আল্ ইসহাক চৌধুরী একজন নীরহংকার ব্যাক্তি; এ বাংলা মাঠির সন্তান। যিনি দেশে এসে গ্রামের সুবিধা বঞ্চিত এবং দরিদ্র শিার্থীসহ গরীব- দুঃখী ও নির্যাতিত - নিপিড়িতদের সব ধরনের সহযোগিতা-সহমর্মিতার পাশাপাশি এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসায় দান - খয়রাত এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য নিজের অনুদান অব্যাহত রেখেছেন। বণ্যার্থদের ত্রান সামগ্রী দিয়ে, স্কুল - কলেজে, শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়নে আর্থিক ও মানসিক অবদান রেখেছেন। তাই সৃষ্টি কর্তার কাছে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। আসুন আমরাও ফাহিম আল্ ইসহাক চৌধুরী মতো গরীব,দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটাতে ক্ষুধার্তদের অন্য যোগাতে সহযোগিতা করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে তারই মতো নিঃস্বার্থ সমাজ সেবা করার যেন তৌফিক দান করুন।

শেয়ার করুন

4 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়

নোটিশ :   কানাইঘাট নিউজ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক