Kanaighat News on Thursday, June 30, 2011 | 7:29 PM

কানাইঘাটে নিখোঁজের ৩দিন পর
নদী থেকে তরুণের গলিত লাশ উদ্ধার

কানাইঘাটে নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর গতকাল এক তরুণের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। নিহতের আত্মীয় স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার ৫নং বড়চতুল ইউপি'র মালিগ্রামের ফখরুল ইসলামের পুত্র পেশায় ক্যারিকাব চালক শাহনেওয়াজ (১৮) গত রবিবার রাত ৯টায় নিজ বাড়িতে রাতের খাবার শেষে তার মোবাইলে পর পর ৩টি ফোন আসলে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যায়। এরপর থেকে শাহনেওয়াজ নিজ বাড়িতে ফিরে না আসলে আত্নীয় স্বজনরা সম্ভাব্য স্থানে খুঁজে তার কোন সন্ধান পান নি। এভাবে খোঁজাখুজির ৩দিন পর গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে পাশর্্ববতর্ী পর্বতপুর গ্রামের পাশে লাইন নদীর একটি বাঁশের সাঁকোর খুঁটিতে বিবস্ত্র অবস্থায় শাহনেওয়াজের গলিত লাশ দেখে গ্রামবাসী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার গলায় পরনের টি-শার্ট প্যাচানো লাশ উদ্ধার করে। এসময় মৃত শাহনেওয়াজের পিতা ফখরুল ইসলাম এসে এটি তার ছেলের লাশ বলে সনাক্ত করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়না তদন্তের লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাালে প্রেরণ করেছে। লাশ উদ্ধারের সময় স্থানীয় নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মুবেশ্বর আলী (চাচাই) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক চৌধুরী এবং নিহতের পিতাসহ এলকার অসংখ্য লোকজন তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, কোন ধরনের কারন ছাড়াই খুনি চক্র শাহনেওয়াজ কে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে গলায় তার পরনের টি-শার্ট পঁ্যাচিয়ে লাশ লাইন নদীতে ফেলে দেয়। স্থানীয় লোকজন নিহতের মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্রধরে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছেন। শাহনেওয়াজের পিতা মুক্তি যোদ্ধার সন্তান ফখরুল ইসলাম ও মাতা আমেনা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বিনাদূষে তাদের নিরাপরাধ ছেলেকে মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে কারও সাথে তাদের পরিবারের কোন বিরোধ নেই বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে লাশ উদ্ধারকারী এস.আই. এনামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শাহনেওয়াজ নিজে আত্মহত্যা বা অন্যকেউ তাকে খুন করেছে কি-না তা ময়না তদন্ত রিপোর্টের পর জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারনা করছেন তিনি। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল কানাইঘাট থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
কানাইঘাটে সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তার
উপর অবৈধভাবে ৩টি গভীর নলকূপ স্থাপন

কানাইঘাটে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপজেলা রোডে অবৈধভাবে ব্যাক্তিগত বাসাবাড়িতে পানি সরবাহের জন্য রাস্তার উপর ৩টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। এতে রাস্তার প্রস্বস্ততা কমে গিয়ে জানবাহন ও পথচারী চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে জনদূভের্াগ। প্রশাসনের নাকের ডগায় এরূপ অবৈধ কর্মকান্ড ঘটলেও প্রশাসনের প থেকে কোনরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে জনমনে ােভের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক ও জনপদের ব্যস্ততম রাস্তার উপর অবৈধভাবে স্থাপিত এসকল গভীর নলকূপ জনস্বার্থে অপসারণের জন্য সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কতর্ৃপরে প্রতি জোরদাবি জানিয়েছেন। জানা যায়, বহুতলা বাসভবনের মালিক আবু শহিদ, সাবরিনা ম্যানশনের মালিক সিরাজ উদ্দিন এবং কানাইঘাট পল্লীবিদু্যৎ জোনাল অফিসের সামনে সরকারী রাস্তায় মামুন রশিদ অবৈধভাবে রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি করে এসকল গভীর নলকূপ স্থাপন করছেন।
কানাইঘাটে রেবের হাতে ভারতীয় ১৬
হাজার রুপিসহ এক মাদ্রাসা ছাত্র আটক

রেব-৯ এর একটি টিম গত বুধবার রাত ৮টায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৪নং সাতবাঁক ইউপির সাতঘরী গ্রামের সফিকুল হকের পুত্র চরিপাড়া মুহিউস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আব্দুশ শাকুর (২৩) কে ভারতীয় ১৬ হাজার ২০ রুপিসহ আটক করে গত বুধবার কানাইঘাট থানায় সোপর্দ করেছে। জানা যায়, সাতঘরী গ্রামের সফিকুর রহমানের পুত্র আব্দুশ শাকুর (২৩) কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ এর একটি টিম বুধবার রাত ৮টায় দলইমাটি-চরিপাড়া রাস্তা থেকে আটক করে দেহ তল্লাশী করে ১৬ হাজার ২০ রুপি ভারতীয় টাকাসহ আটক করে র্যাব-৯ এর সদর দপ্তরে নিয়ে যায়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আব্দুস শাকুর কে কানাইঘাট থানা পুলিশের কাছে হস্থান্তর করে র্যাব। এদিকে র্যাবের হাতে ভারতীয় রুপিসহ গ্রেফতারকৃত মাদ্রাসা ছাত্র আব্দু শাকুর নিজেকে নির্দোষ দাবী করেছে। থানা হাজতে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে সে জানায় ষড়যন্ত্র করে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ফুফুতো ভাই শমসের একটি পলিথিনের ব্যাগ তার হাতে দিয়ে চাপনগর গ্রামের আলিম উদ্দিনের নিকট পৌছে দেয়ার কথা বলে পরিকল্পিত ভাবে র্যাব দিয়ে তাকে গ্রেফতার করিয়েছে তিনি বিষয়টি র্যাব ও পুলিশের উধর্্বতন কর্মকর্তা দ্বারা তদন্তের দাবী জানিয়েছেন।

Kanaighat News on Thursday, June 23, 2011 | 9:56 PM

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাষ্টার ফয়জুল ইসলামকে কানাইঘাট দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন

কানাইঘাট উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও বেসরকারী মাধ্যমিক শিক সমিতির সভাপতি মাষ্টার ফয়জুল ইসলাম ৪নং সাঁতবাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় কানাইঘাট পূর্ববাজার অস্থায়ী কার্যালয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে কমিটির নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ডাঃ হোসেইন আহমদ, প্রভাষক আহমদ হোসেইন,আলিম উদ্দিন,সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন, মাহবুবুর রশিদ। অপরদিকে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক মামুন আহমদ, বীরদল এন.এম.একাডেমীর প্রধান শিক জার উল্লাহ,সহকারী প্রধান শিক মো:মহিউদ্দিন, ছোটদেশ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক মোফজ্জিল আলী, বড়দেশ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক নুরউদ্দিন, চরিপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক মুজম্মিল আলী, সুরতুননেছা মেমোরিয়েল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক সাজ উদ্দিন সাজু সাংবাদিক কাওছার আহমদ, আব্দুন নুর প্রমুখ। ।

Kanaighat News on Sunday, June 19, 2011 | 12:24 PM

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে গণসংবর্ধনা

কানাইঘাট উপজেলার ৬ নং কানাইঘাট ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে গত ১৩ই জুন সোমবার বাদ মাগরিব স্থানীয় বীরদল আনোয়ার উলুম মাদ্রাসা মাঠে ইউনিয়ন বাসীর সর্বস্থরের জনসাধারণের প থেকে এক গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। পুরাণফৌদ নিবাসী প্রবীন মুরবি্ব মাষ্টার হোসেইন আহমদের সভাপতিত্বে উদীয়মান তরুন আবুল কালামের পরিচালনায় অনুষ্টিত সংবর্ধনায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ নূর আহমদ,ইউনিয়ন বাসীকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবী উত্তাপন করে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোসাইনপুর নিবাসী বীরদল এন.এম.একাডেমীর সহকারী প্রধান শিক মো:মহিউদ্দিন,অনুষ্টানে আরোও বক্তব্য রাখেন যুব সমাজের প েমো:মুহিবুর রহমান,আবু শহীদ শালিক ,নাজমুল ইসলাম হারুন,মাও:ছায়ফুল আলম,রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক মামুন আহমদ,বীরদল এন.এম.একাডেমীর প্রধান শিক মো: জার উল্লাহ,চাউরা বাসীর প েআব্দুল খালিক,মো: আব্দুল মতিন,চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধি্বকারী মো:এখলাছুর রহমান প্রমূখ। স্বাগত বক্তব্যে মো:মহিউদ্দিন বলেন আমাদের এ বিজয় সমগ্র ইউনিযনবাসীর বিজয়,এ বিজয়কে ধরে রাখতে হবে। ভাটিদীহী থেকে চাউরা পর্যন্ত সমগ্র ইউনিয়নে সকল ভোটারদেরকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। অবহেলিত ইউনিয়নের সবচেযে বেশী পশ্চাদপদ গ্রাম চাউরা,আগ্রীপাড়া,গোসাইনপুর,সুতারগ্রাম,বীরদল হাওরপূর্ব সহ প্রতিটি অঞ্চলে প্রধান সমস্যাগুলো চিন্তিত করে স্থানীয় লোকজনদের সহযোগিতায় কমিঠি গঠন করে সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদপে নিতে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানান। প্রধান শিক মামুন আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, ৬ নং ইউনিয়ন পরিষদের নিরীহ মানুষ যাতে মিথ্যা হয়রানীর শিকার না হয় সে ব্যাপারে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের সুদৃষ্টি কামনা করেন। প্রধান শিক মো: জার উল্লাহ আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে অনূরোপ বক্তব্য রাখেন এবং বলেন সঠিক মামলা হলে তা যেন থানায় এফআইআর হয়। চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্ধীপ্রার্থী এখলাছুর রহমান তার বক্তব্যে অধ্য সিরাজুল ইসলামের সাথে একাত্ততা ঘোষনা করে অন্যান্য প্রাথর্ীদেরকেও একাত্ততা ঘোষনা করে একযোগে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহবান জানান। সংবর্ধীত ব্যাক্তি নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান অধ্য সিরাজুল ইসলাম বলেন আমি ইউনিয়নবাসীর সকল ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞ এবং ঋৃণী। আপনাদের সকলের ভোটেই আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা চাই। ৬নং কানাইঘাট ইউনিয়নের সবচেয়ে অবহেলিত আগ্রীপাড়া,চাউরা,গোসাইনপুর,সুতারগ্রাম সহ সমগ্র ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নে কার্যকর পদপে গ্রহন করব। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড মেম্বারদেরকে নিয়ে কমিঠি গঠন করে এলাকার সমস্যা চিন্তিত করে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের চেষ্ট করব।

Kanaighat News on Wednesday, June 15, 2011 | 2:27 PM

কানাইঘাটের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের
মুজম্মিল আলী ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্টের অভিনন্দন

সদ্য সমাপ্ত কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের নির্বাচনে বিজয়ী নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরতি মহিলা সদস্যদের প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাইঘাট ডাঃ মুজম্মিল আলী ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্টের নেতৃবৃন্দ। এক অভিন্দন বার্তায় ট্রাষ্টের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট্য কমিউনিটি নেতা ইকবাল হুসেন বলেন, জনগণের ভোটে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরতি মহিলা সদস্যারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সততা ও নিষ্টার সাথে তাদের নিজ নিজ ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তরান্বিত করার পাশাপাশি এলাকায় শিার প্রচার-প্রসার জনসাধারণের কল্যাণে নেওয়া সরকারের সকল প্রদত্ত সেবা জনমুখী নেতৃত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে কানাইঘাটকে একটি সমৃদ্ধশালী জনপদে পরিণত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Kanaighat News on Sunday, June 12, 2011 | 10:19 PM



কানাইঘাটের ৯টি ইউপি নির্বাচনে বিএনপি-৩
আ'লীগ-২, জামায়াত-১ ও স্বতন্ত্র-৩ প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত

গত শনিবার ১১জুন অনুষ্ঠিত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কোন ধরনের আপত্তিকর ঘটনা ছাড়াই ৮৫টি ভোট কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত তিন, আওয়ামীলীগ সমর্থিত দুই, জামায়াত সমর্থিত এক এবং তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারী ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের ডাক্তার ফয়াজ আহমদ (জামায়াত) প্রতীক-বালতী, প্রাপ্ত ভোট ২৭১৭, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলা উদ্দিন (কাপ-পিরিচ) ২৬৬৩, ২নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের ফারুক আহমদ চৌধুরী (আ'লীগ) প্রতীক-দেওয়াল ঘড়ি, প্রাপ্ত ভোট ৩১৯২, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজ আহমদ (আনারস) ৩১৫৮, ৩নং দিঘীরপার পূর্ব ইউনিয়নের আব্দুল মুমিন চৌধুরী (স্বতন্ত্র) প্রতীক-দেওয়াল ঘড়ি, প্রাপ্ত ভোট ২৩৫৮, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী হোসেন কাজল (কাপ-পিরিচ) আ'লীগ ২৩১৯, ৪নং সাতবাঁক ইউনিয়নের মাষ্টার ফয়জুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) প্রতীক-তালা, প্রাপ্ত ভোট-২৩০৪, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মস্তাক আহমদ পলাশ (আনারস) আ'লীগ ১৪৩৫, ৫নং বড়চতুল ইউনিয়নের মুবেশ্বর আলী চাচাই (আ'লীগ) প্রতীক-গরুর গাড়ী, প্রাপ্ত ভোট ৩৭৩৩, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল হোসেন টেলিফোন ২৮০৬, ৬নং কানাইঘাট সদর ইউনিয়নে অধ্য সিরাজুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) প্রতীক-দেওয়াল ঘড়ি, প্রাপ্ত ভোট ৪৬০০, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মামুন রশিদ (তালা) বিএনপি ২৪৬১, ৭নং দণি বাণীগ্রাম ইউনিয়নে মোঃ শাহাব উদ্দিন (বিএনপি) প্রতীক-আনারস, প্রাপ্ত ভোট ৪৪৩৪, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাসুদ আহমদ (কাপ-পিরিচ) আ'লীগ ৩৪৩৬, ৮নং ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নে মাষ্টার রফিক আহমদ চৌধুরী (বিএনপি) প্রতীক-তালা, প্রাপ্ত ভোট ৩৫৫৬, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হারুন রশিদ (কাপ-পিরিচ) আ'লীগ ২৯৪২, ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে ডাক্তার মানিক মিয়া (বিএনপি), প্রতীক-গিটার, প্রাপ্ত ভোট ২৭৭৮, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজ আশিক (আনারস) ২১৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

Kanaighat News on Wednesday, June 8, 2011 | 9:37 PM

কানাইঘাটে রাজাগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে

চেয়ারম্যান পদে দুই ভাইয়ের লড়াই তুঙ্গে
কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে একই বাড়ি থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছেন আপন দু’চাচাতো ভাই। তারা হলেন, বাহা উদ্দিন চৌধুরী (তালা) অপর চাচাতো ভাই হেলাল আহমদ চৌধুরী (বালতি)। নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে উভয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। একে অপরকে নির্বাচন আচরণবিধি এবং নির্বাচনী আইন লংঘনে দোষারূপ করছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাহা উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তার অভিযোগের শেষ নেই। জানা যায়, নির্বাচনী তফশীল ঘোষণার পরে এলাকাবাসী দু’ভাইয়ের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান বাহা উদ্দিন চৌধুরীকে সমর্থন দেন। হেলাল আহমদ চৌধুরীর অভিযোগ তার নির্বাচনী কাজে বাহা উদ্দিন চৌধুরী বিভিন্ন প্রকার প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছেন এবং একটি স্বার্থান্বেষী মহলের মাধ্যমে আমাকে গ্রাম থেকে একঘরী করে রেখেছেন এবং আমার বিরুদ্ধে কেউ কাজ করলে জরিমানা করার ঘোষণা দিয়েছেন। এরূপ গুরুতর অভিযোগের প্রেেিত সরজমিনে গিয়ে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা হলে, এলাকার প্রবীণ মুরব্বি হাজী তাজ উদ্দিন, আলী আক্তার রুমি, আব্দুল আজিম, শরফ উদ্দিন, ফয়েজ উদ্দিন বলেন, হেলাল চৌধুরী এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে এবং তার ভাই বাহা উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। বিকেল ৪টায় বাহা উদ্দিন চৌধুরী তালবাড়ি কল্যাণী নয়াবাজারস্থ নির্বাচনী কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করলে তিনি তাহার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সম্পুর্ণ অস্বীকার করে বলেন, হেলাল চৌধুরী আমার জনসমর্থন দেখে সম্পুর্ণ ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। যদিও হেলাল চৌধুরী আমার চাচাতো ভাই তার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে নির্বাচন করার। তাকে বাঁধা অথবা একঘরী করার কোন প্রশ্নই উঠে না। আমি একজন সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলছি।
কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী

অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের সমর্থনে জনসভা অনুষ্ঠিত

কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের সমর্থনে গত সোমবার বাদ মাগরিব বীরদল বাজার সংলগ্ন আনোয়ার উলূম মাদ্রাসা মাঠে এক ঐতিহাসিক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি প্রবীন শিক্ষক মাষ্টার শফিকুল হকের সভাপতিত্বে এবং আবুল কালামের পরিচালনায় উক্ত নির্বাচনী জনসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোসাইনপুর নিবাসী মাষ্টার মহিউদ্দিন আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি জালাল আহমদ, সাধারন সম্পাদক নিজাম আল মিজান, উপজেলা বিএনপি’র একাংশের সভাপতি আব্দুল লতিফ, মাষ্টার মামুন আহমদ, মাষ্টার জারউল্লাহ, বিশিষ্ট মুরব্বি মুহিব আহমদ, মোহাম্মদ আলী মেম্বারসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ইউনিয়নের দলমত নির্বিশেষে সকলের সমর্থন সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচনে দাড়িয়েছি শুধু মাত্র আপনাদের পাশে সুখেঃ দুখেঃ দাড়ানোর জন্য। সদর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত করার জন্য। তিনি ১১জুনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তাকে দেওয়াল প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজান তার বক্তব্যে বলেন. অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম শুধু মাত্র ৬নং সদর ইউনিয়নের সন্তান নয় সকলের শ্রদ্ধার পাত্র ও একজন শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক হিসেবে সমস্ত উপজেলায় তিনি নের্তৃত্ব দিয়ে আসছেন। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং সদর ইউনিয়নকে একটি সমৃদ্ধ জনপদে পরিনত করার জন্য অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম’কে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন বাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

কানাইঘাটে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের দায়ে জরিমানা

আগামী ১১ই জুন অনুষ্ঠিত্ব কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘণের দায়ে ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ১২হাজার ৫০০টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ১ম শ্রেণীর ম্যাজিষ্টেট, ও সমন্বয়কারী অফিসার মোঃ ইমরান হুসেন ৫নং বড়চতুল, ৬নং সদর, ৮নং ঝিংগাবাড়ী, ও ৭নং দণি বাণীগ্রাম ইউনিয়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নির্বাচন আচরণবিধি লংঘনের দায়ে ৭জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছ থেকে উক্ত জরিমানা আদায় করেন। যেসব প্রার্থীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে তারা হলেন, ৫নং বড়চতুল ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবশ্বীর আলী চাচাই ৪ হাজার টাকা, ৬নং সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী এখলাচছুর রহমান ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৭নং দণি বাণীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী লোকমান আহমদ ১ হাজার টাকা, ৮নং ঝিংগাবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী যথাক্রমে মাওলানা আব্দুল মালিক ২হাজার টাকা, হারুনুর রশীদ ১ হাজার টাকা, ওলিউর রহমান ১ হাজার টাকা, নুরুল হক ১ হাজার টাকা জরিমান আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়নের রির্টানিং কর্মকর্তাগণ, এবং কানাইঘাট থানার এস,আই মোস্তফা কামাল, এস,আই হাবিবসহ একদল পুলিশ। নির্বাহি কর্মকর্তা ইমরান হুসেন জানিয়েছেন, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের কোন প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কানাইঘাটের ঝিংগাবাড়ি ইউপিতে
মহিলারা এবার ভোট দিতে পারছে না

কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে আগামী ১১ইজুন অনুষ্টিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮নং ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের মহিলা ভোটাররা ভোট দিতে পারছেন না। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন গ্রাম্য মূড়ল বসে বিকেল ৪টায় স্থানীয় গাছবাড়ি বাজারে দণি মসজিদের মাঠে এভারের নির্বাচনে ৮জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর কাছ থেকে এই মর্মে লিখিত রাখেন যে, আগামী ১১ই জুন অনুষ্টিতব্য ইউপি নির্বাচনে যাতে করে কোন প্রার্থী মহিলা ভোটারদেরকে নির্বাচন সেন্টারে আনবেন না বলে অঙ্গিকার নামা দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করেন। নিরুপায় হয়ে প্রার্থীরা এক পর্যায়ে সাধা একটি কাগজে সাইন করেন। সমপ্রতি সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বলেন, চাপের মুখে ফেলে আমাদের সাধা কাগজে সাইন নেওয়া হয়েছে আমরা কিছু বলতে যাচ্ছি না এজন্যই যেহেতু আমাদের সামনে নির্বাচন। সাইন না করলে হয়তো নির্বাচনে বড় ধরনের কোন ভাটা পড়তে পারে। উদ্যোকারীদের মধ্য থেকে হাজী আব্দুল জলিল, মাওলানা খলিলুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলে হক, নিয়াজ উদ্দিন, মনোহর বখক্ত, আব্দুল মৌলা, তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলে আমরা অতীতের ন্যায় এভারের নির্বাচনেও এই সিন্ধান্ত নিয়েছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইমরান হোসেন বলেন আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি তবে আমি মোবাইল ফোনে কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। যদি এ ধরনের কোন সিন্ধান্ত কেউ নিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Kanaighat News on Wednesday, June 1, 2011 | 5:23 PM








লোভাছড়া হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র

কাওছার আহমদ :

প্রকৃতির রূপকন্যা সিলেটের লোভাছড়া দেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়-টিলা, নদী-নালা, খাল-বিল পরিবেষ্টিত প্রাকৃতিক ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যঘেরা এক দর্শনীয় স্থানের নাম। ইহা সিলেটের একটি সম্ভবনাময় পর্যটন স্পট। প্রকৃতি দেবী যেন সারা বিশ্বের সৌন্দর্যরাশি এনে লোভাছড়ায় পুঞ্জিভুত করেছেন। যারা সৌন্দর্য পিয়াসী, সুন্দরের পুজারী তাদের প েলোভাছড়ার আকর্ষণ এড়ানো কিছুতেই সম্ভব নয় । ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সুউচ্চ পাহাড়ের শিখরে লোভাছড়ার জন্ম। চপল পায়ে নুপুর তালে এঁেকবেঁকে বাংলাদেশের কানাইঘাট উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করে সুরমা নদীতে মিলিত হয়ে মূলাগুল অঞ্চলকে লোভাছড়া নামে প্রসিদ্ধ করেছে। লোভা ছড়ার চা বাগান, রাস্তার দু'পাশে সারি সারি গাছ, ঘন সবুজ বনানী, প্রাকৃতিক লেক আর স্বচ্ছ হিমেল পানির ঝর্ণা এখানে আসা লোকজনের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। এখানকার দর্শনীয় স্থানের মধ্যে মোঘল রাজা-রানীর পুরাকীর্তি, চা বাগান, ঝুলন্ত সেতু, পাথর কোয়ারী, প্রাকৃতিক লেক, মিরাপিং শাহ মাজার, প্রাচীন দীঘি, বাঘ খেওয়ড়, ব-দ্বীপ প্রভৃতি উল্লেখ্যযোগ্য। লোভাছড়ার সীমান্তে মোগল সাম্রাজ্যের রাজা রাণীদের অনেক পুরাকীর্তি রয়েছে। রাজা রাণীর ঘুটি খেলা স্থানটি খুবই আকর্ষণীয়। চোখাটিলা নামক ১টি পাহাড়ের পাদদেশে ১টি ঝর্ণার পাশে রয়েছে প্রাচীনকালের দু'টি বড় পাথর। এ পাথর দু'টিতে বসে রাজা-রাণী ঘুটি খেলতেন। এছাড়া পাথরে বসে রাজা-রাণী লোভাছড়ার সৌন্দর্য ও অবলোকন করতেন। দেশের দীর্ঘতম নদী সুরমার ডান তীরে এবং লোভাছড়ার উত্তর তীর ঘেঁষে ১৮০২একর জায়গা জুড়ে সুবিসতৃত লোভাছড়া চাবাগান। রোজ সকালে হাজারো শ্রমিকের পদচারনায় মুখরীত হয়ে ওঠে চাবাগানটি। এ বাগান থেকে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাধিক কেজি চা উৎপাদিত হয়। সুবিশাল এ চা বাগানে শত শত শ্রমিক আপন মনে কচি চা-পাতা তুলে এবং আপন সুরে গান গেয়ে পর্যটকদের আকর্ষন করে। সড়ক পথে লোভা ছড়ায় আসার পথে পাওয়া যায় বৃটিশ আমলের নির্মিত চা-বাগানের ভিতরেই নুন নদীর উপর ১টি ঝুলন্ত সেতু। ১৯২৫সালে ইংরেজরা লোভা ছড়ায় যাতায়াতের জন্য সেতুটি নির্মাণ করে। সেতুর উপর দাঁড়িয়ে লোভা ছড়ার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সুরমা নদীর উত্তর প্রান্তে লোভাছড়া জুড়ে রয়েছে সুবিশাল পাথরের খনি। চারদিকে শুধু পাথর আর পাথর। নদী থেকে পাথর তোলার দৃশ্য ও মনোমুগ্ধকর। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক পাথর উত্তোলন করে। এখান থেকে আহরিত পাথর সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। এখানকার কোয়ারিতে আসার পথে আকর্ষণীয় অনেক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। নৌকায় আ রোহন করার পর পাহাড়, বাগান আর সবুজ বনানী নৌকা আরোহীর দৃষ্টি মন কেড়ে নেয়। নৌকায় বসে স্বচ্ছ পানির নীচ দিয়ে নদীর তলদেশ পর্যন্ত দেখা যায়। লোভাছড়ায় আসার পথে পাওয়া যায় অসংখ্য টিলা। রাস্তার দু'পাশ ও টিলায় রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ-গাছালী। এখানকার অরণ্যের মাঝখান দিয়ে হাঠতে খুবই ভাল লাগে। স্থানীয় বন বিভাগ ১টি সামাজিক বন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ বনটিকে কেন্দ্র করে এখানে ১টি পার্ক তৈরী করা হলে এটি ঢাকার বোটানিক্যাল গার্ডেনের মতো দর্শনীয় স্থানে পরিনত হবে। এখানকার পাহাড়ের মধ্যবতর্ী ঢালু উপত্যকায় রয়েছে অনেকগুলো প্রাকৃতিক লেক। পরিচর্যা করলে এ লেকগুলো চট্টগ্রামের ফয়স লেকের সৌন্দর্যকেও হার মানাত। আয়তনের দিক দিয়ে ছোট হলেও লেকগুলো স্বচ্ছ পানি দেখে মন জুড়ে যায়। এখানকার ঝর্ণার পানির ছল ছল শব্দ শুনে পর্যটকদের মনে আনন্দ জাগে। লোভাছড়ার দণি পাশ্বর্ে মূলাগুল নয়াবাজারের পূর্ব পাশ্বর্ে অবস্থিত ১টি টিলার উপর রয়েছে হযরত শাহ জালাল (রহ:) এর সঙ্গী ৩৬০আউলিয়ার মধ্যে অন্যতম ওলি হযরত মিরাপিং শাহ (রহঃ) এর মাজার। মাজারটি দেখার জন্য এখানে প্রতিদিন ওলি সাহেবের অনেক ভক্ত এসে ভীড় জমান। মাজারটিকে যথাযথভাবে সংরণ ও তত্বাবধান করা হলে হযরত শাহজালাল ও শাহ পরানের মাজারের মতো এখানকার মাজারেও প্রচুর ভক্তকুলের আগমণ ঘটবে প্রতিনিয়ত। লোভাছড়া কুলি বস্তির পাশে রয়েছে ১টি সুবিশাল দীঘি। এককালে দীঘিতে অনেক অলৌকিক জিনিসপত্র যেমন তালা-বাসন, রোপ্য মুদ্রা ইত্যাদি ভেসে উঠতে বলে লোক মুখে বিভিন্ন মুখরোচক কাহিনী প্রচার হয়ে আসছে। এখানকার অরণ্যে বাঘসহ বিভিন্ন প্রজাতীর জীবজন্তু বাস করে। কখনো লোকালয়ে বাঘ চলে আসে। তখন এলাকার লোকজন খেওয়ড় বা কর্ডন দিয়ে বাঘ আটক করেন। আটক হওয়ার বাঘ দেখতে হাজার হাজার লোক দূর দূরান্ত থেকে এসে এখানে সমবেত হয়। এ উপল েস্থানীয় লোকজন এখানে মেলার আয়োজন করে থাকে। লোভাছড়ার পাশেই রয়েছে সুরমা, লোভা ও বরাক নদীর মিলনস্থল। তিনটি নদীর মিলন এখানে ব-দ্বীপের সৃষ্টি করেছে। নসদীগুলোর মিলনস্থলে নদীর এক পাশের পানি খুবই স্বচ্ছ এবং অপর পাশের পানি খুবই ঘোলা। একই নদীতে দু'ধরণের পানি দেখে অনেকেই পুলকিত হন। সিলেট মহানগরী থেকে কানাইঘাট উপজেলার দূরত্ব ৫০কিঃমিঃ। কানাইঘাট উপজেলা সদর থেকে লোভাছড়ার দূরত্ব মাত্র ৮কিঃমিঃ। উপজেলা সদর থেকে সড়ক ও নদী পথে লোভাছড়ায় যাওয়া যায়। লোভাছড়া যাতায়াতের রাস্তাটি অর্ধেকের বেশী কাচা হওয়ায় খুবই কষ্ট করে সেখানে পৌঁছতে হয়। নদী পথে যাতায়াতের জন্য এখানে কোন ট্রলার নেই। তাই ছোট বারকি ও ইঞ্জিন নৌকায় চড়ে যেতে হয়। লোভাছড়া এক অফুরন্ত সম্ভাবনার দুয়ার। এখানে রয়েছে অপার সম্ভাবনার হাতছানি। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি দর্শনীয় স্থান সমূহের যথাযথ তত্বাবধান করা হলে এটিকে দেশের এক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব। এখানকার সামাজিক বনায়ন ও চা-বাগান থেকে প্রচুর দেশী মুদ্রা আহরণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক লেক ও অন্যান্য স্থানগুলোকে বিদেশি প্রর্যটকদের দৃষ্টিতে নিতে পারলে এর মাধ্যমে প্রচুর বিদেশি মুদ্রাজর্ন করা যেতে পারে। স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন থেকে এখানে ১টি স্থলবন্দর স্থাপনের দাবী জানিয়ে আসছেন। গত সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে এটির প্রস্তাব করা হলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। শীঘ্রই এটি বাস্তবায়িত হোক এ দাবী এলাকাবাসীর তথা সমগ্র উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের। পরিশেষে বলা যায় যে, লোভাছড়ার পযর্টন আকর্ষনগুলোর উপর ভিত্তি করে এখানে ইকো পর্যটন, কৃষিভিত্তিক পর্যটন, গ্রামীণ পর্যটন, ক্রীড়া পর্যটন, নৌ পর্যটন, ধর্ম ভিত্তিক পর্যটন, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্তি্বক পর্যটনসহ পর্যটনের অন্যান্য দিকগুলো উন্নয়ন সম্ভব। এখানকার পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে কৌশলী ও সময়োচিত পদপে গ্রহণ করা। পর্যটনশিল্পের বিকাশের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানসহ বহুমাত্রিক সাফল্য বর্তমান সরকারের দিনবদলের অঙ্গীকার, ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি তথা স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার এজেন্ডা বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩