Saturday, August 28, 2010

কানাইঘাটে কম্পিউটার একাডেমীতে কম্পিউটার বিতরণ

কানাইঘাটে কম্পিউটার একাডেমীতে কম্পিউটার বিতরণ

দেলওয়ার হোসেন সেলিম:

কানাইঘাটের শারিরীক প্রতিবন্ধী বাহার উদ্দিনের পরিচালনায় এবং গ্রীণ ডিজএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন (জিডিএফ) সিলেটের সহযোগীতায় কম্পিউটার কুইক লাক কম্পিউটার একাডেমীতে একটি কম্পিউটার বিতরণ করেছেন চাকসুর সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিল্পপতি মামুনুর রশীদ মামুন। তিনি গত বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় স্থানীয় ঝিংগাবাড়ী ইউপি মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্টানে বিপুল সংখ্যক ছাত্র শিক, অভিবাবক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে প্রতিবন্ধী বাহারের হাতে কম্পিউটার হস্তান্তর করেন। এসময় উপ?িহত ছিলেন ঝিংগাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সইফ উল্লাহ, কানাইঘাট ডিগ্রী কলেজের সহঅধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন, কানাইঘাট প্রেসকাবের প্রতিষ্টাতা সহসভাপতি দেলওয়ার হোসেন সেলিম, ঢাকনাইল সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আব্দুল ওদুদ, সমাজসেবী ডাঃ আবু শহীদ শিকদার, গাছবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী রফিক আহমদ, জামাল উদ্দিন ,সাংবাদিক কাওসার আহমদ,যুবনেতা আবুল হোসেন,মিনহাজ উদ্দিন, ছাত্রনেতা দেলওয়ার হোসেন প্রমূখ। সংপ্তি বক্তব্যে সমাজসেবী মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, শারিরীক প্রতিবন্ধীরা আজ সমাজের বোঝা নয়, তারা সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবন্ধী মানুষেরা ও উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত হতে পারেন। তারই প্রমান বাহার উদ্দিন। শারিরীক প্রতিবন্ধী হলেও পড়াশোনা শিখে ব্যক্তিগত জীবনে যতেষ্ট দতার পরিচয় রেখে চলেছেন।এখন গ্রামীন জনপদে একজন কম্পিউটার প্রশিক হিসেবে প্রতিদিন আরো বহু তরুন,যুবক ও শিতি বেকার লোকজনকে কম্পিউটার শেখাতে সম হবেন তিনি।এতে স্বল্প খরচে স্থানীয় প্রশিনার্থীরা যেমনি উপকৃত হবেন, তেমনি ঘরে বসে বাহার প্রতিমাসে কয়েক হাজার টাকা উপার্জন ও করতে পারবেন। তিনি তথ্য প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার এ যুগে তরুন যুবকদের কম্পিউটার শিখে নিজেদের বিকশিত করে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রাখার আহবান জানান।

Wednesday, August 18, 2010

কানাইঘাটে শোকাবহ পরিবেশে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত   বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত

কানাইঘাটে শোকাবহ পরিবেশে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত

ষ্টাফ রিপোর্ট:
কানাইঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শোকাবহ পরিবেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। শোক দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর বণ্যাঢ্য জীবনের উপর আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টার সময় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইউটিডিসি হলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম এলাহী আকন্দের সভাপতিত্বে এবং যুব উন্নয়নের ফিল্ড সুপারভাইজার শাহীন আহমদের পরিচালনায় শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউল ইসলাম চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সিনিয়র সভাপতি রফিক আহমদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহজাহান কবীর, সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ পলাশ, বাণীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদ, কানাইঘাট থানার অফিস ইনচার্জ শফিকুর রহমান খান, ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মাহবুব, সাংবাদিক এখলাছুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল ইসলাম হারুন। অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগষ্টের কাল রাত্রিতে শাহাদাতবরণকারীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও দেশের দীর্ঘায়ু কামনা করে উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বাদ যোহর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এদিকে ,কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী জামি উল উলুম কামিল মাদ্রাসায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৫ তম শাহাদত বার্যিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুস্টিত হয় । গভর্ণিং বর্র্ডির সভাপতি মোঃ ফজলে হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্ষারা জাতির জনকের বর্ণাঢ্যজীবনের উপর আলোচনা করেন এবং তার পরিবার পরিজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে দুঃখ পকাশ করেন ।পরে পবিএ কুরআন খতম করে মুনাজাত করেন গাছবাড়ি জামি উল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা আব্দুর রহিম ।

Saturday, August 14, 2010

কানাইঘাটে ওয়েবসাইট উদ্বোধন

কানাইঘাটে ওয়েবসাইট উদ্বোধন


ষ্টাফ রিপোর্ট:

তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কানাইঘাটকে এগিয়ে নিতে এবং এ অঞ্চলের যে কোন তথ্য বিশ্বের মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে www.kanaighat.webs.com নামে একটি ওয়েবসাইট গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উদ্বোধন করা হয়। ওয়েবসাইটটি কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধূরী উদ্বোধন করেন। উদ্বোধকের বক্তব্যে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির সাথে কানাইঘাট একধাপ এগিয়ে গেল এ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে। বিশেষ করে প্রবাসে থাকা কানাইঘাটীরা সহজে নানা তথ্য জানতে পারবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্প কর্মকর্তা ডাঃমুজিবুর রহমান,কানাইঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্বা কমান্ডার নূরুল হক,কানাইঘাট প্রেস কাবের দপ্তর সম্পাদক নিজাম উদ্দিন,ক্রীড়া সম্পাদক জামাল উদ্দিন, ওয়েবসাইট নির্মাতা সাংবাদিক মাহবুবুর রশিদ, সাংবাদিক কাওছার আহমদ, হোসেন আহমদ, আব্দুন নূর, আলীম উদ্দিন, কানাইঘাট লেখক ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সদস্য: জাহিদ হাসান, হাবিব উল্লাহ,মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু প্রমূখ। ওয়েব সাইটটিতে কানাইঘাটের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংবাদ, ফিচার, ছবি, ভিডিও ফুটেজ সহ অনেক তথ্য রয়েছে এবং নিয়মিত আপডেট থাকবে। সঠিক তথ্য ও বিভিন্ন ছবি দিয়ে সহায়তা করার জন্য ওয়েব সাইট নির্মাতা মাহবুবুর রশিদ, মোবাঃ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,e-mail:-mahbuburrashid68@yahoo.com অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরও সিলেটের কানাইঘাটে ১৫০টি গ্রামে এখনো বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি

স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরও সিলেটের কানাইঘাটে ১৫০টি গ্রামে এখনো বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি

দেলওয়ার হোসেন সেলিম/মাহবুবুর রশিদ:
স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরও সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ১৫০টি গ্রামে এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের আলো পৌঁছেনি। ফলে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে কানাইঘাটের লক্ষাধিক মানুষ এখনো বিদ্যুতের আলো দেখেনি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রধান উপাদান বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের অভাবে এখানকার তরুন যুবসমাজ তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিভিশন সহ বিভিন্ন বিনোদনমূল ব্যবস্থার সুযোগ ও মোবাইল সেট চার্জ করা যাচ্ছে না। ছাত্রছাত্রীরা পড়া লেখা করতে হিমশিম পোহাচ্ছে। কম্পিউটার, ফ্রিজ, ফ্যান চালানোর সুযোগ বঞ্চিত এখানকার আবাল বৃদ্ধ বণিতার কষ্ট দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। দারুণ যন্ত্রণা ও মানসিক দুশ্চিন্তা নিয়ে যেন এক অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে কাটছে দিন, যাচ্ছে রাত। মূলতঃ কৃষি নির্ভর অর্থনীতি কানাইঘাটের অধিকাংশ অধিবাসীর। কিন্তু বিদ্যৎ সুবিধা না থাকায় ছোট বড় কলকারখানা, গবাদি পশুর খামার, পোল্ট্রি ফার্ম, ফিশারী স্থাপনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এসব স্থাপন করা যাচ্ছে না। কানাইঘাট উপজেলায় বিদ্যুতায়নের দায়িত্ব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির। এলাকাভিত্তিক পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের অধীনে ১৯৯৭ ইং সালে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ গঠনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৭ সালের প্রথম দিকে কানাইঘাট জোনাল অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কানাইঘাট জোনাল অফিসের আওতাধীন এ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৩১০টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ১৬০টি গ্রামে বিদ্যুতায়তি হয়েছে। অবশিষ্ট ১৫০টি গ্রামে এখনো বিদ্যুতায়ন করা সম্ভব হয়নি। সিলেট মহানগরীর উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাট। এখানকার আয়তন ৪১,৩১৮ বর্গ কিলোমিটার। কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট পরিবার সংখ্যা ৪১,০০০টি। বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র আছে ১টি (৫ এমভিএ)। পিডিবির বটেশ্বরস্থ সিলেট ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি হচ্ছে এখানকার বিদ্যুতের উৎস। স্থানীয় গাছবাড়ী বাজার ও সড়কের বাজারে রয়েছে ২টি অভিযোগ কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কানাইঘাটে ৫২৯.৩৫ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন নির্মিত হয়েছে। পিডিবি?র অধিগ্রহণকৃত লাইন ৬৯ কিলোমিটার। অবশ্য পিডিবি অধিগ্রহণকৃত ২০ কিলোমিটার লাইন এখনো নবায়ন হয়নি। মোট বিদ্যুতায়িত লাইব ৫৪৯.২১৭ কিলোমিটার। কানাইঘাটে এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে ২০,১৮০ জনের। সংযোগ প্রাপ্ত গ্রহক সংখ্যা হচ্ছে ১৫,৭২০ জন। এর মধ্যে আবাসিক ১২,৫৭৬ জন, বাণিজ্যিক ২,১৮১ জন, শিল্প ১৯৭ জন এবং সিআইও অন্যান্য ৩৭৩ জন। অভিজ্ঞ মহলের মতে, যেহেতু পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির সুযোগ বঞ্চিত পল্লী এলাকার কৃষি এবং কৃষি ভিত্তিক কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে সেখানকার আর্থ সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে দারিদ্র বিমোচনে সহায়তা প্রদান করা। সেহেতু বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর প্রাণের দাবী, ন্যায্য দাবী কানাইঘাট উপজেলার অবশিষ্ট গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া। এদিকে, কানাইঘাটের জনবহুল ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকনাইল এলাকার গোয়ালজুর গ্রাম সহ ৮টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পরিবার বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতার পর কম-বেশি উন্নয়নমুলক কাজ হলেও গোয়ালজুর গ্রাম সহ ৮টি গ্রাম রয়েগেছে অবহেলিত। এ গ্রামগুলোর বাসিন্দারা সারা বছর দৃশ্যত দুর্ভোগের মধ্যেই বসবাস করে। শুধুমাত্র ভোটের সময় কদর বাড়ে এই এলাকাবাসীর এরপর আর জনপ্রতিনিধরা তাদের আশা-প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে আসেননি। এজন্যে হতভাগা এসব মানুষগুলোর জীবন চিত্র আজও বদলায়নি। বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির উন্নয়নের প্রধান অন্তরাই হচ্ছে বিদ্যুৎ। শুধুমাত্র বিদ্যুতের অভাবেই এখানকার জনসাধারণ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। সম্ভাবনাময় এলাকার জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। স্বাধীনার ৩৯ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুতের সংযোগ লাগেনি অত্র এলাকায়। অবশ্যই কয়েক বছর পূর্বে এখানকার পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হলেও বাকী রয়েছে ৮টি গ্রাম। গোয়ালজুর গ্রামের অধিবাসীরা জানান, তারা আধুনিক যুগের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মূল সহায়ক বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে রহস্যজনকভাবে বঞ্চিত রয়েছেন। অনেকেই গোয়ালজুর গ্রামটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার আশ্বাস প্রদান করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কয়েক বছর আগে এ এলাকায় পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু গোয়ালজুর গ্রামের পাশ দিয়ে অন্যান্য গ্রামে বিদ্যুৎ লাইন যাওয়া সত্ত্বেও আজ অবধি এ গ্রামে বিদ্যুতের ছোঁয়া লাগেনি। এমনকি বিদ্যুৎ বঞ্চিত গোয়ালজুর গ্রামসহ অন্যান্য অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রামসমূহের বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শুরু হচ্ছে না এখনো। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কানাইঘাট জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মাষ্টার প্ল্যান অনুযায়ী লাইন নির্মাণ কাজ করে। বর্তমানে কানাইঘাটে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণের অনেক বেশি চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কোন বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই নতুন সংযোগ দেয়া স্থগিত রয়েছে। এছাড়া নতুন গ্রাহকদের মধ্যে কেউ নিজ খরচে বিদ্যুৎ নিতে চাইলে তাও বন্ধ করা হয়েছে। কানাইঘাট সহ সিলেট অঞ্চলে দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যুতের নতুন সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে যে সকল বাঁধা রয়েছে, সেটা অতিক্রম করে নতুন সংযোগ স্থাপনের জন্যে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে আসছেন এ অঞ্চলের জনসাধারণ।

Tuesday, August 10, 2010

কানাইঘাট-গাছবাড়ী সড়কে যাত্রীদুর্ভোগ চরমে

কানাইঘাট-গাছবাড়ী সড়কে যাত্রীদুর্ভোগ চরমে

মাহবুবুর রশিদ
কানাইঘাট-গাছবাড়ী রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যানবাহন চলাচল করছে। এতে যাত্রীদের ভীষণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তার পিচ,ঢালাই উঠে বড়,বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যায়। যার ফলে যানবাহন চলার সময় পায়ে হেঁটে যাতায়াতকারী লোকজনের পরনের কাপড় নষ্ট হয়ে যায় গর্তের পানিতে। মানুষের কষ্টের কোন সীমা থাকেনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে কানাইঘাটের জনসাধারণকে বিভিন্ন কাজে অফিস-আদালত, স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসার কাজে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন শত শত ট্রাক, বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি চলাচল করে এ রাস্তা দিয়ে। বৃষ্টিজনিত কারণে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে ভাঙনের। এ ভাঙনগুলো দিন দিন বৃদ্বি পাচ্ছে। অতি শীঘ্রই রাস্তাটি সংস্কার ও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেয়া হলে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটে প্রানহানি ঘটতে পারে। রাস্তাটির এ বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়তই ছোট, বড় দূর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন যেমন শত শত যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে, তেমনি বড়দেশ, ছোটদেশ, নওয়াগাওয়ের কয়েকজন যাত্রী বুশরা বেগম, জাহিদ আহমদ, শ্রী মহিতুষ দাস প্রমূখ। তারা প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজে আসেন। তারা জানান, প্রতিদিন খুব কষ্ট করে কলেজে আসি, রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন থাকার কারণে বৃষ্টির দিনে এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে আমাদের চরম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একই অভিযোগ কানাইঘাট বাজারের ব্যবসায়ী ডা:শিহাবউদ্দিনের। তারা চান যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটির সংস্কার কাজে হাত দিবেন যথাযথ কর্তৃপক্ষ। এই চাওয়া এলাকাবাসীরও।

Sunday, August 8, 2010

কানাইঘাট রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সরকারী করণের দাবী

কানাইঘাট রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সরকারী করণের দাবী

কানাইঘাট উপজেলার এক মাত্র গার্লস হাইস্কুল এতিহ্যবাহী রামিজা বলিকা উচ্চ বিদ্যলয়কে সরকারী করনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী । কানাইঘাট বাসীর দাবীর মূখে বিগত চার দলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষের দিকে
একমাত্র এ গার্লস হাইস্কুলকে সরকারী করণের জন্য সাবেক প্রধান মন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধূরী স্কুল পরিদর্শন করে যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করলেও রহস্যজনক কারনে স্কুলটি সরকারী করন করা হয়নি । কানাইঘাটের নারী শিক্ষার জাগরনে বিরাট ভুমিকা পালন কারী এই উচ্চ বিদ্যালয়টি ধর্মীয় গুড়ামিকে ডিঙ্গিয়ে সে সময় নানা প্রতিকুল অবস্থা মোকাবিলা করে প্রয়াত কানাইঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান দানবীর আলহাজ্ব এম এ রকিব ১৯৮৭ সালে তার মায়ের নামে রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন । এক সময় ধর্মীয় রণশীলতার কারনে এলাকার মেয়েদের প্রাইমারী স্কুল পর্যন্ত যেখানে লেখা পড়া সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এলাকার লোকজন তাদের মেয়েদের দলে দলে ভর্তি করেন উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। যার ফলে এলাকায় নারী শিার প্রচার প্রসারে বিরাট ভূমিকা পালন করে এ গার্লস স্কুলটি। বর্তমানে প্রায় ছয়শতাধীক শিার্থীরা স্কুলে লেখা পড়া করছে । শত শত শিক্ষার্থীরা এখান থেকে লেখা পড়া করে কলেজে পড়ে সরকারী ও বেসরকারী চাকুরিতে নিয়োজিত রয়েছেন । কানাইঘাট উপজেলা সদরের সূরমা নদীর বাম তীরে প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যে ভরপুর প্রাচীর দেওয়াল ঘেরা এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর এস এস সি পরীক্ষায় সাফল্যজনক ফলাফল অর্জন করে আসছে । পর্যাপ্ত পরিমান ভবন বিশাল ক্যাম্পাস নিয়ে গঠিত এ বিদ্যালয়টি এস এস সি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে সিকৃতী অর্জনের পাশাপাশী উচ্চ মাধ্যমিক শিকদের সব ধরনের প্রশিণ সহ বৃত্তি প্রদান এবং অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্রের ও সিকৃতি পেয়েছে । এছাড়া সম্প্রতি স্কুলের জন্য সরকার নতুন একটি ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ প্রদান করেছে । দীর্ঘ দিন ধরে এলাকাবাসী কানাইঘাটের নারী শিক্ষার জাগরনে এ প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারী করনের দাবী জানিয়ে আসছেন প্রতিটি সরকারের কাছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা এলাকাবাসী সম্প্রতি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটে আরো দুটি স্কুলকে পূর্ণাঙ্গ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘোষনা দেওয়ায় এলাকাবাসী সিলেট জেলার মধ্যে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া কানাইঘাটের নারী শিক্ষার উন্নয়নে রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারী করন করা হবে এমন আশায় বুক বেধে রয়েছেন। ইতি মধ্যে মাননীয় শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ স্থানীয় সংসদ সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মজুমদারের কাছে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মহল উক্ত প্রতিষ্ঠানকে সরকারী করনের দাবী জানিয়েছেন ।
কানাইঘাটে ২২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্বার

কানাইঘাটে ২২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্বার

ষ্টাফ রিপোর্ট:
রেব ৯ এর একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইঘাটের পল্লীতে অভিযান চালিয়ে ২২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্বার করেছে ।গতকাল বুধবার বিকেলে কানাইঘাট থানার পশ্চিম কুওরের মাটি গ্রামের ইব্রাহীম আলীর বাড়ীর ৮০ গজ দূরে কচু গাছের নীচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্হায় এই ফেনসিডিলগুলো উদ্বার করে পরে কানাইঘাট থানায় একটি জিডি করে ফেনসিডিলগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে ।
কানাইঘাটে বিস্কোরক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত দুই আসামী গ্রেফতার

কানাইঘাটে বিস্কোরক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত দুই আসামী গ্রেফতার

ষ্টাফ রিপোর্ট:
কানাইঘাট পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিস্কোরক দ্রব্য জি আর ০/০৯ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ২ পলাতক আসামীকে গত সোমবার গভীররাতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করেছে ।থানার এ এস আই ঈসমাইল হোসেন উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির ডাউকরগুল গ্রামের সোনা মিয়ার পুত্র আলিম উদ্দিন (৩০)কে নিজ বাড়ি থেকে এবং একই গ্রামের ফয়েজ আহমদের পুত্র খালেদ আহমদ(২২) কে নয়াবাজার থেকে গ্রেফতার করেন ।আটককৃতদের গতকাল পুলিশ আদালতে সোপর্দ করেছে ।
নোটিশ :   কানাইঘাট নিউজ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক